Made In Bangladesh

Made In Bangladesh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Made In Bangladesh, Apparel & Clothing, Sector-09, Road-04, House-44 (চতুর্থ তলা), হাউস বিল্ডিং, সোনারগাঁ জনপথ রোড, (উত্তরা আধুনিক হাসপাতালের পাশ্বে ), Dhaka.

বাংলাদেশে বিনিয়োগেরকৃত মূলধনের প্রেক্ষাপটে রপ্তানীর কথা ছিলো ৩৫০–৪০০ বিলিয়ন ডলার কিন্তু বাস্তবে রপ্তানি হচ্ছে মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার।চাইনিজ দের মত ওয়ার্ল্ড ক্লাস এক্সপোর্ট মার্কেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার রপ্তানি ব্যবসাকে নিন সফলতার শীষে ।

এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় পিআই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন!আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যে পিআই নিয়ে আনেকে হয়তো জানেন, আবার আনে...
08/06/2022

এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় পিআই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন!
আমদানী-রপ্তানী বানিজ্যে পিআই নিয়ে আনেকে হয়তো জানেন, আবার আনেকে জানলেও ভালো করে জানেন না। এই পোস্টে PI (Proforma Invoice) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। PI ( Proforma Invoice ) হলো আপনি যখন প্রথম কোন সেলার থেকে কোন পণ্য ক্রয় করতে চাইবেন এবং তাদের সাথে দরদাম ফাইনাল করবেন, তখন আপনাকে সেলার এটা প্রদান করবে।

এই পি আই নিয়ে আপনি ব্যংকে জমা দিলে ব্যাংক আপনাকে একটি এলসি করার অনুমতি দিবে । অর্থাৎ এটা আমদানী করার একটা দলিল৷ PI (Proforma Invoice) তে কি কি বিষয় থাকে? পি আইতে সাধারনত প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা থাকে, পন্যের বিবরণ ইত্যাদি থাকে। সেলারের ঠিকানা এবং তাদের ইনভয়েস নাম্বার পি আই তে খুবই জরুরি৷

কেননা আপনি যখন এলসি করবেন তখন ইনভয়েস নাম্বারটি দিতে হবে। পি আই এর তারিখ অর্থাৎ, কোন তারিখে PI (Proforma Invoice) টি ইস্যু করা হয়েছিলো। তবে বিভিন্ন কম্পানি বিভিন্ন ফরমেটে PI (Proforma Invoice) টি তৈরি করে থাকে। কিন্তু তথ্য মোটামুটি একই রকম ৷

পি আই এর ডেসক্রিপশনে পন্যের বিস্তারিত বিবরন, এরপর পরিমান, নেট ওয়েট এবং গ্রোস ওয়েট, তারপর ইউনিট প্রাইস তারপর টোটাল এ্যামাউন্ট উল্ল্যেখ থাকে । কোন পন্যটি আনবেন তার বিষদ একটি বর্ননা ডেসক্রিপশন ঘরে থাকতে হবে । কি পরিমান আনবেন তা থাকতে হবে। পন্যের নেট ওয়েট থাকতে হবে । নেট ওয়েট হলো আপনি যে বক্সে করে পন্য আনবেন তার ওজন ব্যতিত মোট ওজন।

পি আই তে পন্যটির ইউনিট প্রাইস থাকতে হবে । তারপর ফ্রেইট চার্জ যোগ করে আর্থাৎ পন্যটির আমদানী ভাড়া সহ যোগ করে মোট দাম লেখা থাকে। এবার পি আই এর শেষের আংশ নিয়ে আলোচনা করব। শেষের আংশে ট্রমস্ এবং কন্ডিশন নিয়ে লেখা থাকে। প্রথমে পরিমান উল্লেখ থাকবে, তারপর লেখা থাকবে শিপমেন্ট কবে করা হবে ।

তারপর কোন পোর্টে শিপমেন্ট করা হবে সেটাও লেখা থাকবে। মোট পন্য কত প্যাকেজ হবে, ইনসুরেন্স এবং ভেলেডিটি অথাৎ PI (Proforma Invoice) টি কত তারিখ পর্যন্ত ভেলেডিটি থাকবে সেটি লেখা থাকবে। তারপর থাকবে ইনটারমিডিয়েরি ব্যাংকের নাম ৷ অর্থাৎ যে ব্যাংকের মাধ্যমে এল সি টাকা প্রদান করা হবে তার একাউন্ট নাম্বার , সুইফট্ কোড ইত্যাদি ৷

তারপর বেনিফেসিয়ারি ব্যাংকের নাম এবং এ্যাকাউন্ট নাম্বার থাকবে এবং তাদের ইনভয়েস নাম্বার ও এলসি নাম্বার থাকবে। পি আই কিন্তু আমদানীকারকের কাছে খুবই গুরুত্ব পুর্ণ ৷ ব্যাংকে সাবমিট করার আগে ভালো করে চেক করে নিবেন৷ প্রয়োজনে শংশোধন করে নিতে পারেন৷ কিন্তু সাবমিট করে ফেললে ব্যাংক সর্ভারে ডাটা এন্ট্রি করে ফেললে তা শংশোধন করার কোন উপায় থাকবেনা৷

পি আই অনুযায়ী প্যাকিং লিষ্ট, ইনভয়েস হতে হবে৷ কোন মতেই পন্যের টোটাল দাম পি আই থেকে কম হওয়া চলবেনা ৷ যদি ইনভয়েসে দাম কম দেন, তবে কাষ্টমসের সফটওয়ারে ডকুমেন্ট এন্ট্রি দিতে পারবেন না৷ তথ্যসূত্র: ইববাই ডটকম।

রপ্তানিকারক হতে চাইলে যা যা করতে হবে!অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। আর সে অর্জনের প্রধান...
08/06/2022

রপ্তানিকারক হতে চাইলে যা যা করতে হবে!
অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। আর সে অর্জনের প্রধানতম উপায় হলো রপ্তানি-বাণিজ্য। সরকারও তাই রপ্তানি-বাণিজ্যকে সর্বাধিক গরুত্ব দিয়ে থাকে। রপ্তানিকারক হতে চাইলে আগেই জেনে নিতে হবে কিছু প্রাথমিক তথ্য ও এ সম্বন্ধে করণীয়।

