Campus-EShop

Campus-EShop Campus related cloths & Bagasse E-shop for Campus related Cloths, Baggage all other product

29/01/2020

https://www.facebook.com/HelloMr.andMrs/

উন্নত প্রোডাক্ট- ভাল সার্ভিস-
"বিজনেস আপনার,
ইনকাম আপনার-
কিন্তু ইনভেস্ট আমাদের

15/07/2018

শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে - বঙ্গবন্ধু

ইতিহাসে চেঙ্গিস খাঁন১৯৯৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর আমেরিকার নেতৃস্হানীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং টেলিভিশন নিউজ চ্যানেল স...
26/04/2018

ইতিহাসে চেঙ্গিস খাঁন

১৯৯৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর আমেরিকার নেতৃস্হানীয় সংবাদপত্র ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং টেলিভিশন নিউজ চ্যানেল সিএনএন গত এক হাজার বছরের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসাবে চেঙ্গিস খানকে “ম্যান অব দ্য মিলেনিয়াম” হিসাবে নির্বাচিত করে । আধুনিক ইতিহাসবিদরা মনে করেন তার দোষ ত্রুটির তুলনায় সাফল্যের পরিমাণ অনেক অনেক বেশী ছিলো ।

চেঙ্গীস খান ছিলেন পৃথিবীর সর্বকালের সর্ব্বৃহত অবিচ্ছিন্ন সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই যে চেঙ্গীস খান বহু নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছেন তবে সেই সব নৃশংসতা ক্রুসেডারদের তুলনায় খুব বেশী কিছু যে ছিলো তা মনে হয় বলা যাবেনা ।

তবে তার জীবনের ঘটনাবলী নির্মোহ ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে তিনি খুব সহজেই আধুনিক নৈতিকতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে পরিচিতি পেতে পারেন একজন মহান মানুষ হিসাবে । একবার তার শাসনের আওতায় যারা এসেছে তারা অন্য যে কোন স্থানের তুলনায় অনেক বেশী নিরাপদ, প্রগতিশীল, এবং স্বাধীন ছিলো ।

পৃথিবীর অন্যতম দূরদর্শী নেতা হিসাবে চেঙ্গীস তার শাসনামলে একটি দেশ, একটি ভাষা, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা, পোস্ট অফিস/পোনি সার্ভিস, লিখিত আইন ব্যবস্থা, টোল রোডের নেটওয়ার্ক সহ অন্যান্য আরও অনেক নতুন জিনিষের গোড়াপত্তন কিংবা প্রচলন শুরু করেন ।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লুটেরা ছিলেন এই তেমুজিন বা চেঙ্গিস খান । চেঙ্গিজ খান প্রধান মঙ্গোল রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা বা মহান খান, ইতিহাসেও তিনি অন্যতম বিখ্যাত সেনাধ্যক্ষ ও সেনাপতি।

জন্মসূত্রে তার নাম ছিল তেমুজিন । এক সাধারণ গোত্রপতি থেকে নিজ নেতৃত্বগুণে বিশাল সেনাবাহিনী তৈরি করেন । যদিও বিশ্বের কিছু অঞ্চলে চেঙ্গিজ খান অতি নির্মম ও রক্তপিপাসু বিজেতা হিসেবে চিহ্নিত। তাকে মঙ্গোল জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। একজন খান হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে চেঙ্গিজ পূর্ব ও কেন্দ্রীয় এশিয়ার অনেকগুলো যাযাবর জাতিগোষ্ঠীকে একটি সাধারণ সামাজিক পরিচয়ের অধীনে একত্রিত করেন । এই সামাজিক পরিচয়টি ছিল মঙ্গোল ।

১১৫০ থেকে ১১৬০ সনের মধ্যে কোন এক সময়ে চেঙ্গিজ খান জন্মগ্রহণ করেন । বাল্যকাল কাটান ঘোড়া চালনা শিখে । মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজ গোত্রের সাথে শিকার অভিযানে যোগ দেয়ার অনুমতি পান । নয় বছর বয়সে তার বাবাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং তাদের পুরো পরিবারকে ঘরছাড়া করা হয় । মা'র কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষায় তিনি পরিবারের কর্তার ভূমিকা পালন শুরু করেন । অন্যকে রক্ষা করার বিদ্যা তখনই তার রপ্ত হয় যা পরবর্তীতে কাজে লেগেছিল ।

৪০- ৫০ বছর বয়সের সময় তিনি মঙ্গোল জাতির পত্তন ঘটানোর পর বিশ্বজয়ে বের হন । প্রথমেই জিন রাজবংশকে পরাজিত করেন। চীন থেকেই তিনি যুদ্ধবিদ্যা কূটনীতির মৌলিক কিছু শিক্ষা লাভ করেন । পালাক্রমে দখল করেন পশ্চিম জিয়া, উত্তর চীনের জিন রাজবংশ, পারস্যের খোয়ারিজমীয় সম্রাজ্য এবং ইউরেশিয়ার কিছু অংশ।

চেঙ্গিজ খান ১২২৭ সালে মারা যাওয়ার পর তার পুত্র ও পৌত্রগণ প্রায় ১৫০ বছর ধরে মঙ্গোল সম্রাজ্যে রাজত্ব করেছিল ।
১২০৬ সালে তেমুজিন যখন সমগ্র মঙ্গোলিয়ার খান নির্বাচিত হন তখন নতুন নাম নেন চেঙ্গিস খান। চেঙ্গিস নামের অর্থ হলো universal ruler বা সারা বিশ্বের শাসক । চেঙ্গিস খানের যখন ৯ বছর বয়স তখন তার বাবা ইয়েসুগেই কেরাইট গোত্রের বোরটের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেন।

বোরটে ছিলো চেঙ্গিসের চেয়ে বয়সে ১ বছরের বড় । মঙ্গোল রীতি অনুযায়ী বিয়েটা ছেলে-মেয়ে সাবালক হওয়ার পরেই হত । বিয়ে ঠিক হওয়ার কিছুদিন পর পুরোনো এক তাতার শত্রু ইয়েসুগুইকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলে ।

নিজ গোত্রের কিছু কুচক্রী লোক বালক চেঙ্গিসের নেতৃত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করে দলবল সহ মা, ভাই বোন সহ চেঙ্গিসকে গোত্র থেকে বের কর দেয় । এর পরের সাত বছর চেঙ্গিস খানের জীবন ছিলো এক ভয়াবহ কঠিন সংগ্রামের জীবন ।

চেঙ্গিস খান ছিলেন আপাদ মস্তক একজন ধর্ম নিরপেক্ষ মানুষ। আজীবন তার নিজের ধর্ম শামানে বিশ্বাসী ছিলেন। শামানরা আকাশ দেবতায় বিশ্বাসী ছিলো ।

