Junior Ummah

Junior Ummah "A brand of Islamic Lifestyle & Development for Children"

নরম ভোরের আলোয় ঘুম ভাঙতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি—বাবুকে এমনভাবে বড় করব, যেন তার ছোট্ট হৃদয়ের প্রথম দরজাটাই খোলে আল্লাহর দ...
06/12/2025

নরম ভোরের আলোয় ঘুম ভাঙতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি—বাবুকে এমনভাবে বড় করব, যেন তার ছোট্ট হৃদয়ের প্রথম দরজাটাই খোলে আল্লাহর দিকে।

যেদিন সে পাশে এসে বলবে,
“মা, ঐ খেলনাটা কিনে দেবে?”
আমি তার নরম আঙুলগুলো হাতে নিয়ে ফিসফিস করে বলব—

“মামণি, আগে আল্লাহকে বলে নিই না? তুমি বলো—
‘আল্লাহ, আমি খেলনাটা চাই। এখন আমি আব্বুর কাছে চাইতে যাচ্ছি। তুমি আব্বুর মন নরম করে দিও, আর তাকে সামর্থ্য দাও—যেন আব্বু আমাকে খেলনাটা কিনে দিতে পারে।’”

আমি চাই, সে যেন ছোট থেকেই বুঝে যায়—চাহিদার প্রথম দরজাটা মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছেই কড়া নাড়ে।
কারণ মানুষ কিছু দিলেও—সে তো কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় দেয়।

আরো একদিন যখন সে মন খারাপ করে বলবে,
“মা, এটা পাব না?”
তখন তাকে কোলে টেনে বলব—

“যেটা দুনিয়ায় পাওনি, আল্লাহ হয়তো জান্নাতে আরও ভালোটা রাখছেন। এই জামাটা না পাওয়ার কষ্টটা? ওটা জমা হচ্ছে জান্নাতের পুরস্কারে। এখানে একটা খেলনা না পেলেও, জান্নাতে হয়তো দশটা পাবে।”

আমি চাই সে জান্নাতকে ভালোবাসুক। জান্নাতের জন্য স্যাক্রিফাইস করতে শেখুক—স্বেচ্ছায়, স্বচ্ছ মনে।

ধীরে ধীরে তাকে বোঝাব—

“আমাদেরকে কে সৃষ্টি করেছেন?”
—আল্লাহ।

“আমাদেরকে কে খাওয়াচ্ছেন, পোশাক দিচ্ছেন, হাসাচ্ছেন?”
—আল্লাহ।

“কেউ তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন?”
—আল্লাহ, তারপর রাসুল ﷺ, তারপর আব্বু-আম্মু।

যেন কখনোই সে এই প্রশ্নে দ্বিধা না করে।

একদিন হয়তো রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে সে বলবে,
“আজ থ্যাংকস কাকে দেব, মা?”
আমি হাসব—
“আল্লাহকেই, মামণি। তিনবেলা খাওয়ালেন, খেলালেন, নিরাপদ রাখলেন।”

আর যেদিন খাবার কম থাকবে, সেদিনও তাকে বলব—
“আজ খেতে দিচ্ছেন না—হয়তো পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমরা কি অকৃতজ্ঞ হবো?”

সে মাথা নিচু করে বলবে—
“না মা… যিনি মাসে ২৯ দিন দেন, একদিন না দিলে রাগ করলে তো অন্যায়।”

আব্বু খেলনা এনে দিলে শেখাব—
“ধন্যবাদ কী বলবে?”
সে তোতলাতে তোতলাতে বলবে,
“আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আব্বুকে টাকা দিছে।”

যেদিন আমার শরীরে ব্যথা পাবে, জিজ্ঞেস করবে—
“মা, এটার বদলে তুমি কী পাবে?”
আমি বলব—
“আলহামদুলিল্লাহ, গুনাহ মাফ হবে।”

এভাবে ধীরে ধীরে তার ছোট্ট শব্দভান্ডারটাও বদলে যাবে—
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ…
হয়তো ঠিক উচ্চারণ করতে পারবে না, কিন্তু অর্থটা হৃদয় দিয়ে শেখে যাবে।

আমি চাই, সে যেন জানে—
আব্বু-আম্মু না থাকলেও সে একা নয়।
কারণ তার সবচেয়ে বড় আপনজন—আল্লাহ।

