27/10/2024
বাড়ি ভর্তি লোকের মধ্যো আমাকে জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেঁদে উঠলো ভাবি। আজ তিনদিন হলো মায়ের উপর রাগ করে আমার বাড়িতে এসেছিলো ভাবি। ভাবি আর আমার সম্পর্ক বেস্ট ফেন্ডের থেকেও বেশি তাই বাড়িতে কিছু হলেই ভাবি ভাইয়াকে জানানোর আগেই আমাকে জানায়। আমি মা আর ভাবি দুজনকেই বুঝিয়ে শান্ত করি। তবে এবার বেশ বাড়াবাড়ি হয়েছে ভাবি মায়ের সাথে তর্ক করছে মা ও ছাড় দেয়নি অন্তঃপর ভাবীর ফোন আমার কাছে আসলো। রেগে গিয়ে বললো,জিনিয়া আমি আর সহ্য করতে পারছি না কিন্তুু। মা প্রতিনিয়ত খুত ধরে এই কাজ হয়নি, ওই কাজ হয়নি, এভাবে করবি, সেভাবে করবি, এটা করবি না, ওটা করিবা না,আমি আর পারছি না। আজ কি হয়েছে জানিস, পাশের বাসার ভাবী আমাকে বলছে সে শপিং এ যাবে তো আমি শুধু বলেছি আমার ও কিছু কেনাকাটার ছিলো....... আমি মোটেও বলিনি ওর সাথে যাবো তার আগেই মা এসে যা তা বলতে শুরু করলো আমার পা বড় হয়ে গেছে, তার বাড়ির এইসব নিয়ম না, আমার বাড়ির মানুষ শিক্ষা দেয়নি আমি আমার স্বামীকে বস করেছি............ আরো অনেক কিছু। আমারো অনেক রাগ হয়ে গেছে আমিও বলেছি আচ্ছা আমার পরিবার যখন শিক্ষা দেয় নি তাহলে আমি থাকবো না আপনার বাড়িতে। থাকুন আপনি আপনার বাড়িতে। আর এখন আমি ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছি, চলে যাচ্ছি তাই তোকে জানায় রাখলাম।
একদমে কথাগুলো বলে থামলে ভাবি। আমি বুঝলাম বিষয়টা বেশ জটিল হয়ে গেছে। তাই ভাবিকে বললাম, মাথা থান্ডা করো ভাবী, ব্যাগ গুছিয়েছো ভালো করেছো। তুমি অন্য কোথাও না গিয়ে আমার বাড়িতে আসো। তারপর আমি বিষয়টা দেখছি। সাতদিন পরে তো আমার ননদের বিয়ে তোমাকে তো আসতেই হতো চলে এসো।
ভাবি বললো, তুই বলছিস জন্য আসছি কিন্তুু জিনিয়া। তবে তোর মাকে জানাবি না কিন্তুু যে তোর বাড়িতে যাচ্ছি।
আমি বললাম, ঠিক আছে ভাবী তুমি আসো।
অন্তপঃর ভাবী এসেছে আজ ৫ দিন হলো কালকে ননদের বিয়ে বাড়ি ভর্তি লোকজন। গায়ে হলুদে ননদের জন্য মিষ্টি আনছিলাম হঠাৎ একটা বাচ্চার ধাক্কায় মিষ্টিগুলো ফ্লোরে পড়ে যায়, যার ফল সরূপ বাড়ি ভর্তি মানুষের মধ্যো ননদ আর শাশুড়ী যা তা বলছিলো শাশুড়ী মা তো আমাকে চড় মারতে এসেছিল তখনই ভাবী শাশুড়ী মায়ের হাত ধরে নিচে নামিয়ে দিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেঁদে উঠলো।
আমি ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে বললাম, কি হয়েছে ভাবি?কেউ কিছু বলেছে?