এদিক থেকে মুসকিল আসান হিসেবে আপনি পাশে পেতে পারেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র বা ট্রেড ইনফরমেশন সেন্টারকে(টিআইসি)। এই কেন্দ্র থেকে আপনি পাবেন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য, করণী ও করণীয় বিষয়ে প্রযোজনীয় পরামর্শ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ভবনসংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা যায়, নতুন কেউ রপ্তানিকারক হতে চাইলে তাকে প্রথমেই আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে নাম নিবন্ধন করতে হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ‘রপ্তানি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রপ্তানি করতে পারে না। সেজন্য নতুন রপ্তানিকারককে নিকটস্থ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের অফিসে গিয়ে রপ্তানি রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিতে হয়।

ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা জমা দিয়ে ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন করা যায়। এজন্য ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি, স্বীকৃত চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশন থেকে বৈধ মেম্বারশিপের সার্টিফিকেট, ফি জমাদানের প্রমাণ হিসেবে ট্রেজারি চালানের মূল কপি, অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড অংশীদারি দলিলের সত্যায়িত কপি, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন, মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়।

রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র বা এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) পাওয়ার পর নিকটস্থ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো থেকে বিদেশি ক্রেতাদের তালিকা, নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য বিদেশের নির্দিষ্ট বাজারের সন্ধান ও ফলাফল জানা যাবে। বিদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি করবেন সেসব পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, বিদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগও মিলবে। রপ্তানি নীতিতে প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার নানা দিকের কথাও এখান থেকে জানা যাবে।

রপ্তানি-বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য সরকার রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে। রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ রপ্তানিকারক তাদের রিটেনশন কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে পারেন। যার পরিমাণ সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে থাকে। জমাকৃত টাকা থেকে রপ্তানিকারক প্রকৃত ব্যবসায়িক ব্যয়নির্বাহ করতে পারবেন।

এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোতে (ইপিবি) একটি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল রয়েছে। এ তহবিল থেকে রপ্তানিকারকদের পণ্য উৎপাদনের জন্য হ্রাসকৃত সুদে ও সহজ শর্তে ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল (উদ্যোক্তা-বান্ধব অর্থায়ন) প্রদান করা হয়। পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখিকরণের ক্ষেত্রে বিদেশি কারিগরি পরামর্শ, সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হয়। বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণে সহায়তা করা হয়।

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানিপণ্যের ক্ষেত্রে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত সুদ ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হয়।

এছাড়া রপ্তানির অর্থ সংস্থান, রপ্তানি-ঋণ, রপ্তানিশিল্পের ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা, রপ্তানিমুখি শিল্পের জন্য সাধারণ সুযোগসুবিধা, আকাশপথে শাক-সব্জিসহ প্ল্যান্ট, ফলমূল, ফুল ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে বিমানভাড়ার সুবিধা ও সর্বোপরি রপ্তানিকারকদের জন্য আমদানি নীতি আদেশ ২০১২-২০১৫ তে প্রদেয় সুযোগ সুবিধা, রপ্তানি বাণিজ্যে বর্জনীয় বিষয়সমূহ, রপ্তানিনিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা (২০১৫-২০১৮) কোন কোন্ পণ্য রপ্তানি করা যাবে, সে তালিকা পেতে যোগাযোগ করতে পারেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রে (টিআইসি)।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর টিআইসি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান আমলে, ১৯৬২ সালে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ এই শাখা ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স ও নলেজ’ হিসেবে কাজ করছে। এখানে ইন্টারনেট সুবিধাসহ কম্পিটার-সেবা পাওয়া যায়। ম্যাগাজিন, সাময়িকী ও পত্রিকা পড়ার সুবিধাও রয়েছে এখানে। বাণিজ্য-জিজ্ঞাসা বা চাহিদা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় হালফিল তথ্য এখানে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়। পণ্য ও পণ্যের দেশভিত্তিক রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের তালিকাও এখানে পাওয়া যায়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারি পরিচালক রাহিমা আক্তার বলেন, রপ্তানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো তথ্য সরবরাহ করে থাকে বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র (টিআইসি)। নতুন অথবা পুরনো রপ্তানিকারক যে কেউ যেকোনো তথ্য ও সহায়তার জন্য আমাদের বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ টিআইসিতে যান। তাদের মধ্যে অনেকে লাইব্রেরির বই ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন। বছরে ৭০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিয়ে এই লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ব্যবহার করা যায়।যারা ঘন্টা হিসেবে সেবা নিতে চান তাদের প্রতি ঘন্টার জন্য ২০ টাকা ফি দিতে হয়।

হস্তশিল্প রপ্তানিকারক আনোয়ার হোসেন পলাশ বলেন, ‘আমি ৩ বছর ধরে বিভিন্ন দেশে হস্ত-শিল্পপণ্য রপ্তানি করে আসছি। প্রথমে ইপিবির টিআইসি থেকে তথ্য নিয়ে এ বিষয়ে কাজ শুরু করি। এখনো মাঝেমাঝে টিআইসিতে যাই নতুন তথ্য সংগ্রহ করতে। রপ্তানিকারকদের জন্য টিআইসি (বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্রটি) অনেক কাজে লাগে।

রপ্তানি-ব্যবসায় আগ্রহী রানা বড়ুয়া টিআইসিতে গিয়েছিলেন কিভাবে ব্যবসা শুরু করবেন তা জানতে। তিনি বলেন, আমি রপ্তানি ব্যবসা করতে চাই। সেজন্য ইপিবির টিআইসিতে গিয়েছিলাম। তাদের কাছ থেকে আমি বিস্তারিত জানতে পেরেছি। কোথায় কি করতে হবে এগুলো জানার জন্য সেন্টারটি ভালো। তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ।

আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ী হতে চাইলে!বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমদানি ও রফতানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।...
08/06/2022

আমদানি ও রফতানিকারক ব্যবসায়ী হতে চাইলে!
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমদানি ও রফতানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খাদ্যশস্য, কৃষি উপাদান, শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ, জ্বালানি প্রভৃতি পণ্যের চাহিদা মেটানো হয় এ আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে। কিন্তু নিয়ম ছাড়া আমদানি ও রফতানি করলে সেটা মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

