চেপে রাখা ইতিহাস

চেপে রাখা ইতিহাস লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ।

01/06/2026

জানাজা শেষে সবাই পড়ে কালিমা শাহাদাত আর আওয়ামীলীগ পড়ে জয় বাংলা।
এটাকি নতুন কোন দুরুদ শরীফ নাকি?

01/06/2026

পাকিস্তান আমলে আগস্টের মাঝামাঝি দিকে ঢাবির টিএসসিতে একটা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্যেশ্য ছিল শিক্ষা কমিশনের ব্যাপারে জরিপ করা।

তখন সবেমাত্র শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

এই আলোচনা সভায় বামপন্থীদের বিপরীতে যুক্তি তর্ক দেয়ার জন্যে রাখা হয়েছিল আব্দুল মালেককে।

বামপন্থীরা আব্দুল মালেককে কথা বলার তেমন একটা সুযোগই দেয়নি। নিজেরা নিজেরাই বক্তব্য রাখছিল। মনে হচ্ছিল তেমন একটা পাত্তাই দিচ্ছিল না তাকে।

তারপর সভার একদম শেষের দিকে যুক্তি তর্কের জন্যে মাত্র ৬ মিনিটের সময় দেওয়া হয় তাকে। বামপন্থীরা ভেবেছিল এই ছেলে আর কিইবা যুক্তি তর্ক দিবে?

কিন্তু আব্দুল মালেক ছেলেটা ছিল অসাধারণ বাগ্মী। যুক্তি তর্কে একদম দক্ষ। দেখতে আলাভোলা ঢাবির প্রাণ রসায়নের বিভাগের এই ছেলেটাই ওই ৬ মিনিটে প্রতিটা কথার পয়েন্ট বাই পয়েন্ট যুক্তি দিতে থাকে।

বামপন্থীদের প্রতিটা কথার বিপরীতে যৌক্তিক কাউন্টার পয়েন্ট উত্থাপন করে এবং ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সে।

আব্দুল মালেকের এমন তাত্ত্বিক ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য স্তব্ধ করে দেয় শ্রোতাদের। এতক্ষণ তাকে আলাভোলা ভাবা প্রতিটা শ্রোতা পর্যন্ত জোরে জোরে হাততালি দিতে থাকে।

মাত্র ৬ মিনিটের যৌক্তিক বক্তব্যেই পুরো সভার মোটিভ পুরোপুরি বদলে দেয় আব্দুল মালেক। উপস্থিত প্রতিটা শ্রোতাও আব্দুল মালেকের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে।

এতক্ষণ যেসব শ্রোতারা বামপন্থীদের কিছু যুক্তিতে সমর্থন দিয়েছিল তারাও আব্দুল মালেকের যুক্তিতে মুগ্ধ হয়ে তার যুক্তির সমর্থনে চলে আসে।

এতে বামপন্থীরা মনে মনে ক্ষেপে যায়। যেই ছেলেকে ওরা এতক্ষণ পাত্তাই দিচ্ছিল না সেই ছেলেই এত মানুষের সমর্থন পাওয়ায় রাগে ক্ষোভে ফুসতে শুরু করে ওরা।

প্রাণ রসায়ন বিভাগের আলাভোলা এই ছেলেটা বেঁচে থাকলে বামপন্থীরা কখনোই যুক্ত তর্কে জিততে পারবে না, রাজনৈতিক সমর্থকও হারাবে এমনটা আঁচ করে বামপন্থী নেতারা।

তাই সভার শেষদিকে ওরা প্ল্যান করে আব্দুল মালেককে মেরে ফেলবে। মালেককে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়াটাই তখন তাদের কাছে সমাধান মনে হচ্ছিল।

তাছাড়া বামপন্থীদের হাতে তখন ক্ষমতাও ছিল তাই তারা আর এতকিছু ভাবেনি।

এরপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্দুল মালেক যখন সভা শেষে তার সঙ্গীদের বিদায় দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল ঠিক তখনই আওয়ামী নেতা তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন গংরা হামলা চালায় আব্দুল মালেকের উপর।

তাদের প্রত্যেকের হাতে ছিল লোহার রড,হকিষ্টিক এবং আস্ত আস্ত ইট। বামপন্থী ওই স*ন্ত্রাসী নেতারা প্রথমে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটাতে থাকে আব্দুল মালেককে।

