Tomato

Tomato জয় শ্রী রাম ���

24/05/2026
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৭ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সাব্বির হোসেন প্রকাশ মান্না (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে...
06/05/2024

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৭ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সাব্বির হোসেন প্রকাশ মান্না (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে, শনিবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে ওই শিশুর বাড়ির পাশে একটি লিচু বাগানে নিয়ে তাকে কৌশলে ধর্ষণ করা হয়। রোববার (৫ মে) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করা হয়। ঘটনায় ওই শিশুকে উদ্ধারের পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Hi
06/09/2022

Hi

06/09/2022

সব প্রেম কাহিনী গুলো সিনেমাতেই ভালো লাগে।নায়ক-নায়িকা দুজন দুজনকে পেয়ে গেলেই সিনেমা শেষ।তারপর কি ঘটে সেটা আর সিনেমাতে দেখানো হয় না।সিনেমার যেখানে শেষ সেখান থেকেই জীবন শুরু।পাঁচ বছরের প্রেমটা আগামী পঞ্চাশ বছ‍র টিকল কিনা সেটাই হল প্রেমের জীবন কাহিনী।আসল ট্যুইস্ট তো সেখানেই।বিয়ের পর প্রেমটা টিকিয়ে রাখাই হল জীবনের সিনেমা।

05/09/2022

কাউকে একবার মনে ধরে গেলে তার সাথে কথা বলতে মানুষ যতটা না আগ্রহী হয়ে ওঠে,তার থেকে বেশি মরিয়া ওঠে।
মানুষ সারা জীবনে যত চেষ্টা করে তার মধ্যে সব থেকে বড় চেষ্টা এই কথা বলার চেষ্টা।একটু খানি কথা বলার জন্য মন আকুলি বিকুলি করতে থাকে।
দেখবেন যার সাথে কথা বলার জন্য ব্যাকুল ছিলেন তার সাথে প্রথম বার কথা বলার পর মনে হবে পৃথিবীর সব থেকে বড় পাওয়াটা আপনার পাওয়া হয়ে গেছে।আস্তে আস্তে তার কথাতেই মুগ্ধ হবেন।তার কথার যাদুতে বাঁচার মানেও খুঁজে পাবেন।কথা বলতে গিয়েই তার প্রেমেও পড়বেন।
কথা বলতে গিয়েই তাকে ভালোবেসেও ফেলবেন।পৃথিবীর সব সু্ন্দর কথা গুলো তার থেকেই শুনবেন।সৌন্দর্য্য মনকে আকৃষ্ট করলেও মানুষ প্রেমে পড়ে তার কথাতেই।কথা বলাটা একদিন আপনার নেশায় পরিণত হবে।তার কথার নেশাতেই বুঁদ হয়ে যাবেন একদিন।জীবনে সব থেকে বড় প্রয়োজন কি জানেন?
প্রয়োজন একজন কথা বলার মানুষ।মানুষটার সাথে হাজার ঝগড়া অশান্তির পর একটু ভালো করে কথা বললেই দেখবেন আপনি কেমন শান্ত হয়ে গেছেন।ভিতরটা জুড়িয়ে যেতে দেখবেন।সমস্যাটা হয় কথা বলা বন্ধ হয়ে গেলে।তিরিশ দিন তাকে না দেখলেও চলে যাবে আপনার,কিন্তু একদিন কথা বলতে না পারলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।কিছুই ভালো লাগবে না আপনার।
খেতে ইচ্ছে করবে না,কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করবে না,কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করবে না।তার প্রতি অভিমান হবে,রাগ হবে,তারপর দম বন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হবে।অথচ কাউকে বোঝাতে পারবেন না।
কদিন বৃষ্টি না হলে একদিন মেঘ জমে গিয়ে বৃষ্টি হলে গুমোট আবহাওয়া কেটে গেলেও মনের গুমোট কাটানো খুব কঠিন।কারো কথার প্রেমে পড়ার পর তার সাথে কথা বলাটা যদি আপনার নেশা হয়ে যায়,তারপর সে যদি আর কথা না বলে, জানবেন সে মানুষটা ছাড়া আপনার জীবনে সুখ নেই।

29/08/2022

যারা সামনে বিবাহ করতে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যত কম পারেন তত কম বরযাত্রী নিয়ে শুভ বিবাহের কাজটা সেরে ফেলুন।

বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার পারিবারিক খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তার উপর মেয়ের বিয়ের বাড়তি খরচ বাড়তি চাপ তৈরি করবে নিশ্চিতভাবে।

হতে পারে মান-সম্মানের দিকে তাকিয়ে আপনার হবু শ্বশুর ধার-দেনা করে অনেক বরযাত্রী খাওয়ানোর আয়োজন করতে হবে। পরে সেই পরিবারের ধার-দেনার জালে আটকা পড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। অথবা তাকে বাড়তি টেনশনে পড়তে হবে।

আপনার যদি বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্নীয়-স্বজন বেশি থাকে, নিজের বাড়িতে কিংবা রেস্টুরেন্টে নিজের খরচে দাওয়াত করে খাওয়াতে পারেন। তারপরও মধ্যবিত্ত কনের পিতার উপর বাড়তি চাপ তৈরি করবেন না, প্লিজ।

~ Gazi Mizanur Rahman

29/08/2022

এই মুহূর্তে সোনার গহনার যে দাম, তা সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে। তাই কনের পক্ষের উচিত বিয়ের সময় সোনার গহনা নিয়ে ছেলে বা ছেলের পক্ষের উপর বাড়তি চাপ তৈরি না করা। ধার-কর্জ করে গহনা কিনে বিয়ে করলে সে ধার-দেনা পরে অনেক বড় ঋণের বোঝা তৈরি করতে পারে। পারিবারিক অশান্তি তৈরি করতে পারে।
তাই বিয়ের সময় গহনার প্রতি প্রাধান্য না দিয়ে ছেলের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। মানুষ বাঁচলে গহনা একদিন হবে। গহনা যেন বিয়ের মতো একটি পবিত্র কাজে প্রতিবন্ধকতা হয়ে না দাঁড়ায়!

