19/08/2026
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন নিয়ে প্রেগন্যান্সির সময় প্রচুর পড়াশোনা করেছিলাম। ভেবেছিলাম, সব পরিস্থিতির জন্য এবার আমি প্রস্তুত!
কিন্তু বাস্তবতা যে কতটা নির্মম, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম সেদিন।
..দুপুর থেকে বাবু কাঁদছে। না ঘুমায়, না ফিড করে। দোলনায় দোল দিয়ে, কোলে নিয়ে হেঁটে..কতভাবে চেষ্টা করছি একটু শান্ত করতে, কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
এদিকে কোনো কাজই করা হয়নি। ঘরজুড়ে কাপড়চোপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, সময়মতো নামাজটাও পড়তে পারিনি।
ঘড়ির কাঁটা ততক্ষণে রাত ১১টা ছুঁইছুঁই। দুপুর থেকে তাকে ফিড করাতে পারিনি। ক্ষুধার অস্থিরতায় তার কান্না আরো বেড়েছে।
লাইট অফ করে পায়ের ওপর শুইয়ে দোল দিচ্ছি, যদি একটু ঘুমায়। কিন্তু না, কান্নার বেগ যেন আরও বেড়ে গেল। কাঁদতে কাঁদতে তার নিশ্বাস আটকে আসার যোগাড়...
ঠিক সেই মুহূর্তে আমার ধৈর্যের শেষ বাঁধটা ভেঙে গেল। আর পারলাম না! চিৎকার করে উঠলাম। আমার চিৎকার শুনে বাবু আরও ভয় পেয়ে কান্নার বেগ বাড়িয়ে দিল। ওকে ধপ করে বিছানায় রেখে এবার আমিও কাঁদতে শুরু করলাম।
হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে বিছানায় সজোরে চাপড়াতে লাগলাম। ও যেন আমার কান্নার আওয়াজ না পায়, তাই বালিশ কামড়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদলাম। সহ্য করতে না পেরে কাঁথা-বালিশ সব মেঝেতে ছুঁড়ে মারলাম।
ভাগ্য ভালো, আমার এই অবস্থা দেখে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে বাবুকে নিয়ে শান্ত করে।
কিন্তু কেন এমন হলো?
এই বিস্ফোরণ একদিনে হয়নি!
টানা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি থেকেই হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাবুর পেছনেই পুরো সময় চলে যায়। সে সারাদিনে মাত্র ২০–৩০ মিনিট করে ঘুমায়। সেই সময়টুকুতে হাতের একটা কাজ শেষ করতে না করতেই সে আবার উঠে পড়ে।
এর মধ্যে বাবুর বাবার কাছ থেকে শুনতে হলো সেই বিখ্যাত ক্লাসিক ডায়লগ—"আজ একটু সামান্য বেশি কাঁদছে আরকি! আর কেউ কি বাচ্চা পালে না? অন্যরা কেউ কি এমন করে?"
৯ মাসের লড়াই, ডেলিভারির যন্ত্রণা আর দিনের পর দিন এই ছোট্ট মানুষটার পেছনে অমানুষিক পরিশ্রমকে যখন কেউ 'সামান্য' বলে উড়িয়ে দেয়, তখন হাজার চাইলেও নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সেদিনের ঘটনা থেকে তিনটি মহামূল্যবান জিনিস শিখেছি—
১. পড়াশোনা বা preparedness আপনাকে সতর্ক করতে পারে, কিন্তু ক্লান্তি আর বার্নআউটকে পুরোপুরি আটকে রাখতে পারে না। রাগ বা হতাশা প্রকাশ করে ফেলার মানে আপনি 'খারাপ মা' নন; বরং আপনি চরম ক্লান্ত সেটার স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এটা নিয়ে guilty feel করার কিছুই নেই।
২. কাজের ডেডলাইন, ঘর সামলানো আর বাচ্চার যত্ন—একসঙ্গে সবকিছু পারফেক্টলি করা অসম্ভব। এই সময়ে নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে একটা সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা জরুরি।
৩. হাজবেন্ডদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলানোর চেষ্টা করা দরকার। প্রপার কমিউনিকেশনের মাধ্যমে তাদের বোঝাতে হবে, সারফেস লেভেলে যেটা 'সামান্য' মনে হয়, তার নিচে আইসবার্গের মতো জমে থাকতে পারে আরও বিশাল কিছু। তাই এই সময়ে জ্ঞান দেওয়ার চেয়ে একটু সহমর্মিতা দেখানো অনেক বেশি জরুরি।
মাদারহুডের এই কঠিন জার্নিতে আপনি কি কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে মনে হয়েছে আর পারছেন না? কীভাবে সামলেছিলেন সেই সময়টা?
To us, you matter. You are seen, valued and never alone. 🤍
Confident Motherhood