তাই এ-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা এবং বিধিবিধান প্রণীত ও জারি করে থাকে। এক্ষেত্রে একজন আমদানিকারক আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (আইআরসি) ও রফতানিকারক রফতানি নিবন্ধন সনদপত্রের (ইআরসি) মাধ্যমে আমদানি ও রফতানি শুরু করতে পারেন। আমদানি ও রফতানিকারকদের যেসব নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে চলতে হয়:

আইআরসি ও ইআরসি: ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি) ও এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) পেতে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো হলো- আমদানি ও রফতানির জন্য চিফ কন্ট্রোলারের অফিস থেকে ইআরসি ও আইআরসির একটি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের শাখায় শিডিউল ফি জমা দিতে হবে। অফিসের চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন ফরম জমা দিতে হবে

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: প্রতিষ্ঠানের মালিকের অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সত্যায়িত ছবি। ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি। ট্রেজারি চালানের মূলকপি। টিআইএন নম্বর। চেম্বার অথবা স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সনদপত্র। ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র। লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের সত্যায়িত ফটোকপি।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স: উৎপাদিত পণ্য রফতানির সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্স দেওয়া হয়। তারা শুল্ক বিভাগ হতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সের সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি করে খরচ কমাতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই শতভাগ রফতানিমুখী হতে হবে। এরপর ডিউটি ড্র ব্যাক বা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ২৫ শতাংশ বেনিফিট পাওয়া যাবে।

বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: রেভিনিউ স্ট্যাম্পসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অথবা বিসিক রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। কোম্পানির টিআইএন ও ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের সব পরিচালক এবং উদ্যোক্তার সম্পত্তির হিসাবের সত্যায়িত কপি। হালনাগাদ ট্রেড ও ফায়ার লাইসেন্স। ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।

৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উদ্যোক্তাদের নাম, পদবি, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, স্বাক্ষর ও ছবি। যন্ত্রপাতি কেনার যাবতীয় কাগজপত্র। ফ্যাক্টরি লে-আউট প্ল্যানের দুই কপি। নোটারি পাবলিক কর্তৃক প্রত্যায়িত বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র। আবেদনকারীর জেনারেল বন্ড দাখিলের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এ মর্মে ব্যাংক কর্তৃক একটি প্রত্যয়নপত্র। লাইসেন্স ফি দুই হাজার টাকা।

লেটার অব ক্রেডিট (এলসি): এলসির মাধ্যমে রফতানিকারক তার পণ্যের মূল্য প্রাপ্তি সম্পর্কে যেমন নিশ্চিত হতে পারে, তেমনি আমদানিকারকও এলসির বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধাসহ রফতানিকারককে পণ্যমূল্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবে।

এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: এলসি ও আইএমপির একটি আবেদন ফরম। চুক্তির ফরম। চার্জ ডকুমেন্ট। ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট। ইন্স্যুরেন্স কাভার নোট ও প্রিমিয়ামের রশিদ। টিআইএন সার্টিফিকেট। ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট সার্টিফিকেট।

ব্যাক টু ব্যাক এলসি: রফতানিকারকের জন্য প্রয়োজন ব্যাক টু ব্যাক এলসি। পণ্য সরবরাহের মতো প্রয়োজনীয় মূলধন না থাকলে ব্যাক টু ব্যাক এলসি সাহায্য করে থাকে। এর মাধ্যমে রফতানিকারক রফতানির উদ্দেশে পণ্য কেনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ,
প্রস্তুতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করে।

এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: রফতানি এলসির মূল কপি। বৈধ বন্ডেড ওয়ারহাউস লাইসেন্স। বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত টেক্সটাইল অনুমতিপত্র। লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানির ইনকরপোরেশন সার্টিফিকেট। এলসি আবেদন। টাকা জমার রশিদসহ ইন্স্যুরেন্ট কভার নোট। পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত এলসিএ ফরম। বৈধ আইআরসি ও ইআরসি প্রভৃতি।

সামুদ্রিক বিমা পলিসি
সামুদ্রিক ক্ষয়ক্ষতি যেমন আগুন, পানি, ঝড়-তুফান, জাহাজ আটকে পড়া, জাহাজে নোনা পানি প্রবেশের কারণে পণ্যের ক্ষতি অথবা জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষার নিশ্চয়তা দেয় এ বিমা পলিসি।

ইন্সপেকশন সার্টিফিকেট: ইন্সপেকশন কোম্পানি হতে এ ফরম সংগ্রহ করতে হবে। পণ্যের গুণ ও নির্দিষ্ট মান এবং অন্য বিষয়াদি এলসি মোতাবেক পালিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: কমার্শিয়াল ইনভয়েসের এক কপি। প্যাকিং লিস্ট এক কপি। বিল এক কপি। ভিসা, লাইসেন্স, সিও’র প্রত্যেকটির এক কপি প্রভৃতি।

ফাইটো স্যানিটারি সার্টিফিকেট: ফাইটো স্যানিটারি সার্টিফিকেট সাধারণত চারাগাছ, ঔষধী গাছ, বীজ, টাটকা ফল ও শাকসবজি প্রভৃতি রফতানির জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে চারা গাছ সংরক্ষণ পরিদফতর এ সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। এর প্রধান কাজ রফতানিপণ্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও জীবাণুমুক্ত রয়েছে কি না তা দেখা। সূত্র: এসএমই ফাউন্ডেশন

এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লাইসেন্স প্রাপ্তিতে জটিলতা কমলোণ্য আমদানি-রফতানির সনদপ্রাপ্তিতে জটিলতা কমেছে। আগে শিল্পের আমদানি সনদ (...
08/06/2022

