DeshPriyo Collection

DeshPriyo Collection ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার

05/10/2017

জামদানি পছন্দ নয়, এমন নারী খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা, সন্দেহ! যে কোনও উৎসব-পার্বণের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায় ঐতিহ্যের জামদানি শাড়ি। এমন বাস্তবতায়ও নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পাড়ের জামদানি পল্লী বিপন্ন হতে বসেছে। পুঁজির অভাবে পেশা ছাড়ছেন তাঁতিরা। তাঁতিরা বলছেন, কম দামে ভারতীয় শাড়ি পাওয়া যায়। সে...

ঐতিহ্যের জামদানি
05/08/2017

ঐতিহ্যের জামদানি

আমি টাঙ্গাইল শাড়িশিল্পীমোহাম্মদ হুমায়ুন মিয়া তাঁতশিল্পী, টাঙ্গাইলটাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি এলাকার একটি গ্রাম দেলদুয়ার উপজেলার...
24/12/2016

আমি টাঙ্গাইল শাড়িশিল্পী
মোহাম্মদ হুমায়ুন মিয়া তাঁতশিল্পী, টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি এলাকার একটি গ্রাম দেলদুয়ার উপজেলার বিষ্ণুপুরে আমার জন্ম। শিশু বয়স থেকেই প্রতিদিন ভোরে আমাদের ঘুম ভাঙলেই শুনতাম ‘ঘটর ঘটর ঘট, ঘটর ঘটর ঘট’—তাঁত বুনানোর হ্যান্ডলুম মেশিনের ছন্দময় এই শব্দ। সারাদিনই চলত এই শব্দ। আবার রাতে এই শব্দ শুনতে শুনতেই ঘুমিয়ে পড়তাম। পিতা ছিলেন দরিদ্র বর্গাচাষি। নিজের কোনো চাষের জমি না থাকায় অন্যের জমি চাষ করে যা রোজগার করতে পারতেন তাতে সংসারের অবস্থা ছিল চাল আনতে পান্তা ফুরোয়—এরকম।

ছোট সময় থেকে আমাদের নিজ গ্রামসহ আশপাশের পাথরাইল, চন্ডী, বাজিতপুর, মঙ্গলহোর গ্রামগুলোতে তাঁত বোনার কাজে সাধারণত হিন্দুদেরকেই জড়িত থাকতে দেখেছি। তাদের বোনা টাঙ্গাইল শাড়িই বঙ্গললনার অতি প্রিয় ভূষণ। তবে এই জেলারই কালিহাতী উজেলার বল্লা, রামপুর ও ছাতিহাটিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে মোটা তাঁতের শাড়ি তৈরি হয়—যার কারিগর মূলত মুসলমানরা।

টাঙ্গাইল তাঁতপল্লির গ্রামগুলোতে সাধারণত হিন্দু বসাক সম্প্রদায়ের লোকজন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বেশ ক’বছর যাবত্ তাঁতের শ্রমিক হিসেবে মুসলমানরা কাজ করছেন। কিছু কিছু লোক তাঁতযন্ত্রের মালিক হয়েও তাঁত ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দরিদ্র পিতার ঘরে আমাদের তিন ভাই ও এক বোনের কারোরই লেখাপড়ার সুযোগ ঘটেনি। তাই শৈশব ছিল বাঁধনহারা। ঘুরে বেড়াতাম এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। অনেক সময়ই আগ্রহ নিয়ে দেখতাম তাঁত বোনার কাজ। আর তাঁতের কাপড়ের ওপর শিল্পীদের নানারকম নকশা ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। তখন নিজের মনেও জাগতো এরকম শৈল্পিক কাজ করার ইচ্ছা।

সংসারের অভাব ঘুচানোর তাগিদেই একসময় বড়ভাই মুজিবর মিয়া তাঁতের শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার পথ ধরেই মেঝভাই আজাহার ও আমি যুক্ত হই এ-কাজে। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই আমরা তিন ভাই-ই দক্ষ কারিগর হয়ে উঠি। শৈশবে তাঁতশিল্পীদের শৈল্পিক কাজ দেখে নিজেরও তাঁতের শিল্পী হওয়ার যে ইচ্ছা জেগে উঠত তা পূর্ণ হওয়ার সুযোগ আসে। মনের কল্পনাকে ফুটিয়ে তুলতে শুরু করি নিজেদের বোনা শাড়ির ওপর। ইতিমধ্যে তিন ভাই-ই নিজেদের তাঁত বসানোর ব্যবস্থা করি। হয়ে উঠি তাঁতের সফল কারিগর ও ব্যবসায়ী।

তাঁতশ্রমিক হিসেবে যখন কাজ শুরু করি তখন ছিলাম আমি ১০/১১ বছরের কিশোর। এখন আমার বয়স ৪৫ বছর। আমার নিজস্ব ছয়টি তাঁত রয়েছে। একটিতে তাঁত বুনি আমি নিজে আর বাকি পাঁচটিতে পাঁচ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আমার স্ত্রী চায়না বেগমও তাঁতের শাড়ি বোনার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন আমাকে। আমার দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে রায়হান মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে (কাগমারী, টাঙ্গাইল) প্রথম বর্ষের ছাত্র। আর মেয়ে সোমা স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের এবং সাফল্যের বিষয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নিজের বোনা দু’টি শাড়ি পরেছেন। এর একটি শাড়ি বুনতে আমার সময় লেগেছিল কয়েক মাস। ৭০ হাজার টাকা দামের শাড়িটি কিনে নেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন। তিনি শাড়িটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিলে তিনি শাড়ির শিল্পী হিসেবে আমাকে দেখতে চান এবং তাঁর সাক্ষাত্ পাওয়ার দুর্লভ সুযোগ ঘটে আমার জীবনে। গত ২২ জুন বুধবার এমপি মহোদয় আমাকে নিয়ে যান গণভবনে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সাক্ষাত্ হয়। সেসময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আমার বোনা আরেকটি শাড়ির মূল্যবাবদ এক লাখ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী। আর উপহার হিসেবে আমার হাতে তুলে দেন এক লাখ টাকার একটি চেক।