যেকোন বিষয়ে দক্ষ, পারদর্শী, জ্ঞানী, গুণী ব্যক্তি, চিত্রকর, ভাস্কর, প্রকৌশলী, এবং ধর্মীয় গুরুদেরকে তিনি সন্মানের চোখে দেখতেন তার কড়া নির্দেশ ছিলো এধরণের মানুষদের যেন কোন ভাবেই হত্যা করা না হয়। আর অন্য ধর্মীয় গোত্রের লোকদের, বিশেষ করে ধর্মীয় গুরু এবং বিশেষ কাজে পারদর্শী যেমন প্রকৌশলী, চিত্রকর, এবং অন্য জ্ঞানী মানুষদের কর মওকুফের ব্যবস্হা রেখেছিলেন ।

তবে শান্তি নষ্ট করতে পারে এমন ধর্মীয় অসহিন্ষুতার ব্যাপারেও তিনি ছিলেন খড়গ হস্ত । চেঙ্গিস খানের দুই সেনাপতি সবুতি এবং জেবে ১২২৩ সালের মধ্যে ককেশাস , ইন্ডিয়া , আফগানিস্তান , জর্জিয়া দখল করে নেন । তাদের যাত্রা পথে সকল সেনা বাহিনী তারা নির্মম ভাবে পরাজিত করে ।

১২৪০ সালে চেঙ্গিসের পুত্ররা বুলগেরিয়ার কিছু অংশ দখল করে নেয় । শেষ পর্যন্ত এই সাম্রাজ প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আড্রিয়াটিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয় । চেঙ্গিস তার জীবনে বোরটে ছাড়াও আরও পাঁচজনকে বিয়ে করেছিলেন । কিন্তু আর কাউকেই তিনি তার ছোটবেলার ভালবাসা বোরটের মত বোধহয় ভালবাসেননি। তিনি সবসময়ই বোরটের পরামর্শ শুনতেন এবং তা প্রয়োজনে গ্রহণও করতেন।

মেরকিটদের কাছে নির্যাতিত সেই দুঃসহ এক বছরের ঘটনা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বোরটের প্রতি তার ভালবাসায় চিড় ধরাতে পারেনি । আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের সাম্রাজ্য চারবার দখল করেন। চীন এবং মঙ্গোলিয়ায় এখনও তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় । ইতিহাস বলে , মৃত্যুর অনেক আগেই চেঙ্গিস খান তার নিজের কবরের জায়গা পছন্দ করে রেখেছিলেন।

১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান ঘোড়ার পিঠ থেকে পরে মারা যান । তাকে ওনান নদীর তীরে অত্যন্ত গোপনে সমাহিত করা হয় । কথিত আছে যে বা যারা তাকে সমাহিত করে একদল প্রথমে তাদের মেরেফেলে । এর পর এক জন আর একজন কে মারতে থাকে এবং সর্বশেষ জন আত্ত্বহত্যা করে । চেঙ্গীস খান এবং তার মা জীবনে মোট চার জন ছেলেকে পালক হিসাবে গ্রহন করেন।

মজার ব্যাপার হলো এরা সবাই ছিলো শত্রু গোত্রের ছেলে এবং তাদের সবার বয়স ছিলো খুবই অল্প । মেরকিটদের সাথে যুদ্ধের পর চেঙ্গিস ৫ বছর বয়সী কুচুকে (মেরকিট) নিয়ে এসে তার মাকে দেন। চেঙ্গীস খান সাহসী এবং বিশ্বস্ত মানুষদের পছন্দ করতেন এবং বিনিময়ে ফেরৎ দিতেন সেই বিশ্বস্ততা । তিনি মানুষ চিনতে খুব কমই ভুল করতেন।

একের পর এক যাদের তিনি পরাজিত করেছেন পরবর্তীতে তারাই তার বিশ্বস্ত অনুসারীতে পরিনত হয়েছিলো । চেঙ্গীস খান অন্য সব মঙ্গোলিয়ানের মতই ছিলেন অশিক্ষিত। একজন অশিক্ষিত, বর্বর, যুদ্ধবাজ মানুষের পক্ষে এতসব সাফল্য অর্জন করা কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো সেটা হৃদয়াঙ্গম করা আমার মতে এককথায় একটি অসম্ভব ব্যাপার ।

মুহম্মদ শাহ ছিলেন তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের একজন শক্তিশালী সুলতান। প্রথমদিকে চেঙ্গিস খানের সাথে তার বন্ধুত্ব থাকলেও পরবর্তীকালে মোঙ্গল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির ফলে উভয়ের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দেখা দেয়। ফলে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। সীমান্ত বিরোধ ছাড়াও আরও দু'টো কারণ চেঙ্গিস খানকে মুহম্মদ শাহের রাজ্য আক্রমণে প্ররোচিত করেছিল । মাত্র তের বছর বয়সে তিনি যখন মোঙ্গল জাতির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তখন মোঙ্গলদের অনেকেই তার বিরুদ্ধাচরণ করেছিল।

অপূর্ব সাহসিকতা ও সংগঠন প্রতিভাবলে তিনি সমগ্র মোঙ্গল জাতিকে একত্রিত করে একটা অজেয় শক্তিতে পরিণত করেছিলেন । তার কৃতিত্ব সম্বন্ধে ঐতিহাসিক সাইকস মন্তব্য করেছেন, ‘‘যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন নির্ভিক এবং ধীরে ধীরে তিনি এমন একটি সাম্রাজ্য গঠন করেন যা ঘৃণিত যাযাবর তাতারদেরকে এশিয়ার রাজক্ষমতায় উন্নীত করেছিল।’’

এশিয়ার প্রচুর ধনরত্ন লুণ্ঠনের পর চেঙ্গিস খান স্বদেশের পথে যাত্রা করেন । পথিমধ্যে মধ্য-এশিয়ায় ব্যস্ত থাকাকালে তিনি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম পারস্য বিজয়ের জন্য তার দু'জন সেনাপতিকে প্রেরণ করেন। তারা উত্তর-পশ্চিম পারস্যসহ দক্ষিণ রাশিয়াতেও মোঙ্গল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন । ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খানের মৃত্যু হলে এই দিগ্বিজয়ী বীরের রাজ্য বিস্তারের পরিসমাপ্তি ঘটে ।

বিভিন্ন গুণাবলীর সমাবেশ থাকাসত্ত্বেও চেঙ্গিস খানের চরিত্র নিষ্ঠুরতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে অস্বীকার করা যায় না । বীভৎস ধ্বংসলীলা ও নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে তার প্রতিটি আক্রমণ ও বিজয় পরিচালিত হয়েছিল। এই কারণে ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ তাকে ‘আল্লাহর অভিশাপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন । এ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, মধ্যযুগের কোনো নরপতি বা বিজেতাই অনুরূপ নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতার ঊর্ধ্বে ছিলেন না।

