24/01/2015
মুখ অনুযায়ী নাকফুল ব্যবহার করুন
ঠাকুমা-দিদিমারা নাকফুল পরতেন অভ্যাসবশে। এ দিয়ে ভালো দেখানোয় বিশেষ নজর ছিল না। আজ এটা মেয়েদের কাছে ফ্যাশনের প্রিয় অনুষঙ্গ। ক্ষুদ্র এই গয়না এখন তরুণীদের ফ্যাশন ট্রেন্ড। নানা ঢং আর রঙের নাকফুলের ফ্যাশন ও বাজার নিয়ে থাকছে কিছু কথা
নাকফুলের বাহার
নাকফুল সোনা, রুপা, হীরা ও ইমিটেশনের হয়। নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য। নাকফুলের ওপর গোলাকার, চৌকোণ, তারা, ফুল ও ত্রিভুজ আকৃতির বিভিন্ন রঙের পাথর বসানো থাকে। সাধারণ পাথর ছাড়াও রুবি, পান্না, চুনি, এডি, নীলা, জিরকন প্রভৃতি পাথর বসানো নাকফুল এখন বেশ চলছে। শুধু শাড়িই নয়, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, এমনকি টি-শার্টের সঙ্গেও দিব্যি মানিয়ে যায় এই নাকফুলগুলো। বিভিন্ন রত্নপাথর ছাড়াও এখন হীরার নাকফুল বেশ চলছে। এসব নাকফুলে গোল্ড ও হোয়াইট গোল্ডের ওপর ছোটবড় বিভিন্ন সাইজের হীরা বসিয়ে ডিজাইন করা হচ্ছে। সোনার ওপর মুক্তা বসিয়েও বাহারি নাকফুল তৈরি হচ্ছে। সোনা ছাড়াও রুপার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন রত্নপাথরের নাকফুলও এখন বেশ চলছে। দাম কিছুটা কম হওয়ায় তরুণীরা ঝুঁকছে এসব গোল্ডপ্লেটেড নাকফুলের দিকে। নাকফুলের পাশাপাশি নথও এখন আলোচনায়। গোলাকার, ত্রিকোণ বা চৌকোণ_বিভিন্ন ডিজাইনের নথ এসেছে বাজারে। শুধু সোনা বা সোনার মধ্যে পাথর বসানো নথেই রয়েছে বেশ কয়েকটি নকশা। স্টোন বসানো নথের মধ্যে সাদা পাথরের নথ এখন ফ্যাশন ট্রেন্ড।
সঙ্গে কেমন পোশাক
ইচ্ছা করলে পোশাকের রঙের সঙ্গে নাকফুলের পাথরের রং মিলিয়ে পরতে পারেন। পাথর ছাড়া শুধু সোনা বা রুপা দিয়ে তৈরি নাকফুল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জিনস-টপসের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। সোনা বা হীরার নাকফুল সব সময় পরতে পারেন। এর রং নষ্ট হওয়ার ভয় নেই। কিন্তু ইমিটেশনের নাকফুল ভিজলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষ কোনো সময়ের জন্য বেছে নিতে পারেন। শুরু থেকেই বাঁ নাকে ফুল পরার প্রচলন ছিল। তবে ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনতে অনেকেই এখন ডান নাকে ফুল পরেন। আপনি ইচ্ছামতো নাকের ডান অথবা বাঁ দিকে ফুল পরতে পারেন। মূলকথা হচ্ছে, একটি নাকফুলের মাধ্যমে নিজেকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা।
ফোঁড়ন বৃত্তান্ত
নাকে ফ্যাশনেবল নাকফুল পরতে চাইলে নাক ফোঁড়াতে হবে। ব্যথার ভয়ে অনেকেই নাক ফোঁড়াতে চান না। এখন ব্যথা ছাড়াই বিউটি পার্লারগুলিতে নাক ফোঁড়ানো হয়। পার্লার গুলোতে একটি পুশপিন গানমেশিনের সঙ্গে যুক্ত করে ফায়ার করে নাকের সঠিক অংশে ছিদ্র করা হয়। এ সময় অ্যান্টিবায়োটিক স্প্রে করে নেওয়া হয়। ফলে ক্ষত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আর তিন-চার দিন পরই পুশপিনটি খুলে পছন্দসই যেকোনো নাকফুল বা নথ ব্যবহার করতে পারেন। তবে নাক ফোঁড়ানোর পর প্রথমে সোনার নাকফুল পরলে ফোঁড়ানো অংশ পেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
কার জন্য কেমন
ফ্যাশন যা-ই হোক, তা ব্যক্তির সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই। নাকফুলের কথা বললেই চলে আসে নাক আর মুখের বিষয়টি। নাক ও মুখের গড়নের সঙ্গে নাকফুল মানানসই হলেই কেবল তা ফ্যাশনেবল। 'নাক ছোট আর খুব বেশি বড় না হলে এক পাথরের ছোট্ট নাকফুল পরুন। নাক বড় ও চোখা হলে ছোটবড় সব ধরনের নাকফুলই পরতে পারেন। বড় ও চ্যাপ্টা মুখে বড় নাকফুল ভালো লাগে। আবার মুখ ছোট হলে ছোট নাকফুল ভালো মানায়। মুখ বড়-ছোট যা-ই হোক, নথ কিন্তু সবাইকেই ভালো মানায়। আর সব সময়ের জন্য নাকে এক পাথর বা হীরার ছোট নাকফুল ব্যবহার করুন।