16/05/2026
আজ আবার ৩১ বছর বয়সী কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবর শুনলাম।
কি সমস্যা? — একই, লিভার ফেইলিউর।
একটু থামেন…
আমরা কি আসলে বুঝতে পারছি দেশে কী ভয়ংকর একটা নীরব মহামারী চলতেছে?
প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ লিভারের রোগে মারা যাচ্ছে।
লাখ লাখ মানুষ ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস, সিরোসিস আর নানা জটিলতায় ভুগছে।
কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে জাতির মাথাব্যথা কই?
আমরা প্রতিদিন কী খাচ্ছি?
ফল খাই — বিষ।
সবজি খাই — কেমিক্যাল।
মাছ খাই — ফরমালিন।
মুরগি খাই — ওষুধ।
রাস্তার খাবার খাই — জীবাণু।
কোনটা পুরোপুরি নিরাপদ?
ভেজাল, কেমিক্যাল, বিষাক্ত উপাদান— সবকিছু ধীরে ধীরে মানুষের শরীর শেষ করে দিচ্ছে।
এর সাথে আছে—
⚠ অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন
⚠ অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক
⚠ দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ
⚠ অস্বাস্থ্যকর খাবার
⚠ হেপাটাইটিস ভাইরাস
⚠ মাদক ও অ্যালকোহলের বিস্তার
সব মিলিয়ে একটা পুরো প্রজন্ম ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন?
আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, এখন তরুণ বয়সে ক্যান্সার, লিভার ডিজিজ বা কিডনি ফেইলিউরের খবর শুনলেও খুব বেশি অবাক হই না।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খবর নেন।
প্রতিটা ক্যাম্পাসে এমন তরুণ পাবেন যারা জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে।
এটা শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা না।
এটা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, সামাজিক অবহেলা আর জনস্বাস্থ্য সংকট।
নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দায়িত্ব।
স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দায়িত্ব।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হচ্ছে, আর আমরা শুধু দেখে যাচ্ছি।
আমরা রাজনীতি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক করি,
কিন্তু নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর স্বাস্থ্য নিয়ে কয়জন কথা বলি?
কিন্তু খাবারে বিষ মিশছে — এটা নিয়ে রাস্তায় নামি না।
আমরা স্ট্যাটাস দিই, তর্ক করি, ট্রল করি,
কিন্তু নিরাপদ খাবার চাই না।
রাষ্ট্র ব্যর্থ,
সিস্টেম দুর্বল,
আর মানুষ অসচেতন।
এই তিনটার মাঝখানে পড়ে মরছে সাধারণ মানুষ।
আর কত মৃত্যু লাগবে আমাদের জাগতে?
আজ যদি সচেতন না হই,
আগামীকাল হয়তো এই পোস্টটা আপনার বা আমার পরিবারের কাউকে নিয়েই লিখতে হবে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।