Buniad SM

Buniad SM Hi, there. We are introducing to you our new innovative business which is about handmade crafts. We

10/05/2026

স্ত্রীর আমল স্বামীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। অনেক সময় আল্লাহ একজনের নেক আমলের বরকত পুরো পরিবারে ছড়িয়ে দেন। এমনকি আয়-রোজগারেও বারাকাহ্ আসে।

এক বোন তার দু'আ কবুলের গল্প শেয়ার করেছিলেন। আপুর স্বামী প্রবাসী। দেশে আয়-রোজগারের সুযোগ না থাকায় বিদেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে আরও বেশি কষ্টে পড়েন। এমন অবস্থা ছিলো যে পরিবারকে দিবেন দূরে থাক, ওনার (আপুর হাসবেন্ড) নিজের চলাই কঠিন হয়ে গিয়েছিলো।

এরপর আপু দুরুদ ও ইস্তেগফারের ফজিলত জানার পর নিয়মিত আমল শুরু করেন। প্রতিদিন ১ হাজার, ৩ হাজার, ৫ হাজার যতটুকু পারতেন ইস্তেগফার করতেন। পাশাপাশি দুরুদে ইব্রাহীম পাঠ করতেন।
আলহামদুলিল্লাহ, আমল শুরুর ৩-৪ মাসের মধ্যেই আপুর স্বামীর ভালো একটা জব হয়। ইনকামও অনেক ভালো আলহামদুলিল্লাহ। আপু যা চেয়েছেন, তারচেয়ে কয়েক গুণ বেশি পেয়েছেন। আল্লাহ তাদের জীবনে আরও বারাকাহ্ দান করুন।

ইস্তেগফার ও দুরুদ এমন আমল, যা শুধু আখিরাতের জন্য নয় বরং দুনিয়ার অনেক কঠিন অবস্থাও সহজ হওয়ার মাধ্যম হতে পারে ইনশাআল্লাহ!

✍️Tahia Islam

04/05/2026

হাঁটতে হাঁটতে নবিজি ﷺ' বেদনাভরা কণ্ঠে, খুব ক্ষীণ আওয়াজে বললেন, 'মুআয, হয়তো এ বছরের পর আমার সাক্ষাৎ আর পাবে না তুমি।'

এ কথা শুনে মুআযের হৃৎকম্পন যেন থেমে যায়। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় চারিপাশ।

এরপর নবিজি ﷺ' তার কথা পূর্ণ করেন, ‘আর হয়তো তুমি এই মসজিদের সামনে এসে দাঁড়াবে, হেঁটে যাবে আমার কবরের পাশ দিয়ে।’ অশ্রু এসে জমা হলো মুআযের চোখের কোণে।

কতটা কষ্ট আর হৃদয় পোড়ার বেদনা লুকিয়ে আছে ‘আমার কবরের পাশ দিয়ে’ কথাটির মাঝে!

বই: তিনিই আমার প্রাণের নবি ﷺ

03/05/2026

দু'আ কবুলে দুরুদে ইব্রাহিম 💚

একটা সময় আমার জীবন ছিল অসংখ্য সমস্যায় ভরপুর। আমি বেকার হয়ে বাড়িতে বসে ছিলাম এবং এই দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তির কোনো সমাধান খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একদিন আমার উস্তাদ আমাকে যত বেশি থেকে বেশি সম্ভব দুরুদ পড়তে পরামর্শ দিলেন।

আলহামদুলিল্লাহ আমি শুরু করলাম, প্রতিদিন পড়তে লাগলাম। সকাল থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অব্দি আমি দুরুদ পড়তাম। আমি সংক্ষিপ্ত ও বড় দরুদ মিলিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম।

আলহামদুলিল্লাহ এক মাস পরে আমি সরকারি চাকরির জন্য ৩ টি কল পেলাম, যা আমাকে হতবাক করেছিল। আমি দিকনির্দেশনার জন্য ইস্তিখারা করলাম এবং সেরা একটি চাকরি বেছে নিলাম। আর এখন আমি দুরুদে ইব্রাহীমের অলৌকিকতার এক জীবন্ত সাক্ষী আলহামদুলিল্লাহ।
:
সংগৃহীত

30/04/2026

চোখে পানি আসার মতো একটি কথা..!!