29/08/2022

#যদি_ফিরে_পেতাম
#সরজিৎ_ঘোষ

বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় একদিন বাপের বাড়িতে এসে মাকে বললাম,আমি আর সংসার করব না।আজ থেকে এ বাড়িতেই থাকব।

মা শুনে বলল,

-অসুবিধে কি আছে আর!তোর বাবার এত বড় বাড়ি,এমনিই তো পড়ে আছে।তা এসেছিস যখন সব জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়ে এসেছিস তো?

আমি বললাম,

-না।কিছুই তো আনিনি।

-সে কি?এভাবে কেউ খালি হাতে আসে?তা এসেছিস যে,জামাই জানে?

-আমি না বলেই এসেছি।

-জামাইকে বলে আসবি তো!শাশুড়ি মানুষটা খারাপ জানি,জামাই তো ভালো।ওকে না বলে চলে আসাটা ঠিক হয় নি তোর।তুই ফিরে যা।বরং জিনিস পত্র সব গুছিয়ে নিয়ে চলে আয়।সেই সঙ্গে জামাইকেও নিয়ে চলে আয়।শাশুড়িকে জব্দ করতে হলে ছেলেকে ঘরে রেখে এলে হবে না।বর ভালো হলে ঘর ছাড়লেও বরকে কখনো ছাড়তে নেই।ঘর বর দুটোই ছেড়ে দিলে মেয়েদের জীবন থেকে তো সংসারটাই চলে যাওয়া।জামাই তোর কথা ফেলতে পারবে না।বরং জামাইকে নিয়েই তুই এ বাড়িতে থাক।

মায়ের কথা শুনে তো আমি অবাক।মা কখনোই এই সুরে কথা বলেনি।হঠাৎ এই ভাবে কথা বলাতে মা'কে বললাম,

-তুমি বলছ এ সব?আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছি না!এত দিন পর তুমি আমার দুঃখটা বুঝতে পারলে মা।

-যতই হোক,তুই আমাদের একমাত্র মেয়ে।শাশুড়ির অত্যাচার কত আর সহ্য করবি বল তো?তোর বাবাও চায় তুই এই বাড়িতে এসে থাক।এক কাজ কর জামাইকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে চলে আয়।তবেই তোর শাশুড়ি জব্দ হবে।

-ঠিক বলেছো।কিন্তু তোমার জামাই মনে হয় রাজী হবে না।

-সব হবে।কায়দা করে বলবি,দেখবি বরফ গলে জল হয়ে গেছে।

মায়ের কথা শুনে আমি সেদিনই শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলাম।বুঝলাম মা যে বুদ্ধিটা দিয়েছে ওটাই প্রয়োগ করতে হবে।জীবনে কি চেয়েছিলাম আর কি হয়ে গেল সেটাই তখন ভাবছিলাম।আমার বিয়ের জন্য যখন দেখাশোনা শুরু করল আমার বাবা,আমি তখন মা'কে বলেছিলাম,

-আমি বিয়ে করব না মা,ব্যাচেলর থাকব।

আমার এমন কথা শুনে মা তো হেসে লুটোপুটি।বাবাকে ডেকে বলল,

-তোমার গুণধরী মেয়ের কথা শোনো।বলে কি ব্যাচেলর থাকবে?আরে পাগলী মেয়ে, মেয়েরা কখনো ব্যাচেলর থাকে না।ছেলেরা বিয়ে না করলে তাদের ব্যাচেলর বলে।

এদিকে বাবাও হাসছে।বুঝলাম ব্যাচেলর শব্দটা মেয়েদের জন্য নয়।মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,

-মেয়েরা বিয়ে না করলে তাদের কি বলে?

মা বলল,

-অত জানি না।মেয়েদের একটা সংসার লাগে।মেয়েদের বিয়ে দিতে হয়।

বাবা বুঝিয়ে বলল,

-শোন মা,বড় হয়েছিস।এবার তো বিয়ের কথা ভাবতে হবে।তোর নিজের একটা সংসার হবে।তোর নিজের ঘর হবে।

বাবাকে বললাম,

-নিজের ঘর তো এটাই।বিয়ের পর কি ওখানে নিজের মত করে থাকতে পারব?

-মেয়েরা সব পারে মা।পরকে আপন করার ক্ষমতা আছে মেয়েদের।

-যদি না পারি,আমার মনের মত না হলে আমি কিন্তু চলে আসব আবার‌।তখন আমাকে জোর করে পাঠাতে পারবে না।

বাবা শুনে বলেছিল,

-বেশ।তোর জন্য এই বাড়ির দরজা মুক্ত রইল।

বাবা মায়ের কথা শুনে বুঝেছিলাম,মেয়ে বড় হলে তার বিয়ে দিয়ে হয়, তার একটা সংসার করে দিতে হয়।আমার ইচ্ছে ছিল না বিয়ে করে সংসারী হতে।নিজের বাড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে থাকা,অন্যের বাবা মাকে বাবা মা বলে ডাকা,কেমন যেন একটা বাধ্য জীবন।আমি এমনিতেই বাবা মায়ের আদুরে মেয়ে।তার ওপর স্বাধীন ভাবে থাকতে ভালোবাসি।আমার ওপর কেউ নজরদারি করবে,কারো হুকুমে চলতে হবে এটা ভাবলেই যেন কেমন লাগত।তার পরেও আমার কপালে বিয়েটা লেখা ছিল।তা নাহলে বিয়েটা হয়?অথচ বিয়ের আগে মা বাবাকে আমি বুঝিয়েও পারিনি।অত গুলো দিন পরেও মা বাবা যে আমার সমস্যা বুঝে গিয়েছিল এটাই অনেক।

