JS Ema

JS Ema প্রতিদিন একটু হাসি, একটু ভালো লাগা 💜
গল্প | অনুভূতি | মন ভালো কথা

07/08/2026

বাবাকে দেখতাম সুযোগ পেলেই নানিকে বাড়ি নিয়ে আসতেন। নানিকে মাসের পর মাস বাসায় রাখতেন। একবার এক পরীক্ষার সময় আব্বাকে বলি, "এত নানিকে আনো কেন?" বাবা জিহ্বাতে কামড় দেন। বলেন,"এইভাবে রিযিক ছুড়ে ফেলো না। তোর মায়ের কোন ভাই বোন না থাকলে আমার বাড়িতেই রাখতাম উনাকে। মনমানুষিকতা এত নিচু রেখো না।" কম বয়সে বাবা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মনকে করতে বিশাল। বাবার বিশাল মন ছিল বলেই উনি জীবনে এত সফলতা দেখেছিলেন। বাবা যদি ওদিন একবার বলতেন যে আসলেই ঠিক বলেছিস। এত আসে কেন। তাহলে আরো নিচু চিন্তাধারা মনে জন্মিয়ে যেত। ঐদিনের পর বাড়িতে গেস্ট আসলে আমি খুশি হতাম।

আমার কাজিন আছে। সে ছেলে। সে আন্টিকে দেখে না। কিন্তু আন্টির যে মেয়ের জামাই সে উনাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন। উনাকে মায়ের মত ই রাখেন। সেই আন্টির ছেলে সন্তান থাকতেও রিযিক মেয়ের বাড়িতে। সেই মেয়ের জামাইয়ের উন্নতির শেষ নাই। আল্লাহ যতই যায় রিযিক বাড়িয়ে দেয়।

আমার জীবনে আপন বলতে মা ছাড়া কেউ নেই। কোনদিন যদি আল্লাহ এমন করেন যে আমি একবারে একা হয়ে গেলাম স্ত্রীর পরিবারকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে ফেলব। বাড়ি সেইটায় যে বাড়িতে অনেক মানুষ থাকে। মনমানুষিকতা যার বড় থাকে আল্লাহ তাকে অনেক দেন। যে পুরুষের অন্তর ছোট তাকে আল্লাহ বেশি কিছু দেয় না। আল্লাহর থেকে আদায় করতে চাইলে অন্তর অনেক বিশাল করতে হয়। কোন ব্যক্তির কারণে আপনার রিযিক বেড়ে যায় আপনি নিজেও জানবেন না।©

31/07/2026

আমি শ্বশুরবাড়িতে আসার পর প্রথম "আকাম"টা করি বিয়ের তৃতীয় দিনেই! এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে বুকের ভেতরটা কাঁপছিল। ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে ছিলাম শাশুড়ির দিকে, আর শাশুড়ি তাকিয়ে ছিলেন আমার পায়ের দিকে...

বিয়ের পরের দিন থেকেই শাশুড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করতাম। তিনি থালাবাসন ধুতে গেলে বলতাম, "মা, দেন আমি করে দিই।" তরকারি কাটতে গেলে বলতাম, "দেন, আমি কেটে দিচ্ছি।" নতুন সংসার, সবকিছু শেখার প্রবল আগ্রহ ছিল।

তৃতীয় দিনের সকাল। শ্বশুর সকালের নাস্তা খেয়ে কাজে যাবেন, তাই বাসায় বেশ তাড়াহুড়ো চলছে। সব রান্না শেষ, শুধু ভাত নামানো বাকি।

শাশুড়ি বললেন, "ভাতটা নামিয়ে এনে বেড়ে রাখো, একটু ঠান্ডা হোক।"

আমি তো মহাখুশি! অবশেষে আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মনে মনে কত আনন্দ! নাচতে নাচতে গেলাম ভাত নামাতে...

কিন্তু পাতিলটা হাতে নিয়ে ফিরতে যাব, ঠিক তখনই পুরো পাতিল হাত থেকে পিছলে পড়ে গেল! মুহূর্তেই সব ভাত মেঝেতে ছড়িয়ে গেল।

আমি একদম হতভম্ব! মনে হচ্ছিল, এইবার আমি শেষ! সামান্য একটা কাজও ঠিকমতো করতে পারলাম না। এখন কত বকা খাব...

কিন্তু সেদিন আমার শাশুড়ি আমার সব ধারণা বদলে দিয়েছিলেন।

তিনি দৌড়ে এসে প্রথমেই বললেন,
"কী হয়েছে? দেখি... তোমার পায়ে গরম ভাত পরেনি তো?"

সে কী ব্যস্ততা! আমার কিছু হয়েছে কি না, সেটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা। বার বার বলছিল এই গরম ভাত যদি পায়ে পরতো তাহলে কি হতো!

যখন দেখলেন আমার কোনো ক্ষতি হয়নি, তখন রাগ করার বদলে ফিক করে হেসে দিলেন, তারপর বললেন,
"কোনো সমস্যা নাই। আবার ভাত বসাই দিচ্ছি।"

এদিকে শ্বশুর ডাইনিং টেবিলে বসে গেছেন। পাশের বাসা থেকে ভাত এনে তাঁকে খাওয়ানো হলো। পরে আবার নতুন করে ভাত রান্না করে সেই বাসায়ও ভাত দিয়ে আসা হয়েছিল।

সেদিনের সেই ছোট্ট ঘটনাটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না।

তারপর থেকে এই মানুষটার আশেপাশে থেকেই সংসারের প্রতিটি কাজ শিখেছি। কখনো তরকারিতে লবণ কম হয়েছে, কখনো ঝাল বেশি হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনোদিন বলেননি, "এত খারাপ হলো কেন?"

