24/07/2021
🔳বিসিএস প্রস্তুতি
আজকে আলোচনার টপিক ইউরোপীয় ইউনিয়ন(EU) ও ব্রেক্সিট ইস্যু।
♠️ইউরোপীয় ইউনিয়ন,প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত
💠রোম চুক্তিঃ
➡১৯৫৭ সালের ২৫ মার্চ পশ্চিম ইউরোপের ৬টি (বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ইতালি, পশ্চিম জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ড) দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা রোম চুক্তি (Rome Treaty) নামে পরিচিত।
➡১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হয় এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায় (European Economic Community) গঠিত হয়।
💠ম্যাসট্রিচট চুক্তিঃ
➡১৯৯২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডের ম্যাসট্রিচটে ইউরোপীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা ম্যাসট্রিচট (Maastricht Treaty) চুক্তি নামে পরিচিত।
➡১লা নভেম্বর ১৯৯৩ সালে এই চুক্তি কার্যকর হয় যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপের একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো চালু হয়।
★ সদর দপ্তরঃ ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
★ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকায় ১২ টি তারকা আছে।
★ অফিশিয়াল ভাষা ২৩টি
➡বর্তমান সদস্যঃ ২৭
➡সর্বশেষ সদস্যঃ ক্রোয়েশিয়া, ১ জুলাই, ২০১৩ যোগদান করে।
💠ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
➡১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত।
➡অবস্থিতঃ ব্রাসেলস, বেলজিয়াম; স্ট্রাসবুর্গার, ফ্রান্স; লুক্সেমবার্গ।
➡সদস্যঃ ৭৫১ (৭৫০ Members of the European Parliament + ১ জন President)
💠Council of the European Union
➡১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত।
➡সদর দপ্তরঃ ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
➡সদস্যঃ Government ministers from each EU country.
➡প্রেসিডেন্টঃ Each EU country holds the presidency on a 6-month rotating basis.
💠European Council
➡১৯৭৪ সালে অনানুষ্ঠানিকভাবে, ১৯৯২ সালে আনুস্ঠানিকভাবে ও ২০০৯ সালে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়।
➡সদর দপ্তরঃ ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
💠Europe Day
➡প্রতি ৯ মে Europe Day হিসেবে পালিত হয়। ➡Europe Day পালনের জন্যে ব্রাসেলস ৬ মে, ১৩ ও ১৪ মে লুক্সেমবার্গ, ১৪ মে স্ট্রাসবুর্গার তাদের ইউরোপিয় প্রতিষ্ঠান গুলো সাধারন জনগনের জন্যে খুলে দেয়।
💠 নোবেল প্রাইজ
➡২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন শান্তিতে নোবেল প্রাইজ লাভ করে। তাদের ৬ দশকের কাজের স্বিকৃতিস্বরুপ তারা এই পুরস্কার লাভ করে।
💠ইউরো
★ মুদ্রা প্রতীকঃ €
★ব্যাংক কোডঃ EUR
★ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশসমূহের মুদ্রা।
★জনকঃ রবার্ট মুন্ডেল।
★★ চালু হয়ঃ ১ জানুয়ারি, ১৯৯৯ কিন্তু একক মুদ্রা হিসেবে চালু হয় ১ জানুয়ারি, ২০০২।
★★১৯৯৯ সালে ইউরোপের ১৪টি দেশ ইউরো প্রথমদিকে ব্যবহার করতে শুরু করে।
★★বর্তমানে ইউরো ইউরোপের ২২টি দেশে ব্যবহৃত কিন্তু একক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করে ১৯ টি দেশ।
★★সর্বশেষ ১৯ তম দেশ হিসেবে ইউরো গ্রহণ করে লিথুনিয়া।
★★একক মুদ্রা হিসেবে ইউরো ব্যবহার করা এই ১৯ টি দেশকে একত্রে ইউরোজোন বলা হয়।
★★প্রতিদিন প্রায় ৩৩৮.৬ মিলিয়ন মানুষ এই মুদ্রা ব্যবহার করে।
★ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB)
★১৯৯৮ সালে আমস্টারডামের চুক্তি ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত করে।
★জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে এর সদর দফতর।
★★ব্যাংকের গোচ্ছিত মূলধন সমস্ত ২৮টি ইইউ সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক মালিকানাধীন।
★★এটি ১৯টি ইইউ সদস্য দেশসমূহ নিয়ে গঠিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম মুদ্রা অঞ্চলসমূহ।
♠️ব্রেক্সিট
★★ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
★★ব্রিটেন ১৯৭৩ সালে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
★★ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোট অণুষ্ঠিত হয়।
★★ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকার বিপক্ষে ৫২% ও পক্ষে ৪৮% ভোট পড়ে।
★★গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পর ২৪ জুন, ২০১৬ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরুন।
★★ক্যামেরুনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন টেরেসা মে।
♠️ব্রেক্সিট বিস্তারিত
💠ব্রেক্সিট কিঃ ব্রেক্সিট হল ব্রিটিশ এক্সিটের সংক্ষেপিত রূপ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা অপসারণ বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। শব্দটি অনেকটা গ্রেক্সিটের মতো। গ্রিস ইউরোজোন থেকে ছিটকে পড়তে পারে বলে কয়েক বছর ধরে যে সম্ভাবনার গুঞ্জন চলছিল তা থেকেই গ্রেক্সিট শব্দটি চালু হয়েছিল। সে ধারাবাহিতায় ব্রিটেনের এক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে চালু হয় ব্রেক্সিট শব্দটি।