যাইহোক,মায়ের কথা মত শ্বশুরবাড়িতে ফিরেই শাশুড়ির সাথে তুমুল ঝগড়া করলাম সেদিন।ঝগড়া করতে কারণ লাগে না।কোনো একটা ছুঁতো পেলেই হল।বর অফিস থেকে ফিরতেই যা ঘটল,তার থেকে একটু বাড়িয়েই বললাম।বলতে বলতে কেঁদে ফেললাম।ও শুনে তখন চুপ করে আছে।চুপ করে থাকতে দেখে বললাম,

-এ বাড়িতে তোমার মায়ের সাথে ঝগড়া করে কিছুতেই থাকতে পারব না।

ও শুনে বলল,

-তাহলে উপায়?

-উপায় আর কি।আমি ভেবেছি আমি আর তুমি আমার বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকব।আর ওখান থেকে তোমার অফিস যেতেও সুবিধা হবে।

আমার কথা শুনে আমার বর বলল,

-ঠিকই বলেছো।এত অশান্তির মধ্যে থাকা যায় নাকি? অফিস থেকে ফিরে সেই রোজ রোজ অশান্তি।এ বাড়িতে থাকলে অশান্তি আরো বাড়বে।তুমি ঠিক ডিসিশন নিয়েছো।আমি তোমার সাথে ওখানে গিয়েই থাকব।অশান্তির থেকে শান্তি ভালো।

বুঝলাম ছেলেও মাকে চিনে নিয়েছে।শাশুড়ির সাথে ঝগড়াঝাটি করে পরের দিন বেরিয়ে এলাম।দেখলাম শাশুড়িও বেশ খুশিতেই আছে।নিজের ছেলেও যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কোনো আক্ষপ নেই।মনে মনে ভাবছিলাম,মা তো? নাকি পাষাণ?পরে ভাবলাম,হাতে টাকা আছে তো।টাকাই ভুলিয়ে রাখবে।শ্বশুর মশাই ভালো চাকরি করতেন,পেনশনের মোটা টাকা হাতে পাচ্ছেন,তার আবার মায়া মমতা?ছেলেরও মায়ের প্রতি ভালোবাসা নেই।নিজের বাড়ি ছেড়ে বেরোচ্ছে মানে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে।এতদিন মায়ের মুখের ওপর কোনো কথা বলেনি,কিন্তু সেটা কাজে করে দেখিয়ে দিল।কিছু জিনিস পত্র গুছিয়ে নিয়ে চলে এলাম বাপের বাড়িতে।মনে মনে ভাবলাম,আর তো অশান্তি নেই।এবার থেকে জীবনে শান্তি আর শান্তি।

এক সপ্তাহ বেশ ভালোই কাটল।বাবা বাজার করছে,মাছ মাংস থেকে শুরু করে নানান জিনিস নিয়ে আসছে প্রতিদিন।মা জামাইয়ের জন্য ভোর বেলা উঠে রান্না করছে,টিফিন বানাচ্ছে,রাতের খাবার যে গুলো খেতে ভালোবাসে সে গুলোই মা নিজে হাতে করছে।আমিও সকাল বেলা কোনো দিন ন'টায়,কোনো দিন দশটায় উঠছি।একদম আরামের জীবন।এরকম সুখের জীবনটাই তো চেয়েছিলাম।এই করে আরো পনেরো দিন মত কেটে গেল।এদিকে আমার বরও বেশ দিব্যি আছে,না বাজার দোকান করতে হচ্ছে,না অন্য কোনো কাজ করতে হচ্ছে,কিছুই না।এদিকে মায়ের যেমন কাজ বেড়েছে,তেমনি আমার বাবার খাটুনিও বেড়েছে।ছুটির দিন গুলোতে আমার বর আমার থেকেও বেশি দেরি করে ঘুম থেকে উঠছে।অথচ নিজের বাড়িতে দেখতাম সাত সকালে উঠে সব কাজ করত।ছুটির দিন মানেই কত কাজ ছিল।অথচ এ বাড়িতে এসে এই আয়েশি হয়ে ওঠাটা আমার ঠিক ভালো লাগছিল না।অথচ আমার বাবা মায়ের খাটুনি দেখে খারাপ লাগত।রবিবারের একদিন সকালে প্রচণ্ড চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙল।নিচে নেমে গিয়ে দেখি আমার বাবার সাথে বরের কথা কাটাকাটি চলছে।আমার বর দেখি বাবাকে ভীষণ উল্টোপাল্টা কথা বলে অপমান করছে।দেখে তো ভীষণ খারাপ লাগলো।বরকে বললাম,

-তুমি মানুষ না অমানুষ?দেখতে পাচ্ছ একজন বয়স্ক মানুষ।তুমি এভাবে বলছ তোমার লজ্জা করে না?