আল্লাহ বলেন, হে বান্দা তুমি রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছো কেন? তুমি ভাবছো আগামী কাল কি হবে, কিভাবে চলবে জীবন? অথচ আমি তো আসমান ও জমিনের রব! আমি পাখিদের রিযিক দিই, আমি সমুদ্রে গভীরে লুকানো মাছ গুলো কেও খাওয়াই। তুমি নিশ্চিত থাকো। তোমার রিজিক আমি তোমার জন্মের আগেই লিখে রেখেছি। তুমি শুধু আমার ওপর ভরসা রাখো। যখন সবাই অচেনা হয়ে যাবে তখন আমি তোমার পাশেই থাকবো, আমি তোমার রব.!'

30/04/2026
29/04/2026

সামনে নাকি ভয়াবহ দিন আসতেছে!
সবাই বলে গ্রামে চলে যাবে, ঘটনা কি সত্য নাকি?
তো এই পরস্থিতিতে কার কি চিন্তাভাবনা বলেন তো দেখি?

আচ্ছা আমার কি চিন্তাভাবনা সেটার উত্তর টা দিচ্ছি।

অনেকেই বলে যে,শহর কেন্দ্রীক জীবনযাপন বলে
অচল হয়ে যাবে।
তাই নাকি?.
সত্যি নাকি ভাই?

আচ্ছা এবার তাহলে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন থেকে একটু চিন্তা করে দেখি তো,কি পাই!.
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে কোথায় গেছিলেন?

মক্কা থেকে মদিনায়।
মদিনা অর্থ কি?
মদীনা অর্থই হলো শহর বা নগরী।
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে,মদীনায় দুধ মাতার কাছে দুধ পান করার জন্য দেওয়া হয়েছিল,মদীনার বিশুদ্ধ শুদ্ধ ভাষা শিক্ষা করার জন্য।
মক্কার আরব রা ছিল,বেশিরভাগ উগ্র আচরণের।
সুরা কুরাইশ থেকে আমরা জানতে পারি,শুধু মাত্র কাবা ঘরের দেখাশোনা এবং রক্ষনাবেক্ষনের কারনেই,
আল্লাহ তায়ালা কুরাইশ দের কে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। আর তাই ব্যাবসার কাফেলা নিয়ে সফর করার সময় আরব বেদুইন বা ডাকাত দের আক্রমণ এর হাত থেকে,
কুরাইশ রা রক্ষা পেত।
কারন কাবা ঘরের রক্ষণশীল হিসেবে তাদের কে বেদুইন রা ও সম্মান করত।তাই তাদের কাফেলাতে আক্রমণ করত না।
যেই ব্যাবসা তারা করতেন, সেটার মালামাল আনার জন্য ও তাদের কে শহরে যাতায়াত করতে হত।
এই যুগে লক্ষ লক্ষ মানুষের জিবীকা শহর কেন্দীক।
তাদের গ্রামে ও কোন ঘরবাড়ি, জমি বা ফসল আবাদের ক্ষেত নেই।।
তারা যদি গ্রামে গিয়ে পড়ে থাকে,
তাহলে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে হবে।
এবং ক,রোনাকালীন সময়ে সেটাই হয়েছে।
কিন্তু ভেবে দেখেন,তখন লক ডাউনের সময়, অভাবগ্রস্থ দরিদ্র মানুষের জন্য কিন্ত আল্লাহ তায়ালা তার ধনী বান্দাদের হাত প্রসারিত করে দিয়েছিলেন।
তখন দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বেশি অনুদান দিত ধনী মানুষেরা।
এবার দেখেন,গাযার অবস্থা।
সেটাও একটা শহর কেন্দ্রীক দেশ।
সেই শহর কে গুরিয়ে দেওয়া হলো।
কিন্তু সেখানের অধিবাসী দের জন্য ও কিন্তু আল্লাহ তায়ালা রিজিক পাঠানো বন্ধ করে দেন নাই।
দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই আল্লাহর বান্দারা গাযা বাসির জন্য খাবার পাঠাচ্ছে।
না খেয়ে মা,রা গেছে এমন মানুষ সেখানে খুব কমই।
যারা শহীদ হয়েছে, তারা কুফফার দের,আক্রমণ এর জন্য হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
শাহাদাত এর তামান্না হয়তো তাদের হৃদয়ে আগে থেকেই ছিল।।তাইতো তাদের পরিবার এর সন্তান রা শহীদ হইলে,কারো কারো বাবা কে দেখি মানুষ দের কে মিস্টি খাওয়াতে।
এই যে এখন সারা দুনিয়ার মধ্যে তেল সংকট, সেজন্য কি কিয়ামত চলেই এসেছে?
আরে ভাই,দাড়ান,
আগে শুনেন,
এমন পরিস্থিতি, আগের যুগের সব নবী রাসুল দের যুগ থেকেই চলে এসেছে।।আগেও কাফের দের সঙ্গে মুসলিম দের সংঘাত চলতোই ।।
এবং কিয়ামত এর আগ পর্যন্ত এটা চলতেই থাকবে।

