22/05/2022
Plz read.....
কাজের বুয়াকে মাঝেমাঝে টুকিটাকি জিনিস দেই, সাধ্যানুযায়ী আরকি। নতুন, পুরাতন, আমাদের ইচ্ছা বা তার চাহিদা।
শেষবার তার গ্রামের বাড়ী যাওয়ার সময় তার ব্যাগ দরকার। আমার স্ত্রী তাকে ২/৩ টা অব্যবহৃত ব্যাগ দিল।
স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, বুয়া খুশি হয়েছে? ও বল্ল, জিজ্ঞেস করিনি। বল্লাম, কেন? বলে, জিজ্ঞেস করলে সে একটা বাঁকা উত্তর দিবে, তাই জিজ্ঞেস করিনি।
কথাটা আসলে মোটামুটি সঠিক। কয়েকটা উদাহরণ দিচ্ছিঃ
১। বুয়া বল্ল, "ভাবী, আমার মেয়ে মীনা স্কার্ফ পরতে চায়। একটা স্কার্ফ থাকলে দিয়েন।"
মীনার বয়স ৬ বছরের মত। বাচ্চা মানুষ, আবদার করেছে। আমরা পারিবারিক শপিং সারার সময় মীনার জন্য একটা স্কার্ফও নিলাম।
আমার স্ত্রী পরদিন জিজ্ঞেস করল," মীনার পছন্দ হয়েছে?"
বুয়া বল্ল, "না ভাবী, ও ঝলমল আয়নাওয়ালা স্কার্ফ চায়।"
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
২। বুয়ার বিছানার চাদর নষ্ট হয়ে গেছে। আম্মাকে বলাতে আম্মা একটা চাদর দিল।
আম্মা আমার সাথে গল্প করতে করতে বল্ল, কেমন মেয়ে, একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিল না।
৩। ঈদে কাপড় দেয়া হল। সে বল্ল, "কাপড়ের কি দরকার? টাকাটা দিয়ে দিলেই বেশি ভাল হত।
ইফতার দেয়ার সময়ও সে ইফতার নেয় নি। বল্ল, " টাকা দেন।"
ফিতরার সময়ও সে চাল নিবে না। আমি আর টাকা দেইনি।
তো এরকমই। কখনো সে রিসিভ করে সন্তুষ্টিটা দেখায় না।
এই রং ভাল লাগে না...,কাপড় দিলেন কেন? চাদরের নকশা সুন্দর না...এরকমই বলতে থাকে
এরকম শোকর না করার কারণে আমার মা ও স্ত্রী দু'জনই ওকে আর তেমন কিছু আগ বাড়িয়ে দিতে চায় না।
আমি বল্লাম, "হয়তো সত্যিই আমাদের দেয়া উপহার ওর পছন্দ হয়না।"
আমার স্ত্রী বল্ল, "এজন্য কিছু দিতে ইচ্ছে করে না। নতুন হোক, পুরাতন হোক,কখনো হাসিমুখে গ্রহণ করে না। তাই দিতে ইচ্ছে করে না। হাসিমুখে গ্রহণ করলে দিতে ভাল লাগে, দিতে ইচ্ছে করে। কিছু জিনিসে ওর উপকার হলে, আমার তো ক্ষতি নেই।"
তখন আমি বল্লাম, আসলেই ঠিক। তুমি দেখ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার কত কত উপহার প্রতিদিন আমরা ভোগ করছি! পানি, বাতাস, খাদ্য, বাসস্থান, সুস্বাস্থ্য....
অথচ আমরা সেগুলোর জন্য কি আল্লাহর কাছে পর্যাপ্ত শোকর করি!
আমরা বলি, বাসাটা বড় না, অথচ রাস্তায়ও অনেক মানুষ আছে।
বলি, শরীরটা ভাল না, সর্দি কাশি...অথচ কত মানুষ ক্যান্সার ব্যাধিতে ভুগছেন!
বলি, আয় পর্যাপ্ত না, অথচ কত মানুষের আয় সর্বনিম্ন পর্যায়ের।
বলি, "মানুষ আমাকে পছন্দ করে না, অথচ কত জনই আমাকে ভালবাসে...
বলি, ছেলেমেয়ে মানুষ করতে পারলাম না, অথচ অনেকে আছে নিঃসন্তান...
আমি আর আমার স্ত্রী নিজেদের একটা প্রশ্নের মুখোমুখি দাড় করালামঃ " শোকর গুজারের ক্ষেত্রে আমরা কি বুয়ার চেয়ে বেটার?"
যদি বেটার না হই, তাহলে আল্লাহ কেন আমাদের দিতে চাইবেন?
আর শোকর করলে আল্লাহর ভান্ডারে কি অভাব আছে?
অথচ শোকর করতে চাইলে এটাইতো যথেষ্ট যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দিবেন---হিসাব ছাড়া দিবেন।
-সংগ্রহীত