আমার বর বলল,

-তোমার তো বলার কোনো অধিকার নেই এখানে।তুমি যখন আমার মায়ের সাথে এই রকম খারাপ করে কথা বলতে,আমি তো তোমাকে কখনো কিছুই বলিনি।পরে তোমাকে শান্ত মেজাজে বুঝিয়েছি।তুমি কিন্তু আমার কথা বোঝনি।তাহলে আমাকে তুমি বোঝাচ্ছ কেন?আজ যদি এই টুকুতে তোমার খারাপ লাগে,তাহলে এই চার পাঁচ মাস ধরে আমার মাকে কত খারাপ কথা বলেছো,ভাব তাহলে আমার কতটা খারাপ লেগেছে?আমি তো তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি,তাই আজ তুমিও এভাবে আমাকে বলতে পারো না।

এই ব্যাপারটার পর থেকে দেখলাম বাবা মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে।মায়ের বয়স বাড়ছে।সকাল সকাল উঠে রান্না করাটাও মায়েরও কষ্ট।নিজেরই খারাপ লাগছিল বেশি।ভাবলাম আমিও সকাল সকাল উঠে মায়ের হাতে হাতে আমিও কাজটা করে দেব।ক'দিন করার চেষ্টা করলাম‌।দেখলাম আমার কাজ মায়ের ঠিক পছন্দ হচ্ছে না।মা কথায় কথায় বলতে লাগল,আমার সংসারে কাজ কম্ম আমি যতটা ভালো বুঝি,তুই অতটা বুঝবি না।গভীর ভাবে ভাবলাম এ সংসারটা আমার মায়ের,আমার নয়।মাকে কিছু বললাম না আর।ভুল বুঝতে পারলাম।নিজের মা যদি তার সংসারটা ছেড়ে না দেয়,শাশুড়িই বা সহজে ছেড়ে দেবে কেন?সংসারের দায়িত্ব পেতে গেলে শাশুড়ির কাছ থেকে পাওয়াটাই পরম্পরা।উপলব্ধি করলাম,মায়ের কষ্টটা যতটা সহজে বুঝতে পেরেছিলাম,শাশুড়িকে সেভাবে বুঝতে পারিনি।হয়তো আমাকে অনেক কথা বলেছে,কিন্তু তার থেকেও তো বেশি বলেছি আমি।খারাপ লাগছিল নিজের ভুলের জন্য।ক'দিন পর বরকে বললাম,

-এখানে থাকব না।ও বাড়িতেই ফিরে যাব।

বর বলল,

-কেন?এখানে তো ভালোই আছি।

-আমি ভালো নেই।

-তাতে কি!আমি তো আছি।

বরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে একদিন সকালে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে বেরোব বলে রেডি হয়েছি,দেখলাম আমার মায়ের মুখটা বেশ হাসি হাসি।আমি যে চলে যাচ্ছি তাতে মায়ের কোনো আক্ষেপ নেই। মা শুধু বলল,আবার আসিস।একটি বারের জন্য আটকালো না।আমি ফিরলাম শ্বশুর বাড়িতে।

আমি ফিরে যাওয়াতে শাশুড়ি দেখলাম দারুণ খুশি।দুপুরে আমার পছন্দ মত রান্না করেছেন।আমি যেটা ভালোবাসি সেটাই রেঁধেছেন।আলু পোস্ত,মুসুর ডাল,বেগুন ভাজা আর আমের চাটনি।কি তৃপ্তি করে খেলাম।খাওয়ার পর শাশুড়ি আমার পাশে এসে বললেন,

-এটা সংসার।এখানে এভাবেই যুদ্ধ করে থাকতে হয়।তরকারির কোনোটাতে ঝাল বেশি হবে,কোনোটাতে কম ঝালেও ভালো লাগে।তাই বলে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিলে হবে?ঝগড়া তো হবেই।ঝগড়া করো সংসারে থেকেই।সংসার থেকে বেরিয়ে গেলে যেখানেই যাও দুদিনের জন্য সেখানে ভালো লাগবে।কিন্তু তোমাকে কেউ সংসার দেবে না।মেয়েদের নিজের একটা সংসার লাগে।সেই সংসারটা তুমি এখানেই পাবে,আমি যেমনটা পেয়েছি আমার শাশুড়ির থেকে।বৌমাদের পছন্দের মানুষ শাশুড়ি কখনো হয় না।আর শাশুড়ির পছন্দের মানুষ বৌমা কখনো হবে না।খুব কম মানুষই আছে দুজনের পছন্দে দুজন আছে।এই লড়াই চলে আসছেই সেই কোন কাল থেকে।কোথাও কম,কোথাও বেশি।তারপরেও থাকতে হবে,সংসার করতে হবে।ঘটি বাটি পাশা পাশি থাকলে ঠোকাঠুকি তো হবেই।তাই বলে বেরিয়ে যেও না।এটাই জীবন।টোনা টুনির সংসারে শাশুড়ির মত চড়ুই পাখি একটা লাগে।তবেই না সংসার? ভালো আর মন্দ দুই মিলেই জীবন।

তারপর থেকে তিরিশ বছর কাটিয়ে ফেলেছি।নিজের একটা সংসার হয়েছে।শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করেছি। হয়তো দুদিন কথাও বলি নি।তবে সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যাইনি।আজ পাঁচ বছর হলো শাশুড়ি নেই।ভীষণ মিস করি শাশুড়ি নামক প্রতিদ্বন্দ্বীকে।আজ খেলার মাঠ পুরো ফাঁকা।ভালো লাগে না এই ফাঁকা মাঠে গোল দিতে।জীবনটা ফুটবল খেলার মত।সংসার হল বড় মাঠ।প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে গোল দিয়ে কি মজা?অত বড়ো বাড়িটায় আমি একাই খেলছি।এ খেলাটা ঠিক জমছে না আর।কারণ জমানোর মানুষটাই তো নেই।মানুষটা ঝগড়া করত।শাসন করত।মাঝে মধ্যে রণ চণ্ডীর মূর্তি ধরে বাড়ি মাথায় করত।কিন্তু আমার অসুখ বিসুখ করুক,জ্বর সর্দি হোক,তুলসী পাতার রস,বাসক পাতার পাচক,জ্বরে মুখ খারাপ হয়ে গেলে পলতা পাতার বড়া,এ গুলো মুখের কাছে ধরত ওই মানুষটাই।আমার জ্বর হলে মাঝ রাতে উঠে এসে দরজায় কড়া নেড়ে ছেলেকে বলত,মিটারটা দিয়ে দেখ।জ্বরটা আর আছে কিনা?আমার শরীর খারাপ দেখলে ছেলেকে বলত,রোজ রোজ কিসের অফিস।কামাই কর একদিন।তোর বৌ তুই না দেখলে কে দেখবে?