সে হাত দিয়ে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল কিন্তু এতজনের সাথে আর পেরে উঠেনি।

তারপর ওরা আস্ত ইট দিয়ে আব্দুল মালেকের মাথা থেঁতলাতে শুরু করে। গলগল করে র*ক্ত পড়তে থাকে তার মাথা থেকে। অনেকক্ষণ র*ক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে ছিল আব্দুল মালেকের দেহ।

পরে স্থানীয় কিছু ছাত্ররা তাকে দেখতে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়।কিন্তু মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় বাঁচতে পারেনি মেধাবী আব্দুল মালেক।

তিনদিন পর ১৫ আগস্টে প্রচন্ড কষ্টে , থেঁতলানো মাথা নিয়েই হাসপাতালে মারা গিয়েছিল তুখোড় মেধাবী ছেলে আব্দুল মালেক।

আব্দুল মালেক মারা যাওয়ার পর বামপন্থী নেতারা, আওয়ামী লীগের নেতারা তখন পার্টি করে সেই দিনটা উদযাপন করেছিল কেননা তাদের উদ্দেশ্যটা সফল হয়েছিল।

ঘটনাটা ১৯৬৯ সালের তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

ছাত্র সংঘের মেধাবী ছাত্র আব্দুল মালেক ছিল বগুড়ার ছেলে। প্রচন্ড মেধাবী এই ছেলেটা এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে ১১ তম এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৪র্থও হয়েছিল।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। ফজলুল হক হলের ১২২ নাম্বার রুমে থাকতো সে। আর মাত্র ১ বছর পরই অনার্স কমপ্লিট হয়ে যেতো কিন্তু তার আগেই নির্মমভাবে মেরে ফেলা হলো তাকে।

যেই বামপন্থী মেঘমাল্লাররা আজকে টকশোতে গিয়ে নীতিকথা শোনায় তাদের নেতারাই তখন একটা মেধাবী ছেলেকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল।

যেই আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েলের মৃত্যুতে সবাই আজকে মায়াকান্না করছে সেই তোফায়েলই নিজ হাতে ইট দিয়ে থেঁতলে থেঁতলে একটা ছেলেকে মেরে ফেলেছিল।

ছেলেটার অপরাধ ছিল সে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলতো, ভালো যুক্তি তর্ক দিতে পারতো।

আব্দুল মালেকের পুরনো বন্ধুরা বলতো- মালেক প্রচন্ড মেধাবী এবং মিশুখে ছিল। দেখা হলেই হাসি হাসি মুখ করে কেমন আছে জিজ্ঞেস করতো।

মালেকের মা একবার পাশের বাড়ি থেকে ধার করে সবজি এনেছিল কিন্তু মালেক ছেলেটা এতটাই সৎ ছিল যে মাকে বলেছিল সেই সবজি ফেরত দিয়ে আসতে কারণ সেটা তো তাদের জমির না।

ছেলেটার স্বপ্ন ছিল জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি কিভাবে ইসলামী শিক্ষাটাকেও অগ্রসর করা যায়, কিভাবে দেশের জন্যে কিছু করা যায়, মানুষের জন্যে কিছু করা যায়।

কিন্তু তার আগেই পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো তাকে। স্বপ্নটাও আর পূরণ হলো না ছেলেটার।

আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল মন্ত্রী থাকা অবস্থায় বহু নিরপরাধ মানুষের উপর জুলুম করেছে, অত্যাচার করেছে, ভোট চুরি করে অসংখ্যবার নির্বাচনে জিতে বহু মানুষকে গুম করেছে, খু*ন করেছে।

রক্ষীবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায়ও এই তোফায়েল ২৫ হাজারেরও বেশি মুক্তিযুদ্ধাকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করেছে, ক্ষমতার দাপটে গ্রাম ঘেরাও করে বহু মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে, পাষবিকভাবে ধ*র্ষণ করেছে।

আব্দুল মালেকের অসহায় মা টাও ছেলে হ*ত্যার বিচার চেয়ে বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে, আদালতে কতবার যে কান্নাকাটি করেছে কিন্তু বিচারটুকুও পায়নি কারণ তোফায়েল তখন মন্ত্রী ছিল ,প্রচুর ক্ষমতা ছিল।