টাঙ্গাইলের এই তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক শিল্পীর মতোই আমারও কোনো প্রশিক্ষণ নেই। বাকিরা যেমন বংশ পরম্পরায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে শিল্পী হয়ে উঠেছেন, আমিও তেমনি তাদের কাজ দেখে আর তার সাথে আমার কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শৈল্পিক কারুকার্য ফুটিয়ে তুলি শাড়ির জমিনে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পেলে আমিসহ অনেক তাঁতশিল্পীই আরো ভালো কাজ করতে পারতেন। কিন্তু কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাই নেই আমাদের জন্য। এক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে শাড়ির কারুকার্যের মান বাড়বে নিঃসন্দেহে। শুধু দেশেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই যে-শাড়ির খ্যাতি রয়েছে সেই ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’র শিল্পীরা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই পাননি। বংশ পরম্পরায় দেখে দেখে শিল্পী হয়েছেন সবাই। আমি তো শিল্পী হয়েছি শুধুই দেখে আর নিজের কল্পনা ও আগ্রহের ওপর ভর করে।

শাড়ির বাজারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। মূলত প্রতিষ্ঠিত তাঁত ব্যবসায়ী রঘুনাথ বসাক (যার তাঁত শাড়ির ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল বাজার রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) আমার ক্রেতা। তাঁর উত্সাহ-উদ্দীপনায় কৈশোরে আমি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। আর আমার এ-পর্যায়ে আসার পেছনে তাঁর অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার নিজের করা ডিজাইনে এবং কখনো কখনো রঘুনাথ বাবুর দেয়া ডিজাইনে আমি শাড়ি বুনে থাকি। এছাড়াও দু-চার জনের অর্ডারেও আমার শাড়ি বুনানো এবং সরবরাহ করার সুযোগ হয়। কারিগররা সরাসরি বাজারজাত করার সুযোগ পান না। তারা এ-সুযোগ পেলে দাম বেশি পেতেন। এ ব্যাপারে সরকারে উদ্যোগ ও পরিকল্পনা দরকার।

জেনেছি, এই টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য প্রায় আড়াই শ’ বছরের। জানা যায়, এই উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনের সময় ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে মসলিন শাড়ির কিছু শিল্পী টাঙ্গাইলে এসে বাসতি স্থাপন করেন। তাঁদের মাধ্যমেই কুটিরশিল্প হিসেবে সমৃদ্ধ তাঁতশিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। সে-সময় টাঙ্গাইলে নাকি মসলিন শাড়িও তৈরি হতো। টাঙ্গাইল শাড়ির বড় বৈশিষ্ট্য হলো—অতি মিহি সুতায় নিপুণভাবে বোনা এই শাড়ি। তাঁতে এই শাড়ি বোনার সময়ই মাড় দেওয়ার কৌশলটিও ভিন্ন এবং বোনার পর তা বাজারজাত করার জন্য ইস্ত্রির প্রয়োজন হয় না। তাঁতে এই শাড়ি বোনার পর শিল্পীরা নিপুণ হাতে এতে নানারকম ফুল বা নকশা কাটেন। আর এই নকশাকাটা শাড়ির নামই জামদানি।

জামদানি শাড়ির আদি এলাকা টাঙ্গাইল নয়। আদি এলাকা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। প্রায় তিন দশক আগে টাঙ্গাইলের মিহি তাঁতের শাড়িতে ফুল তোলার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের জামদানি শাড়ির যাত্রা শুরু হয় এবং এই শাড়ির ঐতিহ্য এখন টাঙ্গাইল দখল করে নিয়েছে। এখানকার জামদানি শাড়ির রঙের বাহার অনেক। এই শাড়ি শুধু সুতিই হয় না—এখন সিল্ক এবং সিনথেটিক সুতাতেও এই শাড়ি বোনা হয়ে থাকে।

টাঙ্গাইলে নানা দামের শাড়ি প্রস্তুত হয়। কমন টাঙ্গাইল শাড়ির মূল্য সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে দেড়-দুই হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। সিল্ক জামদানির মূল্য মাত্র ৭০০ টাকা থেকে সাধারণত সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ৭০/৮০ হাজার টাকা মূল্যের সিল্ক ও সুতি জামদানিও টাঙ্গাইলে প্রস্তুত হয়। এছাড়াও তসর (রেশম সুতা) জামদানি ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা, হাফসিল্ক জামদানি ৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা, ফুলসিল্ক জামদানি, সফটসিল্ক জামদানি ও ফোরপ্লাই জামদানি চার হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়ে থাকে। আমি সাধারণত ১০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি বানিয়ে থাকি।

