Munawarah Shop : মুনাওয়ারাহ শপ

Munawarah Shop : মুনাওয়ারাহ শপ ‘‘মুনাওয়ারাহ’’ আভিজাত্য, সৌন্দর্য আর আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।
কারণ, আপনি আলোকিত হলে—জগৎও আলোকিত হয়।

29/08/2026

’মুনাওয়ারাহ’ প্রতিটি নারীর আভিজাত্য, সৌন্দর্য আর আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি।
কারণ, আপনি আলোকিত হলে—জগৎও আলোকিত হয়।

 #একটি_হাদিস_কিছু_শিক্ষাহযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি—“নিশ্চয়ই স...
08/07/2026

#একটি_হাদিস_কিছু_শিক্ষা

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি—

“নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত কোনো দুনিয়াবী স্বার্থ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেরই দিকে গণ্য হবে, যার জন্য সে হিজরত করেছে।”

— সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম

হাদীসের শিক্ষা

১. আমলের গ্রহণযোগ্যতার মূল ভিত্তি হলো বিশুদ্ধ নিয়ত

একই কাজ একজনের জন্য ইবাদত হতে পারে, আবার অন্যজনের জন্য কেবল দুনিয়াবী কাজ হতে পারে। এ দুইয়ের পার্থক্য সৃষ্টি করে নিয়ত।

২. দৈনন্দিন বৈধ কাজও ইবাদতে পরিণত হতে পারে

যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও আখিরাতের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কোনো বৈধ কাজ করা হয়, তবে সেই কাজের জন্যও সাওয়াব লাভ করা যায়।

৩. হিজরতের দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা

হাদীসের শেষাংশে রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, বাহ্যিকভাবে কাজ একই হলেও অন্তরের নিয়ত ভিন্ন হলে তার মূল্য ও প্রতিদানও ভিন্ন হয়ে যায়। তাই আল্লাহ তাআলার কাছে বাহ্যিক আমলের চেয়ে অন্তরের বিশুদ্ধতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

৪. নিয়ত সংশোধন একটি চলমান ইবাদত

প্রতিটি বৈধ কাজের শুরুতে এক মুহূর্ত চিন্তা করে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে আমাদের সাধারণ কাজগুলোও ইবাদতে পরিণত হবে এবং আখিরাতের পুঁজি হয়ে যাবে।

দৈনন্দিন জীবনে নিয়তের কিছু উদাহরণ

খাওয়ার সময়:
নিয়ত করি—“আমি শক্তি অর্জন করব, যাতে সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, দাওয়াহ এবং অন্যান্য ইবাদত সুন্দরভাবে আদায় করতে পারি।”

ঘুমানোর সময়:
নিয়ত করি—“আমি বিশ্রাম নেব, যাতে ফজরের সময় জাগতে পারি এবং সতেজভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারি।”

হালাল উপার্জনের সময়:
নিয়ত করি—“আমি পরিবারের হালাল ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করব, হারাম থেকে বেঁচে থাকব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করব।”

পড়াশোনার সময়:
নিয়ত করি—“আমি উপকারী ইলম অর্জন করব, যাতে আল্লাহর দ্বীনের খেদমত করতে পারি এবং মানুষের উপকারে আসতে পারি।”

উপসংহার

আসুন, আজ থেকেই আমরা প্রতিটি বৈধ কাজের আগে বিশুদ্ধ নিয়ত করার অভ্যাস গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প করি। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করার চেষ্টা করি। ইনশাআল্লাহ, এতে আমাদের সাধারণ কাজগুলোও ইবাদতে পরিণত হবে এবং আখিরাতে নাজাতের মাধ্যম হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করার এবং প্রতিটি বৈধ কাজকে সাওয়াবের মাধ্যমে পরিণত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


ইলম শেখা কি শুধু ছোটদের জন্য?রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন —«طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»"ইলম অর্জন করা...
02/07/2026

ইলম শেখা কি শুধু ছোটদের জন্য?