আজ এত গুলো বছর পরেও পুরো বাড়িটাই আমার নিজের,পুরো সংসারটাই আমার নিজের।কিন্তু মন খারাপের একরাশ দুঃখ বুকের মধ্যে জমেছে।যার থাকাটা মাঝে মধ্যে অস্বস্তি লাগত,তার না থাকাটা কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছে না।আমরা মেয়েরা বাবার বাড়িতে যতটা অধীনে থাকি,তার থেকে বেশি মুক্ত থাকি নিজের সংসারে।শাশুড়ি মারা যাওয়ার আগে আমার মা চলে গেল পরপারে।তারপরে একদিন শাশুড়িও মায়া কাটিয়ে চলে গেল।শাশুড়ির বেশ কিছু গয়না,মারা যাওয়ার বছর তিনেক আগে আমাকে দিয়ে গেল।বলল,এগুলো সব তোমার‌।এই সীতা হারটা শুধু দুলকিকে দিও।দুলকি মানে আমার একমাত্র মেয়ে।আমার মেয়েরও বিয়ের ঠিক হয়েছে।সামনের ফাল্গুনে ওর বিয়ে।সেদিন সীতা হারটা বের করতে গিয়ে শাশুড়ির কাপড় জামা রাখার যে বাক্সটা ছিল ওটা খুলেছিলাম।আমাকে দেওয়া গয়না গুলো ওতেই আছে।গয়নার বাক্স বের করতে বাক্সের এক কোণে সযত্নে রাখা একটি চিঠি।চিঠিটা লিখেছে আমার মা আমার শাশুড়িকে।তখন তো আর মোবাইল ছিল না।চিঠিটা পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম তিরিশ বছর আগের একটি সত্যকে।মনের মধ্যে যা ছিল আবছা এক লহমায় সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।
আমার মা লিখেছে,

প্রিয় দিদি,

মেয়ে আমার বাড়িতে পৌঁচেছে।তোমার কথা মত কাজ শুরু করে দিয়েছি।কথা দিচ্ছি এক মাসের মধ্যেই তোমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে পারব।বুঝতেই তো পারছ মেয়ে আমার উড়নচণ্ডী।এই উড়নচণ্ডী মেয়েকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই।তোমার কথা মতই আমি ওকে বলেছি ওই বাড়ি ছেড়ে চলে এসে এখানে থাক।যেমনটি বলেছো ঠিক তেমনটিই করছি সব।ভয় হয় খুব, ওই মেয়ে কি করে সংসার করবে।তবে তুমি যখন আছো চিন্তা নেই। শ্বশুরবাড়িটা মেয়েদের বড় সম্মানের জায়গা।আমি চাই ওর একটা নিজের সংসার হোক।আর যাই হোক বাপের বাড়িতে মেয়েরা দিনের পর দিন থাকলেও মেয়েদের সংসারটা কিন্তু ওখানে হয় না।

মনে পড়ে যাচ্ছিল সেই তিরিশ বছর আগে মায়ের কথা গুলো।মা যখন বলেছিল,সব ছেড়ে চলে আসতে,অবাক হলেও মায়ের ওই কথা গুলোর মধ্যে যে নিপুণ কৌশল ছিল,আমি সেদিন ধরতেই পারিনি।ধরতে পারিনি আমার বরের নিপুণ অভিনয়ও।ভেবেছিলাম মা আমাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।আমার ধারণাটাই ভুল ছিল।শ্বশুর বাড়ি থেকে যখন চলে এসেছিলাম তখন শাশুড়িমাকে দেখেছিলাম মুচকি মুচকি হাসতে,আবার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে যখন ফিরছিলাম তখন মায়ের মুখেও ছিল হাসি।চিঠি পড়তে পড়তে বুঝতে পারছিলাম হাসির কারণটাও।শাশুড়ি মায়ের বুদ্ধির তারিফ না করে থাকতে পারছিলাম না তখন।সত্যিই তো ওই কৌশল প্রযোগ না করলে এমন সুন্দর করে সংসারটাও যে হত না আমার।এই দুই মা আমাকে উপহার দিয়ে গেছে নিজের একটা সংসার।শুধু মনের মধ্যে রয়ে গেছে এই দুই মায়ের জন্য শূন্যতা,একটা আক্ষেপ,যদি আবার ফিরে পেতাম।

কলমে:সরজিৎ ঘোষ। Sarajit Ghosh
গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।আরো নতুন গল্প পড়ার জন্য পেজটি লাইক ফলো করে রাখবেন।

 #শুভ_লগ্ন  #সরজিৎ_ঘোষ"-সত্যিই কপাল বটে।এমন সৌভাগ্য কত জনের হয়?এমন বড়োলোক বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।ভাগ্যিস গায়ের রঙটা ছিল...
29/08/2022

#শুভ_লগ্ন
#সরজিৎ_ঘোষ

"-সত্যিই কপাল বটে।এমন সৌভাগ্য কত জনের হয়?এমন বড়োলোক বাড়িতে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।ভাগ্যিস গায়ের রঙটা ছিল।না'হলে কখনো গরীব ঘরের মেয়েকে কি ওই বড় লোক বাড়ির ছেলে বিয়ে করত?বাপ তো খেত মজুরের কাজ করে।মেয়েটার যে একটা গতি হচ্ছে এটাই অনেক।" বিয়ের দিন এক প্রতিবেশিনীর মুখ থেকে এমন কথাই শুনেছিল কবিতা।আর এমন কথা যখন কানে ভেসে আসে সেটা একটা মেয়ের কাছে সত্যিই খুব অপমানের।"মেয়েটার একটা গতি হচ্ছে"...অর্থাৎ তাকে কেউ দয়া করছে। তার মানে সারা জীবন কারো দয়ায় বাঁচতে হবে?কিন্তু কেন?সে প্রশ্নের উত্তর কবিতা তখন পায়নি।কারণ গরীব ঘরের মেয়েদের যে এত প্রশ্ন করতে নেই।