বরং সবসময় বলতেন,
"ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। সব শিখে যাবে।"

আর আমার শ্বশুর যখন শুনতেন রান্নাটা আমি করেছি, তখন সবসময় প্রশংসা করতেন। সেই প্রশংসাগুলো আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।

আজ আমার সংসার জীবনের ১৩ বছর।

শাশুড়ির কাছেই সংসারের সবকিছু শিখেছি। এখন অনেকে বলে, আমি নাকি তাঁর থেকেও ভালো রান্না করি। সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, এ কথা শুনে তিনি কখনো মন খারাপ করেন না, বরং গর্ব করে হাসেন আর বলেন, ও জীবনে কখনো কোনো কাজ পারবো না বলেনি, শেখার চেষ্টা ছিল তাই পেরেছে।

সব শাশুড়ি যদি নতুন একটা মেয়ের ভুলগুলোকে রাগ দিয়ে নয়, ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়ে সামলাতেন, তাহলে হয়তো অনেক সংসারই আরও সুন্দর হতো।

আমার বিশ্বাস, একজন ভালো বউমা গড়ে ওঠার পেছনে একজন ভালো শাশুড়ির অবদান অনেক বড়।

ধন্যবাদ মা। ❤️
আপনি শুধু আমাকে সংসারের কাজই শেখাননি, মানুষকে ভালোবাসা আর ধৈর্য দিয়েও জয় করতে শিখিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে সত্যিই গর্ববোধ হয়।

কলমে : শারমিন মারজানা

লেখা সংগৃহীত _____

27/07/2026

এক ব্যক্তি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেল।
শরীয়াহ সম্মত দেখাশোনার সময় মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করল,
— আপনি কুরআনের কতটা মুখস্থ করেছেন?
ছেলেটি বলল, — আমি তেমন কিছু মুখস্থ করতে পারিনি, কিন্তু আমি সত্যিই একজন সৎ বান্দা হতে চাই।
তারপর ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল,
— আর আপনি?
মেয়েটি বলল, — আমি ‘জুজ আম্মা (সূরা আন-নাবা থেকে আন-নাস পর্যন্ত) ’ মুখস্থ করেছি।

এবং মেয়েটি প্রস্তাব মেনে নিল, কারণ সে অনুভব করেছিল যে ছেলেটি সত্যিই একজন সৎ মানুষ।
বিয়ের পর মেয়েটি স্বামীকে বলল,— তুমি কি আমাকে পুরো কোরআন মুখস্থ করিয়ে দেবে?

স্বামী উত্তর দিল,
— সমস্যা নেই, আমরা একসাথে মুখস্থ করি।
তারা সূরা মারিয়ম দিয়ে মুখস্থ শুরু করল।
এরপর একে একে সূরাগুলো মুখস্থ করতে করতে শেষ পর্যন্ত সে স্বামীর সামনে পুরো কোরআন খতম করল।
তারা দুজনেই হিফজ সম্পন্ন করল এবং ইজাজাহও (সার্টিফিকেট) লাভ করল।
পরে মেয়েটি প্রস্তাব দিল,
— "আমরা কি এবার সহীহ বুখারীর হাদিস মুখস্থ শুরু করতে পারি?"

একদিন স্ত্রীর বাবার বাড়ি সফরে গিয়ে স্বামী বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ, আপনার মেয়ে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে।

এ কথা শুনে শ্বশুর অবাক হলেন।
তিনি মেয়ের ঘর থেকে অনেকগুলো কাগজপত্র নিয়ে এসে জামাতার সামনে রাখলেন।
আর স্বামী তো হতবাক!

স্ত্রী আসলে বিয়ের আগেই পুরো কুরআন এবং কুতুবুস সিত্তাহ (বুখারী,মুসলিম, নাসাঈ,আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) মুখস্থ করেছিল।

“সুবহানাল্লাহ! স্বামীর জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে সে শুরুতেই তাকে লজ্জায় ফেলেনি। বরং যখন অনুভব করল সে একজন সৎ মানুষ, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজে যেমন মুখস্থ করেছে, তেমনি তাকেও মুখস্থ করতে সাহায্য করেছে।”
এবং যখন বলেছিল, “আমি জুজ আম্মা (৩০ তম পারা) মুখস্থ করেছি,” তখন মিথ্যা বলেনি — কারণ বাকি অংশ মুখস্থের কথা সে অস্বীকারও করেনি।

হে আল্লাহ! যদি আমরা সৎ না হই, তবে আমাদের এমন সৎ জীবনসঙ্গী দিন, যারা আমাদেরকে আপনার নিকটবর্তী করবে। আর আমাদেরকেও সৎ বানিয়ে দাও।

27/07/2026

জামাই আদর বলে যে একটা কথা আছে সেটা আমি তেমন একটা পেলামই না। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুনে আসছি শ্বশুরের ব্যবসায় মন্দা । তাই শ্বশুর বাড়িতে গেলে আমার তেমন যত্ন হয় না। আমার অন্যান্য বন্ধু বান্ধব যখন গল্প করে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে এটা খেয়েছি ওটা খেয়েছি, এটা পেয়েছি ওটা পেয়েছি , আমি তখন চুপ হয়ে যাই। বলার কিছুই পাই না । সেদিন আমার বন্ধু সাদিক একটা দামী মোবাইল দেখিয়ে বললো, " এটা আমার শ্বশুর দিয়েছে। বুঝলিরে মিতুল শ্বশুর বাড়ি হচ্ছে মধুর হাড়ি। বেড়াতে গেলে কত যে যত্ন করে ,কত রকম পিঠা খাওয়ায়, কত রকমের রান্না করে আমার জন্য । আর উপহার ও দেয় দামী দামী। দেবে নাই বা কেন? ফেলনা তো নই। আমি হলাম জামাই। জামাই আদর তো করবেই। বিয়ে করেছি পাঁচ বছর হয়ে গেছে তবুও শ্বশুরবাড়ি গেলে মনে হয় এখনও আমি নতুন জামাই"।