তাঁতসমৃদ্ধ টাঙ্গাইল জেলায় হস্তচালিত তাঁতসহ বিভিন্ন শ্রেণির তাঁত রয়েছে। এগুলো হলো—পিটলুম তাঁত, চিত্তরঞ্জন তাঁত ও পাওয়ারলুম তাঁত। মূলত হস্তচালিত তাঁতে বোনা টাঙ্গাইল শাড়িই প্রধান। কিন্তু আধুনিককালে পাওয়ারলুম এসে যাওয়ায় হস্তচালিত তাঁতের শাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যেখানে হস্তচালিত তাঁতে দিনে একটি শাড়ি বোনা সম্ভব হয় সেখানে বিদ্যুত্চালিত পাওয়ারলুম তাঁতে দিনে দু’টি শাড়ি বোনা যায়। বেশি মিহি সুতায় উন্নতমানের শাড়ি বুনতে হস্তচালিত তাঁতে কখনো কখনো তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ-কারণে হস্তচালিত তাঁতের শাড়ির দাম বেশি পড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শাড়ির বাজার হারানোর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তাঁতে শাড়ি বোনার পর সাধারণত মহিলা শিল্পীরা শাড়ির জমিনে নানা রঙের সুতা দিয়ে বাহারি নকশা ফুটিয়ে তোলেন। এই শাড়িই হয় মূলত জামদানি শাড়ি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শাড়িতেই মহিলাদের এই হাতের কাজ করতে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। বিভিন্ন রঙের সুতা ব্যবহারের মাধ্যমে বুননশৈলীর মধ্যেই রয়েছে শাড়ির ঐশ্বর্য ও সৌন্দর্য। আর এ-কারণেই শাড়ির দামেরও ভিন্নতা ঘটে।

একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, আমাদের ছোট সময়ে আমরা দেখেছি আমাদের দেশের নারীরা শাড়ি ছাড়া আর কিছু পরতেন না। বাড়িতেই হোক আর অনুষ্ঠানাদিতেই হোক শাড়িই ছিল তাদের প্রধান এবং একমাত্র ভূষণ। এখন কিশোরী তরুণী থেকে গৃহবধূ অনেকেই সালোয়ার-কামিজ পরতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। অনেককে শুধু বিশেষ বিশেষ দিনে পার্বণে-অনুষ্ঠানে শাড়ি পরতে দেখা যায়। এ অবস্থায় মহিলাদের আটপৌরে শাড়ির চাহিদা অনেক কমে গেছে। এ-কারণে টাঙ্গাইলে তাঁতে এখন থ্রি-পিস বোনাও শুরু হয়ে গেছে।

আমি এবং আমার মতো তাঁতশিল্পীদের যা আয়-রোজগার হয় তাতে প্রাচুর্য না থাকলেও সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য আছে। আমার তাঁতগুলোতে যে-কয়জন কারিগর কাজ করেন তাদের আমি সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দু হাজার টাকা করে মজুরি দিয়ে থাকি। সাধারণত অন্যের তাঁতে কাজ করা একজন কারিগরের আয়-রোজগার এরকমই। আমি তাঁত বাড়ানোর চিন্তা করলেও শুধুমাত্র দক্ষ কারিগরের অভাবে তা পারছি না। এক্ষেত্রে দক্ষ কারিগরের অভাব আসলেই প্রকট। আবার বাজারে যে দামে শাড়ি বিক্রি হয় কারিগররা অনেক ক্ষেত্রেই সে হিসেবে প্রকৃত মজুরি পান না। এ-কারণে বেশি আয়-রোজগারের আশায় অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন কেউ কেউ।

ক্ষুদ্র তাঁতশিল্পীদের উত্পাদিত পণ্য সরাসরি বাজারজাত করার ব্যবস্থাকরণে সরকার উদ্যোগী হলে তারা বেশি লাভবান হবেন এবং পেশার প্রতি আরো নিবেদিত থাকবেন। একই সঙ্গে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাও জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমি যে সহানুভূতি পেয়েছি তাতে এ-কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, টাঙ্গাইল শাড়ি যেমন তাঁর প্রিয় তেমনি শাড়িশিল্পীদের প্রতিও রয়েছে তাঁর সহমর্মিতা। আমার প্রত্যাশা, টাঙ্গাইলের শাড়িশিল্পের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তাঁর সরকার শিল্পীদের নানা প্রশিক্ষণের আয়োজনসহ ক্ষুদ্র কারিগরদের পণ্য বাজারজাতকরণে পরিকল্পনা নেবেন। একইসঙ্গে সহজ শর্তে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।

অভাবের কারণে লেখাপড়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু অন্যের উত্সাহ ও নিজের আগ্রহে বিশেষ করে বড়ভাইয়ের তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগে আমি এখন ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ির শিল্পী। আমি শাড়িশিল্পী—এ আমার অহংকার। এ-সুবাদে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্ পেয়েছি—যা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি, এ আমার জন্য সম্মানের ও আনন্দের।



অনুলিখন :খান মোহাম্মদ খালেদ

জামদানি বাংলাদেশেরই থাকলজামদানি শাড়িতে নিখুঁতভাবে নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগরেরা। ছবিটি সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের গঙ্গাপুর গ্র...
15/11/2016

জামদানি বাংলাদেশেরই থাকল

জামদানি শাড়িতে নিখুঁতভাবে নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগরেরা। ছবিটি সম্প্রতি সোনারগাঁয়ের গঙ্গাপুর গ্রামের জামদানিপল্লি থেকে তোলা l সাবিনা ইয়াসমিনবাংলাদেশের জামদানি বাংলাদেশেরই থাকল। জামদানি নামক বস্ত্রের আদিভূমি যে এই দেশ, পাওয়া গেল তার পাকাপাকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ওয়াইপিও) নিয়ম মেনে জামদানিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন—জিআই) পণ্য হিসেবে ঘোষণার ধাপগুলো শেষ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনকে (বিসিক) এই জিআই স্বত্ব দেওয়া হয়েছে।fb.com/DeshPriyo.BD

