20/08/2017
"কিছু কিছু ওষুধ ও খাবার কিডনির ক্ষতি করতে পারে"
অনেক রকম ওষুধ থেকে সমস্যা হতে পারে। প্রথমে বলি, ব্যথাজনিত ওষুধের কথা। এই ওষুধগুলো কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। এটিই প্রথম কারণ। ওষুধ কিন্তু লিভারে মেটাবলিজম হবে এবং কিডনি দিয়ে বের হয়ে যাবে। যদি রেনাল ফেইলিউর থাকে, তাহলে ওষুধের মাত্রার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। দুভাবে করা যায়। একটি হলো ওষুধের পরিমাণটা কমিয়ে দেওয়া যায় অথবা নির্দিষ্ট করা যায়। যদি একটি ওষুধ আট ঘণ্টা করে হয়, সেটি আমরা ১২ ঘণ্টা করতে পারি অথবা ওষুধের যে পরিমাণ, সেটিও কমিয়ে দিতে পারি। এখন ওষুধ তো অনেক রয়েছে। ধরেন, ব্যথার ওষুধ, ক্যানসারের ওষুধ, ক্যামোর ওষুধ—প্রেশারের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রকম ওষুধ। এই প্রতিটি ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের কিন্তু একটু সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে। আমি বলব না, সবারই কিডনি বিশেষজ্ঞ হতে হবে। তবে সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে।
নন-স্টেরয়েড ইনফ্লেরেটোরি ওষুধগুলো অনেক সময় কিডনির পারফিউশন (রক্ত সঞ্চালন) কমিয়ে দেয়। অর্থাৎ একজন ব্লাড প্রেশারের রোগী বা একজন কিডনির রোগীকে এসব ওষুধ দিলে পারফিউশনটা কমে যায়। আর পারফিউশন কমে গেলে ফিল্টার কম হবে। এটি হলে রক্তের ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাটা বেড়ে যায়। সেটি দেখে আমরা বুঝতে পারি যে এর কিডনির সমস্যা হচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে, একজন রোগী অনেক দিন ওষুধ খাচ্ছে, তার হচ্ছে না, তবে একজন রোগী দু-তিনটি ওষুধ খাচ্ছে, তার হয়ে যাচ্ছে। এই আলাদা বিষয়, সেটি আমরা বলতে পারি না। অনেক সময় কিছু অ্যান্টিবায়োটিক থেকেও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে যখন-তখন ও দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাওয়া কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন মনে জাগে ব্যথার ওষুধ যত্রতত্র খাচ্ছি। আর ব্যথা না কমা পর্যন্ত দিনের পর দিন খেয়েই যাচ্ছি। এগুলোর প্রভাব আসলে কীভাবে পড়ে?
ব্যথা নিরাময়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কী করেন? একটি ওষুধ দিয়ে দেন পাঁচ দিন। এরপর বলেন, ‘এর বেশি খাবেন না।’ রোগী কী করল? আবার যখ্ন ব্যথা হলো এই ওষুধ আবার খাওয়া শুরু করল। আবার হলো, আবার খেল। এটা থেকে তার কিডনির পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হয়ে গেল। সে ক্ষেত্রে আমরা বলি, স্থানীয় যে চিকিৎসক আছেন, তাঁকে দেখান। ওনারা তো জানেন, ব্যথার ওষুধ বেশি খেলে কিডনির সমস্যা হয়। তাঁরা কিডনির পরীক্ষা করে নিলেন। এরপর ওষুধটা দিলেন।
অনেকে কাউন্টার থেকে যত্রতত্র ওষুধ কিনে খান। এখন ফার্মেসিতে তো প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। আপনি গেলেন, ওরাও দিয়ে দেয়। যাঁরা ফার্মেসিতে থাকেন, তাঁরাও কিন্তু ডাক্তারি করেন। তাঁদের কাছে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলে দেন, আপনি এই এই ওষুধ খান। এই জিনিসটি করবেন না। এটি করলে আমরা মনে করি, রোগীরা বিপদের সম্মুখীন হন। আমাদের কাছে এ রকম আসে যে শুধু ব্যথানাশক ওষুধ নয়, এর সঙ্গে স্টেরয়েড খায়। আপনি জানেন, পেডনিসোলোন বা এই জাতীয় ওষুধগুলো জ্বরের সঙ্গে দিতে পারেন, ব্যথার সঙ্গে দিতে পারেন, ত্বকের রোগে দিতে পারেন। সবকিছুতে দেওয়া যায়। আমরাও দিই। আমরা একটু নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে দিই। তারা হয়তো এটি দিচ্ছে। বয়স্ক রোগী হয়তো এটি খাচ্ছে। তিন, চার, পাঁচ, ১০ বছরও চালিয়ে যাচ্ছে। তখন ব্যথা কমেছে, এটিই মুখ্য থাকে। কিন্তু চার/পাঁচ বছর পর তার কিডনিতেও সমস্যা হয়, তার স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। আর দ্বিতীয়ত হলো স্টেরয়েড বন্ধ করতে গেলে সে ব্যথার জন্য আর থাকতে পারে না।