আজকে এই তোফায়েলের মৃত্যুতে সবাই আহাজারি করছে, মায়াকান্না করছে।

অথচ যেদিন রাতে একজন অসহায়ের মায়ের ছেলের মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে থেঁতলে মেরে ফেলা হয়েছিল সেদিন কেউ মুখ খুলেনি, আহাজারিও করেনি।

ইসলামী শিক্ষার উন্নয়নে নিজের জীবনটাকে অকাতরে বিলিয়ে দেয়া অসহায় মালেকের কথাটাও কেউ আর মনে রাখেনি

- Ibrahim Khalil Shawon

gupto shibir 😃
17/05/2026

gupto shibir 😃

16/03/2026
23/02/2026

১৯৭১ সালে পাঁচ লাখ অবাঙালিকে হত্যা করেছে কে, পাকিস্তানি সৈন্যরা নাকি আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা? ‘৭২—‘৭৫ সালে জাসদের ৩৭ হাজার কর্মীকে হত্যা করেছে, পাকিস্তানি সৈন্যরা নাকি আওয়ামী লীগ? সিরাজ সিকদারকে হত্যা করেছে, পাকিস্তানি সৈন্যরা নাকি আওয়ামী লীগ? নেভাল সিরাজকে হত্যা করেছে কে, পাকিস্তানি সৈন্যরা নাকি আওয়ামী লীগ? ২০২৪ সালের জুলাই—আগস্টে ১৪০০ তরুণ ছাত্রকে হত্যা করেছে কে, পাকিস্তানি সৈন্যরা নাকি আওয়ামী লীগ?

15/02/2026

শপথ নেওয়ার আগেই মাত্র ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির আমলনামার কিছু অংশ👇

১, মাত্র কুয়েট ভিসির উপর ছাত্রদলের ক্যাডাররা করছে হামলা!

২, দিনাজপুরে ছেলে জামাতে পুলিং এজেন্ট থাকায় বাবারে মারছে বিএনপির কিছু সন্ত্রাসী! বাড়ি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি!

৩, পঞ্চগড়ে বাড়িঘর ,দোকানপাটে বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলা! অনেকে আহত অভিযোগ এনসিপির সার্জিস আলমের।

৪, বাগেরহাট ৪ আসনে আল আমিন নামের এক ছেলেরে পিড়াইয়া হাসপাতালে পাঠাইছে বিএনপির ক্যাডাররা!

৫, ফুলগাজির মুন্সিরহাটের জামাত নেতার দোকানে হামলা ছাত্রদল নেতার!

৬, নোয়াখালী সেনবাগে জামাত নেতার উপর হামলা ছাত্রদল ক্যাডারের!

৭, করম মুহুরি পাড়াতে কয়েকজনরে রক্তাক্ত করে হাসপাতে পাঠাইছে বিএনপির ক্যাডাররা!

৮, ভোট দেয়া নিয়ে তর্কের জেরে কুড়িগ্রামে জামায়াত নেতাকে কু*পিয়ে জখম করছে বিএনপির লোকেরা!

৯, খুলনাতে ঢাবির এক শিক্ষার্থীর বাড়িতে আগুন দিলো, তার মা বোনকে পিডাইয়া হাসপাতালে পাঠাইলো তাকে আবার জবাই করার হুমকি দিলো ছাত্রদল নেতারা!

১০, পাটগ্রামে এক ঘরে হামলা করে ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়া গেছে বিএনপির নেতারা!

১১, বরিশালে বাবা জামাত করার কারণে গাড়িতে হামলা করলো ছাত্রদলের ক্যাডাররা!

১২, চট্টগ্রামে সাবেক শিবিরের নেতার বাড়িতে বিএনপির নেতাদের হামলা।

১৩, কক্সবাজার চকরিয়ায় জামাত নেতার বাড়িতে বিএনপির ক্যাডারদের দফায় দফায় হামলা।

১৪, কুষ্টিয়াতে এনসিপির নেতার বাড়িতে বিএনপির ক্যাডারদের হামলা।

১৫, ফেনীতে বিজয়ী ঋণখেলাপী বিএনপির নেতা জামাতের অনেক কর্মীর বাড়িতে করছে হামলা!