💠প্রেক্ষাপটঃ যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে এ নিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। ইইউ'র নিয়ম অণুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবেশ করার অধিকার রাখে। আর সে কারণে ডেভিড ক্যামেরন সরকার তার প্রথম মেয়াদে ইইউ'র বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে সক্ষম হলেও ইইউভুক্ত নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতে পারেনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়াদে ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করতে চার বছরের জন্য সুবিধা ভাতা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন ক্যামেরন। এতে খুশি হতে পারেননি ইইউভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা সদস্য দেশের নাগরিকদের সুবিধা ভাতা প্রদানে বৈষম্য করা হলে তা হবে ইইউর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক হবে বলে দাবি তোলেন। আর এ কারণেই যুক্তরাজ্যকে ইইউতে রাখা না রাখার ব্যাপারে প্রশ্ন তৈরি হয়।
💠গণভোট প্রসঙ্গঃব্রেক্সিট প্রশ্নে ইইউভুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে অভিবাসীদের সুবিধা সীমিত করাসহ চারটি সংস্কার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। পরে সে প্রস্তাব নিয়ে ক্যামেরনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান ইইউ নেতারা। ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতার পর দেশে ফিরে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করেন ক্যামেরন। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, গণভোটের ১৬ সপ্তাহ আগে তারিখ ঘোষণা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ২৩ জুন তারিখটি নির্ধারণ করা হয়। ব্রিটেনের ইইউতে থাকা না থাকার প্রশ্নে দেশটির জনগণ ওই গণভোটে চূড়ান্ত রায় দেয়।
ইইউতে যুক্তরাজ্যের থাকার বিপক্ষে ৫২ শতাংশ ও পক্ষে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়ে। ইইউতে থাকার পক্ষে লন্ডন ও স্কটল্যান্ড শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। এই দুই অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট ইউরোপের পক্ষে। তবে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে ইইউতে থাকার বিপক্ষে ভোট বেশি পড়েছে। এই গণভোটে ব্যাপক হারে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এমনকি ব্রিটেনের ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এত ভোট পড়েনি। গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পর একই বছরের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরুন। ক্যামেরুনের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৭৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তেরেসা মে।
💠ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে না চাওয়ার কারণঃ
➡ভিন্ন মুদ্রা ব্যবস্থাঃ ইইউয়ের সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য মুদ্রাব্যবস্থা ইউরো ব্রিটেনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই তারা স্রোতের বিপরীতে অর্থাৎ ইউরোর পরিবর্তে পাউন্ড-স্টার্লিং নিয়েআছে।
➡স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বঃ ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষ তাদের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক (মুদ্রা পাউন্ড-স্টার্লিং,জাতীয় পতাকা ও ওয়েস্টমিনস্টার পার্লামেন্টে প্রণীত আইন)-এর উপর অন্য কারও হস্তক্ষেপ চান না।
➡জাতীয় ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যঃ ইইউয়ের আইনকানুন সব ক্ষেত্রে ব্রিটেনের সঙ্গে সমগামী নয়। তা ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে অতিমাত্রায় সম্পৃক্ততার কারণে ব্রিটেন তার জাতীয় ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য হারাতে চায় না।
➡নাগরিক স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধাঃ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধাকেই বড় করে দেখে। তারা চায় না ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা কোনোভাবে বিঘ্নিত হোক ।
➡শুধুমাত্র ব্যবসাঃ ব্রিটিশরা ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে চায়। তবে এর বেশি কিছু নয়।
💠ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চাওয়ার কারণঃ
➡রাজনৈতিক দলের দ্বিমতঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার ব্যাপারে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা-নেত্রী ও সদস্যরা মোটামুটি একমত এবং না থাকার বিষয়ে রক্ষণশীল দলের নেতা-নেত্রী ও সদস্যরা বিভক্ত ছিলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার ব্যাপারে লন্ডন মহানগরীর নাগরিকরা মোটামুটি সংখ্যাগরিষ্ঠ বলা চলে।
➡ইউরোপ বাদ দিয়ে ব্রিটেন নয়ঃ ইউরোপকে বাদ দিয়ে ব্রিটেন নয়। এমনকি যে স্কটল্যান্ড গত বছর ব্রিটেন ত্যাগ করে গণভোটের মাধ্যমে স্বাধীন হতে চেয়েছিল, তারাও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে ছিলোনা।
➡অর্থনৈতিক স্বার্থঃ অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছিলো।
💠ব্রেক্সিট-ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিদায় যুক্তরাজ্যেরঃ
৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ মধ্যরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিদায় জানালো যুক্তরাজ্য।
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল আগেই। তবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ ছিল যুক্তরাজ্য। ব্রাসেলসের সময়ে ৩১ তারিখ মধ্যরাতে ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হলো বরিস জনসনের দেশ।
এরপর থেকে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপের যে কোনো দেশে যেতে গেলে ভিসার প্রয়োজন। ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে গেলে একটি নির্দিষ্ট সময় ভিসা ছাড়া থাকা যাবে। তার বেশি সময় থাকতে হলে ভিসা নিতে হবে।
তথ্যসুত্রঃ
রয়টার্স, এপি
BBC news
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মুলনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি বই৷