মনে করেন,এবার না হয়,ক,রোনার থেকে ও ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে!
তো কি হয়েছে?
রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি শিয়াবে আবি তালিবে,
টানা ৩ বছর অবরুদ্ধ রাখা হয়নি? তখন কি
তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা সাহাবা রা গাছের পাতা খেয়ে ও জীবন ধারণ করেন নাই?

আপনি যদি অনেক বেশি ঈমান এর অধিকারী হতে পারেন,তাহলে আপনার উপর পরীক্ষার ভার তত টাই বড় করে আসবেই।
ঈমান এর পরিমাণ কম হইলে তখন,দাজ্জালের দেওয়া খাবার খেয়েই ঈমান হারাতে হবে।।
তাই শহর আর গ্রাম বলে কথা নয়।
যার রুজিতে সংকট লেখা আছে,
সে গ্রামে থাকলে ও অভাবগ্রস্থই থাকবে।
যার রিজিক শহরে লেখা সে,সেখানেই রিজিক পাবে।
সকল ধরনের পরিস্থিতিতেই যার নিজ রবের উপর পরিপূর্ণ ভরসা থাকে, তিনি তাকে সেই সকল পরিস্থিতি থেকে উতরে যাওয়ার পথ বের করে দেন।

মোট কথা
যার ঈমান যত বড় তার পরীক্ষা ও ততই বড় হবে।
যার তাওয়াক্কুল যত বড়, তার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবেও তত টাই বড় করে।

29/04/2026

সূরা ইয়াসিন পড়েন?

বেশিরভাগ মানুষ পড়েন — রোগীর পাশে। মৃত্যুর পর। জুমার দিন। বিশেষ মুনাজাতে।

কিন্তু একটা প্রশ্ন —

সূরা ইয়াসিন কি শুধু মৃত্যুর সূরা?

আমরা এটাকে শুধু মৃত্যু ও কবরের সূরা বানিয়ে ফেলেছি। কেউ মারা গেলে পড়ি। রোগী শেষ মুহূর্তে পড়ি। কবরের পাশে পড়ি।

অথচ নবীজি ﷺ একে বলেছেন — "কুরআনের হৃদয়।" (মুসনাদে আহমাদ, সুনানে দারিমি)

হৃদয় কি শুধু মৃত্যুর সময় কাজ করে? নাকি প্রতিটা মুহূর্তে?

সূরা ইয়াসিন জীবিতদের সূরা — যাদের হেদায়াত দরকার, রিজিক দরকার, তাকদীরে ভরসা দরকার, অসম্ভবকে সম্ভব করা দরকার।

আজ এই সূরার ৫টা আয়াতের দিকে তাকাবো — যেগুলো ৫টা জীবন্ত সমস্যার সমাধান দেয়, কিন্তু আমরা খেয়াল করি না।

সূরা ইয়াসিন মক্কী সূরা। আয়াত সংখ্যা ৮৩। নবীজি ﷺ বলেছেন — "সবকিছুর একটি হৃদয় আছে। কুরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন।" আর বলেছেন — "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়ে সূরা ইয়াসিন পড়বে, তার আগের গুনাহ মাফ করা হবে।" (বাইহাকি, শুআবুল ঈমান)