জীবনযুদ্ধ যত রুক্ষ হোক, সে যেন বুক উঁচু করে বলতে পারে,
“আমি একা না। আল্লাহ আছেন।”

আর শেষে তাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেব—
“আমরা কোথায় আবার মিলব?”
সে উজ্জ্বল চোখে বলবে—
“জান্নাতে।”

“তাহলে তোমার দুনিয়ার আসল লক্ষ্য কী?”
সে চুপচাপ স্বরটাকে দৃঢ় করবে—
“আল্লাহকে রাজি করা… আর জান্নাতে যাওয়া।”

ইনশাআল্লাহ।

"আমার ছোট আয়েশা"ফজরের নামাজ শেষ করে তাসবিহ পড়ছিলাম। পাশের ঘর থেকে মৃদু আওয়াজ পেলাম — আমার ছোট আয়েশা কুরআনের অক্ষরগুলো উচ...
23/10/2025

"আমার ছোট আয়েশা"

ফজরের নামাজ শেষ করে তাসবিহ পড়ছিলাম। পাশের ঘর থেকে মৃদু আওয়াজ পেলাম — আমার ছোট আয়েশা কুরআনের অক্ষরগুলো উচ্চারণ করছে,
“আলিফ… বা… তা…”

আমি নিঃশব্দে তাকালাম ওর দিকে। সাদা ওড়নায় মুড়ানো ছোট্ট মাথাটা যেন একটুখানি নূর। ওর ঠোঁট নড়ছে, চোখে মনোযোগ।
সেই মুহূর্তে মনে পড়ল—
আমি তো একদিন নবিজির (সা.) হাদীস পড়েছিলাম:
“যে ব্যক্তি দুই কন্যাকে ভালোভাবে লালন-পালন করবে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।”

সেদিন থেকেই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—
আমি আয়েশাকে এমনভাবে বড় করব যেন সে পৃথিবীতে আল্লাহর নূরের ছায়া হয়ে ওঠে।

আমি ওকে শিখাই—“আয়েশা, নামাজ শুধু কাজ নয়, এটা আল্লাহর সঙ্গে দেখা করার সময়।”
ওকে নিয়ে বসে কুরআনের তাফসির পড়ি, রঙিন পেন্সিলে আয়াতের অর্থ লিখে রাখি।

আমি ওর সঙ্গে গল্প করি, হাসি, ওর পুতুলের নাম রাখি “মারিয়াম”।
কারণ আমি জানি—একজন মায়ের দায়িত্ব শুধু পোশাক পরানো নয়, চিন্তা গড়াও।
ও যেন বুঝতে শেখে—লজ্জাশীলতা মানে সংকোচ নয়, সম্মান।
পর্দা মানে বেঁধে রাখা নয়, বরং আত্মাকে মুক্ত রাখা—যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া আর কারো দৃষ্টি ওর দিকে টান না পায়।

রাতে আয়েশা আমার কোলের ওপর মাথা রেখে বলে,
“আম্মু, জান্নাতে তোমার পাশে থাকব তো?”
আমি হাসি, চুলে হাত বুলিয়ে বলি—
“হ্যাঁ মা, যদি আমরা দু’জনেই আল্লাহর প্রিয় হই।”

সেই হাসিটুকু আমাকে মনে করিয়ে দেয়—
কন্যা সন্তান কোনো বোঝা নয়, বরং জান্নাতের টিকিট।

একজন মুসলিম মা তার মেয়েকে শুধু বড় করেন না, বরং এক প্রজন্মের ঈমান গড়ে তোলেন।
তোমার মেয়েকে ভালোবাসো, বোঝাও, বসো তার সঙ্গে, কুরআন শেখাও, আর ছোট বয়স থেকেই তার হৃদয়ে পর্দার সৌন্দর্য রোপণ করো।
একদিন দেখবে—তোমার কোলের এই ছোট্ট মেয়ে হয়ে উঠেছে দুনিয়ার ভেতর এক নূরের আলো।

"রিদওয়ানের মা"রিদওয়ানের মা আজকাল খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সংসার, সন্তান, নামাজ, রান্না—সব কিছুতেই যেন দৌড়ের ওপর আছেন।...
22/10/2025

"রিদওয়ানের মা"

রিদওয়ানের মা আজকাল খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সংসার, সন্তান, নামাজ, রান্না—সব কিছুতেই যেন দৌড়ের ওপর আছেন। অথচ একসময় এমন ছিলেন না। তখন তিনি ধৈর্যশীল, পরিপূর্ণ, দোয়ার মানুষ ছিলেন। এখন মাঝে মাঝে আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়—
“এই চোখ কি আমারই?”

