09/06/2020
আপনার বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের করোনা থেকে কিভাবে রক্ষা করবেন: কিছু কার্যকর টিপস
বর্তমান বিশ্বে নোভেল করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট কোভিড-১৯ হলো সবচেয়ে ভয়াবহ একটা বাস্তবতা!! সারা পৃথিবীর মানুষের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে এই অতি সূক্ষ্ম ভাইরাস টি!! ব্যাক্তি থেকে পরিবার; পরিবার থেকে সমাজ; সমাজ থেকে রাষ্ট্র; রাষ্ট্র থেকে পুরো বিশ্ব সবাই আজ আক্রান্তের ঝুঁকির তালিকায়!! ধনী-দরিদ্র, জাত-পাত, সাদা-কালো, ঊচু-নিচু কারো প্রতি কোন বৈষম্য নেই এই অণুজীবটির!! কারো প্রতি কোনও দয়াদাক্ষিণ্য কিম্বা করুণা নেই!! আপন খেয়ালে আক্রান্ত করে চলেছে অঞ্চলের পর অঞ্চল, দেশের পরে দেশ!!
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি এবং মৃত্যুহারে ষাটোর্ধ ব্যাক্তিরা সামনের সারিতে রয়েছেন। এর কারণটা হলো বয়স্ক মানুষদের কমতে থাকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা!! আর এই দুষ্টু ভাইরাসটি এত দ্রুত তার চরিত্রে বদল আনতে পারে যে মাল্টি-অর্গান ফেলিউরের দিকে নিয়ে যেতে খুব একটা সময় নেয় না!! যদিও আমাদের দেশে ৬০ এবং এর বেশি বয়সী মানুষ আছেন মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০%, কিন্তু করোনাভাইরাস থেকে তাঁদের মৃত্যু মোট সংখ্যার ৫০% এর বেশি!!
ইউএনবির এক তথ্য অনুযায়ী, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়া তে ৬০+ বয়সী মানুষদের করোনাভাইরাস এর কারণে মৃত্যু হার ৭০% এর বেশি। ইউএসএ, ইউরোপ আর চায়নাতে এই হার হল প্রায় ৮০%।
আমার, আপনার, আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই আছেন প্রিয় এবং আপন প্রবীণ সদস্যগণ যিনি হতে পারেন মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি কিম্বা দাদা-দাদি অথবা নানা-নানি। তাই করোনার এই দুঃসময়ে বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের যত্নে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে!! করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে বয়স্কদের বেশি সাবধানে রাখার পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছে ডব্লিউএইচও!!
চলুন দেখি আপনি কি কি করতে পারেন আপনার প্রিয় মানুষ গুলোর সুরক্ষায়ঃ
১। বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে আপনি কিম্বা আপনার পরিবারের অন্য কোন সদস্য কখনোই বয়স্ক মানুষদের কাছে যাবেন না যতক্ষণ না পর্যন্ত বাইরের জামাকাপড় ছেড়ে নিজেকে ভালোভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন!!
২। বাড়িতে থাকলে বয়স্ক মানুষটির খুব কাছাকাছি যাবেন না একান্ত জরুরি না হোলে।
৩। প্রবীণ মানুষটি যেন অকারণে বাইরে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। জরুরী প্রয়োজনে যদি বাইরে যেতেই হয়, তিনি যেন মাস্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে যান সেই ব্যাপারটা নিশ্চিত করুন।
৪। বাড়ির ষাটোর্ধ মানুষদের জামা কাপড় প্রতিদিন ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে পরিষ্কার করে দেবার বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৫। তাঁদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিস যেমন গ্লাস, থালা, লুঙ্গি, শাড়ি, টাওয়েল ইত্যাদি আলাদা করে রাখুন এবং এগুলো প্রতিদিন গরম পানিতে পরিষ্কার করে দেবার ব্যবস্থা করুন।
৬। তারা যেন নিয়মিত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন এবং ঘন ঘন সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধৌত করেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
৭। বাড়ির দরজা জানালার হাতল গুলো নিয়মিত জীবাণু মুক্ত করুন।
৮। আপনার বা বাড়ির অন্য কোনও সদস্যের জ্বর বা ফ্লু হলে প্রবীণ ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে যাবেন না। নিজেকে আইসোলেশনে রাখুন এবং অতি সত্বর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৯। প্রবীণ মানুষটি যদি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হার্ট, ফুসফুস বা কিডনির সমস্যায় আগে থেকেই আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিচর্যা করুন!! ডাক্তারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে ফোনে কিম্বা অন্য যে কোন ডিজিটাল মাধ্যমে। ঠিকমতো ওষুধ খাবার বিষয়টি নজরদারিতে রাখুন।
১০। বাইরের কোন লোক বাড়িতে আসলে বয়স্ক মানুষদের তাঁদের সামনে আসতে দিবেন না। কোন ভাবে এসে পরলে পরবর্তীতে জরুরী ভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
১১। তাদেরকে এসি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করুন এবং বার বার গরম পানিতে গারগল করানোর ব্যাবস্থা করুন।
১২। ভিটামিন বি এবং ছি আছে এমন শাকসবজি ও ফলমূল আর প্রোটিন যুক্ত খাবারের ব্যাবস্থা করুন।
১৩। সূর্যের আলোতে প্রচুর ভিটামিন ডি রয়েছে। তাদেরকে সূর্যালোকের সংস্পর্শে নিয়মিত নিয়ে যান।
১৪। তারা যদি শারীরিক ভাবে কর্মক্ষম হন, তাহলে বাড়ির ভেতরেই হাটা চলা করা বা হাল্কা ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন। এতে করে শরীরের ইম্যুনিটি বাড়বে।
পরিশেষে বলবো, যত্নে থাকুক আপনার প্রিয় মানুষটি!! আপনি আমি আজ যে অবস্থানেই আছি না কেন, এখানে আসবার পেছনে এই মানুষগুলিই সৃষ্টিকর্তার পরে সবচেয়ে বড় কারিগর!!