বিসিকের পক্ষে জামদানির জিআই স্বত্ব দেওয়ার সার্টিফিকেট তৈরির জন্য ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বিজি প্রেসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জামদানির জিআই পাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ওয়াইপিওর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো সংস্থা বা গোষ্ঠীকে জিআই দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সংস্থা পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরকে।fb.com/DeshPriyo.BD

কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়া ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা এবং সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে সেই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সেই পণ্য শুধু ওই এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও উৎপাদন করা সম্ভব নয়। যেমন হিমালয় পর্বতমালার চূড়ায় যে তুলা উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে যে শাল হয়, তা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি দিয়েও উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই সেটা ওই এলাকার জিআই পণ্য। আমাদের জামদানিকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে।fb.com/DeshPriyo.BD

তবে বাংলাদেশ শুধু জামদানি শাড়ির জিআই পায়নি, পেয়েছে জামদানিশিল্পের সুনির্দিষ্ট নকশা যেসব পণ্যের ওপর করা হয়, তার সব কটির স্বত্ব। যেমন জামদানির কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, রুমাল, পর্দা, কুর্তা, পাগড়ি থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর সরঞ্জাম।fb.com/DeshPriyo.BD

জিআই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক ও গৃহসামগ্রীর বিশ্ববাজারে জামদানির নকশা অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশের ঐতিহ্য প্রচার করতে পারবে। পাশাপাশি এসব পণ্যে বাড়তি দামও পেতে পারে। ভারত, চীন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলো তাদের দূতাবাস ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নিজেদের জিআই পণ্যকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববাজারে বিক্রি করছে।fb.com/DeshPriyo.BD

যেভাবে জিআই নিবন্ধ

ওয়াইপিও থেকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সংস্থা পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরকে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী কোনো পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশকের (জিআই) জন্য নিবন্ধন নিতে হয়।fb.com/DeshPriyo.BD

জিআই নিবন্ধন পেতে হলে ওই পণ্য যে সংশ্লিষ্ট দেশের সীমানা বা ভূখণ্ডে উদ্ভব বা তৈরি হয়েছে, তার ঐতিহাসিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে হয়। জিআই নিবন্ধন দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ওই প্রমাণপত্রসহ একটি প্রবন্ধ তাদের নিজস্ব জার্নালে প্রকাশ করতে হয়। জার্নালে প্রকাশের দুই মাসের মাথায় অন্য কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে যদি ওই তথ্যের ব্যাপারে আপত্তি তোলা না হয় বা অন্য কোনো সংস্থা ওই পণ্যের নিবন্ধনের দাবি না তোলে, তাহলে যে দেশ প্রবন্ধ প্রকাশ করে জিআই নিবন্ধন চেয়েছে, তা সেই দেশের নামে পণ্যটি নিবন্ধিত হয়ে থাকে।fb.com/DeshPriyo.BD

গত ৫ আগস্ট জিআই নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশের জামদানির জন্ম, উৎপাদন, বিস্তার এবং বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর তাদের নিজস্ব জার্নালে ২৬ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে। ৫ অক্টোবর প্রবন্ধ প্রকাশের দুই মাস পেরিয়েছে। আশঙ্কা ছিল ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জামদানির জিআই নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে। তা হয়নি। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ থেকে এর আগে ‘উপাধ্যায় জামদানি’ নামের একটি শাড়ির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু ‘জামদানি’ নামে নিবন্ধন চেয়ে কেউ দাবি করেননি।fb.com/DeshPriyo.BD

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের নিবন্ধক সানোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে প্রথম আলোকেবলেন, ‘আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় সব নিয়ম অনুসরণ শেষে আমরা বিসিকের নামে জামদানির নিবন্ধন দিতে যাচ্ছি। আশা করি, আমরা চলতি মাসের শেষের দিকে বড় একটি জামদানি উৎসবের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।’fb.com/DeshPriyo.BD

তবে জামদানি যে বাংলাদেশের পণ্য, তা এর আগেও জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের ইনট্রানজিবল বা নিজস্ব ও অবিকৃত পণ্য হিসেবে ২০১৩ সালে জামদানিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেসকো। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা ডব্লিউটিওর নিয়ম অনুযায়ী জিআই মেধাস্বত্বের আলাদা স্বীকৃতি নিতে হয়।fb.com/DeshPriyo.BD

ওয়াইপিওর মাধ্যমে জিআই নিবন্ধন পাওয়ায় বাংলাদেশের নতুন কী অর্জিত হবে—এই প্রশ্ন করলে মেধাস্বত্ব গবেষক ও বেসরকারি সংস্থা ‘আমাদের গ্রাম’-এর পরিচালক রেজা সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই স্বীকৃতির প্রধান দাবিদার আমাদের দেশের জামদানি কারিগরেরা। তাঁদের শিল্পরুচি, মেধা ও সৌন্দর্যবোধ যে আন্তর্জাতিক মানের, তা এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো। দেশের জামদানি কারিগরেরা যাতে জিআই স্বত্বের সুবিধা পান, সে জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে জামদানি পণ্যের বিক্রি বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলোকে উদ্যোগ নিতে হবে।’fb.com/DeshPriyo.BD

