Taqwa

Taqwa একমাত্র ইসলাম মানুষকে সঠিক পথ দেখায়।
(2)

19/03/2026
আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন।
01/03/2026

আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রজিউন।

01/12/2025

রুটি বিক্রেতা এক আল্লাহ ওয়ালা যুবকের অবাক করা ঘটনা - শুনলে হৃদয় কেঁপে উঠবে –

🕌 রুটি বিক্রেতা যুবকের অবাক করা ঘটনা: ক্ষমা চাওয়ার ফল 🤲

ইসলামের ইতিহাসে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) ছিলেন হাদীস শাস্ত্রে এক মহান ইমাম ও ব্যক্তিত্ব। একবার তিনি হাদীস সংগ্রহ করার জন্য এক দীর্ঘ সফরে বের হলেন।

সেটা ছিল তীব্র শীতের এক রাত। মাগরিবের পর তিনি এক মসজিদে এশার নামাজ আদায় করলেন এবং সেখানে বিশ্রাম নিতে চাইলেন। শুয়ে শুয়ে তিনি মনোযোগ দিয়ে কিতাব থেকে হাদীস পড়ছিলেন। কিন্তু মসজিদের দারোয়ান এসে তাঁকে জানালেন যে, এখানে রাত কাটানো যাবে না। দারোয়ান চিনতে পারেননি যে এই বৃদ্ধ মানুষটি কে—তিনি স্বয়ং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)।

অগত্যা, কাঁথা গুছিয়ে, কিতাব ও ব্যাগ হাতে নিয়ে ইমাম সাহেব তীব্র শীতের মধ্যে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন। বয়স্ক শরীর শীতে কাঁপছিল, কিন্তু কোথাও তাঁর থাকার জায়গা ছিল না।

চলতে চলতে তিনি বাজারের কাছে এসে দেখলেন, এক যুবক রুটি বিক্রেতা তার দোকানে রুটি বানাচ্ছে। চুলার আগুন তখনো জ্বলছে। উষ্ণতার খোঁজে ইমাম সাহেব সেই যুবকের কাছে গিয়ে সালাম দিলেন। যুবকও বিনয়ের সাথে জবাব দিল।

ইমাম সাহেব বললেন, “যুবক, আমি সফরে বেরিয়েছি। রাত কাটানোর কোনো জায়গা নেই এবং প্রচন্ড শীতে খুব কষ্ট পাচ্ছি। তুমি যদি অনুমতি দাও, তবে তোমার চুলার আগুন থেকে একটু তাপ নিতে পারি?”

যুবকটি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে বলল, “নিশ্চয়ই! এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আপনি নিশ্চিন্তে আগুন পোয়ান।”

আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) বসলেন এবং আগুন পোহাতে লাগলেন। এরপরই তিনি অবাক হয়ে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলেন। যুবকটি রুটির জন্য আটা মাখে আর বিড়বিড় করে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে, রুটির গোলা বানায় আর 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে, চুলার ভেতরে রুটি ছেঁকে আর একই সাথে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ে।

ইমাম সাহেব কৌতূহলী হয়ে যুবককে প্রশ্ন করলেন, "যুবক, তোমার ঘটনা কী? আসার পর থেকে আমি দেখছি, তুমি রুটি বানাও আর বিক্রি করো, আর কেবলই 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ো।"

যুবকটি বিনয়ের সাথে উত্তর দিল, "এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের আমল। আমি সবসময় আঠার মতো এর সাথে লেগে থাকি। আর এর বদলে আল্লাহ আমাকে এমন এক নেয়ামত দিয়েছেন যে, আমি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্ (যার দোয়া কবুল হয়) হয়ে গেছি।"

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) অবাক হয়ে বললেন, "ইন্নালিল্লাহ! তুমি একজন রুটিওয়ালা, আর তুমি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্? আমি এত বছর ধরে হাদিস পড়াই, এত জ্ঞান অর্জন করেছি, অথচ আমি তো এমন নই। তাহলে কি তোমার সব দোয়াই আল্লাহ কবুল করেছেন?"

যুবকটি বলল, "হ্যাঁ, আলহামদুলিল্লাহ! আমার জীবনে আমি আল্লাহর কাছে যত দোয়া করেছি, তিনি তার সব কবুল করেছেন। শুধুমাত্র একটি দোয়া ছাড়া।"

ইমাম সাহেব আগ্রহী হয়ে জানতে চাইলেন, "সেই দোয়াটি কী, যা আল্লাহ কবুল করেননি?"

যুবকটি তখন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলল, "সেই দোয়াটি হলো... আমি বহু বছর ধরে আল্লাহর কাছে এই বলে প্রার্থনা করে আসছি যে: 'হে আল্লাহ! আমি পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় হাদীস বিশারদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর নাম অনেক শুনেছি। আল্লাহ, তুমি দয়া করে আমাকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দাও!'"