একদিন ভোরে, ফজরের নামাজ শেষে তিনি বসে ছিলেন জায়নামাযে। রিদওয়ান তখনও ঘুমোচ্ছে। কুরআনের আয়াতগুলো পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে পড়ল—সন্তান তো আল্লাহর আমানত। অথচ, কবে শেষবার তিনি ছেলের জন্য হৃদয় থেকে দোয়া করেছিলেন?

সেদিন থেকেই তিনি শুরু করলেন এক নতুন যাত্রা।
প্রতিদিন একটা করে “মায়ের দোয়া”।

প্রথম দিন, রিদওয়ান হেসে উঠল বলে — “আম্মু, আমি তো তোমাকে ভালোবাসি!”
তার হৃদয় গলে গেল, আর তখনই তিনি পড়লেন —
“رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ”
(হে আমার প্রভু, তুমি আমাকে তোমার অনুগ্রহের কৃতজ্ঞ হতে দাও।)

পরের দিন, বাজারে গিয়ে তিনি পরিবারের জন্য জিনিস কিনতে গিয়ে বললেন —
“اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رِزْقِنَا”
(হে আল্লাহ, আমাদের রিযিকে বরকত দান করো।)

যখন রিদওয়ান স্কুল থেকে ফিরে একটু জ্বর নিয়ে ঘরে ঢোকে, তার বুক ধড়ফড় করে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারণ করেন —
“اللَّهُمَّ اشْفِهِ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا”
(হে আল্লাহ, এমন আরোগ্য দাও যাতে কোনো অসুখ অবশিষ্ট না থাকে।)

রাতে যখন তিনি ক্লান্ত শরীরে নামাজে দাঁড়ান, কাঁদতে কাঁদতে বলেন —
“اللَّهُمَّ لَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ”
(হে আল্লাহ, এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিও না।)

দিন গড়িয়ে সপ্তাহ যায়।
তিনি বুঝলেন, দোয়া শুধু সন্তানের জন্য নয়—নিজের আত্মাকে জাগিয়ে রাখার এক চাবিকাঠি।

এখন রিদওয়ানের মা আগের মতোই ক্লান্ত হন, কিন্তু আর হতাশ নন।
তিনি জানেন—যে মা তার সন্তানকে আল্লাহর হাতে সঁপে দেয়, সে কখনো একা নয়।

প্রত্যেক মা-ই কোনো না কোনোভাবে এই “রিদওয়ানের মা”।
দোয়া শুধু শব্দ নয়—এটা হলো আত্মিক নিঃশ্বাস।
প্রতিদিন একটুখানি দোয়া, একটুখানি আল্লাহর স্মরণ—এগুলোই এক মুসলিম মায়ের প্রকৃত শক্তি।

মায়ের সাথে আমার কথাছোট্ট আমি। জন্মের পর থেকেই আমার সাথে কথা বলতেন আমার মা। কিন্তু তখন তো আমি কিছুই বলতে পারতাম না! তবুও ...
30/09/2025

মায়ের সাথে আমার কথা

ছোট্ট আমি। জন্মের পর থেকেই আমার সাথে কথা বলতেন আমার মা। কিন্তু তখন তো আমি কিছুই বলতে পারতাম না! তবুও মা আমাকে কোলে নিতেন, গালে চুমু দিতেন, মুখভরা হাসি দিতেন। আমি শুধু "আ-উ" করতাম, আর মা উত্তর দিতেন, “তাই? একদম ঠিক!”

০–২ বছর
এই সময় আমার ভাষা ছিল চোখের চাহনি আর ছোট্ট হাত নেড়ে জানান দেওয়া। মা আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে শিখাতেন, “এই দেখো আলো, এই দেখো পাখি।” আমি যখন আধো আধো বোলে শব্দ করতাম, মা সেই শব্দকে আসল কথার মতো শুনতেন।

৩–৫ বছর
কিছুদিন পর আমি হাঁটতে শিখলাম, কথা বলতেও শিখলাম। তখন তো প্রশ্নে ভরে যেত আমার মাথা, “মা, আকাশ কেন নীল? ফুল কেন লাল?”
মা খুব ধৈর্য নিয়ে উত্তর দিতেন। যদি আমি রাগ করতাম, মা বলতেন, “তুমি বলো, তুমি রাগ করেছো।” যদি মন খারাপ করতাম, মা বলতেন, “বলো, তোমার মন খারাপ।” আমি শিখলাম আমার অনুভূতিগুলোকে কথায় প্রকাশ করতে।