জামদানি কেন আমাদের

জামদানির জিআই পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা নিবন্ধে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্র বইয়ে ঢাকাই মসলিন ও জামদানির কথা উল্লেখ করেছেন। ১৪ শতকের মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতার লেখায়ও ঢাকার অদূরে সোনারগাঁয়ে জামদানি তৈরির কথা লিপিবদ্ধ আছে। বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, ঢাকার ধামরাই, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায় এই বিশেষ ধরনের নকশাসমৃদ্ধ পণ্য ও পোশাকের জন্ম হয়। এই এলাকার মাটি, পানি ও মানুষের সৃজনশীল উদ্যোগের যোগফল হিসেবে সৃষ্টি এই পণ্য একসময় ইউরোপ, ইরান, আর্মেনিয়া, মোগল ও পাঠান ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যেতেন।fb.com/DeshPriyo.BD

২০১৪ সালে বিবেক বালরাজ নামের এক গবেষকের প্রকাশিত বই দ্য বেঙ্গলি হারলে, দ্য লস্ট হিস্ট্রি অব বাংলাদেশি আমেরিকান বইয়ে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের হাত ধরে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকায় মসলিন ও জামদানি পৌঁছেছিল বলে উল্লেখ আছে। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রথম ও আদি পুঁজি মসলিন ও জামদানি থেকে তৈরি হয় বলে বাংলাপিডিয়ারপ্রধান ও ইতিহাসবিদ সিরাজুল ইসলামের গবেষণায় দেখা গেছে।fb.com/DeshPriyo.BD

সরকারের প্রকাশ করা প্রবন্ধে অবশ্য বাংলাদেশে জামদানি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর তীরের কার্পাস তুলা থেকে তৈরি সূক্ষ্ম সুতা এবং ওই দুই নদীতীরের মানুষের সূক্ষ্ম শিল্পবোধের মিশ্রণ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।fb.com/DeshPriyo.BD

বিসিকের পক্ষ থেকে জামদানির জিআই চাওয়ার আগে এই পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এসজিআই থেকে জামদানি কাপড় পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা এর মান সম্পর্কে ইতিবাচক সার্টিফিকেট দিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ঐতিহাসিকের গবেষণার সূত্র উল্লেখ করে বাংলাদেশে জামদানির আদিভূমির পক্ষে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।fb.com/DeshPriyo.BD

আরও যেসব জিআই স্বীকৃতির অপেক্ষা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জামদানির পর বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত ফজলি, হিমসাগর ও লক্ষ্মণভোগ আমের জিআই দাবি করা। এ দুটি পণ্যের জিআই ইতিমধ্যে ভারতের হাতে চলে গেছে। এ ছাড়া জিআই ও মেধাস্বত্ব গবেষক নুরুল হুদা বাংলাদেশের সম্ভাব্য জিআই হতে পারে, এমন শতাধিক পণ্যের তালিকা তৈরি করেছেন।fb.com/DeshPriyo.BD

পেটেন্ট, ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের কাছে সুগন্ধি চাল কালিজিরা ও কাটারিভোগকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। ব্রি আরও ১৮টি দেশি ধানের জাত এবং বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর ইলিশ মাছের জিআই আবেদনের প্রস্তুতিও শেষ করে এনেছে। এগুলোর ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।fb.com/DeshPriyo.BD
সূত্র : ইফতেখার মাহমুদ, প্রথম আলো, অক্টোবর ২১, ২০১৬

জামদানির এক প্রস্থজামদানি শাড়ির ঐতিহ্য বহুদিনের। সময় অতিক্রম হলেও জামদানির কদর কমেনি আজও। বিভিন্ন উৎসবে এখনও বাঙালি নারী...
21/09/2016

জামদানির এক প্রস্থ

জামদানি শাড়ির ঐতিহ্য বহুদিনের। সময় অতিক্রম হলেও জামদানির কদর কমেনি আজও। বিভিন্ন উৎসবে এখনও বাঙালি নারীরা বেছে নেয় জামদানি শাড়ি।

জামদানি শাড়ির মূল আকর্ষণ হলো এর নকশা বা মোটিফ। জ্যামিতিক ডিজাইনের নকশা দেখলেই বোঝা যায় যে এটা জামদানি শাড়ির। এ নকশা সাধারণত কাগজে এঁকে নেওয়া হয় না। জামদানির শিল্পীরা নকশা আঁকেন সরাসরি তাঁতে বসানো সুতোয় শাড়ির বুননে বুননে। আবার কখনও কখনও তারা ফরমায়েশি কাজও করেন। তখন হয়তো তারা ডিজাইনারের নির্দেশনা মেনে শাড়ির রং নির্ধারণ করেন। কিন্তু নকশা তো সেই আদি প্যাটার্ন বজায় রেখেই হবে। তারা এমনি পারদর্শী যে মন থেকেই চিন্তা করে ভিন্ন ভিন্ন নকশা আঁকেন। fb.com/DeshPriyo.BD

প্রচলিত বেশ কিছু পাড়ের নকশার মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পাড় হচ্ছে করলা পাড়। এ ছাড়া ময়ূর প্যাঁচ, কলমিলতা, পুঁইলতা, কচুলতা, গোলাপচর, কাটিহার, কলকা পাড়, কাঠপাড়, আঙুরলতা ইত্যাদি। শাড়ির জমিনে গোলাপফুল, জুঁইফুল, পদ্মফুল, তেছরি, কলার ফানা, আদার ফানা, সাবুদানা, মালা ইত্যাদি নকশা বোনা হয়। এ নকশা তোলার পদ্ধতিটিও বেশ মজার। শিল্পীদের মুখস্থ করা কিছু বুলি রয়েছে। এসব বুলি ওস্তাদ শাগরেদকে বলতে থাকে আর শাগরেদ তা থেকেই বুঝতে পারে যে ওস্তাদ কোন নকশাটি তুলতে যাচ্ছেন। fb.com/DeshPriyo.BD

