17/05/2021
দান করার ফজিলত নিম্নরূপ……
*আবু হুরাইরাহ রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,*
*যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণও সাদকা করবে* *(আর আল্লাহ তা‘আলা তো একমাত্র হালাল বস্তুই গ্রহণ করে থাকেন)* *আল্লাহ তা‘আলা তা ডান হাতে গ্রহণ করবেন। অতঃপর তা তার কল্যাণেই বর্ধিত করবেন যেমনিভাবে তোমাদের কেউ একটি ঘোড়ার বাচ্চাকে সুন্দরভাবে লালন-পালন করে বর্ধিত করে। এমনকি আল্লাহ তা‘আলা পরিশেষে সে খেজুর সমপরিমাণ বস্তুটিকে একটি পাহাড় সমপরিমাণ বানিয়ে দেন।*
*====================================*
*[বুখারী ১৪১০, মুসলিম ১০১৪, তিরমিযী ৬৬১, নাসায়ী ২৫২৫, ইবনু মাজাহ ১৮৪২, আহমাদ ৭৫৭৮]*
*দান সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায়,সাদাকা কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা করে, সাদাকা অন্তর নরম করে, রোগ থেকে মুক্তি দেয়, দান গুনাহ মিটিয়ে দেয়, সাদাকা কেয়ামতের মাঠে ছায়া* *দিবে,*
*সাদাকা জাহান্নামের আগুন নিভিয়ে দেয়, সাদাকা আল্লাহর রাগকে কমিয়ে দেয়,জাহান্নাম থেকে বাচাঁর জন্য* *সাদাকা জরুরি।মুমিন ব্যক্তি সর্ব অবস্থায় দান সাদাকা করে,স্বচ্ছল,অস্বচ্ছ সর্ব অবস্থায় সাদাকা করা ঈমানদারের লক্ষন,কৃপন ব্যক্তির জন্য ধবংস।*
💠 *সম্পদ ও রিজিক বৃদ্ধি করে:
আল্লাহা সুবহানাহু তায়ালা বলেন,*
*(আল্লাহ তায়ালা সুদকে বিলুপ্ত করেন এবং সাদাকাকে বৃদ্ধি করেন।)*
*[বাক্বরাহ/২৭৬]*
*এবং*
*নবী ﷺ বলেন:*
*“সাদাকা কোনও মালকে হ্রাস করে না”।*
*[মুসলিম, নং ২৫৮৮]*
*হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,*
*"জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাক যদিও অর্ধেক খেজুরও সাদাকা করে হয়”।*
[মুত্তাফাক আলাইহি]
💠সঠিক ঈমানের প্রমাণ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“সাদাকা হচ্ছে প্রমাণ”।
[মুসলিম, স্বহীহ আল জামি নং ৩৯৫৭]
অতএব, প্রত্যেক বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরই উচিত দুনিয়াতে বসেই পরকালের পুঁজি সংগ্রহ করা।
দুনিয়ার চাকচিক্যে নিজেকে জড়িত না রেখে, ধন-সম্পদের মোহ ত্যাগ করে অন্ততপক্ষে আখেরাতের সাফল্যের জন্য প্রতিনিয়ত কিছু ব্যয় করা।
অপর আর একটা হাদিসে এসেছে,
উকবাহ বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত:
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
(কিয়ামতের মাঠে রৌদ্রতপ্ত দিনে)সমস্ত লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ নিজ সদকার ছায়াতলে অবস্থান করবে
[গ্রন্থঃহাদীস সম্ভার,৯৪৮ ইবনে হিববান ৩৩১০,সহিহ তারগীব ৮৭২]
অন্য জায়গায় বলা হয়েছে,
সাদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে মানুষ মৃত্যুর পরেও কবরে থেকে সওয়াব লাভ করতে থাকে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
« إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ ».
অর্থ: মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না-
- ১. সদকায়ে জারিয়া
- ২. এমন জ্ঞান-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়
- ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দু‘আ করে [সহিহ মুসলিম, হা/৪৩১০]
এক কথায় বলা যায়, সাদকায়ে জারিয়া হল, আখিরাতের জন্য ইনভেস্ট।
যার বেনিফিট মৃত্যুর পরেও একজন মানুষের আমলনামায় জমা হতেই থাকে।
সুতরাং মৃত্যুর পূর্বে যথাসম্ভব প্রত্যেকের কিছু সদকায়ে জারিয়ার কাজ করার চেষ্টা করে যাওয়া উচিত।