26/08/2022
আধুনিক বেহেস্তের আজব তামাশা!!!!
রহিম সাহেব ৫০০ বিঘা সম্পত্তির মালিক।ওনার ৫ ছেলে ২ মেয়ে।ভাবছেন রহিম সাহেবের সম্পত্তি যদি মেয়েদের না দেওয়া হয়( শরক ফাঁকি) দেওয়া হয রহিম সাহেবের মৃত্যুর পর তাহলে ওনার ৫ ছেলে ১০০ করে ৫০০ বিঘা সম্পত্তির মালিক হিসাব সহজ।
এই সহজ হিসাবটা বিশাল জটিল হয়ে যায় যখন রহিম সাহেবের যারা বাড়ি থাকে সে সম্পত্তি ভোগ করে।ভোগ করতে করতে একসময় তারা সম্পত্তি নিজেদের ভাবতে শুরু করেন।
একসময় হজ্জ, নামাজ পড়ে মাথায় কালি করে ফেলেন সিজদা দিতে দিতে তারপর শুরু করেন সম্পত্তি কিভাবে নিজেদের করে নেওয়া যাবে।মসজিদে, মসলিশে বলেন কালোর আইর ঠেলে জমি দখল করলে সে পরিমান হিসাব আল্লাহকে দিতে হবে।অথচ তারা সম্পত্তি নিজের নামে রেজিষ্টি করে নিয়ে অন্যদের ফাঁকি দিয়ে( শরীক ফাঁকি দিয়ে) মনে করে আইনত তো আমার / আমাদের নামে করেছি সুতরাং আনত ামি/ আমরা মালিক।রহিম সাহেবের রেজিষ্ট্রি করা ওয়ারিশরা বোগল বাজাতে বাচাতে আল্লাহর নাম করতে থাকে আইনত তারা মালিক,আল্লাহর কাছে শেষ বিচারের দিন দলিল দাখিল করলেই আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদাউস হাঁসতে হাঁসতে ঢুকিয়ে দিবেন।
বাপ/ দাদার সম্পত্তি কিভাবে ২/৫ জনের নামে হয়? মারা যাওয়ার পর কি ওনারা েসে যে সব নাতি / পুতিদের কবর থেকে উঠে ভালোবেসে দলিল করে গেছেন? আপনারা যারা সুন্দর কাজগুলো করেছেন তারা আগাম দলিল আল্লাহর কাছে নেওয়ার জন্য রেডি হয়েন।না হলে পিঠে ছালা বেঁধে যেয়েন যদি উপকারে আসে।এতিমদের সম্পত্তি মেরে খাওয়ার অপরাধে আল্লাহ হয়তো আপনাদের আগাম প্রস্তুতি দেখে পাশ মার্কস দিতে পারেন বর্তমানের বেহেস্তবাসী তো আপনারা!
মাদেরকে ফুফু সাজিয়ে সব জমি ফুফুদের আদরের ভাস্তে বানিয়ে দান করাতে ফুফুরাও বা তাদের এতিম সন্তান রা গদ গদ হয়ে আল্লাহর কাছে তাদের জন্য জান্নাত চাইবে এতিমদের ফাঁকি দেওয়ার জন্য তাছাড়া মায়েরা যে ফুফুর কষ্ট লাঘব করে,সময় বাঁচিয়ে, টাকা বাঁচিয়ে এমন কি তাঁদের জানা বা শরীক ফাঁকির কষ্ট থেকে না জানিয়ে রেহায় দিয়েছেন, সম্পত্তি হাতে গোনা কজনের দিয়েছেন ফুফু সেজে ওনাদের পুরস্কার হিসাবে আল্লাহ বেহেস্ত রেডি করে রেখেছেন।এতিমের সম্পত্তি ফাঁকি তো দেয়নি তারা তারা কেবল ফুফুর জায়গায় মা বসিয়ে বা আদরের ভাইপো সেজে দলিল করে স্বীকৃতি বত্র নিয়ে আল্লাহর কাছে দাখিল করলেই আল্লাহ বেহেস্ত পার্ানোর জন্য রেডি হয়ে আছেন।
দেশে শুনেছি বেহেস্তের সব নিয়ম পাল্টে গেছে এটাও মনে হয় বেহেস্তে চালু হবে হয়তো।
মা,বাবার সম্পত্তি মেয়েরা পাবে এ্টা স্বাভাবিক। নিতে মন চাইলে নিবে না চাইলে মেয়েরা নিবে না।মায়ের সম্পত্তি থেকে মেয়েদের বাদ দেওয়া, ভাইরা সব সম্পত্তি ভাইরা ভাগ করে নিয়ে বোনরা ভাইরা ভাগ করে নিয়ে গেলে সে ভাই তাদের খাবার দিবো কোরআন,হাদিসে এমন নিয়ম কোথায় আছে জানি না।মেয়েদের / এতিমের সম্পত্তি নেওয়ার অধিকার কি আধুনিক বেহেস্ত নামে মন্ত্রীর কথা নিয়ে যা ট্রল হচ্ছে সেখানে কি এমন নিয়ম হয়েছে????