নিজস্ব বুলিতে এই ছড়া নকশা তৈরির ফর্মুলাবিশেষ। নকশার পুরো কাজটি হাতে করতে হয় বলে সময় বেশি লাগে। পুরো জমিনে নকশা করা একটি মোটামুটি মানের শাড়ি তৈরি করতে ন্যূনতম সময় লাগে চার সপ্তাহ বা এক মাস। তবে হাটে যেসব শাড়ি বিক্রি হয় তা এক সপ্তাহেই একটা করে ফেলা সম্ভব। সুতা বা রঙের জন্য দামে যে পার্থক্য হয়ে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি তারতম্য হয় কাজের পার্থক্যের জন্য।

জামদানি fb.com/DeshPriyo.BD

জামদানি শাড়ির দাম নির্ভর করে শাড়ির গাঁথুনি এবং সুতার কাউন্টের ওপর। যত বেশি কাউন্টের সুতা, শাড়ির দামও তত বেশি। সেই সঙ্গে নকশা তোলার সুতার কাউন্টও হতে হবে কম এবং নকশাও হতে হবে ছোট ছোট।

প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার শীতলক্ষ্যার পাড়ে ভোররাত থেকে জামদানির যে হাট বসে তাও কিন্তু দেখার মতো। লাল, নীল, হলুদ সবুজ, গোলাপি, আসমানি কোন রংটা নেই সে হাটে! জামদানি এমন একটি শিল্প, যেখানে যান্ত্রিক কর্মকাণ্ড একেবারেই বিকল। জামদানির পুঁজি হচ্ছে অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিল্পীর মেধা, মৌলিকতা, নিষ্ঠা, ধৈর্য, শ্রম। fb.com/DeshPriyo.BD

নারীর পছন্দের তালিকায় জামদানির স্থান প্রথম ধরা চলে। কেননা যেকোনও ধরনের আচার অনুষ্ঠানে নারীরা এই শাড়িটি পরতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। গরমের ঋতুতে জামদানি শাড়ি বেশ আরামদায়ক হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি বছর বিভিন্ন রঙ এবং নকশার বাহারি কাজে ভরপুর এই জামদানির কালেকশন নারীদের এর প্রতি আরও বেশি দুর্বল করে তোলে।

কোথায় পাবেন: বিভিন্ন কালেকশনের এই জামদানি শাড়িগুলো রুপগঞ্জের জামদানি পল্লীসহ রাজধানীর যেকোনও শাড়ির দোকানে পেতে পারেন। মিরপুরের বেনারসি পল্লীর কয়েকটি জামদানির দোকানেও পাওয়া যাবে। ইদানিং অনলাইনেও জামদানির হাট জমে উঠেছে। দরদাম: বিভিন্ন ধরনের নকশা করা জামদানিগুলোর দাম মোটামুটিভাবে ২৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কাজের উপরে দাম অনেকটা নির্ভর করে। যেমন বেশি কাজ হলে বেশি দাম, আর কম কাজ হলে কম দাম। fb.com/DeshPriyo.BD

জামদানি শাড়ির যত্ন: জামদানি শাড়ি ব্যবহারের পর ভাঁজ করে অনেক দিন রেখে দিলে তা ভাঁজে ভাঁজে ফেটে যেতে পারে। আবার হ্যাঙ্গারে করে ঝুলিয়ে রাখলেও শাড়ির মাঝখানে ফেটে যায়। তাই জামদানি শাঢ়ি হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বা ভাঁজ করে না রাখাই ভালো। এ ক্ষেত্রে থান কাপড় পেঁচিয়ে রাখার রোলগুলোয় জামদানি শাড়ি পেঁচিয়ে রেখে দিলে তা অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। আর নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে জামদানি ধোয়া যাবে না। জামদানি কাটা করাতে হয়। মোটামুটি সব লন্ড্রিতেই জামদানি কাটা করানো হয়। fb.com/DeshPriyo.BD

by সুরাইয়া নাজনীন
সূত্র:বাংলাট্রিবিউন

চলবে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  fb.com/DeshPriyo.BDজামদানির বুনন প্রদর্শনীহাসান ইমাম সরাসরি দেখানো হচ্ছে...
31/08/2016

চলবে ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত fb.com/DeshPriyo.BD
জামদানির বুনন প্রদর্শনী
হাসান ইমাম