৬–৮ বছর
এরপর আমি হলাম স্কুলপড়ুয়া। নিজেকে তখন খুব বড় মনে হতো। মা আমায় সম্মানের সাথে কথা বলতেন। আমি যদি কোনো কাজ ভালোভাবে না-ও করতে পারতাম, মা বলতেন, “চেষ্টা করেছো, সেটাই তো দারুণ।”
মাঝে মাঝে আমি আর মা মিলে ঠিক করতাম, “চলো আমরা একসাথে ঠিক করি, কীভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হবে।” এতে আমি শিখলাম ঝগড়ার বদলে বোঝাপড়ার পথ।

৯–১২ বছর
আরও কিছুদিন পর আমি হয়ে গেলাম কিশোর। এবার মা শুধু শেখাতেন না, আমার কাছ থেকেও শিখতেন। মা বলতেন, “তুমি কী মনে করো?” আমি আমার মতামত দিতাম। মা মন দিয়ে শুনতেন, আর বলতেন, “হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছো।”
কখনো মা নিজেই বলতেন, “দেখো, আমি ভুল করেছি।” তখন আমি হেসে বলতাম—“সমস্যা নেই মা!”

এভাবেই আমি বড় হতে থাকলাম, আর মা সবসময় আমার সেরা বন্ধু হয়ে রইলেন।


শিশুকে বই পড়ে শোনানোর সহজ কিছু টিপসশিশুকে বইয়ের সাথে পরিচয় করানো মানে শুধু পড়াশোনা নয়, বরং তাদের জন্য গল্প, রঙ আর আনন্দে...
29/09/2025

শিশুকে বই পড়ে শোনানোর সহজ কিছু টিপস

শিশুকে বইয়ের সাথে পরিচয় করানো মানে শুধু পড়াশোনা নয়, বরং তাদের জন্য গল্প, রঙ আর আনন্দের এক নতুন জগৎ উন্মোচন করা।

কীভাবে শিশুকে বই পড়ে শোনাতে পারেন?

বাচ্চারা চুপচাপ বসে থাকবে—এমন আশা করবেন না।

ছবিগুলো নিয়ে আলাপ করুন।

একই বই বারবার পড়তে দিন।

পড়াকে মজার করে তুলুন।

প্রশ্ন করুন, যেন কথোপকথন হয়।

ঘরের বিভিন্ন কোণে বই রাখুন।

আপনার বাচ্চা বইয়ের দিকে না তাকালেও সমস্যা নেই।

বই ধারাবাহিকভাবে পড়তেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।

বাচ্চাকে বই বেছে নিতে দিন।

মনে রাখবেন, লক্ষ্য হলো বাচ্চার ভেতর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আর ভালোবাসা তৈরি করা, চাপ সৃষ্টি করা নয়।

বই পড়ার মানসিক উপকারিতা শুধু সময় কাটানো নয়, বই পড়া আমাদের মন আর মস্তিষ্ককে করে আরও শক্তিশালী। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে যে...
28/09/2025

বই পড়ার মানসিক উপকারিতা

শুধু সময় কাটানো নয়, বই পড়া আমাদের মন আর মস্তিষ্ককে করে আরও শক্তিশালী। নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে যে মানসিক উপকারগুলো পাওয়া যায়—

🧠 মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করে
📝 লেখার দক্ষতা বাড়ায়
💭 সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি গড়ে তোলে
📚 শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে
🧩 স্মৃতিশক্তি উন্নত করে
🎯 মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে
💞 সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে

তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত পড়া শুরু করুন, আর বইকে করুন আপনার সেরা সঙ্গী!

আপনি বর্তমানে কোন বই পড়ছেন? কনেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

কীভাবে পড়াকে শিশুদের জন্য মজার বানানো যায়? শিশুরা বইয়ের প্রতি আগ্রহী হোক; এটাই তো আমাদের সবার ইচ্ছে। কিন্তু যদি পড়াশোনা ...
27/09/2025

কীভাবে পড়াকে শিশুদের জন্য মজার বানানো যায়?