কবিতার বিয়ের দিনের ঘটনা।মেয়ে বড় হলে একটাই চিন্তা যে কোনো প্রকারে মেয়ের বিয়েটা দিতে হবে।তার ইচ্ছা অনিচ্ছা সাধ স্বপ্ন সেসবের মুল্য কে আর দেয়?উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডী পেরোতে না পেরোতেই বিয়ে।তাছাড়া এই রকম বড় লোক ঘরের ছেলে,কানা কড়িটিও চায়নি।কবিতার বাড়ির লোকজনও তাদের মেয়েকে এমন পাত্রের হাতে পাত্রস্থ করতে চেয়েছে।

বর আসবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। সেই আশাতেই সেজেগুজে একেবারে তৈরি হয়েছিল কবিতা।কবিতার বাবা তার সাধ্য মতো আয়োজন করেছেন।সব বাবাই চান তার সাধ্যমত সবটুকু দিয়ে মেয়েকে সুখী করতে।দুর্গাপুরের ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের একমাত্র ছেলে,জমি জায়গাও প্রচুর তাদের।ঠিক সময়ে বরযাত্রী নিয়ে ছাদনাতলায় হাজিরও হয়ে যান পাত্রপক্ষ। কিন্তু সেই পাত্রকে বিয়ে করতে বেঁকে বসে কবিতা।হঠাৎ জোর গলায় বলে ওঠে,

"-এ বিয়ে আমি করতে পারব না।"

আকণ্ঠ মদ্যপান করে বিয়ের মণ্ডপে হাজির হয়েছেন বর।মদের নেশায় চুর হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন পাত্রের বাড়ির লোক ও বন্ধুরাও। শুধু তাই নয়,মত্ত অবস্থায় তারা কবিতার বাবার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন।

কবিতার এমন কথায় বাড়ি ভর্তি লোকজনও হকচকিয়ে যায়।অনেকেই বোঝাতে থাকেন বিয়েটা না হলে যে লগ্নভ্রষ্টা হবে সে।সব জানার পর লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয় উড়িয়ে দিয়ে ভরা বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে দিয়ে কবিতা জানায়..

"-যে লগ্নটা আমার জীবনের জন্য শুভ নয়,সেই লগ্ন থেকেই আমি সরে আসতে চাই।"

আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী কবিতার বাবাকে বলতে থাকেন,"মেয়েকে বোঝাও।এত টাকা খরচ করে মেয়ে যদি বিয়ে না করে,সেটা যে তার বাবারই ক্ষতি।" কবিতার বাবা বলে ওঠেন..

"-নিজের চোখে যা দেখলাম তাতে আমার কবিতা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আমিও একমত।আজ হয়তো আমার সামান্য আর্থিক ক্ষতি হল ঠিকই,জেনে শুনে নিজের মেয়ের জীবনটা নষ্ট করতে পারব না।সেটা সারা জীবনের জন্য অনেক বড়ো ক্ষতি।"

"-আর এদিকে যে মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হল?কাল থেকে তো ওকে সবাই লগ্নভ্রষ্টা বলবে....তার কী হবে?"

কবিতা আর চুপ করে থাকতে পারেনি।এক আত্মীয়ার এমন কথায় বলে বসে,

"-বলে বলুক।এ রকম শত শত লগ্ন জীবনে আসবে।কোন্ লগ্নটা আমার জন্য মঙ্গলময় হবে আজ থেকে সেটা আমি বুঝে নেব।আর আমি তো লগ্নভ্রষ্টা নই।আমাকে কেউ লগ্ন থেকে ভ্রষ্টও করেনি।লগ্ন ভ্রষ্ট হয়েছে সেই অসভ্য বর্বর মদ্য পানে আসক্ত মানুষটি যে বর বেশে বিয়ে করতে এসেছিল অথচ আমি তাকে বিয়ে করিনি।"

এরপর কবিতা এখানেই থেমে থাকেনি।বাবা গরীব হতে পারে,কিন্তু তার বাবার আত্ম সম্মান বোধ আছে একটা।হবু বর মদ খেয়ে তাঁর পরিবারের লোকের সাথে অভব্য আচরণ করেছেন।এমন অন্যায় মেনে নিতে পারেনি।তাই কবিতা থানায় গিয়ে হবু স্বামী ও তাঁর বাড়ির লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।মেয়ে হয়েও বাবার পাশে থাকার সাহস সেদিন কবিতা দেখিয়েছিল।

আচ্ছা এই লগ্নভ্রষ্টা শব্দটা কি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই?বিয়েটা ভেঙে গেল বলেই মেয়েটা লগ্নভ্রষ্টা?আর যে ছেলেটা, বিয়ে করতে এসেও বিয়ে হল না সে কি লগ্নভ্রষ্ট হল না?নাকি পুরুষ বলে? পুরুষ মানুষ কি সব পাপাচার করার অনুমতিপত্র নিয়ে জন্মেছে?এই ভাবনাই কবিতাকে ভাবিয়েছে নতুন করে জীবন শুরু করার ভাবনায়।একদিকে সমাজ আর একদিকে কবিতা।আসলে লড়াইটা শুরু হয়েছিল কবিতার বিয়ে ভাঙার দিন থেকেই।অনেক বড় চ্যালেঞ্জ তার কাছে।শুরু হয় নিজেকে গড়ার শপথ।কবিতা পড়াশোনায় মেধাবী না হলেও খেলা ধূলায় সে অসম্ভব পারদর্শী।সব থেকে বড় কথা কবিতার অসম্ভব সাহস।তাই পাড়া,প্রতিবেশী, আত্মীয়,স্বজন,সমাজ কারো কথায় কান না দিয়ে কবিতা এগিয়ে চলেছিল তার লক্ষ্যে।বাবার সহযোগিতা ছাড়া বোধহয় তার এতটা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না।দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা করেছিল সেদিন।