---

✅ আয়াত ১: হেদায়াতের সমস্যা — যখন পথ হারিয়ে যাচ্ছেন

সন্তান নামাজ পড়ে না। স্বামী দ্বীন মানে না। বন্ধু হারাম কাজে জড়িয়ে গেছে। নিজেও কখনো কখনো পথ হারিয়ে ফেলেন — গুনাহ করে ফেলেন, তাওবা করেন, আবার করেন।

সূরা ইয়াসিনের শুরুতেই আল্লাহ বলেছেন —

إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ○ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

উচ্চারণ: ইন্নাকা লামিনাল মুরসালীন, আলা সিরাতিম মুস্তাকীম।

"নিশ্চয়ই আপনি রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত। সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।"
(সূরা ইয়াসিন: ৩-৪)

তারপর আল্লাহ বলেছেন — এই কুরআন নাযিল হয়েছে "লিতুনযিরা কাওমান" — এমন একটি জাতিকে সতর্ক করতে যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, তাই তারা গাফেল। (সূরা ইয়াসিন: ৬)

এই আয়াত কী শেখায়?

হেদায়াতের উৎস কুরআন। পথ হারালে ফিরে আসার জায়গা কুরআন। সন্তান পথ হারাচ্ছে? কুরআনের কাছে আনুন। নিজে পথ হারাচ্ছেন? কুরআন খুলুন।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — হেদায়াত আল্লাহর হাতে। আপনি চেষ্টা করবেন, দোয়া করবেন, কিন্তু হেদায়াত দেবেন আল্লাহ। তাই সেজদায় গিয়ে বলুন — "ইয়া আল্লাহ, আমাকে ও আমার পরিবারকে সিরাতাল মুস্তাকীমে রাখুন।"

---

✅ আয়াত ২: মৃত্যু-পরবর্তী সন্দেহ — "মরার পর কি সত্যিই উঠবো?"

অনেকের মনে এই প্রশ্ন আসে — না বললেও ভেতরে ভেতরে সন্দেহ থাকে। "সত্যিই কি কবর থেকে উঠবো? সত্যিই কি হিসাব হবে?"

সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ সরাসরি উত্তর দিয়েছেন —

وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ ۖ قَالَ مَن يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ ○ قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ

উচ্চারণ: ওয়া দারাবা লানা মাসালান ওয়া নাসিয়া খালকাহ, কালা মাইয়্যুহয়িল ইযামা ওয়া হিয়া রামীম। কুল ইউহয়ীহাল্লাযি আনশাআহা আওয়্যালা মাররাহ।

"সে আমার সম্পর্কে উপমা দেয় অথচ নিজের সৃষ্টি ভুলে যায়। সে বলে — পচা হাড়কে কে জীবিত করবে? বলুন — তিনিই জীবিত করবেন যিনি এটা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন।"
(সূরা ইয়াসিন: ৭৮-৭৯)

কত সহজ যুক্তি! যিনি শূন্য থেকে বানিয়েছেন — তিনি কি আবার বানাতে পারবেন না?

এই আয়াত কী শেখায়?

আখিরাত সত্য। পুনরুত্থান সত্য। হিসাব সত্য। আর এই বিশ্বাস মজবুত থাকলে — গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়। কারণ জানেন — একদিন দাঁড়াতে হবে।

যখন ঈমানে দুর্বলতা লাগে, আখিরাত নিয়ে সন্দেহ আসে — সূরা ইয়াসিনের এই আয়াত পড়ুন। আল্লাহ নিজে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছেন।

---

✅ আয়াত ৩: রিজিকের সংকট — "আল্লাহ কীভাবে রিজিক দেন?"

রিজিকের চিন্তা সবার আছে। চাকরি নেই। ব্যবসায় লস। মাসের মাঝেই টাকা শেষ।

সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ রিজিকের নিদর্শন দেখিয়েছেন —

وَآيَةٌ لَّهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ

উচ্চারণ: ওয়া আয়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহয়াইনাহা ওয়া আখরাজনা মিনহা হাব্বান ফামিনহু ইয়াকুলুন।

"তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো মৃত জমিন — আমি তাকে জীবিত করি এবং তা থেকে শস্য বের করি — তা থেকেই তারা খায়।"
(সূরা ইয়াসিন: ৩৩)

মৃত জমিন। শুকনো। ফাটা। কিছু নেই। আল্লাহ বৃষ্টি দেন — সবুজ হয়ে যায়। ফসল ফলে। ফল আসে। খেজুর, আঙুর, জলপাই।

এই আয়াত কী শেখায়?

