06/12/2025
নরম ভোরের আলোয় ঘুম ভাঙতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি—বাবুকে এমনভাবে বড় করব, যেন তার ছোট্ট হৃদয়ের প্রথম দরজাটাই খোলে আল্লাহর দিকে।
যেদিন সে পাশে এসে বলবে,
“মা, ঐ খেলনাটা কিনে দেবে?”
আমি তার নরম আঙুলগুলো হাতে নিয়ে ফিসফিস করে বলব—
“মামণি, আগে আল্লাহকে বলে নিই না? তুমি বলো—
‘আল্লাহ, আমি খেলনাটা চাই। এখন আমি আব্বুর কাছে চাইতে যাচ্ছি। তুমি আব্বুর মন নরম করে দিও, আর তাকে সামর্থ্য দাও—যেন আব্বু আমাকে খেলনাটা কিনে দিতে পারে।’”
আমি চাই, সে যেন ছোট থেকেই বুঝে যায়—চাহিদার প্রথম দরজাটা মানুষের কাছে নয়, আল্লাহর কাছেই কড়া নাড়ে।
কারণ মানুষ কিছু দিলেও—সে তো কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় দেয়।
আরো একদিন যখন সে মন খারাপ করে বলবে,
“মা, এটা পাব না?”
তখন তাকে কোলে টেনে বলব—
“যেটা দুনিয়ায় পাওনি, আল্লাহ হয়তো জান্নাতে আরও ভালোটা রাখছেন। এই জামাটা না পাওয়ার কষ্টটা? ওটা জমা হচ্ছে জান্নাতের পুরস্কারে। এখানে একটা খেলনা না পেলেও, জান্নাতে হয়তো দশটা পাবে।”
আমি চাই সে জান্নাতকে ভালোবাসুক। জান্নাতের জন্য স্যাক্রিফাইস করতে শেখুক—স্বেচ্ছায়, স্বচ্ছ মনে।
ধীরে ধীরে তাকে বোঝাব—
“আমাদেরকে কে সৃষ্টি করেছেন?”
—আল্লাহ।
“আমাদেরকে কে খাওয়াচ্ছেন, পোশাক দিচ্ছেন, হাসাচ্ছেন?”
—আল্লাহ।
“কেউ তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন?”
—আল্লাহ, তারপর রাসুল ﷺ, তারপর আব্বু-আম্মু।
যেন কখনোই সে এই প্রশ্নে দ্বিধা না করে।
একদিন হয়তো রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে সে বলবে,
“আজ থ্যাংকস কাকে দেব, মা?”
আমি হাসব—
“আল্লাহকেই, মামণি। তিনবেলা খাওয়ালেন, খেলালেন, নিরাপদ রাখলেন।”
আর যেদিন খাবার কম থাকবে, সেদিনও তাকে বলব—
“আজ খেতে দিচ্ছেন না—হয়তো পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমরা কি অকৃতজ্ঞ হবো?”
সে মাথা নিচু করে বলবে—
“না মা… যিনি মাসে ২৯ দিন দেন, একদিন না দিলে রাগ করলে তো অন্যায়।”
আব্বু খেলনা এনে দিলে শেখাব—
“ধন্যবাদ কী বলবে?”
সে তোতলাতে তোতলাতে বলবে,
“আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আব্বুকে টাকা দিছে।”
যেদিন আমার শরীরে ব্যথা পাবে, জিজ্ঞেস করবে—
“মা, এটার বদলে তুমি কী পাবে?”
আমি বলব—
“আলহামদুলিল্লাহ, গুনাহ মাফ হবে।”
এভাবে ধীরে ধীরে তার ছোট্ট শব্দভান্ডারটাও বদলে যাবে—
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ…
হয়তো ঠিক উচ্চারণ করতে পারবে না, কিন্তু অর্থটা হৃদয় দিয়ে শেখে যাবে।
আমি চাই, সে যেন জানে—
আব্বু-আম্মু না থাকলেও সে একা নয়।
কারণ তার সবচেয়ে বড় আপনজন—আল্লাহ।
জীবনযুদ্ধ যত রুক্ষ হোক, সে যেন বুক উঁচু করে বলতে পারে,
“আমি একা না। আল্লাহ আছেন।”
আর শেষে তাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেব—
“আমরা কোথায় আবার মিলব?”
সে উজ্জ্বল চোখে বলবে—
“জান্নাতে।”
“তাহলে তোমার দুনিয়ার আসল লক্ষ্য কী?”
সে চুপচাপ স্বরটাকে দৃঢ় করবে—
“আল্লাহকে রাজি করা… আর জান্নাতে যাওয়া।”
ইনশাআল্লাহ।