15/05/2026
🇧🇩 ভারতের বুকের ভেতর এক টুকরো বাংলাদেশ!
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ও তিন বিঘা করিডরের অজানা ইতিহাস 😮
বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিল একসময় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি ভূখণ্ড। চারদিক ঘিরে ছিল ভারত, অথচ জায়গাটি ছিল বাংলাদেশের অংশ। সেখানে বসবাসকারী মানুষদের নিজ দেশে যেতে হলে ভারতীয় ভূখণ্ড পার হতে হতো। ভাবুন তো, নিজের দেশের মাটিতে থেকেও নিজের দেশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না!
এই সমস্যার সমাধানে আসে “তিন বিঘা করিডর”।
এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি সরু ভূমি, যা বাংলাদেশকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বহু বছরের আলোচনা, চুক্তি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ১৯৯২ সালে এই করিডর বাংলাদেশকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে ধীরে ধীরে ২৪ ঘণ্টা চলাচলের সুযোগও চালু হয়।
এই অঞ্চলটির ইতিহাস আসলে ভারত ভাগের সময়কার সীমান্ত জটিলতার ফল। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হলেও অনেক “ছিটমহল” তৈরি হয়ে যায়। অর্থাৎ এক দেশের ভেতরে আরেক দেশের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিল তেমনই একটি ছিটমহল।
দীর্ঘ সময় ধরে এখানকার মানুষ বিদ্যুৎ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যায় ভুগেছে। কারণ প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ হলেও চারপাশের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিন বিঘা করিডর চালু হওয়ার পর তাদের জীবন অনেক সহজ হয়।
দহগ্রাম ও তিন বিঘা করিডর শুধু একটি সীমান্ত নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস, রাজনীতি ও মানুষের সংগ্রামের এক জীবন্ত উদাহরণ। 🌍