15/03/2020
বাংলাদেশে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ডায়াগনোসিস হবে না।
কেমনে হবে?
ধরেন, কেউ আক্রান্ত হলো, সাইন সিম্পটম (শ্বাসকষ্ট, কাশি, জ্বর) দেখা দেওয়া মাত্রই সে চলে গেলো বাসার পাশে ফার্মেসীতে। ফার্মেসিওয়ালা তাকে CEF-3, NAPA 500mg, আর MONAS 10mg দিয়ে বিদায় দিল, আর পরামর্শ দিল বেশি শ্বাসকষ্ট লাগলে ফার্মেসিতে এসে নেবুলাইজেশন করার। এগুলা করে রোগী বেচারা আরাম পাইলো, সিম্পটম রিলিফ হইলো, সে ক্যারিয়ার হিসাবে অফিসে বাজারে ঘুরে ঘুরে ছড়াতে লাগলো।
কদিন পর বেচারা পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় সে গেলো পাশের গলির DMF করা "ডাক্তার(!!??)" সাহেবের কাছে। "ডাক্তার(!!??)" সাহেব তার মুখে একটা থার্মোমিটার গুঁজে দেখলেন Temperature 101°F। উনি Ceftriaxone এর অর্ডার দিলেন আর "ব্যাঙের ছাতা" ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে CBC আর Urine R/E করতে দিলেন। রিপোর্ট নিয়ে বেচারা গেলো আবার DMF ওয়ালার কাছে, দেখলেন পেশাবের রিপোর্ট ঠিকাছে, শুধু ব্লাডে WBC একটু বেশি। এটা এমনেই, জ্বর আসায় বাড়ছে। Ceftriaxone চলুক।
এত কিছু নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে রোগীর অবস্থা খারাপ। বুকে ধড়ফড় করে, শ্বাসকষ্ট মারাত্মক। প্রাণ যখন যায়যায় অবস্থা তখন গিয়ে একটা বড় হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলো। রোগীর এহেন হাল দেখে ডাক্তাররা জানিয়ে দিলেন এই রোগী ওয়ার্ডে রাখা রিস্কি SPO2 66% with Oxygen, ECG তেও চেঞ্জ আসছে, যে কোন সময় পটল তুলতে পারে। যদি সম্ভব হয়, বন্ড সাইন করে আইসিউতে ভর্তি করতে হবে, দ্রুত। রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা একটা ৩০মিনিটের ফ্যামিলি বৈঠক করে ঠিক করল তারা আইসিউতে নিতে রাজী। এক পা কবরে রেখে রোগী তখন আইসিউতে ভর্তি হলো। কিন্তু রিসাসিটেশনের সব ব্যবস্থাকে বুড়ি আঙুল দেখিয়ে রোগী অইদিনই চুড়ান্ত শ্বাসকষ্টে মারাই গেলো, ডায়াগনোসিস হবার আগেই। ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হলো, "Death due to sudden cardio-respiratory failure"
রোগীর আত্মীয়-স্বজন এলাকার সব গুন্ডা-পান্ডা নিয়ে আসলো হাসপাতাল ভাঙবে বলে, এতদিন রোগী ভালো ছিল। আজ ভর্তি করতেই আইসিউ নিয়ে যায়, এত টাকা দিয়ে নেওয়ার পর মরে গেলো। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? মার ডাক্তার, ভাংগ হাসপাতাল।
সাংবাদিক আসলো, ক্যামেরার সামনে রিপোর্ট করতে লাগলো "ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। আইসিউতে মৃত রোগী নিয়ে ব্যাবসা" ইত্যাদি।
ভাংচুর হলো, ফেসবুকে লেখালেখি হলো, ডাক্তার সমাজ থেকেও প্রতিবাদ আসলো। কদিন পর আস্তে আস্তে পরিবেশটা সুন্দর হয়ে গেল, সবাই সব ভুলে গেলো। কোন হৈচৈ নাই।
*চক্রটা চলতে থাকলো বিনা ডায়াগনোসিসে।
সবশেষে এবার একটা কাল্পনিক দৃশ্য : একটা করোনাভাইরাস আরেকটাকে বলতেছে, "ভাইরে, সব মজা তো দেখি বাংলাদেশেই"