বস্তুত, এটা ছিল তখনকার যুগ-বৈশিষ্ট্য । অতএব অন্য কোনো নরপতি যখন ‘আল্লাহর অভিশাপ' হন নাই, তখন চেঙ্গিস খানকে এ নামে অভিহিত করা যুক্তিযুক্ত নয়। তিনি শিক্ষা ও শিক্ষিতের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন । তার দরবারে শিল্পী, সাহিত্যিক, গণিতজ্ঞ প্রমুখ গুণীদের সমাবেশ হতো । ধর্মীয়ক্ষেত্রে তিনি সহিষ্ণু ছিলেন । বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, চেঙ্গিস খানের কারণে ৭০ কোটি টন কার্বন বায়ুমণ্ডল থেকে অপসারিত হয়েছিল।

সাম্রাজ্য বিস্তারে চেঙ্গিস খান যে হত্যাযজ্ঞ চালান, এতে অনেক এলাকা মানবশূন্য হয়ে পড়ে । ওই এলাকাগুলোতে কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে গাছপালা জন্মে ক্রমে তা বনজঙ্গলে পরিণত হয় । অনেক এলাকা হয়ে যায় গহিন অরণ্য। এসব বনজঙ্গলের গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ পরিবেশ দূষণকারী কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নেয় । চেঙ্গিস খান নিজের অগোচরে যে প্রক্রিয়ায় পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন, তা অবশ্যই গবেষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে পরিবেশবিদদের মতে, চেঙ্গিস খানের এই প্রক্রিয়াই পরিবেশ শীতল রাখার ক্ষেত্রে প্রথম মানবসৃষ্ট উপায় ।

তবে ৭০ কোটি টন কার্বন হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি শুনতে যত চমকপ্রদ মনে হচ্ছে, ঘটনা আসলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় । কারণ আধুনিক বিশ্বে এক বছরে যে পরিমাণ পেট্রল পুড়ছে তাতে করে ৭০ কোটি টনেরও বেশি কার্বন প্রতি বছর পৃথিবীতে নিঃসরিত হচ্ছে ক্রমাগত। সুতরাং চার কোটি মানুষ হত্যা করে পৃথিবীর জলবায়ুর উন্নয়নে সত্যিকার অর্থে তেমন কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেননি চেঙ্গিস খান।

বাংলা সনের প্রবর্তন যিনি করেন তিনি কোন বাংলাভাষী বা বাংলাদেশি নন। তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত চেঙ্গিস খান ও মহাবীর তৈমুর লং-এর সুযোগ্য বংশধর বিশ্ববিখ্যাত মোঘল সম্রাট আকবর দি গ্রেট। সুদূর দিল্লীতে রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত থেকেই তিনি এ দেশে বাংলা সন প্রবর্তন করেন ।

পৃথিবীর অন্যান্য আদর্শ-বিহীন সাম্রাজ্যের মতো তার আদর্শহীন জুলুমের সাম্রাজ্য মাত্র ১৫০ বছরে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল । শুধু তা-ই নয় ! এই বর্বর চেঙ্গিস খাঁন তার জীবদ্দশায় ওসিয়ত করে গিয়েছিল- কাক-পক্ষীও যেন তার দাফনের যায়গা জানতে না পারে ।

এজন্য যারা তার দাফনে নিয়োজিত ২৯১৬ জন মানুষের, সবাইকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছিল । চেঙ্গিস খানের সমাধিক্ষেত্র আজও রয়েছে অধরা,অনাবিষ্কৃত। মধ্যযুগীয় ধনসম্পদের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি কেউ ছুঁতেও পারেনি । রয়ে গেছে তা শত শত বছর পরেও সব চোখের আড়ালে । যুগে যুগে মানুষ এই মঙ্গোলীয় সম্রাটের সমাধিক্ষেত্র খুজে গেছে। বছরের পর বছর নষ্ট করেছে এই সমাধি খোঁজার পিছে । সমাধি মেলেনি । মানুষ তবুও হাল ছাড়ে না ।

বলা হয় ,চেঙ্গিস খানের সমাধিটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অনাবিষ্কৃত এবং অক্ষত,অর্ধেক পৃথিবীর ধনসম্পদে ঠাসা একটি রত্নভাণ্ডার ! এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে চেঙ্গিস খান সারাজীবনে যে পরিমান ধনসম্পদ এবং রত্ন লুট করেছেন , তার পুরোটুকুই সমাধিক্ষেত্রে চেঙ্গিস খানের সাথে রেখে দেওয়া আছে । জয় করা ৭৮ জন রাজার মুকুট সেখানেই আছে বলে ধারনা করেন অনেকে ।

অনুলিপি

17/04/2017

যে সকল ফেসবুকাররা, না বুঝেই আইডি ডিজেবল হয়ে যাবে এই মর্মে গণহারে মেসেজ পাঠায়ে যাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য--
ফেসবুক সিকিউরিটি টীম একটি নির্দিষ্ট নিয়মাবলী অনুসরণ করে ফেক আইডি, অথবা সেই সকল আইডি যা ফেক আইডির মত আচরণ করে, তা বন্ধ করে দিচ্ছে।
যে কারন গুলোতে তারা একাউন্ট ডিএক্টিভেট করছে তার হলো-
১। শুধুমাত্র মোবাইল নাম্বার অথবা শুধু মাত্র ইমেইল দিয়ে খোলা আইডি,
২। মোবাইল বা ইমেইল যেকোন একটির ভেরিফিকেশন না থাকা।
৩। অপ্রাসঙ্গিক ইউজার নেম, ফেক নেম ব্যবহার করা।
৪। নিজস্ব প্রোফাইল পিকচার ব্যবহার না করে পপুলার/ ভায়োলেট/ গ্রাফিক্যাল কোন ছবি ব্যবহার করা।
৫। এছাড়াও আরো কিছু ক্রাইটেরিয়া আছে যা নিরাপত্তার কারনে তারা প্রকাশ করেনি।
এখন কথা হচ্ছে, র‍্যামডমলি পাঠানো কোন মেসেজ আপনাকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আপনার একাউন্টে যদি উপরোক্ত কোন সিকিউরিটি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে তা যথাবিহিত উপায়ে সংশোধন করার মাধ্যমেই আপনার একাউন্ট ফেরত পাবেন।
বরং আপনি যদি বিপদমুক্ত থাকেন, তবে এধরনের মেসেজ আপনার বিপদ আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ফেসবুক এধরনের একই মেসেজ যা অনেক জনের কাছে পাঠানো হয় তাকে স্প্যাম হিসেবে গন্য করে। এবং আপনি যাদের কাছে মেসেজটি পাঠাচ্ছেন তাদের কেউ যদি বিরক্ত হয়ে মেসেজটিকে রিপোর্ট করে, তবে ফেসবুক আপনার একাউন্টের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারে।
সচেতন থাকুন, বুদ্ধিমানের মত আচরন করুন, কান নিয়ে গেছে চিলে শুনে চিলের পিছে দৌড়ে নিজেকে ডাহা বোকা প্রমান করার কোন প্রয়োজন নেই।
(কালেক্টেড

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শুভ কামনা ।জয় হোক জননী জাতির, জয় হোক জগতের .....
08/03/2017

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শুভ কামনা ।

জয় হোক জননী জাতির, জয় হোক জগতের .....