এক্সপোর্ট ইমপোর্ট লাইসেন্স প্রাপ্তিতে জটিলতা কমলো
ণ্য আমদানি-রফতানির সনদপ্রাপ্তিতে জটিলতা কমেছে। আগে শিল্পের আমদানি সনদ (আইআরসি) পেতে আবেদনের সঙ্গে ২২ ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হতো। এখন থেকে ১৩ ধরনের কাগজ দিলেই সনদ মিলবে। একইভাবে বাণিজ্যিক আইআরসি, রফতানি সনদ (ইআরসি), ইনডেন্টিং সার্ভিসের ইআরসির ক্ষেত্রেও কাগজপত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর। সূত্র জানায়, সহজে ব্যবসা করার সুযোগ বা ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে। তার ধারাবাহিকতায় আইআরসি-ইআরসি সনদপ্রাপ্তিতে কাগজপত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের সনদ দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতরের (সিসিআইই) অতিরিক্ত প্রধান নিয়ন্ত্রক অনুপ কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে সিসিআইই’র সব সেবা সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে দেয়া হচ্ছে। আরও সহজে ব্যবসায়ীরা যাতে আমদানি-রফতানি সনদ পেতে পারেন সেজন্য নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা গেলে ঘরে বসেই ব্যবসায়ীরা সনদ পাবেন। এ ছাড়া লাইসেন্স ফি কমানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

শিল্প আইআরসি পেতে যা যা লাগবে : প্রতিষ্ঠানের প্যাডে মালিক/ব্যবস্থাপনা অংশীদার/ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বাক্ষর ছবিসহ আবেদন করতে হবে। সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর প্রত্যয়নপত্র, চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সনদপত্র, ব্যাংক প্রত্যয়নপত্র, ফায়ার লাইসেন্স, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন অথবা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড অংশীদারি চুক্তিপত্র,

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের সনদ, এলসিএ বিবরণী কপিসহ আমদানি স্বত্বের ৭০ শতাংশ ব্যবহারের দলিল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্ট, লিস্ট অব এমপ্লয়ি (নাম, পদবি, বেতন ও জাতীয়তা সম্বলিত)। বাণিজ্যের আইআরসির জন্য ১১ ধরনের কাগজ জমা দিতে হবে।

এগুলো হচ্ছে- ট্রেড লাইসেন্স, বাণিজ্য চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট, ফি’র কপি ও ভ্যাট চালানের কপি, লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন অথবা অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড অংশীদারি চুক্তিপত্র, বিদেশে নিবন্ধিত কোম্পানির বাংলাদেশ শাখা অফিসের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অব ফাইলিং ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনুমোদনের কপি,

আয়কর প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের ইস্যুকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার প্রমাণপত্র, জয়েন্ট ভেঞ্চার এগ্রিমেন্টের কপি, লিস্ট অব এমপ্লয়ি (নাম, পদবি, বেতন ও জাতীয়তা সম্বলিত) এবং বিদেশিদের বৈধ ওয়ার্ক পারমিটসহ পাসপোর্টের কপি। একই কাগজপত্র জমা দেয়া লাগবে ইআরসি ও ইনডেন্টিং সার্ভিসের ইআরসি নিতে।

ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সব খুঁটিনাটিযেকোন বৈধ ব্যবসার জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক অনুমতি নেওয়ার বৈধ কাগজ হলো ট্র...
08/06/2022

ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সব খুঁটিনাটি
যেকোন বৈধ ব্যবসার জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক অনুমতি নেওয়ার বৈধ কাগজ হলো ট্রেড লাইসেন্স। অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি কোন ভাবেই ব্যবসা শুরু করতে পারছেন না। আর ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিস্তারিত জ্ঞানের অভাবে একটা ভীতি কাজ করে অনেকের মধ্যে। চলুন জেনে নিই ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার উত্তরগুলো। ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত পরামর্শ রেখেছেন: জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

প্রশ্ন ১ : ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন প্রয়োজন?
উত্তর: নাম শুনেই নিশ্চই বুঝতে পারছেন ট্রেড লাইসেন্স মানে ব্যবসার অনুমতি পত্র। আপনি যদি একজন নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন, দেশের আইন অনুসারে ব্যবসা পচিালনা করার জন্য আপনাকে স্থানীয় কর্তপক্ষের মাধ্যমে ব্যবসায়ের লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। সেটাই ট্রেড লাইসেন্স। ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য।

প্রশ্ন ২ : স্থানীয় কতৃপক্ষ বলতে কি বুঝায়?
উত্তর: স্থানীয় সরকারকে বুঝায়। সাধারণত মেট্রো সিটিতে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভায় পৌর কতৃপক্ষ আর গ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে।

প্রশ্ন ৩ : ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কি ব্যবসা করা যায় না?
উত্তর: এই প্রশ্নে এক কথায় উত্তর হবে ‘‘না” । আপনি যদি ছোটো খাটো ব্যবসা করতে চান,পান দোকান, টি স্টল, বা স্বাধীন ছোট পেশা যেমন রাজমিস্ত্রি, কাঠ মিস্ত্রি, কার্পেন্টার, পাইপ ফিডার যেগুলোর জন্য অফিস প্রয়োজন হয়না সেক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হবেনা। তবে আপনার যদি ট্রেড লাইসেন্স না থাকে তাহলে আপনি বড়ো কোনো কোম্পানীর কাজ পাবেন না।

তাছাড়া নৈতিক ভাবেও লাইসেন্স ছাড়া পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা করা ঠিক নয়। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। মনে রাখবেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার এবং আইনজীবিদের জন্যও ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। তবে আপনি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কেউ আপনাকে বাঁধা দিতে আসবেনা। কিন্তু আইনগতভাবে সেটা সঠিক নয়।

প্রশ্ন ৪ : কোন কোন ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়?
উত্তর: বলতে গেলে সব ব্যবসা ও সা¦ধীন পেশার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। এমনকি ফুটপাতে বসে যিনি তালপাতার পাখা বিক্রি করবেন। অথবা যিনি ঠেলাগাড়ি চালান তার জন্যও আইন মোতাবেক ব্যবসায়িক লাইসেন্স নিতে হবে। আমাদেও দেশে আইনের শাষ নেই বিধায় অনেকে জিনিসটা গুরুত্ব দেয়না। কিন্তু নামকরা কোম্পানীগুলো ট্রেড লাইসেন্ নেই এমন কারো সাথে ব্যবসা করতে চায়না।

প্রশ্ন ৫ : ট্রেড লাইসেন্স আর কি কি কাজে লাগে ?
উত্তর: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি প্রশ্ন। আমাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ড যেমন ভোটদান ছাড়াও নানা কাজে লাগে তেমনি ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসায়িক নানা কাজে লাগে। বলতে গেলে প্রতি পদে পদে এর প্রয়োজন হয়। ১.মনে রাখবেন ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব দিয়ে আপনি ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি ব্যবসায়িক হিসাব বা সিডি একাউন্ট বা কারেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবে না। এক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এর বিকল্প নেই।