শুনে আমার মুখটা শুকিয়ে আসে। বলার কিছুই পাইনা। বাসায় ফিরে বউকে বিনা কারনে ধমক লাগাই। সে মুখ শুকনো করে সব সহ্য করে । করবে না কেন তার কি কথা বলার মুখ আছে নাকি।

যতবার ও বাড়িতে যাই আমার জন্য আলাদা চিকন চালের ভাত রান্না করে, অল্প একটু গরুর মাংস , বড় মাছের কয়েক টুকরো, আর কিছু সবজি এগুলো খেতে দেয় । নিজেরা পরে শাক সবজি দিয়ে খায়। এত গরিবী দেখতে কার ভালো লাগে। তাই সহজে যাই না সেখানে। যেখানে যত্ন নাই সেখানে আমি নাই। কিছুদিন আগে আমার স্ত্রীর ছোটবোনের বিয়ে হয়েছে। তারা নাকি বেড়াতে এসেছে। ভায়া এবার বুঝবে কেমন নিরামিষ শ্বশুর বাড়ি পেয়েছে। আমাদের দু'জনকে শ্বশুর যেতে বলেছে। মুখের ওপর মানা ও করতে পারি না। বলেছি শুক্রবার যাবো। এই নিয়ে বউয়ের সাথে একচোট রাগ দেখিয়েছি।

শুক্রবার সকালে বউয়ের সাথে অনেক রাগ দেখিয়ে তাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গেলাম। গিয়ে তো আমি যার পর নাই অবাক। নতুন জামাই বড় বড় দুটো রুই মাছ কাঁটছে। আমাকে দেখে
একগাল হেসে বললো, " বুঝলেন দুলাভাই, মাছ কাঁটায় আমি ওস্তাদ। বাজার থেকে বড় রুই মাছ কাটিয়ে আনিনা । বাড়িতে সবাইকে আগে মাছটা দেখাই। তারপর নিজেই কাঁটতে বসে যাই। রুইমাছের মাথা আমার অনেক পছন্দের। "

আমি মনে মনে ভাবছি, " নতুন জমাইয়ের জন্য এত কিছু এনেছে আমার শ্বশুর। আমাকে তো বড় রুই মাছের মাথা কখনো খাইয়েছে বলে মনে পড়ে না। আর ছেলেটাকে দেখো শ্বশুর বাড়িতে এসে কি সব কাজ করছে। লজ্জা বলতে কি কিছুই নেই নাকি? আমার শ্যালিকা ও দেখি জামাইয়ের এসব কাজে খুব খুশি। "

ছেলেটা শুধু মাছই কাঁটলো না সেগুলো ধুয়েও দিলো। বাকি রান্নার সব প্রস্তুত করে দিয়ে আমার শ্বাশুরিকে বললো, " আম্মা সরেন আমি আজকে সব রান্না করবো। আপনি শুধু পাশে বসে হুকুম করবেন। " আমার শ্বাশুরি নতুন জামাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, " না বাবা, তুমি সকাল থেকে অনেক কষ্ট করেছো। নিজে বাজার করেছো, রান্নার সব প্রস্তুতি করে দিয়েছো । এখন যাও গোছল করে এসো। রান্না আমি করতে পারবো বাবা"।
সে মাথা নেড়ে বললো, " ঠিক আছে আম্মা । বুলা , তুমি আম্মাকে সাহায্য করো। আমি টুপ করে ডুব দিয়ে আসি।"

কথা শুনে আমার শ্যালীকা বললো, " তুমি পুকুর কোথায় পেলে যে ডুব দেবে?"
বলেই হেসে ফেললো। কী নির্লজ্জ মেয়ে!

দুপুরে খাওয়ার সময় আমার শ্বাশুরি মাছের একটা মাথা আমার প্লেটে দিলেন। আমি চুপচাপ খাচ্ছি । আরেকটা মাথা নতুন জামাইকে দিতে গেলে সে আম্মাকে থামিয়ে দিলো। বললো , " আম্মা মাথাটা আব্বাকে দিন। "
আব্বা বললো, " না না বাবা তোমরা খাও। তোমরা আমার দুটি ছেলে। তোমরা খেলেই আমি খুশি"
আম্মা বললেন, " খাও বাবা । নিজে বাজার করলে। এতো কষ্ট করে রান্নার যোগার করলে, এখন তুমি না খেলে তোমার শ্বশুর আর আমি খুব কষ্ট পাবো।"