গণিতে ১ পেয়েছিলাম : জ্যাক মা********************************স্বনামধন্য চীনা ব্যবসায়ী জ্যাক মা। তিনি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা...
27/02/2017

গণিতে ১ পেয়েছিলাম : জ্যাক মা
********************************
স্বনামধন্য চীনা ব্যবসায়ী জ্যাক মা। তিনি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। দারুণ বক্তা জ্যাক। বিভিন্ন উদ্যোক্তা সম্মেলনে তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু তরুণ। ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ‘অ্যান ইভিনিং উইথ জ্যাক মা’ অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।
আমি যেটা ভাবি, সেটাই যে সব সময় ঠিক তা নয়। তরুণদের আমি কিছু শেখাতে চাই না। কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, আমি মনে করি এই পরামর্শ তাদের প্রয়োজন নেই। আমি বরং তোমাদের আমার কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলব, স্রেফ একজন বড় ভাইয়ের মতো।

১৫ বছর আগে আমি ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমত কখনোই ভাবিনি, এ রকম একটা মঞ্চে নিজের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সুযোগ হবে। যখন আমি ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার ২৪ জন বন্ধুকে বাসায় নিমন্ত্রণ করেছিলাম। পাক্কা দুই ঘণ্টা আমার ভাবনাটা ওদের বোঝানোর পর আমি বুঝতে পারলাম, ওরা কিছুই বোঝেনি! ২৪ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন আমার পাশে থাকতে রাজি হয়েছিল।

আজকালকার তরুণদের যেসব যোগ্যতা থাকে, আমার সেসবের কিছুই ছিল না। লোকে আমাকে বলত, ‘কী যোগ্যতা আছে তোমার? তুমি কখনো অ্যাকাউন্টিং শেখোনি, ম্যানেজমেন্ট শেখোনি। এমনকি কম্পিউটার সম্পর্কেও তেমন কিছু জানো না। তুমি কেন ব্যবসা করবে?’ সবাই জানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথমবার গণিতে আমি ১ পেয়েছিলাম। তিনবার পরীক্ষা দিয়েও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাইনি। শেষ পর্যন্ত যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, সেটার তেমন কোনো নাম ছিল না—হ্যাংঝোউ নরমাল ইউনিভার্সিটিকে তখন ‘চতুর্থ শ্রেণির’ বিশ্ববিদ্যালয় ধরা হতো। কিন্তু এখন অনুভব করি, হ্যাংঝোউ আমার কাছে হার্ভার্ডের চেয়েও বড়! এসবই প্রমাণ করে, ব্যবসা করার তেমন কোনো যোগ্যতা আমার ছিল না। যারা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে, অনেক সময় তাদের জন্যই উদ্যোক্তা হওয়া সহজ।

সে জন্যই আমাদের মতো কিছু মানুষ, যাদের অন্য অনেক কিছু করার যোগ্যতা নেই, তারা উদ্যোক্তা হয়। অনেকে ভেবেছিল আমরা ভাগ্যক্রমে সাফল্য পেয়ে গেছি। ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। ১৫ বছর ধরে আমরা টিকে আছি। এটা ঠিক আলিবাবা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে চার বছর আমি চায়না ইয়েলো পেজেস-এ কাজ করেছি। বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়েও ছিলাম প্রায় ১৩ মাস। আমি যে পরিমাণ ভুল করেছি, তা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না।

১৮ জন সহপ্রতিষ্ঠাতাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় আলিবাবার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেদিন আমি খুব পরিষ্কারভাবে বলেছিলাম, আমরা যদি সফল হই, এর অর্থ হলো চীনের শতকরা আশি ভাগ তরুণের পক্ষেই সফল হওয়া সম্ভব। কেউ আমাদের পেছনে বিনিয়োগ করেনি। না ছিল ক্ষমতা, না কোনো সামাজিক অবস্থান। সম্বল বলতে তেমন কিছুই ছিল না। আমরা ১৮ জন ৫ লাখ আরএমবি করে বিনিয়োগ করেছিলাম। ঠিক করেছিলাম, অন্তত ১২ মাস এই টাকায় ব্যবসাটা চালিয়ে নেব। এর মধ্যে যদি কিছু আয় হয়, তবে ব্যবসা চলবে। নতুবা অন্য কিছু ভাবতে হবে। কিন্তু অষ্টম মাসেই আমাদের হাত খালি হয়ে গেল। আমাদের নিয়ে কারও কোনো আশা ছিল না।

স্পষ্ট মনে আছে, বর্তমান নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জো সাইকে নিয়ে যখন সিলিকন ভ্যালিতে গেলাম, ৩০ জন বিনিয়োগকারী আমাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা ছাড়া আর কারও কাছেই পরিকল্পনাটা ভালো মনে হচ্ছিল না। একটা পরিকল্পনা করাই মুখ্য নয়। মুখ্য হলো, তুমি যা করছ সেটার ওপর তোমার বিশ্বাস আছে কি না। আলিবাবার সঙ্গে এই যাত্রায় অনেকেই জেনেছে স্বপ্ন, সত্য আর কল্পনার মধ্যে পার্থক্য কী।

তরুণ বয়সে সবার একটা স্বপ্ন থাকে। অনেক মা-বাবা আমাকে বলেন, ‘জ্যাক, আমার ছেলে বা মেয়েটার স্বপ্ন কদিন পরপরই বদলে যাচ্ছে। আজ সে হতে চায় এক, কাল আরেক।’ আমি বলি এটাই তো স্বাভাবিক। কোনো স্বপ্ন না থাকার চেয়ে অন্তত কদিন পর পর স্বপ্ন বদল হওয়া ভালো। আমার ইচ্ছে ছিল পুলিশ হব কিংবা আর্মিতে যোগ দেব। এমনকি কেএফসিতে কাজের জন্যও আবেদন করেছিলাম। ২৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ২৩ জনই নিয়োগ পেয়েছিল। ১ জন পায়নি—সেই মানুষটা আমি। যখন পুলিশের চাকরির জন্য আবেদন করলাম, প্রতি ৫ জনে ৪ জন চাকরি পেয়েছিল, আমি পাইনি।

