25/02/2026
**প্রতারনার শিকার একজন রোজাদার মার্চেন্টের কষ্টের কথা**
Arafat Arafat নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাসে আমার সাথে এমন একটি আচরণ করেছেন, যা আমাকে মানসিকভাবে খুব কষ্ট দিয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ব্যবসা করছি। সততা, বিশ্বাস এবং গ্রাহকের আস্থাই আমার ব্যবসার মূল ভিত্তি। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা সেই বিশ্বাসকে ভেঙে দেন খুব সহজেই।
ঘটনার শুরু হয় যখন তিনি আমার কাছে একটি ফুল সেট পাঞ্জাবি অর্ডার করেন। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আমি ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চেয়েছিলাম। কারণ আমরা যারা অনলাইনে ব্যবসা করি, তারা জানি—অনেক সময় পার্সেল পাঠানোর পর গ্রাহক রিসিভ করেন না। তখন কুরিয়ার চার্জ আমাদেরই বহন করতে হয়। তাই নিরাপত্তার জন্য অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ নেওয়া আমাদের জন্য জরুরি।
কিন্তু তিনি আমাকে বলেন, “ভাই, আমি একসাথে সব টাকা দিয়ে দিবো।” আমি প্রথমে রাজি হইনি। কারণ আগেও এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। তখন তিনি আবার বলেন, “ভাই, আমি অনেক ডেলিভারি চার্জ দিয়ে মারা খাইছি।” তার কথাগুলো শুনে আমার মনে হলো, হয়তো মানুষটি সত্যিই সমস্যায় পড়েছেন। রমজান মাস—রহমত, মাগফিরাত ও বরকতের মাস। মানুষের প্রতি একটু সহানুভূতি দেখানো উচিত ভেবে আমি আমার পেইজ থেকে তার অর্ডারটি কনফার্ম করি।
তিনি আমাকে কলও করেন। কথাবার্তায় খুব ভদ্র মনে হয়েছে। আল্লাহ্র কথা বলেছেন, ইনশাআল্লাহ পার্সেল নিবেন বলেছেন। একজন মানুষ যখন আল্লাহর নাম নিয়ে কথা বলেন, তখন তাকে সন্দেহ করতে মন চায় না। আমি ভেবেছি, আল্লাহর ভয়ে অন্তত তিনি কথা রাখবেন।
এরপর আমি কুরিয়ারের মাধ্যমে পার্সেল পাঠিয়ে দেই। প্রথম রোজার দিন বিকেলে রাইডার তাকে কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে জানানো হয়, তিনি নাকি নামাজে ছিলেন। আমি ভেবেছি, ঠিক আছে—রমজান মাস, নামাজ পড়তেই পারেন। এতে দোষের কিছু নেই।
আমি তাকে ভয়েস মেসেজ দেই—“ভাই, পার্সেলটা কালকে রিসিভ করবেন।” তিনি সেই ভয়েস মেসেজ দেখেছেন (সিন করেছেন), কিন্তু কোনো উত্তর দেননি। তবুও আমি ধৈর্য ধরেছি। পরদিন সকালে তাকে আবার মেসেজ দিতে গিয়ে দেখি—তিনি আমাকে ব্লক করে দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো—কে মারা খেলো? তিনি বলেছিলেন, “ভাই, আমি ডেলিভারি চার্জ দিয়ে মারা খাইছি।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো আমিই মারা খেলাম। পার্সেল গিয়েছে, কুরিয়ার চার্জ গেছে, সময় গেছে, শ্রম গেছে—আর সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বাস গেছে।
রমজান মাসে একজন মানুষ যদি অন্য একজনকে এইভাবে ঠকায়, তাহলে সেটা কতটা ঠিক? একজন রোজাদার মানুষ হিসেবে আমি এই কষ্ট নিয়ে বসে আছি। আমি রোজা রেখে ব্যবসা করি, কষ্ট করে পণ্য তৈরি করি, গ্রাহকের জন্য সময় দিই। অথচ একজন মানুষ ইনবক্সে আল্লাহর কথা বলে, ইনশাআল্লাহ বলে, কথা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই কথা রাখলেন না।
আমি বিশ্বাস করি—যে মানুষ কথা দিয়ে কথা রাখে না, সে নিজের কাছেই ছোট হয়ে যায়। বাবা-মায়ের শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ—সবকিছুর প্রতিফলন একজন মানুষের আচরণে দেখা যায়। কেউ যদি আল্লাহর নাম নিয়ে প্রতারণা করে, তাহলে সে শুধু একজন মানুষকে নয়, নিজের বিবেককেও ধোঁকা দেয়।
আমি তাকে কোনো খারাপ কিছু চাই না। তবে আমি একজন রোজাদার মানুষ হিসেবে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। রোজাদারের দোয়া বরখেলাপ হয় না—এ বিশ্বাস আমার আছে। কেউ যদি অন্যায় করে, তার ফল একদিন না একদিন পেতেই হবে। হয়তো আজ না, কাল না—কিন্তু আল্লাহ ন্যায়বিচার করেন।
আরাফাত ভাই, যদি কোনোদিন এই মেসেজ আপনার কাছে পৌঁছে—তাহলে মনে রাখবেন, একজন ছোট ব্যবসায়ীর চোখের পানি ফেলেছেন আপনি। একজন মানুষকে ধোঁকা দিয়ে হয়তো কিছু টাকা বাঁচানো যায়, কিন্তু বিশ্বাস হারালে সেই ক্ষতি আর পূরণ হয় না।
আমি অন্য মার্চেন্ট ভাইদেরও বলছি—আপনারা সাবধান থাকবেন। অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ ছাড়া পার্সেল পাঠাবেন না। যতই কেউ অনুরোধ করুক, যতই আল্লাহর কথা বলুক—ব্যবসায় নিয়ম মেনে চলাই নিরাপদ। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমার কাছে তার ইনবক্সের সব কথোপকথন আছে। কিভাবে সুন্দরভাবে অর্ডার করেছেন, কিভাবে আশ্বাস দিয়েছেন—সব প্রমাণ আছে।
যদি কোনো ভাই বিস্তারিত জানতে চান, আমাকে WhatsApp-এ মেসেজ দিতে পারেন: 019201924-287173মি সব দেখাতে প্রস্তুত। আমার উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়—বরং অন্যদের সতর্ক করা।
রমজান মাস আমাদের শিক্ষা দেয় ধৈর্য, সততা ও আত্মশুদ্ধির। আমরা সবাই ভুল করি, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া বা ঠকানো কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি আজ কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা রাখছি। হয়তো এই ক্ষতির বদলে আল্লাহ আরও ভালো কিছু দেবেন।
সবাইকে বলবো—ব্যবসায় বিশ্বাস রাখুন, কিন্তু সতর্ক থাকুন। আর যারা প্রতারণা করেন, তারা একবার অন্তত ভাবুন—আপনার এই কাজের কারণে একজন মানুষের চোখে পানি চলে আসে। সেই চোখের পানির হিসাব একদিন আপনাকেই দিতে হবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন এবং সৎ পথে চলার তৌফিক দিন। আমিন।