জামাই বললো, " আম্মা আমাকে বাবা বলছেন অথচ ছেলের অধিকার দিচ্ছেন না মোটেও। এখানে আসার পর আপনারা আমার জন্য চিকন চালের ভাত আলাদা রেঁধেছেন। আপনারা রোজ মোটা চালের ভাত খান। আর আমি এই কদিন খেতে পারবো না! জোর না করলে তো রোজ আমার জন্য আলাদা ভাত রাঁধতেন। আর এখন আব্বা , আর আপনি থাকতে আমাকে মাছের মাথা খেতে বলছেন। জানেন রুই মাছের মাথা আমার অনেক পছন্দের। ছোটবেলায় নানা বাড়িতে গেলে পুকুর থেকে সবচেয়ে বড় রুই মাছটা ধরতেন নানাভাই। পাশে বসিয়ে মাছের মাথাটা আমাকে খাওয়াতেন। আর আমার বাবা বাজার থেকে রুই মাছ আনলে আমিই মাথাটা খেতাম। আমাকে খাওয়াতে পেরে আমার গরিব বাবা মাই বেশি খুশি হতেন। একদিন বাবাকে বলেছিলাম, বাবা আমি বড় হয়ে আপনাদের দুজনকে এর থেকে আরো বড় রুই মাছের মাথা খাওয়াবো। "
এরপর ছলোছলো চোখে বললো, " মাকে তো খাওয়াতে পেরেছি । কিন্তু বাবাকে খাওয়াতে পারিনি। আজকে আমার সেই অতৃপ্ত ইচ্ছা আপনি পূরণ করবেন আব্বা। সন্তান হয়ে বাবাকে নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ানো থেকে আর আমি বঞ্চিত হতে চাই না আব্বা "

আব্বার চোখে পানি দেখলাম। তিনি জামাইয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, " ঠিক আছে বাবা খাবো। কিন্তু এত বড় মাথা তো আমি একা খেত পারবো না।"

" তাহলে আম্মাকে নিয়ে খান। আমরা সন্তানেরা মন ভরে আপনাদের দুজনের খাওয়া দেখি।" বলেই নাটুকে ছেলেটা হেসে ফেললো। আমার প্লেটের মাছের মাথাটা তখন আমার কাছে বিষকাঁটার মত মনে হচ্ছিলো। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দেখি তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।

শ্বশুর বাড়ি থেকে ফিরে আসলাম। তবে আসার সময় মনে মনে একটা প্রতিজ্ঞা করলাম , " এরপর যখন শ্বশুর বাড়িতে আসবো তখন জামাই হয়ে নয় ছেলে হয়ে আসবো। নিশ্চয়ই ছেলে হয়ে আাসবো"।


গল্পঃ ইচ্ছে মেঘের ডানা
লেখায়ঃ জান্নাত আরা

যেসব ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে (প্রতি ১০০ গ্রামে):1. Mediplus Fluoride Gel – 3202. Closeup Red Hot – ...
26/07/2026

যেসব ২৬টি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে (প্রতি ১০০ গ্রামে):

1. Mediplus Fluoride Gel – 320

2. Closeup Red Hot – 160

3. Closeup Menthol Fresh – 160

4. Kodomo Ultra Shield Formula (Strawberry) – 140

5. Signal Green Tea – 120

6. Pepsodent Advance Salt – 100

7. Himalaya Complete Care – 100

8. Sensodyne Fresh Mint – 80

9. Pepsodent Sensitive Expert – 60

10. White Plus Red – 60

11. White Plus Pro Sensitive Gel – 60

12. Meril Baby Strawberry – 60

13. Signal Whitening – 60

14. Mediplus TGP Formula – 60

15. am.pm. Herbal Toothpaste – 40

16. Mediplus DS – 40

17. Pepsodent Germicheck+ – 40

18. Meril Baby Orange – 40

19. Magic Herbal – 40

20. Meswak – 40

21. Closeup Menthol Fresh (Sachet) – 40

22. Dentin Gel Toothpaste – 20

23. Pepsodent Kids Orange – 20

24. Closeup Lemon Sea Salt – 20

25. Brush Up Whitening Gel – 20

26. White Plus Pro Sensitive – 20

চলুন সচেতন হই, নিজে বাঁচি পরিবারকে বাঁচাই

Dr-Abdur Rahman

Dept of pharmacology❣️
26/07/2026

Dept of pharmacology❣️

ঘটনাটা নরসিংদীর। বাচ্চাটার মা বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলেন, উনি বাচ্চাকে রেখে একটু বাইরে গেলেই ফিরে এসে দেখেন বাচ্চাটা...
14/07/2026

ঘটনাটা নরসিংদীর। বাচ্চাটার মা বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলেন, উনি বাচ্চাকে রেখে একটু বাইরে গেলেই ফিরে এসে দেখেন বাচ্চাটা একদম চিল্লাইয়া কান্নাকাটি করতেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাল লাল দাগও দেখতেন।

​মায়ের মন তো, খটকা লেগেছিলে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া তো আর ঘরের মানুষকে সন্দেহ করা যায় না, উল্টো সবাই তাকেই পাগল বলবে। তাই উনি বুদ্ধি করে ঘরের এক কোণায় মোবাইলের ক্যামেরা অন করে রেখে ওয়াশরুমে যান।
আর তাতেই বেরিয়ে আসে সেই শিউরে ওঠার মতো সত্যি!

​ভিডিওতে দেখা যায়, মা ঘর থেকে বের হতেই সেখানে ঢোকে বাচ্চাটার আপন বড় চাচি।
কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া, একদম ঠান্ডা মাথায় বিছানায় শোয়া ওই ছোট্ট বাচ্চার পা-টা উল্টো দিকে মুচড়ে জোরে চাপ দেয়। বাচ্চার হা/ ড় ভে/ ঙে যাওয়ার সাথে সাথে সে য/ন্ত্রণা/য় চিৎকার করে ওঠে, আর ওই মহিলাও কাজ সেরে দৌড়ে পালায়।

​ভাইরে ভাই, একটা মানুষ এতটা নিচে কীভাবে নামতে পারে? একটা মেয়ে মানুষ হয়ে আর একজন মা বা চাচি হয়ে কীভাবে একটা ২ মাসের নবজাতকের সাথে এই অমানুষিক কাজটা করতে পারলো?
ভিডিওটা না দেখলে আসলেই বিশ্বাস করা কঠিন হতো।

