22/06/2025
সূর্য তখনো পুরোপুরি অস্ত যায়নি, তার শেষ আলোটুকু বালিয়াড়ি আর সাগরের জলে মিশে এক অদ্ভুত মায়াবী আভা তৈরি করছিল। কিন্তু সেদিকে তাকানোর ফুসরত ছিল না রহমান সাহেবের। তার সব মনোযোগ ছিল হুইলচেয়ারে বসা তার ছোট ছেলে রায়ার দিকে। রায়ার চোখ দুটো ছিল বন্ধ, মুখটা হা করে খোলা, যেন সে সাগরের প্রতিটি ঢেউয়ের শব্দ আর নোনা বাতাস তার ফুসফুসে ভরে নিতে চাইছে।
রায়ার বয়স আট, কিন্তু সে কখনো হাঁটতে পারেনি, কখনো নিজের হাতে খেতে পারেনি। সেরিব্রাল পালসি তার ছোট শরীরটাকে অকেজো করে দিয়েছে। তবুও রায়ার চোখে ছিল অফুরন্ত স্বপ্ন, আর রহমান সাহেব সেই স্বপ্নের ডানা মেলে দিতে চেয়েছিলেন। আজ প্রথমবার তারা সমুদ্র দেখতে এসেছে, রায়ার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল সাগরের নোনা জলে পা ভেজাবে।
হুইলচেয়ার ঠেলে ঠেলে রহমান সাহেব রায়াকে নিয়ে জলের কাছাকাছি গেলেন। প্রথম ঢেউ যখন রায়ার পায়ে এসে লাগল, রায়ার শরীরটা কেঁপে উঠল। হয়তো শীতলতার কারণে, অথবা হয়তো জীবনের এক নতুন অনুভূতির স্পর্শে। রহমান সাহেব হাঁটু গেড়ে বসলেন, তার হাত রায়ার মাথার নিচে, যাতে কোনোভাবে তার কষ্ট না হয়। তিনি জানেন, এইটুকু আনন্দ রায়ার জীবনে কতটা মূল্যবান।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো হয়তো তাদের দেখছিল, হয়তো তাদের চোখে ছিল সহানুভূতি। কিন্তু রহমান সাহেব সেসব কিছু খেয়াল করেননি। তার চোখে শুধু ছিল রায়া, আর তার মুখে ফুটে ওঠা এক অলৌকিক শান্তি। রায়া যেন আজ প্রকৃতির কোলে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে, সব কষ্ট, সব যন্ত্রণা ভুলে। রহমান সাহেব মনে মনে বললেন, "যতদিন শ্বাস আছে, ততদিন আমি তোমার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করে যাব, "বাবা "।" সাগরের ঢেউগুলো যেন সেই অঙ্গীকারকে আরও জোরালো করে তুলছিল।