স্বপ্ন থাকা ভালো। কিন্তু বাস্তবতা কী? বাস্তবতা হলো, একদল লোক ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা, অনুশীলন আর কার্যক্রম নিয়ে এগোতে এগোতে একসময় বুঝতে পারে, তারা সবাই আসলে একই লক্ষ্যের পেছনে ছুটছে। যখন আলিবাবার যাত্রা শুরু হয়, এটা স্বপ্ন বা কল্পনা কোনোটাই ছিল না। আমি এমন বহু মানুষ দেখেছি যারা কল্পনায় ডুবে থাকে। অবাস্তব, অসম্ভব সব কল্পনা। তবু তারা ভাবে যে অন্য সবাই ভুল, শুধু তারাই ঠিক। আলিবাবায় আমরা ১৮ জন মানুষ শুধু এটাই ঠিক করেছিলাম, আমরা আমাদের বিশ্বাসে অটল থাকব। চড়াই-উতরাইগুলো একসঙ্গে পাড়ি দেব। আমাদের স্বপ্ন বা কল্পনা ছিল না, ছিল আশা।

অতএব নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করো, তোমার যদি কোনো স্বপ্ন থাকে, তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণে অটল কি না। তোমার যদি কোনো লক্ষ্য থাকে, সেই লক্ষ্য পূরণের সাথি হতে তুমি আরও একদল মানুষকে আমন্ত্রণ জানাবে কি না। নিঃসঙ্গ যাত্রা খুবই ক্লান্তিকর। নিজের কাজটা ঠিকভাবে করলেই একটা ব্যবসা দাঁড়িয়ে যায় না। এর জন্য একদল মানুষের মধ্যে একটা ভালো বোঝাপড়ার দরকার হয়।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মো. সাইফুল্লাহ, সূত্র: অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ভিডিও

