14/08/2026
আজকে আমার এই বিজনেস লাইফে প্রথমবারের মতো প্রতারণার শিকার হলাম।
সত্যি বলতে, কষ্টের টাকা তো—অল্প হলেও খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। 😔
ব্যবসায়িক জীবনে অনেক মানুষের সাথে লেনদেন করেছি। কখনো এমনভাবে প্রতারণার শিকার হইনি। তাই আজকের ঘটনাটা শুধু ১২,০০০ টাকা হারানোর কষ্ট না—নিজের বিশ্বাসকে এভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাই বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
ঘটনাটা বিস্তারিত বলছি, যাতে অন্য ব্যবসায়ী ভাইয়েরা আমার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন এবং এমন বাটপারদের পাল্লায় না পড়েন।
এক পার্টি আমাকে ফোন দিয়ে বলল, সে ৭২ পিস শার্ট নেবে। আমি বললাম, ঠিক আছে ভাই, তাহলে কিছু অ্যাডভান্স করেন।
আমি তাকে আমার মার্চেন্ট পেমেন্ট নম্বর দিলাম। সে বলল, সে পেমেন্ট করতে পারবে না, ক্যাশ আউট করতে পারবে। ২,০০০ টাকা অ্যাডভান্স করবে বলে নগদ এজেন্ট নম্বর চাইল। তাই আমি তাকে একটি নগদ এজেন্ট নম্বর দিলাম। আর আমি বললাম আমি নামাজে যাই।
জুম্মার নামাজের পর সে আমাকে ফোন করে বলল, সে ৯,০০০ টাকা পাঠিয়েছে। আমি অবাক হয়ে বললাম, আপনি তো ২,০০০ টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন ৯,০০০ টাকা কেন?
সে বলল, ভুল করে ৯,০০০ টাকা চলে গেছে। ৭,০০০ টাকা ফেরত দেন ভাই। আমি বিপদে পড়ছি, অন্য জায়গায় পেমেন্ট দিতে হবে। আমি বললাম, আমার কাছে এখন টাকা নেই। এজেন্টের দোকান খুললে বিকেল ৫ টার দিকে সেখান থেকে ৭,০০০ টাকা পাঠিয়ে দেব।
এর কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় আসল প্রতারণা।
আমি যে নগদ এজেন্ট নম্বরটি তাকে দিয়েছিলাম, সেই এজেন্টের মতো একটি নম্বর থেকে আমার কাছে ফোন আসে।
আমাকে বলা হয়,
“সাগর, টাকা আসছে।”
তাড়াহুড়োর মধ্যে আমি আর ভালোভাবে যাচাই করিনি। তার কথা বলার ধরন, কণ্ঠস্বর—সবকিছু এমনভাবে সাজানো ছিল যে আমি বিশ্বাস করে ফেলি। এমনকি আমাকে “তুই” করে কথা বলছিল, যার কারণে আমার আরও বিশ্বাস হয়েছি যে সত্যিই
আমার ই এজেন্ট।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—ভুয়া এজেন্টের কাছে আমার আসল এজেন্টের নাম, দোকানের নাম, সব তথ্যই ছিল। পুরো বিষয়টা এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে আমি বুঝতেই পারিনি আমি আসলে একজন ভুয়া এজেন্টের সাথে কথা বলছি।
আমি বিশ্বাস করে ব্যাংক থেকে ৭,০০০ টাকা দিয়ে দিই। এরপর ওই ব্যক্তি বলে, আরো কিছু এডভান্স দিবো, আরেকটু বেশি পাঠাবো ওটা আমাকে বিকাশে দিয়েন। আমাকে আরও ৫,০০০ টাকা বিকাশে দিতে বলে। সেটাও আমি বিশ্বাস করে করে ফেলি।
মোট ১২,০০০ টাকা।
এরপর সে হিসাব করে বলে, নাকি ৯,৫৬০ টাকা অ্যাডভান্স করেছে।
তখনও আমি ভুয়া এজেন্টের কথাই বিশ্বাস করছিলাম। তারপর আমি আসল এজেন্টের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে টাকার কথা জানতে চাই। এজেন্ট আমাকে বলে, কোনো টাকা আসেনি।
তখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারি—আমি এতক্ষণ আসল এজেন্টের সাথে নয়, একজন ভুয়া এজেন্টের সাথে কথা বলছিলাম। এমনকি আমি সেই ভুয়া এজেন্টকে বারবার ফোন করে বলছিলাম,
“ভাই, টাকা গেছে?”