২. অনেক সময় ব্যবসার শুরুতে বা কোনো পর্যায়ে ব্যাংক লোন দরকার হতে পারে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আপনি ব্যাংক লোন এর কথাই ভাবতেই পারবেননা। ৩. ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের সাথে ব্যবসা করতে হলে তারা আপনার ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা তা জানতে ও দেখতে চাইবে। ৪. কোনো ব্যবসায়িক এসোসিয়েশন এর সদস্য হতে হলে আপনার ট্রেড লাইসেন্স অবশ্যই লাগবে। ৫. এছাড়া ভ্যাট ও টিন এর জন্যও ট্রেড লাইসেন্স অপরিহার্য। তাছাড়া আরো অনেক কাজে এর প্রয়োজন পড়ে।

প্রশ্ন ৬ : ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগে ?
উত্তর: খুব বেশী কিছু নয়। তিন কপি পার্সপোর্ট সাইজ ছবি, যদি একাধিক অংশীদার থাকেন তাহলে প্রত্যেকের তিন কপি করে ছবি। ভোটার আইড কার্ড এর কপি, এবং যে বাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে বা অফিস রয়েছে তার বাড়িওয়ালার সাথে সম্পাদিত চুক্তির ফটোকপি। যে চুক্তিটি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত হয়েছে। এই তিনটি জিনিস অতি দরকার। আর বর্তমানে ইউটিলিটি বিলের কপি জমা দিতে হয় অথবা সার্ভিস চার্জ এর রশিদ। আমাদের দেশে অনেক কিছুই লাগে আবার অনেক কিছু ছ্ড়াাই অনেক কিছু হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৭ : ট্রেড লাইসেন্স খরচ কেমন ?
উত্তর : ব্যবসা অনুসারে ট্রেড লাইসেন্স এর খরচ। যেমন ঠেলাওয়ালার জন্য হয়তো ২শ টাকা, আর আমদানী রাফতানী এর জন্য তা হয়তো ২০ হাজার টাকা। তবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে ৫শ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেট আছে। ই কমার্সের যেহেতু কোনো ক্যাটাগরি নেই তাই সফটওয়ার, আইটি বা জেনারেল সাপ্লায়ার হিসেবে লাইসেন্স নিতে হয়। এজন্য সরকারী ফিস ৮৫০ থেকে ১৭০০ কিন্তু আপনার খরচ পড়বে কম বেশী ৪ হাজার। আর কোন ফার্মের সাহায্য নিলে ৫ হাজার।

প্রশ্ন ৮ : ই- কমার্স ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এর জন্য খরচ কেমন ?
উত্তর: আসলে আমাদের সব কিছু একটু ব্যাকডেটেড, আমাদের ব্যবসায়িক তালিকায় এখনো ই কমার্স যুক্ত হয়নি। এই ক্যাটাগরিতে এখনো লাইসেন্ দেয়া হয়না। তবে আইটি অথবা সফটওয়ার ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নেয়া যেতে পারে। এজন্য দাপ্তরিক খরচ ১১শ টাকা থেকে ১৫শ কিন্তু অন্যান্য খরচ যেমন সাইনােবর্ড ট্যাক্স, ফিজিক্যাল ভিজিট ট্যাক্স আর সংশ্লিস্ট খরচ মিলিয়ে এটা ৪-৫ হাজারে গিয়ে ঠেকে।

প্রশ্ন ৯ : কোথায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাবো ?
উত্তর: আপনি সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভায় গিয়ে ট্রেড লাইসেন্স বানাতে পারেন। তবে আজকাল অনেক কনসালটেন্সি ফার্ম আছে যারা নির্দিস্ট সার্ভিস চার্জ এর বিনিময়ে এসব কাজ করে দিয়ে থাকে। নিজে ঝামেলা পোহাতে না চাইলে কোনো ফার্মের হেল্প নিতে পারেন।

প্রশ্ন ১০ : সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স এর সাথে আর কি কি প্রয়োজন ?
উত্তর: প্রথমত আপনি একটি অফিস ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। তারপর আপনার প্রয়োজন হবে ০১. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে এই টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট নেয়া। (টিআইএন এর ব্যাপারে আলাদা একটি লেখা পরে পোষ্ট করবো, ইনশাআল্লাহ) এটা আজকাল খুব সহজ। বিনা খরচে ইন্টারনেট এ ফরম ফিলাপ করে টিন সার্টিফিকেট নেয়া যায়। তবে কনসালটেন্সি ফার্ম ধরলে তারা হাজার খানেক টাকা সার্ভিস চার্জ নিতে পাওে টিন বাবত

০২. এরপর যে জিনিসটি সবচে বেশী প্রয়োজন তা হলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে একাউন্ট খোলা। সব ব্যাংকে এই একাউন্ট খোলা যায়। (ব্যাংক একাউন্ট বিষয়ে এর ব্যাপারে আলাদা একটি লেখা পরে পোষ্ট করবো, ইনশাআল্লাহ)। কোনো ব্যাংকে গিয়ে আপনি বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। ০৩. এরপর ক্ষেত্র বিশেষে মূসক বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন দরকার হয়। এক্ষেত্রে সরকারী ফিস এক থেকে ৫ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে কাজ করতে গেলে চার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। যাদের আমদানী রফতানীর ব্যবসা আছে তাদের আরো বেশী টাকা লাগেত পারে।

প্রশ্ন ১১: ট্রেড লাইসেন্স ও কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তর: ক.ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা ও পেশার অনুমতি আর কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন হলো ব্যবসা এনজিও সমাজসেবা প্রভৃতির জন্য। খ.ট্রেড লাইসেন্স একটা নির্দিস্ট এরিয়ায় কার্যালয় স্থাপনের জন্য আর কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন সারা বাংলাদেশের জন্য। গ.ট্রেড লাইসেন্স হলে ব্যবসার করার জন্য কোম্পানী রেজি: এর প্রয়োজন নেই কিন্তুকোম্পানী রেজিস্ট্রেশন হলেও ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়।