১৬, সিরাজগঞ্জে জামাত আমিরের বাড়িতে আগুণ দিলো বিএনপির নেতা।

১৭, সন্দ্বিপে জামাত নেতাদের বাড়িতে হামলা বিএনপির নেতারা

১৮, দিরাই পৌর শহরে জামাত নেতার উপর হামলা!

১৯, বাগেরহাটে জামাত শিবির নেতাদের উপর হামলা করছে স্থানীয় বিএনপির ক্যাডাররা! ২০ জনকে আহত করছে।

২০, গোপালগঞ্জে জামাত নেতার বাড়িতে হামলা। বিএনপির নেতার!এ

নব্য 'মীর জাফর' ও বাংলাদেশের রাজনীতির ক্রান্তিকাল: আলেমদের ভূমিকা ও জাতির বিভীষিকাইতিহাসের চাকা অদ্ভুতভাবে ঘোরে। ১৭৫৭ সা...
13/02/2026

নব্য 'মীর জাফর' ও বাংলাদেশের রাজনীতির ক্রান্তিকাল: আলেমদের ভূমিকা ও জাতির বিভীষিকা
ইতিহাসের চাকা অদ্ভুতভাবে ঘোরে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন কোনো শক্তিশালী বিদেশী শক্তির কাছে হয়নি, বরং হয়েছিল ঘরের শত্রু মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায়। নিজের ক্ষমতার লোভ আর ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য মীর জাফররা ইংরেজদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল। ফলাফল? ২০০ বছরের গোলামি, অবর্ণনীয় নির্যাতন আর লুণ্ঠন। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখে মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছি। লেবাসধারী একদল আলেম আর স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের তুচ্ছ স্বার্থে যে খেলা খেলছে, তা আমাদের আবার কোনো দীর্ঘমেয়াদী গোলামির দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
১. সফলতার আড়ালে বিভীষিকা: জামায়াতকে ঠেকানোর মিশন
বাংলাদেশের কতিপয় তথাকথিত বড় আলেম—যেমন চরমোনাই পীর, মহিবুল্লাহ বাবুনগরী কিংবা আব্বাসী সাহেবদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার দিকে তাকালে একটি বিষয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়। তাদের প্রধান শত্রু কোনো জালেম বা ইসলামবিদ্বেষী শক্তি ছিল না, বরং তাদের সকল শক্তির কেন্দ্রবিন্দু ছিল জামায়াতে ইসলামীকে ঠেকানো। তারা সফল হয়েছেন। জামায়াতকে ক্ষমতার বাইরে রাখা বা তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করার মিশনে তারা আজ বিজয়ী। কিন্তু এই বিজয় কার জন্য?
পলাশীর যুদ্ধে মীর জাফরও ভেবেছিলেন তিনি সফল, তিনি নবাব হবেন। কিন্তু তিনি হননি, হয়েছিলেন 'ক্লাইভের গাধা'। ঠিক তেমনি, আজ যারা জামায়াতকে ঠেকিয়ে আনন্দিত হচ্ছেন, তারা আসলে কার হাত শক্তিশালী করছেন? তারা কি বুঝতে পারছেন না যে, ইসলামী শক্তিগুলোর এই বিভাজন মূলত সেই শক্তির পথ প্রশস্ত করছে যারা এ দেশ থেকে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে দিতে চায়?
২. ফতোয়ার রাজনীতি ও মুনাফেকি
এক সময় এই আলেমরা মঞ্চ কাঁপিয়ে ফতোয়া দিতেন যে, জামায়াত নাকি 'মুনাফেক'। তাদের আকিদা নাকি ভ্রান্ত। কিন্তু আজ জাতির সামনে আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে—আসল মুনাফেকি কারা করছে। যারা মুখে ইসলামের কথা বলে কিন্তু কার্যত ইসলামের শত্রু বা স্বৈরাচারী শক্তিকে বৈধতা দেয়, তাদের আমলনামা কী?
মুনাফেকের প্রধান লক্ষণ হলো আমানতের খেয়ানত করা এবং মিথ্যা বলা। এই আলেমরা জাতির আমানত—অর্থাৎ সঠিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা—নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন। তারা দ্বীনি ঐক্যের চেয়ে নিজেদের গদি আর প্রভাবকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। যার ফলে সাধারণ মানুষ আজ আলেমদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।
৩. গণতন্ত্রের দ্বিমুখী মানদণ্ড