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন —
«طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
"ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।"
📖 (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪)

অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে — কোরআন ও দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো শেখা কেবল শিশুদের জন্য। বয়স বাড়লে এই দায়িত্ব আর থাকে না।
অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

বালেগ হওয়ার পর থেকেই একজন মুসলিমের উপর ইসলামের যাবতীয় বিধান আবশ্যক হয়ে যায়। নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম, লেনদেন — সবকিছুতেই ইলম জানা ফরজ। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইলমের প্রয়োজনীয়তা কমে না — বরং বাড়তে থাকে।

প্রিয় ভাই ও বোন,
শত ব্যস্ততার মাঝেও আল্লাহর কালাম শেখার জন্য একটু সময় বের করুন। নিজেকে আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হিসেবে গড়ে তুলুন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নেক ইলম হাসিলের তাওফিক দান করুন। আমিন।

শুধু আয় নয়, সম্পদ গড়ুন*************************◾একটি প্রশ্ন সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করা চাই। যেমন আমি যদি চাকরিজীবী হই ...
26/06/2026

শুধু আয় নয়, সম্পদ গড়ুন
*************************
◾একটি প্রশ্ন সামনে রেখে জীবন পরিচালনা করা চাই। যেমন আমি যদি চাকরিজীবী হই আর যদি আজ রাতেই আমার চাকরি চলে যায়?‌
আমি যদি ব্যবসায়ী হই যদি আগামী মাসে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়?
যদি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ছয় মাস বিছানায় থাকতে হয়?আমার পরিবার কতদিন চলবে?
এক মাস? দুই মাস? ছয় মাস? নাকি এক সপ্তাহ? কঠিন প্রশ্ন।
কিন্তু এর চেয়েও কঠিন প্রশ্ন হলো আমি যদি আজ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই, আমার পরিবার কী পাবে?
আরও কঠিন প্রশ্ন আমার কবরে কি যাবে? জীবন পরিচালনায় এ প্রশ্নগুলো থাকা চাই।
◾একটি বাস্তব প্রশ্ন দুইজন মানুষ। একজন মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করে। প্রতি মাসেই সব খরচ করে ফেলে। ১০ বছর পরও তার অবস্থা আগের মতই।
দ্বিতীয় ব্যক্তি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করে।
কিন্তু সে নিয়মিত কিছু টাকা জমিয়ে সম্পদ তৈরি করে। এই ব্যক্তির ১০ বছর পর জমি হয়েছে, ছোট ব্যবসা হয়েছে, গরুর খামার হয়েছে, ভাড়ার দোকান হয়েছে। এখন বলুন, কে বেশি বুদ্ধিমান। প্রথম ব্যক্তি বেশি আয় করেছে। দ্বিতীয় ব্যক্তি ভবিষ্যৎ তৈরি করেছে।
◾আজকের আলোচনার বিষয় অর্থনীতি নয়। শুধু টাকা-পয়সার আলোচনাও নয়। এটি জীবনের আলোচনা। দূরদর্শিতার আলোচনা। দায়িত্ববোধের আলোচনা। পরিবারের আলোচনা। ভবিষ্যতের আলোচনা। দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়ের সফলতার আলোচনা।
◾আলোচনার কেন্দ্রীয় আয়াত
আল্লাহ তাআলা বলেন—
قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًا فَمَا حَصَدْتُّمْ فَذَرُوهُ فِي سُنْبُلِهِ إِلَّا قَلِيلًا مِمَّا تَأْكُلُونَ ۝ ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًا مِمَّا تُحْصِنُونَ ۝ ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ
"তোমরা সাত বছর একনাগাড়ে চাষ করবে। অতঃপর যা কাটবে, তার অধিকাংশ শীষের মধ্যেই রেখে দেবে, শুধু অল্প কিছু খাবে। তারপর আসবে সাতটি কঠিন বছর, যা তোমরা আগে জমা করে রেখেছ তা খেয়ে ফেলবে। এরপর আসবে এমন এক বছর, যাতে মানুষ স্বস্তি লাভ করবে এবং ফল-ফসল নিংড়াবে।"
(সূরা ইউসুফ: ৪৭-৪৯)
◾আল্লাহ আমাদের শুধু ইবাদত নয়, পরিকল্পনাও শিখিয়েছেন।‌অনেক মানুষ মনে করে— দ্বীন মানেই শুধু নামাজ, রোজা, তাসবিহ। কিন্তু কুরআন খুলে দেখুন।
আল্লাহ একজন নবীর মাধ্যমে পুরো একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনার শিক্ষা দিয়েছেন।
এখানে ইউসুফ (আ.) শুধু স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেননি। তিনি একটি জাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর পরিকল্পনা দিয়েছেন।
শিক্ষা এক:
ভালো সময় চিরদিন থাকে না
تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًا
"তোমরা সাত বছর লাগাতার উৎপাদন করবে।"
সামনে সমৃদ্ধি আসছে।‌প্রাচুর্য আসছে। ফসল আসছে।
অর্থ আসছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—ভালো সময় এলে মানুষ কী করে?
বেশিরভাগ মানুষ জীবনযাত্রা বাড়ায়। ব্যয় বাড়ায়। শখ বাড়ায়। অহংকার বাড়ায়।
কিন্তু ইউসুফ (আ.) বলেন—না। এখন খরচের সময় নয়। এখন প্রস্তুতির সময়।
আজকের সমাজের সবচেয়ে বড় ভুল
আজ অধিকাংশ মানুষ ভাবে—
"আমার আয় বাড়লে আমি সঞ্চয় করব।" না। এটা কখনো হয় না। কারণ আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ে।
একজন মানুষ একসময় ২০ হাজার টাকায় চলত।
পরে ৫০ হাজার আয় করল। তারপরও টাকা থাকে না।পরে ১ লাখ আয় করল। তারপরও টাকা থাকে না। কারণ সমস্যা আয় নয়। সমস্যা অভ্যাস।
হাদিসের আলো
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"দুই পা বৃদ্ধ হওয়ার আগেই পাঁচটি জিনিসের মূল্য বোঝো—‌বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা..."
(হাকিম)
এ হাদিসের একটি অর্থ হলো—
যখন সুযোগ আছে, তখন প্রস্তুতি নাও।
◾সব খেয়ে ফেলো না। সম্পদের হেফাজত করো। আল্লাহ বলেন—
فَذَرُوهُ فِي سُنْبُلِهِ
"শীষের মধ্যেই রেখে দাও।"
কী অসাধারণ কথা! খেয়াল করুন—আল্লাহ বলেননি, সব খেয়ে ফেলো। সব বিলিয়ে দাও। সব ভোগ করো। বরং বলেছেন। সংরক্ষণ করো। রক্ষা করো। ভবিষ্যতের জন্য রেখে দাও। মুসলমানের জীবন শুধু আজকের জন্য নয়
কাফের আজকের জন্য বাঁচে। মুমিন আগামীকালের জন্যও বাঁচে। দুনিয়ার আগামীকাল। আখিরাতের আগামীকাল।
আল্লাহ বলেন—
وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ
"প্রত্যেক মানুষ চিন্তা করুক, আগামীকালের জন্য সে কী পাঠিয়েছে।"
(সূরা হাশর: ১৮)
◾জীবনে সংকট আসবেই।
ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ
"এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর।"
এই একটি আয়াত জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
সংকট আসবেই। যে পরিবারে আজ হাসি আছে, কাল কান্না আসতে পারে। যে ব্যবসা আজ সফল, কাল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যে শরীর আজ সুস্থ, কাল অসুস্থ হতে পারে। তাই বুদ্ধিমান মানুষ সংকটের সময়ের জন্য সংকট আসার আগেই প্রস্তুতি নেয়।
পিঁপড়ার শিক্ষা।
কুরআনে পিঁপড়ার কথা এসেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট প্রাণীদের একটি। কিন্তু সে কী করে? গ্রীষ্মে খাদ্য সংগ্রহ করে। শীতের জন্য জমা রাখে। একটি পিঁপড়া জানে— সব সময় একই রকম থাকবে না। আর আমরা?
◾যে ভবিষ্যতের কথা ভাবে না, সে সংকটে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। কারণ তার পরিকল্পনা ছিল না।
হযরত ইউসুফ (আ.) বললেন—
يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ
"সেই কঠিন বছরগুলো তোমরা আগে যা জমিয়ে রাখবে, তা খাবে।" (সূরা ইউসুফ: ৪৮)
কী অসাধারণ কথা!
কঠিন সময়ের খাবার তৈরি হয় সুসময়ে। মন্দ সময়ের নিরাপত্তা তৈরি হয় ভালো সময়ে। বার্ধক্যের নিরাপত্তা তৈরি হয় যৌবনে। অসুস্থতার নিরাপত্তা তৈরি হয় সুস্থ অবস্থায়। আখিরাতের নিরাপত্তা তৈরি হয় দুনিয়াতে।
আজ যদি আপনার আয় বন্ধ হয়ে যায়, আপনার পরিবার কতদিন চলবে? যদি উত্তর হয় "এক সপ্তাহও না" তাহলে বুঝতে হবে আপনি শুধু আয় করেছেন।সম্পদ গড়েননি।
ইসলামে দূরদর্শিতা আছে, অলসতা নেই।
কিছু মানুষ মনে করে "সঞ্চয় করা তাওয়াক্কুলের বিরুদ্ধে।" কিন্তু ইউসুফ (আ.) সাত বছরের খাদ্য মজুদ করেছেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী।
এ থেকে বোঝা যায় তাওয়াক্কুল মানে পরিকল্পনা ছেড়ে দেওয়া নয়। তাওয়াক্কুল মানে পরিকল্পনা করার পর আল্লাহর উপর ভরসা করা।
◾সম্পদ গঠন শুধু নিজের জন্য নয়। এরপর আল্লাহ বলেন—
ثُمَّ يَأْتِي مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ
"এরপর এমন একটি বছর আসবে, যখন মানুষ স্বস্তি লাভ করবে।"(সূরা ইউসুফ: ৪৯)
লক্ষ করুন যদি ইউসুফ (আ.) আগের সাত বছরে সঞ্চয়ের নির্দেশ না দিতেন, তাহলে পরের সাত বছরের দুর্ভিক্ষে পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যেত। অর্থাৎ একজন দূরদর্শী মানুষের সম্পদ শুধু তাকে নয়, একটি জাতিকে বাঁচাতে পারে।
আজকের মুসলমানদের একটি ভুল ধারণা। অনেকে বলেন‌, আয় কম। সমস্যা আয় কম নয়। সমস্যা হলো পরিকল্পনা কম।
কারণ ইউসুফ (আ.) বলেননি "যখন অনেক ফসল হবে তখন সঞ্চয় করো।"‌তিনি বলেছেন‌"যা পাবে, তার মধ্যে থেকে সংরক্ষণ করো।" আজ যদি কেউ মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করে এবং ১ হাজার টাকা জমায়, সে সম্পদের পথে হাঁটছে।
আর কেউ যদি মাসে ১ লাখ টাকা আয় করে সব খরচ করে ফেলে, সে সম্পদের পথে হাঁটছে না।
◾ আগামীর জন্য আয় নয়, আয়-সৃষ্টিকারী সম্পদ। আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ভুল মানুষ শুধু
উপার্জন বাড়াতে চায়। সম্পদ গড়তে চায় না।
উপার্জন কী? আজ কাজ করলাম। আজ টাকা পেলাম। আর সম্পদ কী? আজ কাজ না করলেও কিছু আসছে।