15/02/2017

আহাদ সাহেবের সাথে আমার পরিচয় রিকশায়। আমি রিকশার প্যাসেঞ্জার সিটে, আর তিনি চালাচ্ছেন। নীলক্ষেত থেকে উঠেছি, ক্যাম্পাসে যাবো। রিকশায় উঠলে রিকশাচালকদের সাথে কথা বলার পুরনো অভ্যাস আমার।
-- নাম কি আপনার?
-- আব্দুল আহাদ।
-- আহাদ সাহেব, আপনি যে ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা চাইলেন, কাজটা কি ঠিক করলেন?
রিকশা চালাতে চালাতে পেছন ফিরে আহাদ সাহেব একবার অবাক চোখে তাকালেন আমার দিকে। সম্ভবত এই প্রথম কেউ তাকে সাহেব ডাকলো।
-- শুরুতে বেশী চাওন লাগে। আমি ২০ টাকা চাইলে আমনে বলতেন ১০ টাকায় যাইবেন?
-- অন্যরা হয়তো বলতো কিন্তু আমি বলতাম না। আপনি ৪০ টাকা থেকে যে ২০ টাকায় নামলেন, এটা কি ঠিক হলো? আপনি হবেন এক কথার মানুষ। ২০ টাকা বলবেন, ২০ টাকাই। কথার নড়চড় নাই....
আমার মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই ধাক্কাটা লাগলো। হাকিম চত্বরের কাছে চৌরাস্তায় ডান সাইড থেকে হঠাৎ করে আসা একটা পিকআপ ধাক্কা দিলো ঠিক রিকশার সামনের চাকা বরাবর। আমি ছিটকে পড়লাম রাস্তায়। ব্যাথায় অন্ধকার দেখলাম কিছুক্ষণ। চোখ খুলে দেখি আহাদ সাহেব আরেকটু দূরে পড়ে আছেন। মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে রাস্তা লাল হয়ে আছে। চল্লিশের মতো বয়স, মুখটা তখনো হাসি হাসি।
আমার কয়েক জায়গায় কেটে গেলেও সিরিয়াস কোন ব্যাথা পাইনি। টলতে টলতে উঠে দাঁড়ালাম। চারদিকে ভীড় জমে গেছে। রাস্তার দুইজনের সহায়তায় আহাদ সাহেবকে নিয়ে গেলাম ঢাকা মেডিকেলে। কাঁটাছেড়ার জন্য সামান্য ব্যান্ডেজ আর ব্যাথার ওষুধ দিয়ে আমাকে ছেড়ে দিলো। কিন্তু আহাদ সাহেবের অবস্থা গুরুতর। দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে। ব্লাড গ্রুপ মিলে যাওয়ায় এক ব্যাগ আমি দিলাম, আরেক ব্যাগ জোগাড় করলাম।
আহাদ সাহেবের মোটামুটি সুস্থ হতে আট দিন লাগলো। প্রথম দুইদিন আমিই ছিলাম পাশে, তৃতীয় দিনে উনার স্ত্রী আর আট বছরের কন্যার খোঁজ পাওয়া গেলো। এর মাঝে একটা ইনকোর্স পরীক্ষা, দুইটা ক্লাস মিস হয়ে গেলো। তারচেয়ে বড় কথা, আহাদ সাহেবের চিকিৎসার খরচ সাড়ে সতেরো হাজার টাকা জোগাড় করতে নাভিশ্বাস উঠে গেলো আমার। হলে থাকি, টিউশনি করি। সাড়ে সতেরোশো টাকাই অনেক টাকা, আর এখানে সাড়ে সতেরো হাজার। আহাদ সাহেবের স্ত্রী হাতের দুইটা চুড়ি বিক্রি করে দশ হাজার টাকা আনলেন, আমি ধারদেনা করে পাঁচহাজার আনলাম। বাকি আড়াইহাজার হসপিটাল কর্তৃপক্ষ মাফ করে দিলেন।
****
-- আপনে কি কামডা ঠিক করলেন?
-- কি করছি?
-- আপনে অন্য রিকশায় উঠছেন ক্যান আজকে দুপুরে?
-- তাড়া ছিল একটু, আপনাকে ফোন দেয়ার সময় ছিল না।
-- আমি আহাদ বাঁইচা থাকতে আপনের ভাড়া দিয়া অন্য রিকশায় ওঠা বন্ধ। স্টপ। ফিনিশ। কল দিবেন, আমি উইড়া আসমু। দরকার হইলে প্যাসেঞ্জার মাঝপথে নামাই দিয়া চইলা আসমু।
আমি হাসলাম। গত তিন বছর ধরে আহাদ সাহেব আমাকে নিয়ে রিকশা চালায়। সকালে হলের সামনে এসে দাঁড়ায়, আমি ক্লাসে আসি। তারপর ক্ষ্যাপ মারতে যায়। বন্ধুরা দেখে হাসে, কেউ কেউ টিপ্পনি মারে। আমার ক্লাস রুটিন উনার মুখস্ত। ক্লাস শেষ হলে বের হয়ে দেখি রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। গত তিন বছরে একদিনও ব্যতিক্রম হয়নি। জরুরী কাজে কোথাও যেতে হলে উনাকে ফোন দিতে হয়। কিছুক্ষণের মাঝেই এসে হাজির। ক্ষ্যাপ নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে যান না, যাতে ফোন দিলে সবসময় পাই। অন্য কোন রিকশায় উঠলে রাগ করেন, শিশুসুলভ অভিমান। যেমন আজকে। আমি অনেক মানা করেছি, কোন কিছুতেই তাকে মানানো যায় না। এই ব্যাপারে প্রচন্ড একগুঁয়ে, একরোখা। কখনোই ভাড়া নেয় না, কোনো কিছুতেই নেওয়ানো যায় না।
বিকালে টিউশনিতে যাই। রাতে ফেরার পথে আমরা রিকশায় ঢাকা শহর ঘুরি। চা খাই। আড্ডা দেই। সত্যি বলতে তিন বছরে আহাদ সাহেব আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়ে গেছেন। মন খুলে গল্প করি উনার সাথে। তিন বছরে আহাদ সাহেবের আর্থিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। গ্রামে জমিজমার বিবাদের জন্য সর্বস্ব হারিয়ে ঢাকায় এসে রিকশা চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিছুদিন আগে বিবাদ মিটেছে আমার এক পুলিস আত্মীয়র সহায়তায়। কিছু জমি বিক্রি করে পুরান ঢাকায় তেহারির দোকান দিয়েছেন, তার ছোটভাই চালায়। মাঝে মাঝে বলি,
-- আহাদ সাহেব, আর কতদিন রিকশা চালাবেন? টাকাপয়সা তো কামাচ্ছেন, এবার একটু আরাম করেন।
-- যতদিন বাঁইচা থাকি, রিকশা চালামু। আপনের রক্ত যতদিন আমার শইলে আছে, আপনের জন্য রিকশা চালামু।
-- মানুষের শরীরে রক্ত চার মাস বাঁচে। এরপর নতুন রক্ত তৈরী হয়। আমার রক্ত যা ছিলো, ফিনিস হয়ে গেছে এতোদিনে।
-- আপনেরে কইছে। দুই পাতা পইড়া বেশী জাইনা গেছেন? রক্ত আজীবন থাকে শইলে।
আমি বুঝাতে যাই, তর্ক শুরু হয়।
রাত বাড়ে। আহাদ সাহেবের সাথে ঢাকা শহর ঘুরছি আমি। আমি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা শেখাই, গল্প করি। আহাদ সাহেব মনোযোগী শ্রোতার মতো শোনে। ডিপার্টমেন্টের গল্প, বন্ধুদের গল্প, বান্ধবীদের গল্প, স্যারদের গল্প, টিউশনির গল্প। মাঝে মাঝে কঠিন কঠিন পড়ালেখা আর বিজ্ঞানেরও গল্প। গাউসের ছোটবেলার গল্প, এডিসন কিভাবে এডিসন হলো, আর্কিমিডিসের ইউরেকা, লাইবনিজের ক্যালকুলাস, ফার্মার লাস্ট থিওরেমের গল্প। আহাদ সাহেব কিছু বুঝে, কিছু বুঝে না। মাঝে মাঝে প্রশ্নও করে,
-- এই যে মনে করেন আপনে রিকশায় বইসা আছেন। এখন আপনে পা দিয়া যতই ঠেলেন, রিকশা কিন্তু এক পাও সামনে যাইবো না। এইডা ক্যামনে হয়?
আমি তখন নিউটনের তৃতীয় সুত্র বুঝাই। আহাদ সাহেব উপহাসের হাসি হাসে।
-- আমি মাটিতে ঠেলা দিলে মাটিও আমারে ঠেলা দেয়? এইসব উল্টাপাল্টা ভুলভাল পড়াইয়া ভার্সিটি আমনেগো মাথাটা নষ্ট করতেছে।
আমরা একটা টংয়ে দাঁড়াই, চা খাই। এই শহরের বেশীরভাগ চায়ের দোকানদার আমাদের চিনে। রাতে এক পাগলা কিসিমের এক ভার্সিটির ছেলে আর এক রিকশাওয়ালা ঘুরে বেড়ায়। আরেকটু রাত হলে আহাদ সাহেবের ঘরে যাই, উনার মেয়েকে পড়াই। উনার মেয়ের বয়স এখন এগারো, আমাকে দেখলে বাবার মতোই অভিমান করে। "চাচ্চু, এতো দেরী করে আসো কেনো?"
-- আপনেরে একটা কথা বলবো। শহীদ মিনারের সামনে চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললেন আহাদ সাহেব।
-- কি কথা?
-- আমার একটা শখ, আপনে যখন বিয়া করবেন, কোন পেরাইভেট ভাড়া করবেন না। আমার রিকশাতে যাইবেন, আমার রিকশাতে বৌ নিয়া আসবেন। আমি টাকা জমাইছি, বিয়ার দিন নতুন রিকশা কিনবো। আপনাদের দুইজনরে নিয়া রিকশা চালাবো।
-- বিয়ের দিন রিকশায়? বৌ তো কিপটা বলে বিয়ের আগেই তালাক দিয়ে দিবে।
-- দিবো না। আপনার বৌ আপনার মতোই ভালো হইবো। উনারে আর আপনারে নিয়া রিকশায় বের হবো। আপনারা পিরিতের আলাপ করবেন, আমি কানে হেডফুন দিয়া রাখবো।
আমি হাসি চাপতে চাপতে বললাম,
--আহাদ সাহেব, মনে করেন পড়ালেখা শেষে আমার বড় চাকরী হলো। অফিস থেকে তো গাড়ি দিবে। তখন তো গাড়িতে চড়তে হবে। তখন কি করবেন?
আহাদ সাহেবের মুখের হাসি চুপসে গেলো। চুপ করে চায়ে চুমুক দিতে লাগলেন। স্পষ্ট দেখতে পেলাম, চোখের কোণে হালকা একটু জল চিকচিক করছে। আমি বিব্রত হয়ে গেলাম। কথাটা বলাই উচিৎ হয়নি।
অনেকক্ষণ চুপ থেকে আহাদ সাহেব মৃদু স্বরে বললেন,
-- তাইলে আর কি করার, ডেরাইভিংটা শিখা লাগবো। এই মাসেই শুরু কইরা দেই, কি কন? এক ওস্তাদের লগে আমার চিনা-পরিচয় আছে। বাস চালানি শিখলে পেরাইভেটও পারমু, ঠিক কি না?
আমি এবার হতম্ভব হয়ে যাই। এটাকে কি বলা যায়? ভালোবাসা? ভ্যালেন্টাইনদের যুগে, রিকশাওয়ালাদের চড় মারার যুগে এই ভালোবাসার স্থান কোথায়?

গল্পঃ অচ্ছুৎ ভালোবাসা
লেখকঃ MARUF HASAN

06/02/2017

একটি সচেতনতামূলক পোষ্ট । ছোট বাচ্চাকে কখনোই আদর করে বা খেলার ছলে ঝাকাবেননা, এতে বাচ্চার নরম মগজের উপর মারাত্নক ক্ষতিকর প্রভাব পরতে পারে ! বিষয়টি পরিস্কার করে বুঝতে ভিডিওটি দেখুন...