ঘ.ট্রেড লাইসেন্স আপনি প্রতিষ্টানের যে নাম দেবেন তা আবার অন্য কেউ দিতে পারবে আর কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করলে একই নামে আর কোনো ব্যক্তি কোম্পানী খুলতে পারবেনা। যদি খোলে আপনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ঙ.ট্রেড লাইসেন্স এর খরচ ব্যবসার ক্যাটাগরি অনুসারে আর কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন এর খরচ কোম্পানী কতটাকা বিনিয়োগ করবে তার উপর। কোং রেজি খরচ ৩০,০০০ থেকে শুরু।

চ.ট্রেড লাইসেন্স সাধারণ স্থানীয় ব্যবসার নিয়ম নীতির উপর চলে আর কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন এ কোম্পানী গঠিত হয় কোম্পানী আইন অনুসারে। এর নির্দিস্ট ফরমম্যাট রয়েছে। ছ.ট্রেড মার্ক: আর আলদাভাবে পন্য বা ব্রান্ড রেজিস্ট্রেশন এর জন্য ট্রেড মার্ক নিবস্ধন করতে হয়। যাতে সে নাম এবং মার্কটি অন্যকেউ ব্যবহার করতে না পারে। যেমন বাটা কোকাকোল এগুলো কেউ হুবহু একই রকম নাম এবং লেখা ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রশ্ন ১২: ব্যবসা শুরু ৩/৬ মাস পর ট্রেড লাইসেন্স করলে চলবে কি?
উত্তর: এটা নির্ভর করছে আপনার ব্যবসার পরিধি কতটুকু তার উপর। আপনার পাড়ার অনেক দোকানদার ১০ বছর পরেও করেছে। কেউ হয়তো সারাজীবনও ট্রেড লাইসেন্স করেনি। আপনি যদি সাধারণ মানুষের সাথে কাজ করেন তাহলে জরুরী নয়। বড়ো পার্টিও সাথে কাজ করতে গেলে জরুরী। তবে ট্রেড লাইসেন্স থাকলে সহজে মানুষ বিশ্বাস করবে।

আমি বলবো আপনি কাজ শুরু কওে দিনে যখনি প্রয়োজন হবে। ট্রেড লাইসেন্স করে নেবেন। আবারো বলছি ট্রেড লাইসেন্স একটা আইনগত ব্যাপার। বিয়েতে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। যারা করেনা তাদেরকে পুলিশ এ্যারেস্ট করে কি? কিন্তু কাবিন নামাটা একসময় সত্যি সত্যি দরকার হয়ে পড়ে। তাই মানুষ নিজের গরজেই এটা করে।

প্রশ্ন ১৩: আমি ব্যবসা করি রংপুরে, কিন্তু কাস্টমার সব ঢাকায়। রংপুর থেকে ঢাকায় মাল পাঠতে হবে? আমাকে কোথায় এবং কয়টা ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।
উত্তর: যেখানে আপনার অফিস বা ব্যবসার ঠিকানা শুধু সেখানেই ট্রেড লাইসেন্স নেবেন। তবে ঢাকায় যদি আরেকটা অফিস নেন। তখন এখানে আরেকটা ট্রেড লাইসেন্স এর প্রশ্ন আসবে। কিন্তু ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স কোনো বাঁধা নয়।

প্রশ্ন ১৪: ট্রেড লাইসেন্স করার পর কোনো প্রয়োজনে নাম ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় কি?
উত্তর: ফি প্রদান ও এফিডেবিটের মাধ্যমে যেকোনো তথ্য পরিবর্তণ করা যায়।

প্রশ্ন ১৫:একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি বিভিন্ন ধরনের পন্য বা ব্যবসা করা যায় ?
উত্তর: বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা একটা ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে করা যায়না। তবে বিভিন্ন রকমের পন্য বিক্রি করা যায়। সেক্ষেত্রে ক্যাটাগরি হবে জেনারেল সাপ্লায়ার।

প্রশ্ন ১৬: একই নামে কি একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ পারে, তবে যদি আপনি চান যে আপনি যে নামে প্রতিষ্ঠান করবেন সে নামে যেন আর কেউ না করে, অথবা আপনার নামটা যেন কারো সাথে মিলে না যায়। সেক্ষেত্রে আপনাকে কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তখন প্রথম তারা তল্লাশি দিয়ে দেখে নেবে যে আপনার প্রস্তাবিত নামে আরো কোনো কোম্পানী আছে কিনা?

প্রশ্ন ১৭. ট্রেড লাইেেসন্স কি দ্বৈত হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ পারে, সেক্ষেত্রে দুজন্রেই ছবি, ও তথ্য দরকার হবে।

প্রশ্ন ১৮. একজন ব্যক্তির কি একাধিক ট্রেড লাইসেন্স থাকতে পারে।
উত্তর: একজন ব্যক্তির একাধিক ট্রেড লাইসেন্স থাকতে পারে, এবং সেটা একই ঠিকানায় হতে পারে, এবং একাধিক ঠিকানায় হতে পারে।

প্রশ্ন: ১৯: গ্রাম থেকে ই কমার্স চালালেও কি ট্রেড লাইসেন্স লাগবে।
উত্তর: যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো ব্যবসার আইনগত বৈধতার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন। আপনি যদি লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করেন সাধারণত কেউ আপনাকে দাবড়াবেনা। তবে লাইসেন্সটা থাকলে বিপদে আপদে কাজে লাগবে। তবে গ্রামে কিন্তু খুব অল্প টাকা দিয়েও ট্রেড লাইসেন্স করা যায়।

প্রশ্ন ২০: একটি ট্রেড লাইসেন্স এর মেয়াদ কতদিন? মেয়াদ পূর্ণ হলে কি করতে হবে?
উত্তর: একটি ট্রেড লাইসেন্স এর মেয়াদ এক অর্থ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন ফি দিয়ে আপনি নবায়ন কওে নিতে পারবেন। তবে নবায়ন না করলে যে আপনার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে তা নয়। বিষয়টা হলো নবায়ন করলে আপনার একটা আইনগত বৈধতা থাকলো।

প্রশ্ন: ২১: পুরনো ট্রেড লাইসেন্স থাকার সুবিধা কি?
উত্তর: অনেক সুবিধা রয়েছে, আপনি প্রমান করতে পারবেন যে আপনি একজন পুরনো ব্যবসায়ী, লোন নেয়ার সময় কাজ দেবে। আরো অনেক সুবিধা রয়েছে।