ভাবী কাঁদতে কাঁদতে বললো, না কেউ কিছু বলে নি। তবে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি জিনিয়া। জানিস আমি অনেক ভাগ্যবতী যে তোর মতো ননদ পেয়েছি। এই যে মা আমাকে কথা শুনায় নানা ভুলের জন্য কিন্তুু সব কিছু থেকে তুই আমাকে বাঁচাস। মনে আছে, একবার আমি রান্নায় লবন দিয়ে এমন অবস্থা করেছিলাম মুখে দেওয়ার মতো ছিলো না, মা আমাকে বকবে জন্য তুই বলেছিলি তুই দিয়েছিস লবন। মা তোকে কত বকেছিলো? আর কালকে রান্নায় সামান্য লবন কম হওয়ায় তোর ননদ তোকে যা তা বললো। কিন্তুু তুই চুপচাপ শুনে আবারো তোর কাজ শুরু করলি বিনা অভিযোগে। তুই এত ভালো কেন জিনিয়া? মায়ের দুটো কটু কথা শুনেই আমি যে রাগ করি তুই কিভাবে হাসিঁ মনে সব মেনে চলিস? আজ পাচঁটা দিন দেখলাম তোর জায়গায় আমি একদিন ও থাকতে পারতাম না কিন্তুু তুই সব মানিয়ে নিয়ে চলছিস। তুই আমার ছোট কিন্তুু জানিস তুই গুনে আমার থেকে অনেক বড় ইভেন এই বাড়ির সবার থেকে। আমাকে ক্ষমা করে দিস জিনিয়া যদি আমার কোনো আচরনে তুই কষ্ট পাস। আর তোকে এখানে আমি একদম থাকতে দিবো না। তোর ভাইয়া ফোন দে আমাদের নিয়ে যাবে। ছোট ঘটনায় এত কথা শুনাবে তোর গায়ে হাত তুলতে আসবে সেখানে তোকে থাকতে হবে না।
ভাবির কথা শুনে কান্না দেখে কেন যেন আমারো কান্না পেয়ে গেলো তবুও নিজেকে শান্ত করে বললাম, কি যে বলো না ভাবি? আর এভাবে কেউ কাদে পাগলের মতো?কি বলবে লোকে? যাও ঘরে যাও। বুঝেছি তোমার বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করছে ভাইয়াকে ফোন দিচ্ছি ভাইয়া এসে নিয়ে যাবে।
ভাবী আবারো বললো, তোকে এখানে রেখে যাবো না জিনিয়া।
আমি কিছু বলার আগেই আমার স্বামী আফিফ বললো, এই কথা আমিও অনেকবার বলেছি ভাবী আপনার ননদকে। সে একদমি যেতে রাজি নয় আলাদা বাসায়।
আমি বললাম, এই কি শুরু করছো তোমরা বাড়ি ভর্তি মানুষের মধ্যো। যাও ঘরে যাও। ভাবী তুমি ও যাও। আমি এইদিকে কাজ শেষ করে যাচ্ছি। ওদেরকে জোড় করে ঘরে পাঠিয়ে আবারো সুন্দর করে মিষ্টির প্লেট সাজিয়ে ননদের সামনে দিলাম। ননদ মুখ ভেংচি কেটে সরে গেলো। শাশুড়ী মা হাত থেকে মিষ্টির থালাটা নিয়ে কড়া গলায় বললেন, যত্তসব আদিখ্যেতা। স্বামীকে হাত করার তাল। হুহ.....
সবাই আবার বিয়ের আনন্দে মজে উঠলো।আমি সবার সামনে হাসিঁ খুশি থাকলে মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট হয় শাশুড়ী আর ননদের ব্যাবহারে। তবে শশুরমশাই আমাকে একদম নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। আর আফিফের মতো স্বামী তো কপালগুনে পেয়েছি তাই সব কষ্ট ভুলে আমি ভালো থাকি।
পরেরদিন সবকিছু মেনে ননদের বিয়ে হয়ে গেলো। ছেলের খুব বড় ব্যাবসা। খুব বড়লোক পরিবার৷ ননদকে গা ভর্তি গয়না দিয়ে সাজিয়ে নিয়ে গেছে।
এইদিকে বিয়ে বৌভাত শেষে ভাবি ও মায়ের সাথে বাড়িতে চলে গেছে। আর আমার কাছে কথা দিয়ে গেছে এরকম ছেলে মানুষি আর করবে না। মায়ের উপর আর রাগ করবে না। ওনার যেটা বলে শান্তি লাগে বলতে পারে। আমিও খুশি মনে ভাবীকে বিদায় জানালাম আমার বিশ্বাস ভাবী মায়ের সাথে ঠিক মানিয়ে নিয়ে মাকে আপন করে নিতে পারবে৷
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো কিন্তুু ননদের বিয়ের একমাস পর হঠাৎ ননদ কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে হাজির। সবাই জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে? কিন্তুু মেয়েটা এসে ওই যে থম মে*রে বসেছে আর কিছু বলছে না। শাশুড়ি কিছু বুঝতে না পেরে ননদের স্বামীকে ফোন দেয় কি হয়েছে জানার জন্য। এদিকে আমি খেয়াল করলাম ননদের গলায় দাগ। মনেহচ্ছে কেউ গলা ধরে টি*পেছে........ আমি দাগ দেখে ওর কাছে গিয়ে ওর গায়ে হাত দিতেই ও লাফিয়ে উঠে........
চলবে🥀🥰 এক আপু পোস্ট করেছে পরে ভালো লাগলো তাই কফি করলাম 🤭আসাকরি সবার ভালো লাগবে