জীবন তো কোরআন, হাদিস ফলো করে।আমি কোরআনের অর্থ, সব হাদিস ঘেটে দেখেছি কোথাও পাইনি এ সব।জানা থাকলে জানাবেন।সে সব ভাইদের/ শরীক ফাঁকি দেওয়া মানুষ গুলোর কাছে প্রশ্ন রইল??????
সাড়ে তিন হাতের বেশি জায়গা যদি নিয়ে যেতে পারেন তাহলে শেষ বিচারের দিন সব মাফ হবে না হলে প্রতিটার হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে।কি ভাইদের কি মামা,চাচাদের।এতিমের সম্পত্তি গ্রাস করার আগে ভেবে দেখেন আপনাদের তৈরি বেহেস্তের সঙ্গা আল্লাহ মেনে নিবেন কি না?????
কি আজব বেহেস্ত এখানে রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়া লাগে না,কোরআন,নবীর কথা মানা লাগে না ঘরে বসেই কোন সন্তানদের বাদ দিয়ে কোন সন্তানকে রেজিষ্ট্রি করা যায়।সারাদিন ধর্ম ধর্ম,পশ্চিম দিকে পা দেওয়া যাবে না,সালোয়ার কামিজ পরা যাবে না,বউরা বাইরে যাবে না,মেয়েরা মাথায় কাপড় দিবে না,বউরা বোরকা ছাড়া চলা যাবে না, উঠতি বয়সির মেয়েরা গায়ে ওড়না দিবে না,বুড়োদের বোরকায় মুড়িয়ে রাখতে হবে,এমনকি ঘরে বসে বুড়োরা সম্পত্তি ২;৩ জন সন্তানের নামে সেটাও আবার ননদের ভূমিকা (ফুফু সেজে) কি আধুনিক বেহেস্ত!!!
ধর্মের অপব্যাখা না দিয়ে ধর্মের সঠিক কাজগুলো করুন।জানতে ইচ্ছে করে যে সম্পত্তি এতোকাল ভোগ করেছেন ভবিষ্যতে ও করতেন এসব নাটক করে নেওয়ার কি দরকার ছিলো?রক্তের সাথে গাদ্দারী? এমন বেহেস্ত এমন ভাই/বোন/মা/বাবা/ আত্মীয়র কি আদৌ দরকার আছে?
প্রতিটা সমাজে আজ এরকম চিত্র। কিন্তু কেন? যে ভাইদেরকে বাবার মতো সম্মান / বিশ্বাস করে তারা কিভাবে এমন করে।অনেকে এটা সহ্য করতে পারে অনেকে পারে না।অনেকের দেখেছি এমন খবর শোনার / দেখার পর হার্ট এটাক্ট পর্যন্ত হয়েছে।ভাইরা কি বর্তমান বেহেস্তে একটু লোভটা কম করা যায় না?????
সম্পত্তি তো রেখে যাবেন সন্তানদের জন্য। তারা আপনার অবর্তমানে আপনার কথা মনে করবে তো???
এমন বড় ভাইরা থাকলে আপনার বাবার ৫০০ কেন ৫০০০ বিঘা সম্পত্তি থাকলেও আধুনিক মেহেস্তে আপনি ১ বিঘা সম্মতি ও পাবেন না।আপনার জন্য হিসাব সহজ হলো।পরোকালে আপনি আল্লাহর বেহেস্তের পথ সুগম পেলেন।
সম্পত্তির জন্য না হয়তো বাবার মতো বড় ভাইয়ের প্রতারণায় ভাই/ বোনদের স্বাভাবিক রক্তক্ষরণ মাঝে মাঝে স্তব্ধ হয়ে যায়!হায়রে সম্পত্তি!!!৫০০ বিঘা সম্পত্তির চেয়ে ভাই-বোনদের ভালোবাসার জয় হোক।দোয়া কামনা।
শেষ বিচারের দিন কেও কাওকে চিনবে না।নিজের কাজের দায়ভার নিজেকে নিতে হবে।সুতরাং..............
কোরআনে স্পষ্ট করে সম্পত্তির বন্টন দেওয়া আছে কে কতোটুকু পাবে তারপরও কেন এমন???লোকদেখানো ইসলাম পালন করলাম নিয়ম মানছি না এটা কেমন ধরনের মুসলমান???