27/05/2026
ঈদুল আযহার দিনের সুন্নাহসমূহ:
১. গোসল করা: ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে গোসল করা সুন্নাহ।
প্রমাণ: নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৬২৪)
২. সর্বোত্তম পোশাক পরা: সামর্থ্য অনুযায়ী পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা।
প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি উত্তম পোশাক ছিল যা তিনি দুই ঈদ ও জুমার দিন পরিধান করতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৪৮)
৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা: পুরুষদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাহ।
প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি পছন্দ করতেন এবং এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করতেন। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৫৭৪)
৪. কোর*বানির আগে কিছু না খাওয়া: ঈদুল আযহার দিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে নামাজে যাওয়া সুন্নাহ। নামাজের পর নিজের কো*রবানির গোশত খাওয়া হলো সুন্নাহ।
প্রমাণ: বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেয়ে ঈদগাহে যেতেন, কিন্তু ঈদুল আযহার দিন নামাজ পড়ে আসার আগে কিছুই খেতেন না। (সুনানে তিরমিজি: ৫৪২)
৫. তাকবীর পাঠ করা: ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করা সুন্নাহ।
তাকবীর: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লা-হিল হামদ।"
প্রমাণ: হযরত ইবনে উমর (রা.) ঈদের দিন যখন ঈদগাহের দিকে বের হতেন, তখন উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)
৬. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া ও অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা: যাওয়ার সময় এক পথ দিয়ে গিয়ে ফেরার সময় অন্য পথ দিয়ে আসা সুন্নাহ।
প্রমাণ: জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ঈদের দিনে (যাতায়াতের জন্য) রাস্তা পরিবর্তন করতেন। (সহিহ বুখারি: ৯৮৬)
৭. হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম।
প্রমাণ: আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, সুন্নাহ হলো পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া। (সুনানে তিরমিজি: ৫৩০)
৮. ঈদের নামাজে আগেভাগে অংশগ্রহণ করা: দ্রুত ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া।
প্রমাণ: রাসুলুল্লাহ (সা.) সালাতের জন্য তাড়াতাড়ি উপস্থিত হওয়াকে উৎসাহিত করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩০৭)
ঈদের এই দিনটি আমরা যেন কেবল উৎসব নয়, বরং ইবাদতের মাধ্যমেও অতিবাহিত করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবার কোরবানি কবুল করুন। আমিন!
🌀ঈদুল আযহার নামাজের সঠিক নিয়ম (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী):
১. প্রথম রাকাত:
তাকবীরে তাহরীমা (প্রথম তাকবীর) দিয়ে হাত বাঁধবেন এবং 'সানা' পড়বেন।
এরপর অতিরিক্ত ৩টি তাকবীর দিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবীরে হাত কান পর্যন্ত তুলে ছেড়ে দিবেন এবং তৃতীয় তাকবীরে হাত বেঁধে ফেলবেন।
এরপর ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়বেন এবং রুকু-সেজদা করবেন।
২. দ্বিতীয় রাকাত:
ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩টি তাকবীর দিবেন। এই ৩টি তাকবীরের সময় হাত কান পর্যন্ত তুলে ছেড়ে দিবেন।
এরপর চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যাবেন। (অর্থাৎ রুকুর আগে মোট ৩টি অতিরিক্ত তাকবীর দেওয়া হলো)।