শিশুরা বইয়ের প্রতি আগ্রহী হোক; এটাই তো আমাদের সবার ইচ্ছে। কিন্তু যদি পড়াশোনা শুধু নিয়ম আর চাপ মনে হয়, তাহলে তারা বই থেকে দূরে সরে যায়। তাই পড়াকে আনন্দময় করে তুলতে কিছু সহজ উপায়—

শিশুদের পড়ায় মজা আনার ৭ টিপস

1️⃣ বাচ্চাদের নিজের পছন্দের বই বেছে নিতে দিন
2️⃣ আরামদায়ক, সুন্দর একটা জায়গায় বসে পড়ুন
3️⃣ গল্প বলার সময় একে জীবন্ত করে তুলুন
4️⃣ গান গেয়ে বা সুর মেলাতে মেলাতে পড়ুন
5️⃣ পড়ার সাথে সাথে ছবিও দেখান
6️⃣ গল্প শেষ হলে চরিত্র আর ঘটনাগুলো নিয়ে আড্ডা দিন
7️⃣ মাঝে মাঝে বাচ্চাদেরকেই আপনাকে পড়ে শোনাতে দিন

শিশুর সাথে পড়া শুধু শেখা নয়; এটা দু’জনেরই ভালোবাসা আর আনন্দ ভাগাভাগি করার দারুণ সময়।

আপনারা কোন উপায়টা বেশি ব্যবহার করেন?

শিশুর স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে বইপোকা বানাবেন যেভাবেসন্ধ্যার পর ঘরের কোণে আলো জ্বালতেই দেখা গেল তিন ভাইবোন বসে আছে রঙিন...
22/09/2025

শিশুর স্মার্টফোন আসক্তি দূর করে বইপোকা বানাবেন যেভাবে

সন্ধ্যার পর ঘরের কোণে আলো জ্বালতেই দেখা গেল তিন ভাইবোন বসে আছে রঙিন বিছানার কুশন চেয়ারে। হাতে বই, চোখ পাতায় ডুবে আছে। টিভি বন্ধ, ফোন কোথাও নেই, অথচ তারা খুশি। ঘর ভরে গেছে গল্পের আবহে। এই দৃশ্য কি আজকের দিনে খুব কমই দেখা যায় না?

অধিকাংশ ঘরেই এখন শিশুর হাতে স্মার্টফোন। একটু কান্না করলে বা চুপ করানোর জন্য অভিভাবকরাই প্রথমে ফোনটা ধরিয়ে দেন। ধীরে ধীরে সেটাই শিশুর আসক্তি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু চিন্তার কিছু নেই—সঠিক কৌশল নিলে আপনি খুব সহজেই তাকে বইয়ের সঙ্গী বানাতে পারেন।

গল্প দিয়ে শুরু করুন

শিশুরা গল্প ভালোবাসে। ঘুমানোর আগে বা বিকেলে খেলাধুলার পর কয়েক মিনিট গল্প শোনান। বই হাতে নিয়ে গল্প পড়লে শিশু বইকে আনন্দের উৎস ভেবে নেবে।

ফোনকে পুরস্কার নয়, বইকে সঙ্গী করুন

অভিভাবকরা প্রায়ই ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে ফোন ব্যবহার করেন। বরং বই উপহার দিন। বই যেন শিশুর কাছে বিশেষ আনন্দের প্রতীক হয়।

ঘরে পড়ার কোণ বানান

ছবির মতো আরামদায়ক জায়গা তৈরি করুন। নরম আলো, কুশন, বুকশেলফ—যাতে শিশুটি বই হাতে নিলে সেটি খেলনার মতোই আকর্ষণীয় লাগে।

বয়স অনুযায়ী বই বাছাই করুন

ছোটদের জন্য ছবি আর রঙিন বই দিন। একটু বড় হলে গল্প, তারপর জ্ঞানমূলক বই। বই বেছে দিতে গিয়ে শিশুর আগ্রহকেই গুরুত্ব দিন।

ফোনকে ধীরে ধীরে কমান

হঠাৎ করে ফোন কেড়ে নিলে উল্টো প্রভাব পড়তে পারে। সময় বেঁধে দিন, প্রতিদিন একটু করে ফোনের সময় কমান আর বইয়ের সময় বাড়ান।

নিজে বই পড়ুন

শিশু সবচেয়ে বেশি শেখে দেখে। যদি সে দেখে মা-বাবা ফোনে নয়, বরং বইয়ে সময় কাটান, তবে সে-ও একই অভ্যাস গড়ে তুলবে।