সরাসরি দেখানো হচ্ছে জামদানির বুননটানা-পোড়েনে চলছে জামদানির বুনন! তবে এই ‘টানা-পোড়েন’ অভাব-অনটন অর্থে না। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের নিচতলায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির বুনন প্রদর্শনী চলছে। সেখানেই তাঁতশিল্পীরা দর্শকদের বোঝাচ্ছেন টানা আর পোড়েনের অর্থ। তাঁতে লম্বাভাবে সাজানো সুতাকে বলে টানা, আর পোড়েন হচ্ছে চওড়া দিকে সাজানো সুতা। তাঁতিদের ভাষায় যা টানা-পোড়েন। fb.com/DeshPriyo.BD
১৬ আগস্ট থেকে জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলবে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগের উপপরিচালক নীরু শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য মসলিনেরই একটি শাখা হচ্ছে জামদানি। দেশ-বিদেশের লোকজনের কাছে সেটাকে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছি। অনেকের জামদানি তৈরির কৌশল জানার আগ্রহ থাকে। এখানে এসে সেই কৌতূহল মেটানোর একটা সুযোগ থাকছে।’ fb.com/DeshPriyo.BD
প্রদর্শনীতে বসানো তাঁতে বোনা হচ্ছে জামদানি। সবুজ মিয়া ও এনামুল হক নামের দুজন কারিগর মিলে সেখানে জামদানি তৈরি করছেন। নারায়ণগঞ্জের জামদানি কারিগর এনামুল হক বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে জামদানি বুনছি। জামদানি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখে খুবই ভালো লাগে। একটি জামদানি শাড়ি তৈরি করতে যে পরিশ্রম, মেধা ও সময়ের দরকার হয় তাতেই এর দাম কিছুটা বেশি হয়ে যায়। আজকাল অনেক তাঁতি পেশা বদল করছে। তাদের ফিরিয়ে আনতে পারলে জামদানি তৈরি আরও বাড়ানো যাবে।’ fb.com/DeshPriyo.BD
প্রদর্শনী থেকে জামদানি শাড়ি ও থ্রিপিস কেনা যাবে। নকশার মধ্যে আছে আঙুরলতা পাড়, সন্দেশ ফুল, তেরছা নকশা, করলা পাড়, আদার ফানা, কলকা, মদন, তেরছা করাত, শাপলাসহ নানা কিছু। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্যই উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী।

31/08/2016

প্রধানমন্ত্রীর শাড়ি কূটনীতি fb.com/DeshPriyo.BD
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির স্ত্রী থেরেসা হেইঞ্জকে একটি জামদানি শাড়ি উপহার দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জন কেরির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জন কেরির স্ত্রীর জন্য একটি জামদানি শাড়ি উপহার দেওয়ার নির্দেশ দেন। fb.com/DeshPriyo.BD
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক দিনের সফরে সোমবার ঢাকা আসেন।
ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে বিকেলে বিমানবন্দরে তার একজন সহকারীর কাছে শাড়িটি পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান কর্মকর্তাটি।
এর আগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মমতা ব্যানার্জির ঢাকা সফরের সময় তার দলের নারী সদস্য এবং পুরুষ সদস্যদের স্ত্রীদের জন্য জামদানি শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।
জামদানি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের একটি অংশ এবং সরকার জামদানি শাড়িকে বিশ্ববাজারে সবসময় প্রচারের জন্য সচেষ্ট থাকে। fb.com/DeshPriyo.BD

27/08/2016

JAMDANI, a surviving variety of muslin, is part of Dhaka's heritage. fb.com/DeshPriyo.BD UNESCO agrees. In 2013, the traditional art of Jamdani weaving has was included on UNESCO Representative List of Intangible Cultural Heritage of Humanity. fb.com/DeshPriyo.BD

ঢাকাই জামদানি বুনতে চাই যাদুর আঙ্গুল ক্যারোলাইন ইডেন  fb.com/DeshPriyo.BDলক্ষ্যা নদীর তীরে ঢেউ টিনের কারখানা ঘরটা রোদে ত...
26/08/2016