​এই ঘটনা আমাদের চোখ আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো যে শত্রু শুধু বাইরের রাস্তায় থাকে না, অনেক সময় ঘরের ভেতরেই আত্মীয়তার মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়।

এই মা যদি সেদিন ক্যামেরাটা অন না রাখতেন, তবে হয়তো কোনোদিন জানাই যেত না বাচ্চাটার এই অবস্থা কেন হচ্ছিলো। সবাই ভাবতো বাচ্চার কোনো রোগ হয়েছে বা খাট থেকে পড়ে ব্যথা পেয়েছে।

​এই নরপিশাচ মহিলার এমন শাস্তি হওয়া উচিত যাতে আর কোনো বাচ্চার ওপর এভাবে হাত তোলার সাহস কেউ কোনোদিন না পায়।

​নিজের বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখুন। আজকাল কাকে বিশ্বাস করবেন আর কাকে করবেন না সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।🙂

14/07/2026

জীবনটা সত্যি অদ্ভুত। স্ত্রীর জন্য যে স্বামী সব করল, প্রতিষ্ঠিত স্ত্রী সেই স্বামীকে ছেড়ে যেতে দুবার ভাবে না। ঠিক তেমনি যে স্বামী স্ত্রীর জন্য প্রতিষ্ঠিত হলো,সফলতার সাথে সাথে স্ত্রী হয়ে যায় ক্ষেত, আনস্মার্ট,অপ্রয়োজনীয় 😞

আমার বিয়ে ভাঙার পর মানুষ আমাকে দেখে খুব দুঃখ পেত। অন্তত আমার সামনে। আমার পেছনে কী পেত, সেটা পরে জেনেছি। কেউ বলত, বিদেশে থাকা মেয়েদের এই এক সমস্যা—স্বাধীনতা বেশি। কেউ বলত, বয়স ত্রিশ পার হলে মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আমার এক খালা মাকে ফোন করে খুব গোপনীয় গলায় বলেছিলেন, “বুঝলা আপা, পুরুষ মানুষরে একটু হাতে রাখতে হয়। সারাক্ষণ সমান সমান করলে সংসার টেকে না।”

আমি অবশ্য আদনানকে কোনোদিন সমান সমান করিনি। আমি তাকে নিজের চেয়ে একটু বেশিই রেখেছিলাম।

আদনানের সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকে। আমার একটা পোস্টে সে কমেন্ট করেছিল, “প্রবাস মানুষকে স্বাধীন করে না, আরও একা করে দেয়।” বাক্যটা পড়েই আমার মনে হয়েছিল, ছেলেটা গভীর। এখন বুঝি, একটা মানুষকে গভীর ভাবার জন্য আমরা মেয়েরা মাঝে মাঝে খুব অল্প পানিতেই ডুব দিই।

তখন আমি কানাডায় চার বছর ধরে থাকি। ভালো চাকরি করি, নিজের গাড়ি আছে, দুই বেডরুমের একটা কন্ডো ভাড়া নিয়েছি। দেশে গেলে আত্মীয়রা আমাকে দেখে এমনভাবে কথা বলত, যেন আমি মানুষ না, সফল অভিবাসনের একটা জীবন্ত বিজ্ঞাপন। “সামারা তো কানাডায় থাকে”—আমার নামের আগে এই কথাটা বসে গিয়েছিল। কেউ আমার চাকরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানত না, আমি কী খেতে পছন্দ করি জানত না, রাতে আমার ঘুম হয় কি না জানত না। শুধু জানত, আমি কানাডায় থাকি।

আদনানও জানত।

আমাদের কথা শুরু হলো। সে খুব মন দিয়ে আমার কথা শুনত। অফিসের ঝামেলা, শীতের দিনে গাড়ির উইন্ডশিল্ড থেকে বরফ পরিষ্কার করার বিরক্তি, অসুস্থ হলে একা ফার্মেসিতে যাওয়া—সব। একদিন আমি বলেছিলাম, “জানো, মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত লাগে।” আদনান সঙ্গে সঙ্গে বলেছিল, “তুমি অনেকদিন একা সব সামলাচ্ছ। এখন তোমার একজন নিজের মানুষ দরকার।”

নিজের মানুষ।

দুইটা শব্দ।

দুইটা শব্দ দিয়ে একটা শিক্ষিত, স্বাবলম্বী, মোটামুটি বুদ্ধিমান নারীকে কত সহজে বোকা বানানো যায়, সেটা নিয়ে সম্ভবত গবেষণা হওয়া দরকার।

আমার মা প্রথম থেকেই আদনানকে পছন্দ করেননি। কারণ হিসেবে তেমন কিছু বলতে পারতেন না। শুধু বলতেন, “ছেলেটা কানাডা কানাডা বেশি করে।” আমি মাকে বুঝিয়েছিলাম, মানুষ নতুন একটা দেশ নিয়ে কৌতূহলী হতেই পারে। মা বলেছিলেন, “তোরে নিয়া কৌতূহল কম কেন?”

আমি রেগে গিয়েছিলাম।

আমাদের মায়েদের একটা বিরক্তিকর স্বভাব আছে। তারা মাঝে মাঝে এমন প্রশ্ন করে, যেগুলোর উত্তর আমাদের কাছে থাকে না। তখন আমরা প্রশ্নটাকেই সেকেলে ঘোষণা করে দিই।

আদনান আমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করত। কানাডায় বাড়ির দাম কেমন, নতুন ইমিগ্র্যান্টদের চাকরি পেতে কতদিন লাগে, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী লাগে, স্পাউস স্পনসরশিপে কত সময় লাগে। এর ফাঁকে ফাঁকে সে আমাকে মিসও করত। খুব দক্ষতার সঙ্গে। “আজ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে,” বলার দশ মিনিট পর জিজ্ঞেস করত, “আচ্ছা, স্পাউস ভিসায় গেলে কি ওপেন ওয়ার্ক পারমিট লাগে?”