মূল কথা হচ্ছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। সব সময় খুব ওপরের লেভেলের চিকিৎসক হতে হবে, তার দরকার নেই। গ্রামের যে ডিসপেনসারি রয়েছে, সেখানে যে চিকিৎসক রয়েছে, তার পরামর্শ নিয়েই খান। তাহলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
কিডনির সমস্যা বোঝার উপায় হলো, চিকিৎসক প্রথমত জানবেন রোগীর কিডনির রোগ আছে কি না। এটা কীভাবে বুঝতে পারবেন, ক্রিয়েটিনিন আছে কি না, ডায়াবেটিস বেশি আছে কি না, উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না, রোগীটা ফোলা কি না, লিভারের রোগ আছে কি না, তার আগের কোনো ইতিহাস ছিল কি না, দেখতে হবে। সেই ক্ষেত্রে যেসব ওষুধ থেকে কিডনিতে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে সেগুলো খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। করার দুই বা চারদিন পরে কিডনি ফাংশন টেস্ট বা কিডনির কার্যক্ষমতা দেখার জন্য পরীক্ষা করতে হবে। এখন শুধু ক্রিয়েটিনিন করতে বলি না, এর সঙ্গে ইজিএফআর করতে বলি। এই দুটো পরীক্ষা করা উচিত। কেন কেবল ক্রিয়েটিনিন বলি না? ক্রিয়েটিনিন অনেক সময় স্বাভাবিক থাকে, তবে কার্যক্ষমতা অনেক কমে যায়। সেরকম হতে পারে। কাজেই এই দুটো টেস্ট করে দেখতে হবে কিডনি ঠিক আছে কি না। এটা হলো ব্যথাজনিত কারণের ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে। এই ওষুধগুলো আমরা যখন ব্যবহার করব সেটি করার আগে কিডনির কার্যক্রমটা পরীক্ষা করে নেব।
এরপর আসা যাক যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে। যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিকের স্বাভাবিক মাত্রা রেনাল ফেইলিউর থাকলে কমিয়ে দিতে হবে। কমাটা দুইভাবে করতে পারি, ডোজ হয়তো ৫০০ মিলিগ্রাম তিনবার লাগে, সেটি আমি ২৫০ মিলিগ্রাম করে দুইবার দিলাম বা তিনবার দিলাম। অর্থাৎ আমরা চাচ্ছি ওই জিনিসটা এক্সপোজ কম হোক কিডনিতে এবং কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিক হোক।
এরপর খুব প্রচলিত ওষুধ যেমন সিপ্রোমেক্সিন গ্রুপ। এই একটি দুটো ওষুধও কিন্তু রেনাল ফেইলিউর করে দিতে পারে। এগুলো খুবই ভালো ওষুধ। যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক খুব ভালো। তবে আপনি কিছুই বুঝতে পারলেন না। দুটো ওষুধ খেলেও কিন্তু তার হঠাৎ কিডনি বিকল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ দায়িত্ব চিকিৎসকের ওপর পড়ে। আমরা যেহেতু কিডনি বিশেষজ্ঞ। এই সব রোগী আমাদের কাছে বেশি আসে বিধায়, আমরা এই বিষয়ে সচেতন। সেই ক্ষেত্রে আমরা যেটি বলব, যখন আপনি ওষুধটা ব্যবহার করেন, তখন একটু সতর্ক থাকতে বলেন। রোগীকে চেক করতে বলেন। রক্তের পরীক্ষা করান। প্রসাবটা কম হচ্ছে কি না একটু দেখতে বলেন। পাঁচদিন পর আপনি একটু রক্ত পরীক্ষা করান অথবা প্রস্রাব যদি কমে যায়, তাহলে সতর্ক হোন।
হঠাৎ করে কিডনি অকেজোর প্রথম উপসর্গ হলো প্রস্রাব কমে যাবে এবং একটু খারাপ লাগবে। দুই তিনদিন পর বমি বমি লাগবে। সেই ক্ষেত্রে রোগী যেন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যায়।তথ্য সূত্র ও ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
ডাঃ তাজকেরা সুলতানা চৌধুরী
কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট (ShSMCH)
এমবিবিএস, এফসিপিএস জেনারেল সার্জারি
এমএস ইউরোলজি (BSMMU) এপয়নটমেনট নিতে ফোন করুন 02 9135947-48 ও 01706401952 এই নম্বরে