22/11/2020
জামদানি কথা !
জামদানি শাড়ি চেনায় তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দাম, সুতার মান ও কাজের সূক্ষ্মতা।
আসল জামদানি শাড়ি তাঁতশিল্পীরা হাতে বুনেন। তাই কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। ডিজাইন ভেদে জামদানি শাড়ি তৈরি হতে সাত দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত লাগে।
হাতে বোনা জামদানির ডিজাইন খুব সূক্ষ্ম ও নিখুঁত। এবং মসৃণ। সুতা বের হয়ে থাকে না। শাড়ির সামনের আর উল্টো অংশ প্রায় একই রকম থাকে। আর মেশিনে তৈরি শাড়ির উল্টো পিঠে সুতা বের হয়ে থাকে।
জামদানি শাড়ি বয়নে সুতি ও সিল্ক সুতা ব্যবহার হয়।
জামদানি সাধারণ তিন রকম।
১. ফুল কটন জামদানি - সম্পূর্ণ তুলা বা কটন সুতায় তৈরি শাড়ি।
২. হাফ-সিল্ক জামদানি - আড়াআড়ি সুতা হয় রেশমের আর লম্বালম্বি সুতা হয় তুলার।
৩. ফুল সিল্ক জামদানি - দুই প্রান্তের সুতাই রেশমের হয়ে থাকে।
জামদানি নামধারী সস্তা শাড়িতে সিল্কের পরিবর্তে পলেস্টার বা নাইলন সুতা ব্যবহার হয়।
কাউন্ট দিয়ে সূতার মান বোঝায়। যে সুতার কাউন্ট যত বেশি, সেই সুতা তত চিকন। আর সুতা যতো চিকন, কাজ ততই সূক্ষ্ম।
জামদানি শাড়ির সুতা সাধারণত ৩২ থেকে ২৫০ কাউন্টের হয়। আর মেশিনে বোনা শাড়ির সুতা ২৪-৪০ কাউন্টের হয়।
জামদানির মান মূলত কাজের সূক্ষ্মতার উপর নির্ভর করে। আর শাড়ি কতোটা সূক্ষ্ম হবে, তা নির্ভর করে সুতা এবং তাঁতির শিল্পকলায়।
সাধারণত যে শাড়ির কাজ বেশি সূক্ষ্ম, তার দাম ততো বেশি। আবার সুতা যত চিকন, শাড়ি বুনতে সময় লাগে তত বেশি।
জামদানি শাড়ির যে অংশ কোমরে গুঁজে রাখা হয়, ওই অংশ অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ হাত পাড় বোনা থাকে না। মেশিনে বোনা শাড়ির পুরো অংশে পাড় থাকে।
হাতে বোনা জামদানি ওজনে হালকা এবং পরতে আরামদায়ক। মেশিনে বোনা শাড়ি হয় ভারী এবং খসখসে।
জামদানি খুব যত্ন করে রাখতে হয়, না হলে বেশিদিন টেকসই হয় না।
জামদানির বৈশিষ্ট্য:
জামদানির প্রধান বৈশিষ্ট্য জ্যামিতিক নকশা। এতে ফুটিয়ে তোলা হয় ফুল, লতাপাতা, কলকাসহ নানা ডিজাইন।
জামদানির ডিজাইন অনেক রকম হয়। পান্না হাজার, তেরছা, পানসি, ময়ূরপঙ্খী, বটপাতা, করলা, জাল, বুটিদার, জলপাড়, দুবলি, ডুরিয়া, বলিহার, কটিহার, কলকাপাড় ইত্যাদি বেশি প্রচলিত।