“ভাই, আমি কি কোনো ফ্রডের পাল্লায় পড়লাম?”
আর সে এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সবকিছু ঠিকঠাক আছে, টাকা সত্যিই এসেছে।
ভাবতে পারেন, একজন মানুষ কীভাবে এত সুন্দরভাবে একটা ঘটনা সাজিয়ে একজন মানুষ কে বিশ্বাস করাতে পারে!
তখনই বুঝতে পারি—পুরো ঘটনাটাই ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
আমার ভুল আমি স্বীকার করছি।
আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল—টাকা আসার বিষয়টি নিজে যাচাই না করে বিশ্বাস করে ফেলা।
ওই এজেন্ট নম্বরে সরাসরি ফোন করে নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল। টাকা সত্যিই এসেছে কি না, তারপর টাকা ফেরত দেওয়া উচিত ছিল।
কিন্তু এত বছরের ব্যবসায়িক জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি। তাই এমনভাবে কেউ আমাকে ফাঁদে ফেলবে, সত্যিই বুঝতে পারিনি।
ব্যাংকে যোগাযোগ করেছি। তাদের নিয়ম অনুযায়ী তারা এ বিষয়ে কিছু করতে পারছে না। বিকাশেও যোগাযোগ করেছি, সেখান থেকেও একই কথা বলেছে।
ইনশাআল্লাহ, কালকে জিডি করব।
আমার কাছে সব স্ক্রিনশট, নাম্বার, লেনদেনের তথ্য—সবকিছু সংরক্ষিত আছে। কোন নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেটার তথ্যও আছে। এমনকি প্রতারণার পর উনি মেসেজের তথ্যগুলোও সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করে দিয়েছেন এমনকি নামও চেঞ্জ করে ফেলেছেন।
সবাইকে বিশেষ করে ব্যবসায়ী ভাইদের অনুরোধ করব
কেউ টাকা পাঠিয়েছে বললেই বিশ্বাস করবেন না।
নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা আসা নিশ্চিত না হয়ে কখনো টাকা ফেরত দেবেন না।
কোনো এজেন্টের নাম, দোকানের নাম, কণ্ঠস্বর বা পরিচিতির মতো কথা—কোনো কিছুতেই শুধু বিশ্বাস করবেন না। নিজে যাচাই করবেন।
অনেক পার্টির সাথে কাজ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, অনেকেই ফুল পেমেন্ট করে মাল নিয়েছেন। আবার এমনও হয়েছে, কাস্টমারকে আগে থেকে না চিনেও বিশ্বাস করে লেনদেন করেছি।
আগে যখন অন্য ব্যবসায়ীদের এমন প্রতারণার কথা শুনতাম, অবাক হতাম—“কীভাবে মানুষ এত সহজে বিশ্বাস করে?”
আজ নিজেই প্রতারণার শিকার হয়ে বুঝলাম, একজন প্রতারক যদি আগে থেকেই সবকিছু পরিকল্পনা করে, সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে কথা বলে—তাহলে কয়েক মিনিটের অসাবধানতাই অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
আমি কখনো মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করি না। ব্যবসার ক্ষেত্রেও কাউকে ঠকানোর চিন্তা আমার মন থেকে আসে না।
কিন্তু কিছু মানুষ সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে যায়।
আজ আমি সেটা নিজের জীবনে অনুভব করলাম।
১২,০০০ টাকা হয়তো কারও কাছে খুব বেশি টাকা না। কিন্তু একজন ছোট ব্যবসায়ীর কাছে এই ১২,০০০ টাকা তার কষ্টের টাকা, তার পরিশ্রমের টাকা, তার ব্যবসার টাকা।
যাই হোক—
আলহামদুলিল্লাহ। 🤲
আল্লাহ সবকিছু দেখেন।
আমার ভুল হয়েছে, আমি সেটা স্বীকার করছি। এই ঘটনা থেকে অনেক বড় একটা শিক্ষা পেলাম।
ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে কোনো লেনদেন যাচাই না করে আর কখনো বিশ্বাস করব না।
আর আমার এই পোস্টটা যদি একজন ব্যবসায়ীকেও এমন প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে পারে, তাহলে আমার এই কষ্টটা কিছুটা হলেও সার্থক হবে।
সবাই সাবধানে থাকবেন।
কষ্টের টাকা অল্প হলেও অনেক কিছু ভাই 🙂
#সতর্ক_থাকুন #ব্যবসায়ী_সতর্কতা #প্রতারণা #সাবধান #আলহামদুলিল্লাহ