16/05/2020
ইসলামি ফাউন্ডেশনের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে এ বছরের জনপ্রতি ফিতরার হিসাব –
1. পনির ৬৬৭ টাকা করে = ২২০০ টাকা
2. খেজুর ৫০০ টাকা করে = ১৬৫০ টাকা
3. কিসমিস ৪৫৪ টাকা করে = ১৫০০ টাকা
4. যব ৮২ টাকা করে = ২৭০ টাকা
5. গম ও আটা ৪২ টাকা করে = ৭০ টাকা
এটাকে আমরা প্রতিবছর পত্রিকার খবর হিসেবে না দেখে এ বছর অন্যভাবে দেখি চলুন।
এক- আপনি নিম্ন মধ্যবিত্ত, চালের দাম ৫০ টাকা কেজি পার হয়ে গেছে দেখে আপনি দুই বেলা রুটি বা ময়দা-গোলা খাচ্ছেন। আপনি ফিতরা দেবেন পরিবারে সকল সদস্যের মাথাপিছু ৭০ টাকা করে।
দুই- আপনি মধ্যবিত্ত। আপনার বাচ্চাকে হরলিক্স খাওয়ান নয়ত সরোবরের তালবিনা। দুটোই মূলত যব থেকে তৈরি হয়। আপনার জন্য সদস্য প্রতি ফিতরা ২৭০ টাকা।
তিন- পায়েস আপনার ভারি পছন্দ। ঘন ক্ষীরে ভেসে থাকা কিশমিশ। অথবা পুডিং খান আপনি প্রায়ই। দোকান থেকে ৫০০ টাকা কেজি মিষ্টি কিনতে আপনার সমস্যা হয় না, আল্লাহ আপনাকে সেই সামর্থ্য দিয়েছেন। কত ফিতরা দেবেন - ১৫০০ টাকা
মাথা পিছু দিন - গরীবরাও ঈদের দিন ভালো-মন্দ খাক।
চার- ইফতার করছেন মারিয়াম বা মাবরুম খেজুর দিয়ে। সাহরিতে মাঝে মাঝে ভারি খাবার খেতে ইচ্ছে না করলে খেজুর খান। মাঝে মাঝেই আজওয়া খেজুরও কেনেন। আপনি মাথাপিছু ১৬৫০ টাকা দিয়েন।
5- পিৎজা - আপনার খুব পছন্দের খাবার। অথবা আপনি কিটো ডায়েট করছেন - ভাত-রুটি-শর্করা খান না। প্রোটিন আর ফ্যাট। পনির - চীজ আপনার ভালো লাগে। বাটার - ঘি কেনেন আপনি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন আপনার। মাথাপিছু ২২০০ টাকা দিলেও আপনাকে দিতে হবে ১১ হাজার টাকা।মাত্র। !!!!
আপনার আয়ের তুলনায় এটা মাত্রই।
আল্লাহ আপনাকে প্রিমিয়াম আয় প্যাকেজে রেখেছেন - কেন আপনি আল্লাহর বান্দাদের দেওয়ার সময় নীচু প্যাকেজ খুঁজবেন?
আমরা যেটাকে ফিতরা বলি তার ভালো নাম যাকাতুল ফিতর। এটা দিতে হয় রমাদানের শেষে। মূলত এটা রোযার কাফফারা - সিয়াম থেকে আমরা যে ভুলগুলো করি, এই দান সেটাকে মিটিয়ে দেবে, আমাদের সিয়ামগুলোকে সুরক্ষা দেবে।
এর একটা সামাজিক প্রেক্ষাপটও আছে। ঈদের দিন যেন কেউ অভুক্ত না থাকে, যার সামর্থ্য আছে তার উপর যেহেতু যাকাতুল ফিতর দেওয়া ওয়াজিব তাই এর মাধ্যমে প্রচুর খাবার হাত বদল হবে এবং প্রায় সবার ঘরেই কিছু না কিছু খাবার থাকবে।
ফলে ঈদটা আসলেই উৎসবের মতো হবে।
[ সংগৃহীত।