25/01/2017

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে বিপুল সংখ্যক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাতের জন্য WHO এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় অস্ট্রেলিয়ান ডক্টর জিওফ্রে ডেভিস। বীনা ডি কস্টা বলে এক ভদ্রমহিলা ২০০২সালে ডক্টর জিওফ্রে ডেভিসের সিডনিতে একটা সাক্ষাৎকার নেন যুদ্ধ পরবর্তী এদেশের নারীদের অবস্থা জানার জন্য। সে সাক্ষাৎকারে জিওফ্রে ডেভিস জানান দিনে ১০০ জনের মত সবমিলিয়ে লাখের উপর মেয়েদের গর্ভপাত করেছেন তিনি তার ছয় মাসের বাংলাদেশ অবস্থান কালে। মূলত তিনি ৩০ সপ্তাহের কম বয়সী গর্ভবতীদের গর্ভপাত করতেন। এই এক লাখের পরেও আর অনেক মেয়েই ছিল যাদের সময় অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় গর্ভপাত করা সম্ভব হয় নি। ঠিক কত জনের বাচ্চা হয়েছিল তা বলতে পারেন নি ডক্টর জিওফ্রে ডেভিস। কিন্তু ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার সফর করে ঢাকায় ইউনিসেফ কর্মকর্তা ও লীগ অব রেড ক্রস সোসাইটিস প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অটোয়ায় সদর দপ্তরে ফিরে দেওয়া প্রতিবেদনে এ দেশে যুদ্ধশিশুর সংখ্যা ১০ হাজার বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এ সংখ্যাটা সর্বজন স্বীকৃত নয় বলে সঠিক সংখ্যাটা বলা যাচ্ছে না। সন্তান প্রসবের ঘটনা গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল সন্তান ও মায়ের কথা চিন্তা করেই। এমনকি তাদের বিদেশে দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ কোন যুদ্ধশিশু কোন দেশে কোন ধর্মে কেমন পরিবেশে বেড়ে উঠবে তা জানাজানি হওয়াটা ছিল খুবই স্পর্শকাতর। তাই আর জানা যায় নি ঠিক কতজন যুদ্ধ শিশু ছিল আর কোথায় আছে তারা আর কেমনই বা আছে।

বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেওয়ার বিষয়ে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী মাদার তেরেসা ও তাঁর মিশনারিজ অব চ্যারিটির সহকর্মীদের ব্যক্তিগত চেষ্টা এবং বাংলাদেশের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুটি কানাডীয় সংগঠন দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এ সংগঠন দুটির একটি হচ্ছে মন্ট্রিয়লভিত্তিক আন্তর্দেশীয় দত্তকবিষয়ক সংস্থা ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন এবং অন্যটি টরন্টোভিত্তিক বিশ্বের নির্যাতিত শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত ত্রাণ প্রতিষ্ঠান কুয়ান-ইন ফাউন্ডেশন। জানা যায় ১৯৭২ সালের ১৭ জুলাই যুদ্ধ শিশুদের প্রথম দলটি কানাডায় রওনা দেয়। পুরান ঢাকায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির শিশু ভবন থেকে ১৫টি যুদ্ধশিশু নয়াদিল্লি ও নিউ ইয়র্ক হয়ে টরন্টো পৌঁছায়, যাতে সময় লেগে যায় প্রায় দুই দিন। সেখানে যুদ্ধ শিশু ছিল ২১ জনের মত। এই একুশজন থেকে সুস্থ সবল দেখেই ১৫ জনকে নেয়া হয়। জানা যায় বাকি ৬ জনের কেউই পরবর্তীতে বেঁচে ছিল না।

রায়ান বাদল গুড

বাংলাদেশ থেকে প্রথম যে দলটা কানাডা যায় তার একজন রায়ান গুড। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ ও সম্পদের উপর ডিগ্রি নিয়ে বাবা মাকে সাথে করে ১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসে সপ্তাহ থাকেন। পরবর্তীতে আসল মায়ের খোঁজে বান্ধবীকে নিয়ে আবারও আসেন ১৯৯১ সালে। সেবার পুরান ঢাকার সেই মিশনারিজে মায়ের খোঁজ করেন কিন্তু কেউই বলতে পারে নি তার ঠিকানা। শুধু কেউ একজন বলেছিলেন তার মা বরিশালের মেয়ে ছিলেন। পরে বিরিশালেও যান কিন্তু মাকে আর খুঁজে পান নি। সেবার ব্যার্থ হয়েই ফিরে যান। কিন্তু যাবার আগে নিজেকে বাংলাদেশী বলে নাগরিকত্বের আবেদন করেন এবং পেয়েও যান। তখন তার নাম ছিল রায়ান বাথল গুড। আসলে মিশনারিজে রায়ানের নাম লেখা ছিল বাথল। তাই রায়ানের দত্তক বাবা মা তার এই বাথল নামটি রেখে দেন রায়ান এর মিডেল নেম হিসেবে। তখন বাংলাদেশ সরকার জানায় বাথল নামে বাংলাদেশে কোন নাম হয় না এটা খুব সম্ভবত বাদল হবে। পরে এটাকে এফিডেবিট করে রায়ান বাংলাদেশী রায়ান বাদল গুড নাম নিয়ে কানাডায় ফিরে যান। ১৯৯৮ সালে আবার বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছায় বাংলাদেশে আসেন। একবছর থেকেও এখানকার সমাজ,সংস্কৃতি আর পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে আবার কানাডায় ফিরে যান।।

রানী জয় মরাল

রানীকে দত্তক নেন স্যাসকাট্যুন শহরের ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচিওয়ানের অধ্যাপক ড. রবিন মরাল ও বারবারা মরাল দম্পতি। ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের প্রতি আকর্ষণ ছিল রানীর। খুব ভাল কবিতাও লিখতো। রানির বাবা মাও তার অতীত তার থেকে কখনো গোপন করেনি। ১৬ বছর হওয়ার পর থেকেই রানীর মধ্যে একটা চেঞ্জ আসা শুরু করে। বারবার শুধু নিজের আসল মা কে খুঁজে ফিরে। মরাল দম্পত্তি ভাবে হয়তো বাংলাদেশ ঘুরে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ১৯৮৯ সালে রানীকে নিয়ে তারা বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু রানীও তার মাকে খুঁজে পায় নি। ফিরে গিয়ে রানির অবস্থা আর খারাপ হতে থাকে। তার প্রায়ই মনে হতে থাকে তার আসল মা তার আসেপাশেই ঘুরছে। কিন্তু সে দেখতে পারছে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, তাঁর বাইপোলার ডিজঅর্ডার হয়েছে। দীর্ঘ সাত বছর চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯৯৯ সালের ৭ জুন ২৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন রানী। যাবার আগে একটা কবিতা লিখে যায় রানী

নদীর সন্তান’