আমি উত্তর দিতাম।

কারণ আমি শিক্ষিত মেয়ে। তথ্য জানি। সরকারি ওয়েবসাইট পড়তে পারি। এবং প্রেমে পড়েছি।

এই তিনটা জিনিস একসঙ্গে থাকলে মানুষ ভয়ংকর কর্মদক্ষ হয়ে ওঠে।

আমাদের বিয়ে হলো আট মাসের মাথায়। দেশে গিয়ে আমি তিন সপ্তাহ ছিলাম। বিয়েতে আদনানের বন্ধুরা আমাকে “কানাডার ভাবি” ডাকত। প্রথম প্রথম মজা লাগত। একদিন বলেছিলাম, “আমার নামও কিন্তু আছে।” সবাই হেসেছিল। আদনানও। সে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলেছিল, “ওরা মজা করে।”

আমি তখনও জানতাম না, কোনো কোনো রসিকতা ভবিষ্যতের সাক্ষী হয়ে থাকে।

কানাডায় ফিরে আমি স্পনসরশিপের কাগজপত্র শুরু করলাম। আদনান খুব সাহায্য করত। আমাদের সম্পর্কের তারিখ, প্রথম কথা, প্রথম দেখা—সব তার মনে ছিল। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম, “তোমার এত কিছু মনে থাকে?” সে হেসে বলেছিল, “তোমার ব্যাপারে কিছু ভুলি?”

এখন ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। লোকটার কিছুই ভুলে যাওয়ার অভ্যাস ছিল না। বিশেষ করে ডকুমেন্টের ডেডলাইন।

আদনানের ভিসা হওয়ার দিন সে ভিডিও কলে কেঁদেছিল। আমি স্ক্রিনশট নিয়েছিলাম। ছবিটা অনেকদিন আমার ফোনে ছিল। পরে ডিভোর্সের সময় ছবিটা ডিলিট করতে গিয়ে প্রায় দশ মিনিট তাকিয়ে ছিলাম। মানুষ আনন্দে কাঁদলে ঠিক কোন আনন্দে কাঁদছে, সেটা ছবিতে বোঝা যায় না।

আদনান কানাডায় এলো নভেম্বরের শেষে। আমি এয়ারপোর্টে লাল কোট পরে গিয়েছিলাম। লাল আমার পছন্দের রং নয়, কিন্তু সে একবার বলেছিল আমাকে লালে সুন্দর লাগবে। প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর তাকে দেখলাম। আমার বুকের ভেতর কেমন করে উঠেছিল। আদনান বের হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল, তারপর মাথা তুলে চারপাশে তাকাল।

আমি ভেবেছিলাম, নতুন দেশ।

নতুন দেশ দেখে মানুষ তাকাবেই।

গাড়িতে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যে সে জিজ্ঞেস করেছিল, “এখান থেকে ডাউনটাউন কত দূর?” আমি হেসে বলেছিলাম, “আগে বাসা দেখবা না?” সেও হেসেছিল। “বাসা তো তোমার সঙ্গে। দেশটা একটু দেখি।”

কথাটা শুনে আমার খুব ভালো লেগেছিল।

প্রেমে থাকা অবস্থায় সাধারণ বাক্যের ভেতর কবিতা খুঁজে পাওয়ার একটা বদভ্যাস আমার ছিল।

প্রথম কয়েক মাস আমি আদনানকে কানাডা শেখালাম। সিন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ কার্ড, ড্রাইভিং টেস্ট, রেজুমে—সব। তার রেজুমেতে “excellent communication skills” লিখেছিলাম আমি নিজে। ইন্টারভিউয়ের আগের রাতে বসে সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর প্র্যাকটিস করাতাম। আদনান নার্ভাস হলে বলতাম, “তুমি পারবা।”

সে সত্যিই পেরেছিল।

একটা ভালো চাকরি পেল।

আমি সেদিন বিরিয়ানি রান্না করেছিলাম। আদনান ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল—“Alhamdulillah. Hard work always pays off.”

আমি স্ট্যাটাসে লাভ রিয়েক্ট দিয়েছিলাম।

আমার নাম সেখানে ছিল না।

অবশ্য থাকার কথাও না। হার্ড ওয়ার্কটা তারই ছিল। আমি শুধু রেজুমে লিখেছি, ইন্টারভিউ প্র্যাকটিস করিয়েছি, ছয় মাস বাসা ভাড়া দিয়েছি, গাড়িতে করে জায়গায় জায়গায় নিয়ে গেছি এবং প্রতিদিন বলেছি—তুমি পারবা।

এসব কাজ সম্ভবত সফট ওয়ার্কের মধ্যে পড়ে।

চাকরির পর আদনান বদলাতে শুরু করল—এই বাক্যটা আমি বহুবার বলেছি। আসলে বাক্যটা ভুল। আদনান বদলায়নি। আমার প্রয়োজন কমতে শুরু করেছিল।

প্রথমে সে নিজে গাড়ি কিনল। তারপর নিজের বন্ধু হলো। শুক্রবারের আড্ডা শুরু হলো। জিম। অফিস পার্টি। ওভারটাইম। আমি মাঝে মাঝে বলতাম, “আমরা কোথাও যাই না কেন?” সে বলত, “তুমি এত needy কেন?”