একদিন হয়তো আপনার ঘরেও সেই সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে—শিশুরা পাশাপাশি বসে বই পড়ছে, কল্পনার জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তখন বুঝবেন, আপনি শুধু স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখেননি, বরং তাকে জ্ঞানের এক অমূল্য ভাণ্ডারের পথে এগিয়ে দিয়েছেন।

শিশুকে ছোট থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবেরাত ঘনিয়ে এসেছে। জানালার পাশে হালকা বাতাস দুলছে, ঘরের কোণে ছোট্ট লাইট জ...
20/09/2025

শিশুকে ছোট থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলবেন যেভাবে

রাত ঘনিয়ে এসেছে। জানালার পাশে হালকা বাতাস দুলছে, ঘরের কোণে ছোট্ট লাইট জ্বলছে নরম আভা ছড়িয়ে। শিশুটি মেঝেতে বসে আছে, তার হাতে একটি রঙিন বই। ছবির ভেতর ডুবে গিয়ে সে যেন হারিয়ে যাচ্ছে অন্য এক জগতে। গল্পের চরিত্রগুলো তার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে।

এই দৃশ্য হয়তো অনেক অভিভাবকের স্বপ্ন—শিশুটি যেন মোবাইল বা টিভির দিকে ঝুঁকে না গিয়ে বইয়ের পাতায় ডুবে যায়। কিন্তু সেই অভ্যাস গড়ে তোলা কি খুব কঠিন? আসলে নয়।

শিশু যখন ছোট, তখন তার আশেপাশের জগৎই তার কাছে শেখার জায়গা। মা-বাবার হাতে যদি বই সবসময় ধরা থাকে, বই যদি ঘরের দৃশ্যমান কোনো কোণায় সাজানো থাকে, তবে শিশুটি বইকেও খেলনার মতোই কাছে টেনে নেবে। গল্প শোনার সময় মায়ের কণ্ঠস্বর, বাবার সঙ্গে বসে ছবি দেখা—এসব অভিজ্ঞতাই তার মনে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জাগাবে।

প্রথমে হয়তো সে শুধু ছবির দিকে তাকাবে, পাতাগুলো উল্টেপাল্টে দেখবে। ধীরে ধীরে সে শিখবে অক্ষর চিনতে, শব্দ পড়তে, আর একসময় গল্পের মজা আস্বাদন করতে।

বইকে ভালোবাসার এই অভ্যাস যদি শৈশবেই গড়ে ওঠে, তবে বড় হয়ে সেটাই তার জ্ঞানের ভাণ্ডার খুলে দেবে। শিশুর কল্পনা প্রসারিত হবে, ভাষা সমৃদ্ধ হবে, মন হবে শান্ত ও মনোযোগী।

আপনার ছোট্ট সন্তানকেও আজ থেকেই বইয়ের সঙ্গী করে তুলুন। তার হাতের মুঠোয় রঙিন বই দিন, গল্প শুনতে সময় দিন, আর তাকে বইয়ের জগতে বড় হতে দেখুন।


এক কোণে আলো-ঝলমলে ঘর, দেওয়ালে সাজানো ছোট্ট লাইব্রেরি। রঙিন বইয়ের সারি যেন তাকে ডাকছে, “এসো, আমাদের পাতায় ডুবে যাও!”শিশুট...
19/09/2025

এক কোণে আলো-ঝলমলে ঘর, দেওয়ালে সাজানো ছোট্ট লাইব্রেরি। রঙিন বইয়ের সারি যেন তাকে ডাকছে, “এসো, আমাদের পাতায় ডুবে যাও!”

শিশুটি মেঝেতে বসে আছে, হাতে ধরা একখানা গল্পের বই। পাতার পর পাতা উল্টে যাচ্ছে, চোখে ভাসছে কল্পনার জগৎ। তার চারপাশে নেই কোনো ভিড়, নেই কোনো কোলাহল।
শুধু নীরবতা, আলো আর বইয়ের জগৎ।

হয়তো এই মুহূর্তেই জন্ম নিচ্ছে নতুন কোনো স্বপ্ন,
যা একদিন তাকে নিয়ে যাবে তার নিজের গল্পের ভেতর।

আপনার শিশুকে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত খেলনা না দিয়ে তার বয়েস উপযোগী বই দিন।


Address

Dhaka
1232

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Telephone

+8801611743174

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Junior Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Junior Ummah:

Share