ত্যাগ করেছিলে তুমি আমাকে যখন আমি শিশু
কেন তা জানি না আমি, কখনো জানব না
কিন্তু তুমি সারাক্ষণ থাকবে মা আমার ভাবনায়,
ভালোবাসবোই জেনো, যেমন এখনও ভালোবাসি।
ছিলাম বিষণ্ন সদা, কেঁদেছি তোমার জন্য কত,
জর্জর ব্যথায় ভরা কত যে রাত্রিতে,
তোমাকে ছোঁবার আগে, জড়িয়ে ধরার আগে
মনে হতো এই ব্যথা কখনো যাবার নয় আর ।

আসলে বিষয়টা এতটাই স্পর্শকাতর ছিল যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছিল, এ-সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। কার গর্ভজাত সন্তান এটা যেমন প্রকাশ করা যাবে না, তেমনি কোন দেশে, কোন ধর্মে বেড়ে উঠবে সেটাও গোপন রাখার বিষয় ছিল। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যেখানে কোনো প্রশাসনই ছিল না সেখানে বঙ্গবন্ধু সরকার একসঙ্গে অনেক কাজে ব্যস্ত ছিল। সে কারণেই হয়তো ডকুমেন্ট সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদ জমির মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তীকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিচালক হিসেবে এ-সংক্রান্ত কাজে দায়িত্ব পালন করেন।

যুদ্ধশিশুদের বিষয়টি দেশে কখনোই তেমন আলোচিত হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে দেওয়া ফাঁসির রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, ‘একাত্তরে যেসব নারী ধর্ষিত হয়েছেন এবং যুদ্ধশিশু হিসেবে যাদের জন্ম হয়েছে তারা আমাদের জাতীয় বীর। সমাজ ও রাষ্ট্র আমরা কেউই তাদের প্রতি মনোযোগী হইনি। একাত্তরে নির্যাতিত নারী ও যুদ্ধশিশুদের পুনর্বাসনের জন্য একটি সোশ্যাল সার্ভিস প্যাকেজ চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয় রায়ে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রথম সারির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দেন হবিগঞ্জের একজন বীরাঙ্গনা ও তাঁর যুদ্ধশিশু।

ছবিঃ নরওয়ইয়ান জনপ্রিয় মিউজিসিয়ান কোহিনুরের। কোহিনূর নিজেও ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের যুদ্ধ শিশু। তার মতে নরওয়েতে প্রায় ১০০ জনের মত বাংলাদেশী যুদ্ধ শিশু আছে।। (সংগৃহীত )

24/01/2017

এক রাজার এক চাকর ছিল। চাকরটা সবসময় যেকোন কাজেই রাজাকে বলত, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না। কেননা আল্লাহ যা করেন তার সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।একবার রাজা সেই চাকর সহ শিকারে যেয়ে নিজেরাই এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলো।রাজার চাকর সেই প্রাণীকে মারতে পারলেও, ততক্ষণে রাজা তার একটা আঙুল হারান। রাগে- যন্ত্রণায়-ক্ষোভে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরের উদ্দেশ্য করে বলেন “আল্লাহ যদি ভালোই করেন তাহলে আজকে শিকারে এসে আমার আঙুল হারাতে হতো কেন?
চাকর বলল, “এতকিছুর পরও আমি শুধু আপনাকে এটাই বলব আল্লাহ সবসময়ই ভালো ও সঠিক কাজই করেন; কোনো ভুল করেন না।
চাকরের এই কথায় আরও বিরক্ত হয়ে রাজা তাকে জেলে পাঠানোর হুকুম দিলেন।
এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হলেন। এবার তিনি একদল বন্য মানুষের হাতে বন্দি হলেন। এরা তাদের দেবদেবির উদ্দেশ্যে মানুষকে বলি দিত।
রাজা কে বলি দিতে যেয়ে তারা দেখল যে, রাজার একটা আঙুল নেই। তারা এমন বিকলাঙ্গ কাউকে তাদের দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে রাজি হলো না। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিল।প্রাসাদে ফিরে এসে তিনি তার সেই পুরোনো চাকরকে মুক্ত করে দেওয়ার হুকুম দিলেন।
চাকরকে এনে বললেন, আল্লাহ আসলেই ভালো। আমি আজ প্রমাণ পেয়েছি তার, আমি আজ প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু আঙুল না থাকার কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি।
“তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আল্লাহ ভালো, এটা তো বুঝলাম। কিন্তু তাহলে তিনি আমাকে দিয়ে তোমাকে জেলে পুরলেন কেন?” চাকর বলল, “রাজামশাই, আমি যদি আজ আপনার সাথে থাকতাম, তাহলে আপনার বদলে আজ আমি কোরবান হয়ে যেতাম।
আপনার আঙুল ছিল না, কিন্তু আমার তো ছিল। কাজেই আল্লাহ যা করেন সেটাই সঠিক, তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না।

গল্পের শিক্ষাঃ- সব কিছুর ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই দিক থাকে। কখনো নিরাশ হবেন না, যদি কোন কিছুতে সফলতা না পান তবে ইতিবাচক চিন্তা করুন। সফল না হওয়ার কারণে কি ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে কি লাভ হয়েছে তা দেখুন

: সংগ্রহ

!!! স্বর্ণ ও রুপার আজকের মূল্য !!! বাংলাদেশ !!!আজ বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ১ গ্রাম24k স্বর্ণের মূল্য= 2996.83...
11/01/2017

!!! স্বর্ণ ও রুপার আজকের মূল্য !!! বাংলাদেশ !!!
আজ বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ

১ গ্রাম
24k স্বর্ণের মূল্য= 2996.83 Taka
22k স্বর্ণের মূল্য= 2751.09 Taka
21k স্বর্ণের মূল্য= 2626.18 Taka
18k স্বর্ণের মূল্য= 2251.18 Taka

১ গ্রাম
Fine রুপার মূল্য= 42.41 Taka
Britannian রুপার মূল্য= 40.65 Taka
Sterling রুপার মূল্য= 39.27 Taka
22k রুপার মূল্য= 38.89 Taka

1 ভরি = 11.664 গ্রাম

*** প্রতিদিন আপডেট জানতে পাতায় লাইক দিয়ে সাথে থাকুন। প্রয়োজনের সময় তথ্যটি সহজে খুঁজে পেতে শেয়ার দিয়ে রাখুন

06/01/2017

শুভ সকাল
صباح الخير
Good Morning
আজ শুক্রবার
০৬ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ
২৩ পৌষ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ
০৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
এখন শীতকাল
সতর্ক থাকুন, নিরাপদে থাকুন
আনন্দময় হোক আপনার সারাদিন
নিয়মিত আপডেট পেতে পেজ লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন। প্রয়োজনের সময় কাঙ্খিত তথ্য পেতে সেটি শেয়ার দিয়ে নিজের টাইম লাইনে রাখুন..

Address

Rajarbag

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Campus-EShop posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Campus-EShop:

Share