একটি ভাড়ার দোকান। একটি ফলের বাগান। একটি উৎপাদনশীল জমি। একটি ব্যবসায় অংশীদারিত্ব।
একটি বই। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ।
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.)-এর ঘটনা
হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ মদীনায় এলেন। কিছুই ছিল না। রাসূল ﷺ তাঁকে সাহায্যের প্রস্তাব দিলেন।
কিন্তু তিনি বললেন—
"আমাকে বাজার দেখিয়ে দিন।" তিনি বাজারে গেলেন।
পরিশ্রম করলেন। উৎপাদন করলেন।
সম্পদ গড়লেন। পরে তাঁর কাফেলা শত শত উট নিয়ে মদীনায় প্রবেশ করত। কিন্তু সেই সম্পদ ছিল আল্লাহর পথে।
◾সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?
এখন আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব। জমি সম্পদ।টাকা সম্পদ। বাড়ি সম্পদ। কিন্তু সবচেয়ে বড় সম্পদ নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ঈমান।‌ কারণ ঈমান ছাড়া সব সম্পদ ধ্বংস। ইলম হলো মূল্যবান সম্পদ।রাসূল ﷺ বলেছেন "আলেমদের মর্যাদা ইবাদতকারীদের চেয়ে অনেক বেশি।"
মানুষের চরিত্র‌ তার শ্রেষ্ঠতম সম্পদ।চরিত্রহীন ধনী ব্যক্তি সমাজের বোঝা। চরিত্রবান গরিব ব্যক্তি সমাজের সম্পদ। দক্ষতা হলো সম্পদ। দক্ষ মানুষকে পৃথিবী মূল্য দেয়।
◾যে সম্পদ কবরেও সঙ্গে যাবে
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া—সদকায়ে জারিয়া,‌উপকারী জ্ঞান, নেক সন্তান।"
(সহিহ মুসলিম)
এই তিনটি হলো আখিরাতের আয়-সৃষ্টিকারী সম্পদ।
একটি মসজিদ।‌ একটি মাদরাসা। একটি কূপ।একজন হাফেজ। একজন আলেম। একটি উপকারী বই। একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। আপনি কবরের মধ্যে। কিন্তু আয় চলছে।‌ সওয়াব আসছে। নূর আসছে।
◾মানুষ কেন সম্পদ গড়তে পারে না?
কারণ তিনটি—
১. দেখানোর প্রবণতা। মানুষ নিজের জন্য কম।মানুষকে দেখানোর জন্য বেশি খরচ করে।
২. ধৈর্যের অভাব। আজই ফল চাই। এখনই ফল চাই।
৩. দূরদর্শিতার অভাব। আজ আছে। কাল নেই। এই চিন্তা নেই।
◾ প্রতিটি ব্যক্তির উচিত তার উপার্জনকে সামনে রেখে তিনটি তালিকা তৈরি করা। প্রথম তালিকা আমার আয় কী? দ্বিতীয় তালিকা আমার সম্পদ কী?‌ তৃতীয় তালিকা আমার মৃত্যুর পর সওয়াব দেবে এমন সম্পদ কী?
দেখবেন—‌প্রথম তালিকা বড়। দ্বিতীয় তালিকা ছোট।তৃতীয় তালিকা হয়তো ফাঁকা।
◾হযরত ইউসুফ (আ.)-এর শিক্ষা হলো—‌শুধু উৎপাদন নয়, সংরক্ষণ। শুধু উপার্জন নয়, সম্পদ গঠন।‌ শুধু আজ নয়, আগামীকাল।‌ শুধু দুনিয়া নয়, আখিরাত।
আর যে ব্যক্তি এই চারটি শিক্ষা বুঝে যায়, সে শুধু ধনী হয় না; সে দায়িত্বশীল হয়, নিরাপদ হয়, উপকারী হয় এবং আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন দূরদর্শী বানান, যারা আয়কে সম্পদে, সম্পদকে কল্যাণে এবং কল্যাণকে আখিরাতের সফলতায় রূপান্তর করতে পারে। আমীন।

লিখেছেন : M***i Saeed Ahmad

Address

Azimpur, Dhaka
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Munawarah Shop : মুনাওয়ারাহ শপ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share