প্রশ্ন: ২২: এক এলাকার ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে কি অন্য এলাকায় ব্যবসা করা যায়?
উত্তর: আইনগতভাবে করা যায়না। তবে বাংলাদেশে এটা কমন বিষয়, আবাসিক এলাকায় যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে। তাদের কারো ঠিকানা সে এলাকা নয়। সাধারণত সিটি কতৃপক্ষ আবাসিক এলাকার নামে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করেনা বলে তারা অন্য ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে থাকেন। তথ্যসূত্র: ব্লগ ই-ক্যাব ডটনেট।

আমদানী রপ্তানীর জন্য এলসি খুলবেন যেভাবে!আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করতে চান…? অথচ জানেন না এলসি কিভাবে খুলতে হয়…বর্তমান বিশ্...
08/06/2022

আমদানী রপ্তানীর জন্য এলসি খুলবেন যেভাবে!
আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করতে চান…? অথচ জানেন না এলসি কিভাবে খুলতে হয়…

বর্তমান বিশ্বায়নের এ সময়ে প্রায় সব ধরনের ব্যাবসা বাণিজ্যই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ কাউকে চেনেন না। সেক্ষেত্রে বিক্রেতার একটু বাড়তি ঝুঁকি থেকেই যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এলসি বা লেটার ওব ক্রেডিট চান। বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করতে চাইলে অবশ্যই ব্যাংকের মারফত এলসি খুলতে হয়। আন্তর্জাতিক বানিজ্যের ক্ষেত্রে একমাত্র বৈধ মাধ্যম হল এলসি। এলসির মাধ্যমেই ব্যবসায়ীরা একদেশ থেকে অন্য দেশে পন্য আমদানি-রপ্তানি করে থাকে।

এলসি করতে আপনার যা যা প্রয়োজন হবে: ১. এলসি করার জন্য সর্বপ্রথম দরকার হবে আপনার ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্স এবং এটি অবশ্যই আপটুডেট হতে হবে। ২. সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট। ৩. একটি গ্রহনযোগ্য আইআরসি (IRC-Import Registration Certificate) ৪. স্থানীয় বাণিজ্য চেম্বার বা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের থেকে সদস্যপদ সার্টিফিকেট। ৫. আয়কর ছাড়পত্র বা নতুন কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য আয়কর ঘোষণা পত্র। ৬. মূসক নিবন্ধন সনদপত্র।

এলসির জন্য আবেদনের পূর্বে উল্লেখিত কাগজপত্র গুলো সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এছাড়াও আরও কিছু নথিপত্র দরকার হবে: ১. এলসি আবেদন ফর্ম ২. ইনডেন্ট / পারফর্মা ইনভয়েস (PI)/ ক্রয় আদেশ / ক্রয় চুক্তি ৩. যথাযথভাবে ও সঠিকভাবে কার্যকর চার্জ নথি ৪. যথাযথভাবে সিল ও স্বাক্ষরিত এলসি অনুমোদন ফরম (LCAF) ৫. বীমা সংক্রান্ত নোট

এসকল কাগজপত্র সংগ্রহ করার পর যে ব্যাংকে আপনি এলসি করতে ইচ্ছুক সেই ব্যাংকের নিকট কাগজপত্র গুলো দাখিল করতে হবে। তবে অবশ্যই সেই ব্যাংকে আপনার একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। ব্যাংক কাগজপত্র গুলো যাচাই বাছাই করে দেখতে কয়েকদিন সময় নিবে। এলসির সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকেই জানিয়ে দিবে।

ব্যাংকের সাথে আপনার এলসি বিষয়ক লেনদেন কেমন হবে,
প্রথম দিকে ব্যাংকে আপনার পুরো টাকাটাই জমা দিতে হবে। ধরুন আপনার এলসি ভ্যালু ৪০,০০০ ডলার। তাহলে ব্যাংকে আপনাকে ৩২ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তবে আস্তে আস্তে ব্যাংকের সাথে আপনার ব্যবসা বাড়লে তখন ১০-২০% মার্জিন দিয়ে এলসি খুলতে পারবেন। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সাথে সাথে আপনাকে আরও কিছু ডকুমেন্ট দিতে হবে।

যেমন: আপনার কোম্পানীর সব কাগজ (ট্রেড লাইসেন্স, টিন, ভ্রাট, আইআরসি) ইনডেন্ট/পিআই এর ৩/৪ টি কপি। সাপ্লায়ার কোম্পানীর ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট ইন্সুরেন্স কভার নোট (যে কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ইনডেন্ট দেখিয়ে ফি দিয়ে এটা নিতে হয়) এরপর ব্যাংক আপনাকে আপনার কাংখিত এলসির একটা কপি দেবে। আর অরিজিনালটা পাঠিয়ে দেবে বিদেশে সাপ্লাইয়ারের কাছে।

এলসির মাধ্যমে আপনার ব্যবসায়িক লেনদেন হবে যেভাবে, সকল ব্যাবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে দুটি পক্ষ থাকে একজন ক্রেতা আর একজন বিক্রেতা। এলসির মাধ্যমে আপনার লেনদেন প্রক্রিয়া কিভাবে সম্পন্ন হবে চলুন সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

১. ক্রেতা প্রথমে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করবেন। ২. ক্রেতা যে ব্যাংকে এলসি করতে ইচ্ছুক সেই ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করবেন। ৩. ইস্যুকৃত এলসি ব্যাংক থেকে বিক্রেতার পরামর্শকারী ব্যাংকের নিকট পাঠাবেন। ৪. বিক্রেতার পরামর্শকারী ব্যাংক এলসির কাগজপত্র গুলো বিক্রেতার নিকট পাঠাবেন। ৫. কাগজপত্র গুলো দেখে বিক্রেতা শিপমেন্টের তারিখ ক্রেতাকে জানাবেন। এবং সাথে সাথে বিক্রেতা লেনদেনের সকল কাগজপত্র পরামর্শকারী ব্যাংককে দিবেন। ৬. পরামর্শকারী ব্যাংক কাগজপত্র গুলো ক্রেতা যে ব্যাংকে এলসি করেছেন সেই ব্যাংকে পাঠাবেন। ৭. কাগজপত্র গুলো পর্যালোচনা করে এলসি ইস্যুকৃত ব্যাংক লেনদেনের ছাড়পত্র পাঠাবেন পরামর্শ দানকারী ব্যাংকের নিকট পাঠাবেন। এবং সাথে সাথে একটি ছাড়পত্র ক্রেতার নিকট পাঠাবেন। পরামর্শ দানকারী ব্যাংকও একটি ছাড়পত্র বিক্রেতার নিকট পাঠাবেন। আর এ ছাড়পত্র পাওয়ার পর ক্রেতা-বিক্রেতা লেনদেনের জন্য প্রস্তুত।