শব্দটা আমি প্রথমবার শুনে চুপ হয়ে গিয়েছিলাম।

Needy.

যে নারী ছয় মাস একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ডেন্টিস্ট খুঁজে দেওয়া পর্যন্ত সব করেছে, সে সপ্তাহে একদিন একসঙ্গে বাইরে খেতে চাইলে needy হয়ে যায়।

ইংরেজি ভাষা সত্যিই সমৃদ্ধ।

এক রাতে আদনান বাসায় ফিরল প্রায় দুইটায়। আমি সোফায় বসে ছিলাম। সে দরজা খুলে আমাকে দেখে বিরক্ত হলো। “তুমি এখনও জেগে?” আমি বললাম, “ফোন ধরছিলা না।” সে জুতা খুলতে খুলতে বলল, “এইটা বাংলাদেশ না। এখানে একজন আরেকজনরে পুলিশিং করে না।”

আমি সেদিন প্রথমবার তার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম।

এই লোকটার জন্য আমি সরকারের কাছে লিখেছিলাম, আমাদের সম্পর্ক genuine। প্রমাণ দিয়েছিলাম। ছবি দিয়েছিলাম। চ্যাট দিয়েছিলাম। বিয়ের সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম। বন্ধুদের চিঠি দিয়েছিলাম।

একটা দেশের সরকারকে বোঝাতে আমার অনেক কাগজ লেগেছিল যে আদনান আমাকে ভালোবাসে।

নিজেকে বোঝাতে একটাও লাগেনি।

আমাদের ডিভোর্সের কথাটা আদনান তুলেছিল তার ইমিগ্রেশনের সব ঝামেলা শেষ হওয়ার চার মাস পর।

চার মাস।

আমি ক্যালেন্ডার খুলে হিসাব করেছিলাম। মানুষ বড় কোনো সত্যের সামনে দাঁড়ালে অদ্ভুত ছোট ছোট অঙ্ক করে। কয় মাস। কয় দিন। কোন তারিখে কী বলেছিল। কোন রাতে আমার কপালে হাত রেখে বলেছিল, “তুমি না থাকলে আমি কী করতাম?”

আমি বসে বসে হিসাব করেছিলাম—ঠিক কোন দিন থেকে সে আমাকে ব্যবহার করা শুরু করেছিল?

পরে বুঝেছি, প্রশ্নটাই ভুল।

কিছু মানুষ আপনাকে মাঝপথ থেকে ব্যবহার করে না। তারা শুরু থেকেই জানে আপনি কী কাজে লাগবেন।

শুধু আপনি নিজের ব্যবহারবিধি জানেন না।

আদনান বলেছিল, “আমাদের কম্প্যাটিবিলিটি নাই।”

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কবে থেকে?”

সে উত্তর দেয়নি।

আমি আবার বললাম, “বাংলাদেশে থাকতে ছিল?”

চুপ।

“ভিসার সময় ছিল?”

সে বিরক্ত হয়ে বলেছিল, “সামারা, প্লিজ। ড্রামা করো না।”

ড্রামা।

আরেকটা চমৎকার ইংরেজি শব্দ।

একজন মানুষ আপনার জীবনের তিন বছর নিয়ে চলে গেলে আপনি যদি তিনটা প্রশ্ন করেন, সেটাকে ড্রামা বলা যায়।

আমি আর প্রশ্ন করিনি।

ডিভোর্স হয়ে গেল।

দেশে খবর পৌঁছানোর পর সবাই কারণ খুঁজতে শুরু করল। আমাদের সমাজে একটা বিয়ে ভাঙলে মানুষ বিমানের দুর্ঘটনার তদন্তের মতো মেয়েটার চরিত্র বিশ্লেষণ করে। নিশ্চয়ই কোথাও পাইলট এরর ছিল। এক খালা বললেন, “বিদেশে থেকে মেয়েটা একটু বেশি স্বাধীন হয়ে গেছে।” এক চাচি বললেন, “পুরুষ মানুষরে অত সাহায্য করতে নাই। মাথায় উঠে।” একজন খুব শিক্ষিত আত্মীয় আমাকে বোঝালেন, “Men need to feel needed.”

আমি মাথা নেড়ে কথাটা শুনেছিলাম।

মনে মনে হিসাব করার চেষ্টা করেছিলাম—ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, রেজুমে লেখা, ইন্টারভিউ প্র্যাকটিস, ছয় মাসের খরচ চালানো, ডেন্টিস্ট খুঁজে দেওয়া—ঠিক কোন কাজটার পর একজন পুরুষের নিজেকে needed মনে হওয়ার কথা?

সম্ভবত আমি কোনো একটা ফর্ম পূরণ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

কথাটা মুখে বলিনি।

ডিভোর্সের পর আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট আদনানের জন্য হয়নি। এই কথাটা বুঝতে আমার প্রায় এক বছর লেগেছিল। আমি কাঁদতাম এয়ারপোর্টে লাল কোট পরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার জন্য। যে মেয়েটা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বারবার ফোনের ক্যামেরায় নিজের চুল ঠিক করছিল। যে ভাবছিল, একজন মানুষ আট হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তার কাছে আসছে।

মেয়েটা জানত না, মানুষটা তার কাছে আসছে না।

তার মাধ্যমে আসছে।

এই দুইটার মধ্যে দূরত্ব ঢাকা থেকে টরন্টোর চেয়েও বেশি।

ডিভোর্সের ছয় বছর হয়ে গেছে।

আমি এখনও কানাডায় থাকি। আগের কন্ডোটা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার নিজের ছোট একটা টাউনহাউস আছে। সামনে অল্প একটু জায়গা। গ্রীষ্মে সেখানে হাইড্রেঞ্জা ফোটে। আমি গাড়িটাও বদলেছি। অফিসে দুবার প্রমোশন হয়েছে। গত বছর একা পর্তুগাল ঘুরে এসেছি। ছবিতে আমাকে বেশ সুখী দেখায়।