আজ কবিতা জীবনে প্রতিষ্ঠিত।পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদেও সে কর্মরত।সেদিন মদ্য পানে আসক্ত পুরুষটিকে লগ্ন ভ্রষ্ট না করলে আজ হয়তো এমন সুখের লগ্ন আসত না।সব কিছু থেকে মেয়েদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলে আসছে চিরকালই।আর আজকের সমাজ সব দোষ চাপিয়ে দেয় মেয়েদের কাঁধে।মুখ বুজে যেন সব কিছু মেনে নেওয়াটাই যেন তাদের স্বভাব।আর মেয়েরা ভাল কিছু করতে চাইলে সমাজ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, সমাজের মানুষেরা টেনে হিঁচড়ে নিচে নামাতে চেষ্টা করে তাদের।পুরুষ দ্বারাই ধর্ষিত হল নারী,অথচ সমাজ তাকে নাম দিয়ে দিল ধর্ষিতা।কি অদ্ভুত ব্যাপার তাই না?আচ্ছা লগ্নভ্রষ্টা,ধর্ষিতা,পতিতা, নষ্টা,ডিভোর্সি,ডাইনী,কুটনী এই শব্দগুলোর বাংলা অভিধানে পুং লিঙ্গ আছে কি? হয়তো নেই। বিয়ে ভেঙে গেল বলেই তৎক্ষণাৎ কাউকে ধরে নিয়ে এসে আবার মেয়েটির বিয়ে দেওয়া,এমনটা কখনোই কাম্য নয়।বিয়েটা তো কোনো উপশম নয়।সমাজ তো বলে.. পুরুষেরা নাকি লগ্নভ্রষ্ট হয় না। তার মানে পুরুষের তো কোনো লগ্নই নেই,লগ্ন তো নারীর।তাই একটা লগ্ন গেলে আবার একটা না একটা নতুন লগ্ন তার জীবনে আসবেই।তাই নারীর লগ্নে পুরুষ যদি বিয়ে না করে,তবে লগ্ন থেকে পুরুষই ভ্রষ্ট হয়,নারী নয়।আর কবিতা সেটাই বিশ্বাস করে।

কবিতা ভাবে জন্মানোর সময় মানুষ তার সারা জীবনের দিনলিপিটা যদি হাতে পেয়ে যেত কতই না ভালো হত।সব কিছুই আগে থেকে দেখতে পেত।জীবনের লড়াই আর টানা পোড়েনে ভালোবাসার নদীটি আজ শুকিয়ে গেছে।কারণ এক কালে তার জীবনেও ছিল ভালোবাসার মানুষ।স্কুলে পড়তে পড়তে ভালো বেসেছিল দেবেশকে।কবিতাদের কয়েকটা বাড়ির পরেই ছিল দেবেশের বাড়ি সবই অদৃষ্ট।জীবনের গতিপথ কীভাবে কোথায় মোড় নেবে কে জানে?দেবেশের সঙ্গে ভালোবাসার পাঠ সেই সময়েই চোকাতে হয়েছিল।কারণ দেবেশ তখন সবে মাত্র স্কুলের গণ্ডী পেরিয়েছে মাত্র। চাকরি বাকরি করেও না যে কবিতাকে বিয়ে করবে।তাই দেবেশ নিজেই বলেছিল বিয়েটা করে নিতে।কবিতার বিয়েটা ভেঙে যাওয়ায় যদিও পরবর্তী কালে দেবেশ ফিরে আসতে চেয়েছিল,কবিতা তখন রাজী হয়নি।তখন ভালোবাসা অপেক্ষা জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য ছিল।

সে যাইহোক কবিতা এখন প্রতিষ্ঠিত। পুলিশের চাকরি।চাপ তো একটু থাকেই।সেদিন ডিউটি থেকে তাড়াতাড়ি রুমেও ফিরেও গেছে কবিতা।ঘড়িতে তখন সাতটা বা তার একটু বেশি হবে। মোবাইলটার রিং বাজতে থাকে।হঠাৎ বাবা ফোন করছে দেখে কবিতা ভাবে এই তো একটু আগেই বাবার সঙ্গে কথা হল।আবার কি দরকার পড়লো।ফোনটা রিসিভ করে কবিতা...

"-হ্যাঁ বাবা বলো?"

"-শোন মা তোকে এখনই আসতে হবে।খুব বিপদ।"

"-মানে?কি হয়েছে?মায়ের শরীর ঠিক আছে তো?"

"-তোর মায়ের শরীরটাই অসুস্থ।তুই বেশি দেরি না করে সদর হসপিটালে চলে আয়।"...বলেই ফোনটা কেটে দেয় কবিতার বাবা।

খুব একটা বেশি দূর না হলেও কবিতার কর্মস্থল থেকে সদর হসপিটালের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার।কবিতাও আর দেরি না করে গাড়ি ধরে পৌঁছে যায় হসপিটালে।বাবাকে দেখতে পেয়েই বলে...

"-মা কেমন আছে? সব কিছু ঠিক ঠাক তো?"