আপনার জীবনও কি এখন "মৃত জমিনের" মতো? রিজিক নেই, কাজ নেই, আশা নেই? আল্লাহ মৃত জমিনকে জীবিত করেন — আপনার রিজিকের "মৃত জমিনও" জীবিত করতে পারেন।

তারপর আল্লাহ বলেছেন — "ওয়া জাআলনা ফিহা জান্নাতিম মিন নাখিলিন ওয়া আনাব" — সেখানে খেজুর ও আঙুরের বাগান বানিয়েছি। আর ঝর্ণা প্রবাহিত করেছি। (সূরা ইয়াসিন: ৩৪)

শুকনো জমিনে বাগান? ঝর্ণা? এটা আল্লাহর ক্ষমতা। আপনার শুকনো জীবনেও আল্লাহ বাগান ফোটাতে পারেন।

---

✅ আয়াত ৪: তাকদীরের চিন্তা — "সব কি আগে থেকে লেখা?"

"আমার ভাগ্যে কিছু নেই।" "আমি হতভাগ্য।" "অন্যরা পায়, আমি পাই না।"

তাকদীর নিয়ে হতাশা — অনেকের মনে।

সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ বলেছেন —

وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُّبِينٍ

উচ্চারণ: ওয়া কুল্লা শাইইন আহসাইনাহু ফি ইমামিম মুবীন।

"সবকিছু আমি সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি।"
(সূরা ইয়াসিন: ১২)

সবকিছু লেখা আছে। কিন্তু "লেখা আছে" মানে "পরিবর্তন হবে না" — এটা ভুল বোঝাবুঝি।

নবীজি ﷺ বলেছেন — "দোয়া তাকদীর পরিবর্তন করে।" (জামে তিরমিযী: ২১৩৯)

আর নবীজি ﷺ বলেছেন — "আত্মীয়তা রক্ষায় হায়াত বাড়ে ও রিজিক প্রশস্ত হয়।" (সহীহ বুখারী: ৫৯৮৫)

মানে তাকদীর আছে — কিন্তু দোয়া, আমল, সদাকাহ, আত্মীয়তা — এগুলো তাকদীরকে প্রভাবিত করে।

এই আয়াত কী শেখায়?

হতাশ হবেন না। "আমার ভাগ্যে নেই" বলে বসে থাকবেন না। আল্লাহর পরিকল্পনায় ভরসা রাখুন — কিন্তু চেষ্টা ও দোয়া চালিয়ে যান। আল্লাহ সবকিছু জানেন — আর তিনি সবচেয়ে ভালো পরিকল্পনাকারী।

---

✅ আয়াত ৫: "কুন ফাইয়াকুন" — যখন মনে হয় অসম্ভব

এটা সূরা ইয়াসিনের সবচেয়ে শক্তিশালী আয়াত। পুরো কুরআনের সবচেয়ে শক্তিশালী আয়াতগুলোর একটা —

إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَن يَقُولَ لَهُ كُن فَيَكُونُ

উচ্চারণ: ইন্নামা আমরুহু ইযা আরাদা শাইআন আইয়্যাকুলা লাহু কুন ফাইয়াকুন।

"তাঁর ব্যাপার শুধু এই — তিনি যখন কিছু চান, তখন বলেন 'হও' — আর তা হয়ে যায়।"
(সূরা ইয়াসিন: ৮২)

"কুন" — হও। "ফাইয়াকুন" — হয়ে যায়।

মাঝখানে কোনো সময় লাগে না। কোনো প্রক্রিয়া লাগে না। কোনো মাধ্যম লাগে না। আল্লাহ বলেন "কুন" — হয়ে যায়।

সন্তান হওয়া অসম্ভব? আল্লাহ বলেন "কুন" — হয়ে যায়। যাকারিয়া (আ.)-এর জীবনে হয়েছে।

রোগ সারা অসম্ভব? আল্লাহ বলেন "কুন" — হয়ে যায়। আইয়ুব (আ.)-এর জীবনে হয়েছে।

চাকরি পাওয়া অসম্ভব? আল্লাহ বলেন "কুন" — হয়ে যায়। মুসা (আ.) শূন্য থেকে সব পেয়েছেন।

আগুনে বেঁচে থাকা অসম্ভব? আল্লাহ বলেন "কুন" — আগুন ঠান্ডা হয়ে যায়। ইবরাহীম (আ.)-এর জীবনে হয়েছে।

এই আয়াত কী শেখায়?

