11/07/2026
চট্রগ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা মজা করে বলি এখানে থুথু ফেললেও রাস্তায় পানি জমে। অল্প বৃষ্টিতেও রাস্তায় জলবদ্ধতা স্বাভাবিক যেমন, তেমন অল্পতে নেমে যাওয়াও স্বাভাবিক। সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, বাঁশখালীর দিকে অবস্থা ভয়ংকর। গ্রামের দিকে মানুষের টিনের ঘর তলিয়ে গেছে। কবরে থাকা লা/শ অবধি ভেসে উঠছে। গবাদি পশু ম/রে একাকার। ৪লাখের ও বেশি মানুষ পানিবন্দী। চট্রগ্রামের এদিক ওদিক পাহাড়, বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে পড়তেছে।
এ অবধি ৩০জনের উপরে মানুষ মরে গেছে। ক্যান ইউ ইমাজিন! ২৪এর বন্যার ওমন ভয়াল অবস্থার পরেও তেমন মৃ/ত্যুর খবর শোনা যায়নি।
একটু আগে শুনলাম, বাঁশখালীর দিকে একটা বাচ্চা নিজ বাড়ির উঠোনে পানির স্রোতে ভেসে মারা গেছে। ভাবতে পারেন পানির কী ভয়ানক রূপ! বন্যায় আটকে পড়া মানুষ বিশেষ করে বাচ্চা এবং গর্ভবতী মহিলাদের সার্ভাইব করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, পানিতে ভাসা নিজের বাসায় থাকার চেয়েও আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা আরো বেশি কষ্টকর। এত এত মানুষ, শোয়া তো দূর, বসার জায়গায় নেই। দাঁড়াতেও কষ্ট। ওখানে ফাস্ট এইডের অবধি অনেকসময় ব্যবস্থা থাকেনা, অন্যকিছু তো পরে। কী যে ভয়ংকর অবস্থা!
এই জন্য অনেক মানুষ ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়না। গবাদি পশুর মায়ায় ও থেকে যায় অনেকে। পরে সবাই একসাথে ডুবে থাকে। খাবার নেই, বিদ্যুৎ নেই। ভালো খাবার পানি অবধি নেই।
ট্যাপ কিংবা টিউবওয়েলে ময়লা পানি আসে। ঘরের বিছানা ভিজে একাকার। বন্যার পানির সাথে বিষাক্ত পোকা, সাপ ভাসে। পা ফেলার অবধি জো নেই। ওই পানিতে কিছুক্ষণ থাকলে গা চুলকায়। একবারে পানিবন্দীরা ফ্রেশ খাবার পানি না পেয়ে বন্যার পানিই খেতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য একটু পানি তো অন্তত দরকার হয়। এগুলো খেয়ে এবার শুরু হয় ডায়রিয়া। চারদিকে ঘোর বিপদ। হুরহুর করে পানি বাড়ে। কোথায় যাবে, কী করবে দিশেহারা!
আপনি কি ওদের অবস্থা কল্পনা করতে পারেন? ওখানে নিজেকে দাঁড় করাতে পারেন?
খুবই অবাক করা ব্যাপার হলো চট্রগ্রামের মত একটা বানিজ্যিক জায়গার এমন দুরবস্থার পরেও কোন মিডিয়া কভারেজ নেই। ভালোসময় দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রতিবেদন দেখালেও এখন যেন চট্রগ্রামের খারাপ সময়ের নিউজ তুলতে বিরক্তির ভাঁক পড়ছে।
লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী, অথচ রেস্কিউ টিম তেমন নেই। প্রশাসনের তেমন হস্তক্ষেপও চোখে পড়ছেনা। ত্রানের কোন বালাই নেই।
মানুষ নিজেরাই নিজেদের উদ্ধার করছে। মানুষ বাঁচার যুদ্ধ করছে। কারো আলোচনাতেই যেন নেই। মানে দেশ তলীয় যাক, কার কী!
জনগনের টেকা! সবাই টাকা তোলো। নিজেরাই যাও, একে অন্যকে বাঁচাও। ত্রান-সাহায্য করো!
দুইদিন পর পর যেন বন্যা হয়, তবুও কোন ব্যবস্থা নেই। নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। চট্রগ্রামের চারদিকে নদী, ড্রেস ঠিক থাকলে জলবদ্ধতা হয়!
চারদিকে মানুষের হাহাকারে সব যেন অসহ্য লাগছে...
আল্লাহ রহম করুক চট্রগ্রামের উপর।