16/07/2020
#টাঙ্গাইলের_শাড়ি
টাঙ্গাইলের শাড়ির বৈশিষ্ট্য হলো- পাড় বা কিনারের কারু কাজ। বিদেশী বণিক চক্রের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মসলিন কাপড় কালের প্রবাহে হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার সার্থক উত্তরাধিকারী হয়ে আজও টিকে রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে নব্বই দশকের প্রথম দিকে। এ সময়ে টাঙ্গাইল কটন শাড়ির পাশাপাশি টাঙ্গাইল সফট সিল্ক শাড়ি তৈরি শুরু হয়। এ শাড়ি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে, একমাত্র তার আকর্ষনীয় ডিজাইন ও উন্নত বুনন এর কারনে। মাধবীলতা, পদ্মপাড়, কুঞ্চলতা, তেরবি, মরবি, লতাপাতা পাড়ের শাড়ি বেশি জনপ্রিয় ছিল তখনকার সময়ে। এখনকার যুগে টাঙ্গাইলের তাঁতীরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও যুগের চাহিদার সাথে সাথে বুননে এনেছে বৈচিত্রতা। সফট সিল্ক ,হাফ সিল্ক ছাড়াও টাঙ্গাইলে তৈরী করা হয় বালুচরি, জরিপাড়, স্বর্ণচুড়, ইককাত, আনারকলি, দেবদাস, কুমকুম, সানন্দা, হাজারবুটি, সূতিপাড়, কটকি, নীলাম্বরী, ময়ুরকন্ঠী ইত্যাদি শাড়ি।
খুব দরদ, গভীর মনোসংযোগের সাথে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি তৈরি করা হয় এবং কারুকাজ করা হয় অত্যন্ত সুক্ষ্ণ ও সুদৃশ্য ভাবে। পুরুষ এবং মহিলা উভয় মিলেই শাড়ি প্রস্তুত করে থাকেন তাদের আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে। পুরুষেরা তাঁত বোনে; আর চরকাকাটে। রঙকরা এবং জরির কাজে সহযোগিতা করে বাড়ির মহিলারা। শাড়ির জমিনে নানা ডিজাইন করে বা নকশা আঁকে, ফুল তোলে – তাকে আরো মনোমুগ্ধকর করে তোলে তাঁতীরা।