"-হ্যাঁ ঠিক আছে রে মা।ডাক্তার দেখেছে।ভয়ের কিছু নেই।তোর মা কথাও বলছে।....আর বলিস কেন..টাইমে খাওয়া দাওয়া করবে না।প্রেসারের ওষুধটাও ঠিক মতো মনে করে খাবে না।তাই তো মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।.....আরে তুমি দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেন,কাছে এসো।"

বাবার মুখ থেকে কথাটা শুনেই দূরের দিকে তাকিয়ে দেখে কবিতা।তারপর কবিতা কিছু বলে ওঠবার আগেই কবিতার বাবা বলে ওঠে...

"-আরে ও ই তো সব কিছু করেছে। অ্যাম্বুলেন্স ডাকা,তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে আসা, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা সব কিছুই।আজ দেবেশ পাশে না থাকলে কি যে করতাম জানি না।আর তুই তো জানিস মা আমরা গ্রামে থাকি।সন্ধ্যের পর একটা ডাক্তার পর্যন্ত পাওয়া যায় না।দেবেশের এই উপকার কখনোই ভুলে যাব না।আচ্ছা তোরা কথা বল।কয়েকটা ওষুধ লাগবে দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসি।"

তারপর সব কিছু শুনে কবিতা বলে..

"-তোমাকে ধন্যবাদ দেব না।সত্যিই তোমার কাছে কৃতজ্ঞ দেবেশ।"

"-কবিতা আমি তো আমার কর্তব্য টুকু পালন করেছি।বিপদের দিনে এটুকু যদি করতে না পারি তাহলে আর কিসের মনুষ্যত্ব।তাছাড়াও একসময় তো আমরা কাছের বন্ধুও ছিলাম।পরিস্থিতি বদলাতে পারে।কিন্তু ভিতরের সম্পর্কটা তো শেষ হয়ে যায়নি। আমি আজও তোমাকে ভালোবাসি।"

কবিতা মনে মনে ভাবে দেবেশের সবটুকু কথাই সত্যি।পরিস্থিতি অনেক সময় দূরে সরিয়ে নিয়ে গেলেও মনের মধ্যে ভালোবাসার মানুষটা আজীবন থেকে যায়।তাই নতুন করে জীবনকে আবার সাজানো যেতে পারে।ভালোবেসে হৃদয়কেও আবার রাঙানো যেতে পারে।তারপর কিছু বুঝে উঠতে না দিয়েই দেবেশের হাতটা ধরে কবিতা বলে ওঠে...

"দেবেশ, আমিও তোমাকে ভালোবাসি এখনও।"

তারপর?কবিতা আর দেবেশের সেই পুরানো প্রেমটা নতুন রূপে ফিরে আসে।দেবেশ এখন প্রতিষ্ঠিত।বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত।দুই বাড়ির সম্মিলিত সিদ্ধান্তেই বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়।তারপর ফাল্গুন মাসের এক বাসন্তিক সন্ধ্যায় দেবেশ আসে বিয়ে করতে।একদম ঠিক সময়ে,ঠিক লগ্নে।চার হাত বাঁধা পড়ে।কবিতা আর দেবেশ উভয়েই খুঁজে পায় ভালোবাসার মানুষকে।হয়তো এমন লগ্নটার অপেক্ষায় ছিল কবিতা।আর সেই শুভ লগ্নে উচ্চারিত হয় শুভ পরিণয়ের সেই বৈদিক মন্ত্র.. " যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম।যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব।।"
(সমাপ্ত)
ছবি:সংগৃহীত।
(গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন)

ঘটনাটা ভীষণ বেদনা দায়ক ।বাবা যে মানুষটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় সে বাবা একটা মেয়েকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করতো এ ব্যাপা...
28/08/2022

ঘটনাটা ভীষণ বেদনা দায়ক ।বাবা যে মানুষটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় সে বাবা একটা মেয়েকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করতো এ ব্যাপারটা ভ*য়ং*ক*র ন*র*কী*য় ।কাল থেকেই পেপার পত্রিকায় পড়ে মনটা অজানা শংকায় কেঁপে উঠছিলো । এ ঘটনাটা যদি সত্যি হয় তবে পৃথিবীর মানব জাতী লজ্জাকর ইতিহাস সাক্ষী হতে যাচ্ছে ।

ঘটনাটা ঘটেছে রাজধানীর উত্তরায় দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর একটি সু*ই*সা*ই*ড নোট উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। যেখানে তার মৃ*ত্যু*র জন্য বাবাকে দায়ী করে গেছেন।

জানা গেছে, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ওই তরুণী। তিনি বাবা-মার সঙ্গে ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ভবনটিতে তাঁদের একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আ*হ*ত হোন ওই তরুণী। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ*ত ঘোষণা করেন।

এদিকে উদ্ধার করা ওই চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃ*ত্যু*র জন্য আমার বাবা দায়ী। একটা ঘরে পশুর সাথে থাকা যায়। কিন্তু অমানুষের সাথে না। একজন অত্যাচারী রে*পি*স্ট যে কাজের মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমি তার করুণ ভাগ্যের সূচনা।’

এ ছিল কালকের সংবাদ শিরোনাম । আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এ ঘটনা পড়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছি । কারন আমার বাবা আমার হিরো । আমি বাবাকে প্রচন্ড ভালোবাসি ।আমার কাছে পৃথিবীতে খারাপ বাবা নেই ।আমি পুরুষদের এই জন্য সম্মান করি কারন তারা বাবা । বাবাদের ত্যাগ আছে বলেই পৃথিবী টিকে আছে ।ঘটনা যাই হোক সুষ্ঠ তদন্ত দরকার ।

Address

Juri
Maulvi Bazar
1122

Opening Hours

Monday 11:54 - 21:45

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tomato posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Tomato:

Share