09/02/2022
মুসলিমদের পোশাকের ৬টি মূলনীতি :
পোশাক ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্য ও লজ্জাশীলতার প্রতীক।মানুষ পোশাক পরিধানের তাগিদ অনুভব করেছিল সেই আদিমকালেই। আদিম থেকে আধুনিক—সব যুগেই আছে পোশাকের কদর। হোক না তা গাছের পাতা কিংবা সুতায় বোনা কাপড়। লাজুকতায় বশীভূত হয়ে লজ্জাস্থান ঢাকার প্রবণতা প্রাকৃতিক। মানুষ বিবস্ত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু নগ্নতার চাদর ছুড়ে ফেলে খুব শিগগিরই সে নিজেকে পোশাকের আবরণে আচ্ছাদিত করে।
ইসলাম মানুষের পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলাম মানবজীবনের প্রত্যেকটা ধাপে বিধিবিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে। পোশাকের ব্যাপারেও ইসলাম দিয়েছে সুস্পষ্ট কিছু নীতিমালা। মুসলিমদের পোশাকের ব্যাপারে এরকম ৬টি মূলনীতি নির্ধারিত হয়েছে। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক :
১. পুরুষেরা রেশমী কাপড় পড়বে না
পুরুষের জন্য রেশমী পোশাক পড়া হারাম।রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,’দুনিয়াতে যে ব্যক্তি রেশমী কাপড় পড়ে তার জন্য আখিরাতে কোনো অংশ নেই।’(সহিহ বুখারি, হাদিস-৬০৫৫)
২. পোশাক সতর ঢাকার জন্য যথেষ্ট হতে হবে
পোশাকের মূল উদ্দেশ্যই সতর ঢাকা। পোশাক প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছি পোশাক, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য দান করে। ’ (সুরা: আরাফ, আয়াত: ২)
৩. পুরুষরা মহিলাদের এবং মহিলারা পুরুষদের পোশাক পড়বে না
পুরুষের জন্য নারীর পোশাক পড়া এবং নারীর জন্য পুরুষের পোশাক পড়া হারাম।রাসূল সাঃ বলেছেন,‘যেসব নারী পুরুষের মতো পোশাক পরে অথবা যেসব পুরুষ নারীদের মতো পোশাক পরে, তাদের ওপর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের লা’নাত, অভিশাপ।’(তিরমিযি)
৪. পোশাকের মাধ্যমে অহংকার প্রদর্শন করা যাবে না
এক হাদিসে নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারবশত মাটিতে কাপড় টেনে টেনে চলে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না (রাগান্বিত থাকবেন)। (বুখারি, হাদিস: ৫৭৯১)
৫. পুরুষরা টাখনুর নিচে পোশাক পড়বে না
পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পড়া হারাম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— পোশাক টাখনুর নিচে যতটুকু যাবে ততটুকু জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে। (বুখারি: ৫৪৫০)
৬. কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের উদ্দেশ্যে পোশাক পরিধান করা যাবে না
পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে কাফির-মুশরিকদের অনুসরণ করা হারাম। আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন-’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পরিধানে হলুদ রঙের দুটি বস্ত্র দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের বস্ত্র। অতএব তুমি এসব পরবে না।’ (মুসলিম: ২০৭৭)