এদের দ্বিমুখী নীতি সবচেয়ে বেশি হাস্যকর হয়ে ওঠে যখন তারা 'গণতন্ত্র' নিয়ে কথা বলেন। ওয়াজ মাহফিলে তারা গণতন্ত্রকে 'হারাম' ও 'কুফরি' বলে ফতোয়া দেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। অথচ নির্বাচনের সময় সেই তথাকথিত 'হারাম' গণতন্ত্রের নামেই তারা অন্য দলগুলোকে বৈধতা দেন, সিট ভাগাভাগি করেন এবং আঁতাত করেন।
নিজেদের স্বার্থে যা হালাল, অন্যের বেলায় তা হারাম—এই নীতিই আজ এ দেশের ইসলামী রাজনীতিকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে এসেছে। তারা আসলে চায় না যে বাংলাদেশে কোনো ন্যায়পরায়ণ শাসক আসুক। কারণ একজন প্রকৃত ন্যায়পরায়ণ শাসক আসলে এই লেবাসধারী আলেমদের "ধর্মের ব্যবসা" বন্ধ হয়ে যাবে।
৪. উপমহাদেশের করুণ ইতিহাস: মীর জাফরের প্রেতাত্মা
ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পতনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো বাইরের শক্তি আমাদের হারায়নি। আমরা হেরেছি আমাদেরই ঘরের লোক, আমাদেরই মুসলিম ভাইদের হিংসা, মুনাফেকি আর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে। নিজের ক্ষমতার জন্য, সামান্য পদের লোভে তারা ২০০ বছরের জন্য ইংরেজদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়েছিল।
সেই ২০০ বছর আমরা ইংরেজদের কাছে গোলামি করেছি। আমাদের রক্ত, ঘাম আর সম্পদ লুটে নিয়েছে বিদেশীরা। সেই একই রক্ত আমাদের শরীরে বইছে বলেই হয়তো আমরা আজও চাবুকের ঘা না খেলে সচেতন হই না। আজকের এই তথাকথিত আলেমরা ঠিক একই কাজ করছেন। তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে গিয়ে বা ইসলামী ঐক্যের বিরোধিতা করে কার্যত এ দেশকে আবার কোনো নতুন আধিপত্যবাদী শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার পথ পরিষ্কার করছেন।
৫. পরবর্তী প্রজন্মের দায়ভার ও জুলুমের ফিরে আসা
বাংলাদেশে যদি ভবিষ্যতে আবারও কোনো অন্যায়-জুলুম ফিরে আসে, মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, কিংবা এ দেশ আবার কোনো গোলামির শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়—তবে তার জন্য সরাসরি দায়ী থাকবেন এই সুযোগসন্ধানী আলেমরা। ইসলামের দোহাই দিয়ে যারা বিভাজন সৃষ্টি করেছেন, যারা জালেমদের পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
ইতিহাস স্বাক্ষী, যারা ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ করে দেয়, সেই তৃতীয় পক্ষ কাউকেই ছাড় দেয় না। আজ যারা জামায়াতকে দমানোর জন্য কুচক্রী মহলের সাথে হাত মেলাচ্ছেন, কাল সেই একই চক্র তাদেরও পিষে মারবে।
৬. জেগে ওঠার সময় এখনই
আমাদের পূর্বপুরুষরা ২০০ বছর গোলামি করেছিলেন বিশ্বাসঘাতকদের কারণে। আমরা কি আবার সেই একই অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে চাই? আলেম সমাজকে বুঝতে হবে, অহংকার আর হিংসা কোনোদিন দ্বীনের বিজয় আনতে পারে না। জামায়াত-বিদ্বেষের যে বিষ তারা ছড়িয়েছেন, তা আজ পুরো জাতিকে নীল করে দিচ্ছে।
যদি বাংলাদেশের মানুষ সত্যিকার অর্থে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার চায়, তবে এই লেবাসধারী চাটুকার আলেমদের বর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন, ক্ষমতার মোহে যারা ঘরের লোককে শত্রু বানিয়ে বাইরের লোকের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়, তারা কোনোদিন জাতির কল্যাণ করতে পারে না।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when চেপে রাখা ইতিহাস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to চেপে রাখা ইতিহাস:

Shortcuts

Share