ঢাকাই জামদানি বুনতে চাই যাদুর আঙ্গুল
ক্যারোলাইন ইডেন fb.com/DeshPriyo.BD

লক্ষ্যা নদীর তীরে ঢেউ টিনের কারখানা ঘরটা রোদে তেতে উঠেছে।
ভেতরে সিলিং থেকে ঝোলানো নগ্ন বাল্বের আলোতে কাজ করছে ছয়জন মানুষ। জোড়ায় জোড়ায় তারা বসে আছে হস্তচালিত তাঁতের সামনে।
পুরুষদের উদোম গা। মহিলাদের পরনে উজ্জ্বল রঙ্গের সালোয়ার-কামিজ।
তাদের ব্যস্ত হাত বুনে চলেছে জামদানি শাড়ি। বাংলাদেশের এই জামদানি শাড়ির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। মেয়েদের কাছে এর কদর এতটুকু কমেনি। এই শাড়ির দামও অনেক।
এই জামদানি শাড়ির কারখানাটি চালান আনোয়ার হোসেন। তাঁতে শাড়ি বুনতে ব্যস্ত কর্মীদের মাঝ দিয়ে তিনি আমাকে নিয়ে যান কাজ দেখাতে। fb.com/DeshPriyo.BD
এক তরুণীর ব্যস্ত হাত মসলিনের ওপর সোনালি সুতে দিয়ে বুনে চলেছে চমৎকার নকশা।
“জামদানি শাড়ির দাম বেশি, কারণ এর জন্যে দরকার হয় নিবেদিত প্রাণ কর্মী এবং বিশেষ দক্ষতা”, বললেন আনোয়ার হোসেন।
যারা সবচেয়ে দক্ষ তাঁতী, তারা কিন্তু নকশা দেখে শাড়ী বোনে না। নকশাটা তাদের মুখস্ত।
জামদানি শাড়ির খ্যাতি প্রথম শুনি ভারতের কেরালায়। মালাবারের উপকুলে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার হ্যারির কাছে। হ্যারি একসময় কাজ করতেন কোলকাতায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলার নানা মুখরোচক খাবার, আর ঢাকাই জামদানি শাড়ির সঙ্গে তার পরিচয় সেখানেই। এসবের জন্য এখনো স্মৃতিকাতর হ্যারি। fb.com/DeshPriyo.BD
“আমার স্ত্রী জামদানি শাড়ির জন্য পাগল। আমিও। এত হালকা এই শাড়ি, যেন হাওয়া দিয়ে বোনা। আমি টাকা জমিয়ে স্ত্রীর জন্য জামদানি শাড়ি কিনতাম।”
জামদানি শাড়ির যে নকশা, সেটা ছাপানো নয়, কিংবা এমব্রয়ডারি করা নয়। শাড়ির কাপড় তাঁতে রেখেই তার মধ্যে অল্প অল্প করে বহুদিন ধরে সেলাই করে ফুটিয়ে তোলা হয় এই নকশা। এ কারণেই এই শাড়ির এত দাম।
নদী থেকে আসা শরীর জুড়ানো বাতাসে আমার চারপাশে উড়ছে ফিরোজা, হলদে আর সাদা কাপড়। তার মধ্যে নীরবে কাজ করে চলেছে তাঁতীরা। এখানে কোন কারখানার শব্দ নেই। কোন মেশিন নেই। কেবল নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়া। fb.com/DeshPriyo.BD
ঢাকার শত শত পোশাক কারখানা, যেখানে তৈরি হচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সস্তার কাপড়, সেখান থেকে রূপসা আর ডেমরার এই জামদানি পল্লীর পরিবেশ যেন একেবারে ভিন্ন এক জগত।
একেকটি জামদানি শাড়ি তৈরিতে সময় লাগে তিন থেকে চার মাস। যে মহিলারা এখানে কাজ করেন, তারা নিজের কাজ নিয়ে গর্বিত। কিন্তু দক্ষ জামদানি তাঁতীর সংখ্যা কমছে। আনোয়ার হোসেন জানেন, তার কর্মীরা তার কাছে কতটা মূল্যবান। fb.com/DeshPriyo.BD
জামদানি শাড়ির রহস্যটা আসলে কি? একজন দক্ষ তাঁতীর গুনগুলো কি?
আনোয়ার হোসেনের উত্তর, “এটা রক্তের মধ্যে থাকতে হয়, তাদের তাঁতীর ঘরেই জন্ম নিতে হবে। থাকতে হবে শক্ত মেরুদন্ড। সেই সঙ্গে নিষ্ঠা।”
“আর সবচেয়ে জরুরী যেটা, তা হলো, তাদের থাকা চাই যাদুর আঙ্গুল, যে আঙ্গুলে তারা বুনবেন জামদানি শাড়ি। আর এই যাদুর আঙ্গুলই এখন সবচেয়ে দুর্লভ।” fb.com/DeshPriyo.BD

11/08/2016

জামদানি বাংলাদেশেরই পণ্য fb.com/DeshPriyo.BD

বাংলাদেশকে সেই কয়েক শতক আগেই বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে মসলিন। কালক্রমে এই মসলিনের টিকে যাওয়া একটি ধরন হচ্ছে জামদানি। ঐতিহ্যগতভাবেই জামদানি বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য। বিভিন্ন দেশে এখনো বাংলাদেশের জামদানির কয়েক শ বছরের পুরোনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে।
জামদানি যে শুধু বাংলাদেশেরই নিজস্ব পণ্য এ নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার ইকবাল। অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল দিকগুলো তুলে ধের তিনি বলেন, জামদানি তৈরি করতে যেসব কাঁচামাল, আবহাওয়া, বুননের দক্ষতা প্রয়োজন তা শুধু বাংলাদেশেই আছে। fb.com/DeshPriyo.BD
ইফতেখার ইকবাল বলেন, জামদানিকে মসৃণ করতে যে পানি দরকার তা বাংলাদেশের শীতলক্ষ্যা নদীতে রয়েছে। সে কারণে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী স্থানগুলোতেই জামদানি পল্লি গড়ে ওঠে। তিনি জানান, গবেষণা প্রণয়নের সময় তাঁরা ওসমান গণি নামের একজন জামদানি শাড়ি প্রস্তুতকারকের সাক্ষাৎকার নেন। তাঁকে ভারতের শাড়ি প্রস্তুতকারকেরা সে দেশে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই আবহাওয়া ও কাঁচামালে তিনি বাংলাদেশের মানের জামদানি তৈরি করতে পারেননি।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ দেশ থেকে ৪৮ লাখ ডলারের জামদানি শািড় রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ লাখ ডলারের জামদানি রপ্তানি হয়েছে শুধু ভারতেই। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে এক কোটি চার লাখ ডলারের জামদানি রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ভারতেই গেছে ৬১ লাখ ডলারের জামদানি। দেশের তিন হাজার পরিবারের ১৫ হাজার মানুষ জামদানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি সপ্তাহে দুই হাজার জামদানি শাড়ি দেশে প্রস্তুত হয়। fb.com/DeshPriyo.BD
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু ইউসুফ। ভারত জামদানির নিবন্ধন নেওয়ায় এ দেশের জামদানির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের জামদানির ওপর এখনো এর প্রভাব পড়েনি। বাইরে এ দেশের জামদানির চাহিদা প্রবল। এমনকি এ দেশ থেকে যত জামদানি রপ্তানি হয় তার অর্ধেকেরও বেশি যায় ভারতে। ভারতীয়দের কাছেও তাদেরটার চেয়ে বাংলাদেশের জামদানির চাহিদাই বেশি। fb.com/DeshPriyo.BD

Address

Segunbagicha
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DeshPriyo Collection posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to DeshPriyo Collection:

Share