এলসি’র পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আপনার করণীয় কাজ
ব্যাংকে অবশ্যই আপনার নিজস্ব কোম্পানীর একাউন্ট থাকতে হবে। পণ্য বা যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীর নিকট থেকে পি আই /প্রোফরমা ইনভয়েজ আনতে হবে। পি আই/প্রোফরমা ইনভয়েজ –এ পণ্য বা যন্ত্রাংশের মূল্য, পরিমাণ ও শর্তাবলী উল্লেখ থাকে। পি আই/প্রোফরমা ইনভয়েজ – এর কাগজ কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক / পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষর ও সীল প্রদান পূর্বক যে ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে সেখানে জমা দিতে হবে।

পি আই/প্রোফরমা ইনভয়েজ এর কাগজ পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে ৬টা ফরম প্রদান করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক / পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষর ও সীল প্রদান সাপেক্ষে ফরম ৬টি এবং এলসি মার্জিনের সর্বনিম্ন শতকরা ২০ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ ভাগ অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

নিজ দায়িত্বে অথবা ব্যাংকের সহায়তায় আমদানীকৃত পণ্য/যন্ত্রাংশের বীমা করতে হয়। বীমা ও ব্যাংকের কাগজপত্র সরবরাহকারীর নিকট পাঠালে সে পণ্য বা যন্ত্রাংশ সমুদ্র/সড়ক পথে প্রেরণ করে। স্থল/সমুদ্র বন্দরে পণ্য/যন্ত্রাংশ পৌঁছানোর পর এলসি–এর বাকী অর্থ ব্যাংকে পরিশোধ করতে হয়। এরপর ব্যাংক এন ও সি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করে। এই এন ও সি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কোম্পানী মনোনীত সি এন্ড এফ এজেন্টের মাধ্যমে স্থল/সমুদ্র বন্দরের শুল্ক বিভাগে প্রদর্শন ও অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন করে পণ্য বা যন্ত্রাংশ খালাস করতে হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

ক্যাশ বেনিফিট কিভাবে পাবেন!বাংলাদেশী রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে Cash benefit প্রথা অব্যাহত আছে। সরাসরি ...
08/06/2022

ক্যাশ বেনিফিট কিভাবে পাবেন!
বাংলাদেশী রপ্তানিকারকদের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে Cash benefit প্রথা অব্যাহত আছে। সরাসরি রপ্তানি (Direct Export ) ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানি ( Deemed Export), দুই ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম ডকুমেন্ট ব্যাংকে জমা দিতে হয়। ২ বছর পূর্বে এই Incentive রপ্তানিকারকগণ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেতেন। বর্তমানে রপ্তানিকারকগণ নিজ নিজ ব্যাংক-এর মাধ্যমে এই অর্থ পেয়ে থাকেন। সরাসরি রপ্তানিকারকগণকে যে সকল ডকুমেন্টসহ ক্যাশ বেনিফিটের জন্য আবেদন করতে হয় তা হচ্ছে-

একঃ কোম্পনির ফরওয়ার্ডিং লেটার। দুইঃ সঠিকভাবে পূরন করা আবেদন ফরম। তিনঃ রপ্তানি এলসি কপি। চারঃ ব্যাক টু ব্যাক এলসি কপি, ক্যাশ মেমো, ব্যাংক ড্রাফট, পেঅর্ডার, চেক, কমার্শিয়াল ইনভয়েস, চালান, ট্রাক, কাঁচামালের উৎসের সত্যতা যাচাই এর রিসিট। পাঁচঃ বিএল বা এডবি−উবি (এয়ার ওয়ে বিল) এর সত্যায়িত কপি। ছয়ঃ শিপিং বিল এর সত্যায়িত কপি।

সাতঃ পিআরসি (প্রসিডস্ রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট) আটঃ ফরেন কমিশনের ফ্রেইট সার্টিফিকেট। নয়ঃ ব্যাংক সার্টিফিকেট (বিবিএলসি কপিসহ) দশঃ ইআরসি কপি। এগারোঃ বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট। বারোঃ ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট। তেরঃ ইউটিলাইজেশন ডিক্লিয়ারেশন/ ইউটিলাইজেশন পারমিশন কপি। চৌদ্দঃ বিটিএমএ সার্টিফিকেট কপি।

প্রচ্ছন্ন শিল্পের রপ্তানির পর Cash Benefit লাভের জন্য সরাসরি রপ্তানির মতো উপরে উল্লিখিত: ১৪ টি ডকুমেন্ট দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে আরও ৪টি অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। সেগুলো হচ্ছেঃ একঃ ক্রেতার ব্যাংক কর্তৃক অরিজিনাল মাস্টার/ এক্সপোর্ট এলসি সার্টিফিকেট। দুইঃ ক্রেতার ইনভয়েসের সার্টিফিকেট কপি। তিনঃ ক্রেতার এক্সপোর্ট এলসির ফ্রেইট সার্টিফিকেট। চারঃ ক্রেতার এক্সপোর্ট এলসির পিআরসি (প্রসিডস্ রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট)।

রপ্তানিকারক হিসেবে আপনি কী কী বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন: দ্রুত রপ্তানি উন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। প্রয়োজনবোধে সুযোগ-সুবিধার পরিধি বাড়াতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। রপ্তানিকারক হিসেবে এ সকল সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আপনি একদিকে যেমন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সাধন করতে পারেন অপরদিকে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে বলিষ্ট ভূুমিকা পালন করার গৌরব অর্জন করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

Address

Sector-09, Road-04, House-44 (চতুর্থ তলা), হাউস বিল্ডিং, সোনারগাঁ জনপথ রোড, (উত্তরা আধুনিক হাসপাতালের পাশ্বে )
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Made In Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share