আপনার "অসম্ভব" আল্লাহর কাছে "কুন।" শুধু একটা শব্দ। আর হয়ে যায়।

তাই "অসম্ভব" শব্দটা অভিধান থেকে মুছে ফেলুন। আল্লাহর অভিধানে এই শব্দ নেই।

---

✅ ৫টা আয়াত — এক নজরে

▪️হেদায়াত হারাচ্ছেন? — সূরা ইয়াসিন ৩-৪: সিরাতাল মুস্তাকীমের ওপর ফিরে আসুন।

▪️আখিরাতে সন্দেহ? — সূরা ইয়াসিন ৭৮-৭৯: যিনি প্রথমবার বানিয়েছেন, তিনি আবার বানাবেন।

▪️রিজিকের সংকট? — সূরা ইয়াসিন ৩৩: মৃত জমিনকে জীবিত করেন, আপনার রিজিকও দেবেন।

▪️তাকদীরে হতাশ? — সূরা ইয়াসিন ১২: সবকিছু লেখা আছে, কিন্তু দোয়া তাকদীর বদলায়।

▪️অসম্ভব মনে হচ্ছে? — সূরা ইয়াসিন ৮২: "কুন ফাইয়াকুন" — আল্লাহ বলেন "হও", হয়ে যায়।

৫টা আয়াত। ৫টা সমস্যা। ৫টা সমাধান। আর সবগুলো একটা সূরায় — যে সূরাকে নবীজি ﷺ বলেছেন "কুরআনের হৃদয়।"

আমরা এই সূরা শুধু মৃত্যুর সময় পড়ি। কিন্তু এই সূরা জীবনের সূরা। হেদায়াতের সূরা। রিজিকের সূরা। ভরসার সূরা। "কুন ফাইয়াকুন"-এর সূরা।

মনে রাখবেন!

সূরা ইয়াসিনকে আমরা মৃত্যুর সূরা বানিয়ে ফেলেছি। অথচ এটা কুরআনের হৃদয়। হৃদয় কি শুধু মৃত্যুর সময় কাজ করে?

হৃদয় প্রতিটা মুহূর্তে কাজ করে। ঠিক তেমনি সূরা ইয়াসিন প্রতিটা সমস্যায় কাজ করে।

পথ হারিয়েছেন? সূরা ইয়াসিন পথ দেখাবে।
আখিরাতে সন্দেহ? সূরা ইয়াসিন ঈমান মজবুত করবে।
রিজিক নেই? সূরা ইয়াসিন আশা জোগাবে।
তাকদীরে হতাশ? সূরা ইয়াসিন ভরসা দেবে।
অসম্ভব মনে হচ্ছে? সূরা ইয়াসিন বলবে — "কুন ফাইয়াকুন।"

আজ থেকে সূরা ইয়াসিন শুধু মৃত্যুর জন্য রাখবেন না। জীবনের জন্য পড়ুন। বুঝে পড়ুন। আমল করুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়ার, এর শিক্ষায় আমল করার, হেদায়াতে অটল থাকার, রিজিকে ভরসা রাখার, তাকদীরে সন্তুষ্ট থাকার, আর "কুন ফাইয়াকুন"-এর রবের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার তাওফিক দিন। আমিন।

সূরা ইয়াসিনের কোন আয়াতটা আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি দরকার?
কমেন্টে নম্বর লিখুন — ১/২/৩/৪/৫

রেফারেন্স:
— সূরা ইয়াসিন: ৩-৪, ৬, ১২, ৩৩-৩৪, ৭৮-৭৯, ৮২
— সহীহ বুখারী: ৫৯৮৫
— জামে তিরমিযী: ২১৩৯
— মুসনাদে আহমাদ
— সুনানে দারিমি
— বাইহাকি, শুআবুল ঈমান

29/04/2026

Address

Narayongonj
Narajanganj

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Telephone

+8801819698031

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Buniad SM posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share