আমি সম্ভবত সুখীই।

শুক্রবার রাতে মাঝে মাঝে নিজের জন্য স্যামন বেক করি। নেটফ্লিক্সে কিছু একটা ছেড়ে দিই। পুরোটা দেখি না। ফোন স্ক্রল করি। মা ফোন করলে বলি, “অনেক ভালো আছি মা।”

মা এখন আর বিয়ের কথা বলে না।

আমিও না।

আমার বাড়িতে দুইটা বেডরুম। দ্বিতীয় ঘরটায় একটা ডেস্ক, বুকশেলফ আর ট্রেডমিল রেখেছি। মাঝে মাঝে কাপড় শুকাতে দিই। প্রথম প্রথম ঘরটাকে গেস্ট রুম বলতাম।

এখন বলি, আমার অফিস।

নামের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশাও বদলে যায়।

কখনও কখনও রাতে ঘুম আসে না। আমি নিচে নেমে কিচেনে পানি খেতে যাই। বাড়িটা তখন অদ্ভুত চুপচাপ থাকে। ফ্রিজ শব্দ করে।

প্রবাসে একা থাকলে ফ্রিজ শব্দ করে।

এই কথাটা আমি অনেক বছর আগে আদনানকে বলেছিলাম।

সে বলেছিল, “আমি আসলে আর ফ্রিজের শব্দ শুনবা না।”

মজার ব্যাপার হলো, সে ঠিকই বলেছিল।

আদনান যে দুই বছর আমার সঙ্গে ছিল, আমি সত্যিই ফ্রিজের শব্দ শুনিনি।

এখন আবার শুনি।

তবে এখন শব্দটা আমাকে আগের মতো কষ্ট দেয় না। মানুষ সবকিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। শীতের সঙ্গে। একা গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সঙ্গে। নিজের জন্মদিনে নিজের জন্য কেক কেনার সঙ্গে। একটা বাড়ির দ্বিতীয় বেডরুমকে অফিস বলার সঙ্গে।

শুধু মাঝে মাঝে, খুব গভীর রাতে, ফ্রিজের মোটরটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বাড়িটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য একেবারে নিঃশব্দ হয়ে যায়।

সেই নিঃশব্দের মধ্যে আমি কখনও কখনও এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা লাল কোট পরা মেয়েটাকে মনে করি।

তার ওপর আমার আর রাগ হয় না।

খুব মায়া লাগে।

ইচ্ছা করে তার কাছে গিয়ে বলি, “সামারা, মানুষটা তোমার জন্য আসছে না।”

কিন্তু তারপর মনে হয়, বলেই বা কী হতো?

সে বিশ্বাস করত না। কারণ তার হাতে তখন ফুল ছিল।

আর যে মানুষের হাতে ফুল থাকে, সে সাধারণত দরজাকে দরজা ভাবে না। ঘর ভাবে।

ফ্রিজটা আবার শব্দ করতে শুরু করে।

আমি পানি খেয়ে উপরে উঠে যাই। কাল অফিস আছে।

©️nnshejuti

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

🫡
13/07/2026

🫡

শশুর বাড়ি নিয়ে মেয়েদের এতো সমস্যা কেন ভাই?  শাশুড়ি নাহয় তোমার একটু প্রাইভেসি নষ্ট করে।  ননদ একটু তোমার জিনিসপত্র ঘাটাঘাট...
12/07/2026

শশুর বাড়ি নিয়ে মেয়েদের এতো সমস্যা কেন ভাই?
শাশুড়ি নাহয় তোমার একটু প্রাইভেসি নষ্ট করে।
ননদ একটু তোমার জিনিসপত্র ঘাটাঘাটি করে।
ভাইয়ের কাছে না হয় তোমার নামে ২/১ টা বদনাম করে।
দেবর হয়তো না বলে যখন তখন রুমে চলে আসে।
শশুর খেতে বসে ঝাল বেশি, লবণ কম বলে কান ঝালাপালা করে।

তাতে কী?
তুমি স্বামীর কথা শুনবা। শাশুড়িকে নিজের মা ভাববা।
শাশুড়ি প্রাইভেসি নষ্ট করলে বলবা,
*"ধুরো আম্মু, লাইটটা বন্ধ করে রুম থেকে যাও তো।"*

ননদ তোমার জিনিসপত্র ঘাটলে, তোমার বদনাম করলে
ওরে নিজের বোন ভেবে কয়েকটা চটকানা মারবা।

দেবর হুট করে ঘরে ঢুকলে
নিজ ভাই মনে করে ঘাড়ের ওপর কয়েকটা বাড়ি দিয়ে বলবা,
*"যখন তখন আমার ঘরে ঢুকবিনা জানোয়ার।"*

শশুর খাবারে খুঁত ধরলে বলবা,
*"নিজের বউ রানলে তো এতো খুঁত ধরো না বাবা। যা বানিয়েছি তাই খাও।"*

এভাবেই সবাইকে আপন ভেবে সংসার করবা।
আর কেউ কিছু বলতে এলে নিজের লোক ভেবে
বাপের বাড়ির মতোন ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দিবা 🥱🥱

হাজার হোক, স্বামী সবাইকে আপন ভাবতে বলেছে তো নাকি?

কপি ফ্রম পুলিশ ভাই

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when JS Ema posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share