কথাটি শেষ হতেই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) আর চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। তাঁর হৃদয় আবেগে কেঁপে উঠলো। অশ্রুসজল চোখে তিনি বললেন:

"ওহে যুবক, তোমার এই দোয়াও কবুল হলো! তাঁর সাথে দেখা করার জন্য তোমার আর দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। শোনো, আমিই আহমাদ ইবনে হাম্বল! আল্লাহ তোমার কাছে ছুটে আসার জন্য আমাকে তোমার দরবার পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন।"

যুবকটিও বিস্ময় ও আনন্দে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। সে ছুটে এসে ইমাম সাহেবকে জড়িয়ে ধরল, তাঁর হাতে হাত রেখে মুসাফা করল এবং কপালে চুমু খেলো। উভয়েই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলেন—যে আল্লাহ তাঁর বান্দার সবকটি দোয়া, এমনকি দীর্ঘদিনের একটি অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাও এমন বিস্ময়কর উপায়ে কবুল করে নিলেন।

শিক্ষা:
সতর্কভাবে এবং একনিষ্ঠতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করলে আল্লাহ বান্দার জন্য অভাবনীয় বরকতের দরজা খুলে দেন এবং এমনভাবে দোয়া কবুল করেন যা কল্পনাও করা যায় না। যুবক আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলে। আল্লাহ আমার এই দোয়া ও কবুল করলো।

রেফারেন্স-মিজানুর রহমান আজহারী।
Cp

বড় লিখা অনেকেই এড়িয়ে যান কিন্তু কষ্ট করে পড়ুন অনেক কিছু শেখার আছে। শুভ সকাল।প্রায় পনেরো বছর পর হঠাৎ একদিন হোটেলের লব...
26/11/2025

বড় লিখা অনেকেই এড়িয়ে যান কিন্তু কষ্ট করে পড়ুন অনেক কিছু শেখার আছে। শুভ সকাল।

প্রায় পনেরো বছর পর হঠাৎ একদিন হোটেলের লবিতে দেখা হয়ে গেল আমার এক পুরনো বন্ধুর সাথে। শৈশবের সেই মৃদুভাষী, ভদ্র, শান্ত ছেলেটি, যে খুব সাধারণ জীবন যাপন করত, আজও সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। চেহারায় বিনয়ের ছাপ, পরনে সাধারণ পোশাক, চালচলনে নেই কোনো বাহুল্য।

কুশল বিনিময়ের পর আমি বললাম, "চল, তোকে আমার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেই।"

আসলে বন্ধুকে গাড়িতে তুলতে চাওয়ার পিছনে আমার একটা গোপন উদ্দেশ্য ছিল। আমার দামি মার্সিডিজ গাড়িটা ওকে দেখানো! বন্ধু দেখুক, আমি কত সফল, কত বড়লোক হয়েছি! কিন্তু সে বিনয়ের সাথে জানাল, “না, থাক, আমি আমার গাড়িতেই চলে যাব।”

পার্কিং লটে দুজন পাশাপাশি হেঁটে এলাম। বন্ধুর গাড়িটা একেবারেই সাধারণ। মনে মনে হাসলাম, ও এখনও এমন পুরোনো মডেলের গাড়ি চালায়!

সপ্তাহখানেক পরে ওকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানালাম। ও পরিবার সহ এলো। ওর স্ত্রী, দুই সন্তান, সবাই এতটাই নম্র আর মার্জিত যে দেখে অবাক হলাম। সাজ-পোশাকে কোনো আড়ম্বর নেই, কিন্তু একটা প্রশান্তি, একটা শান্ত সৌন্দর্য লেগে আছে চোখেমুখে!

সেই রাতে কথার ফাঁকে ফাঁকে আমি বন্ধুকে বুঝিয়ে দিলাম আমার অভিজাত জীবন, দামি গাড়ি বাড়ি, আসবাবপত্র, আমার লাক্সারিয়াস লাইফ স্টাইল, অফিসের বিদেশ ভ্রমণ, লেটেস্ট ট্রেন্ড আর ফ্যাশনের প্রতি ঝোঁক, কত হাই ক্লাস লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ!

সত্যি কথা বলতে, আমি যেন আমার আভিজাত্য ওকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাইছিলাম। মোবাইলে একটার পর একটা ছবি দেখাচ্ছিলাম, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে আমার অফিসের বিজনেস ডিলের প্রসঙ্গ তুলছিলাম।

কিন্তু ও যেন এসব নিয়ে খুব একটা উৎসাহী না। বরং ওর মুখে তখন অন্য এক আলো! শৈশবের স্কুল, পুরোনো বন্ধু, প্রিয় স্যারদের কথা, কতদিন কার খোঁজ নেওয়া হয় না, কতজন এখন আর বেঁচে নেই —এসব মনে করে ওর চোখের কোণে একটুখানি অশ্রুও দেখা গেল।

আমি বিরক্তি গোপন না করে বলেই ফেললাম, “শুধু পুরোনো স্মৃতি আর নীতিকথা মনে করে থাকলে জীবনে এগোনো যায় না!”

ডিনারের পরে ওরা চলে গেল। আমি ভাবলাম, এবার নিশ্চয় ও বুঝতে পারল, কে কতদূর এগিয়েছে!

কয়েক সপ্তাহ পর ফোন এলো বন্ধুর কাছ থেকে। বলল, "আগামীকাল দুপুরে ফ্রি আছো? সবাই মিলে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসো।”

সেদিন আমার স্ত্রী আমার বাল্য বন্ধুটির ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছিল। ওকে তাই অনেকটা জোর করে রাজি করিয়ে গেলাম বন্ধুর বাসায়।

গিয়ে দেখি, সবকিছু গোছানো, পরিপাটি, কিন্তু একদম সাধারণ। দামি আসবাব নেই, ঝকমকে কিছু নেই, তবু কি যে শান্ত আর আপন একটা পরিবেশ! যেন একটা মমতার ঘ্রাণ চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে।

টেবিলের উপর চোখ পড়তেই দেখি, আমার কোম্পানির পাঠানো একটা সুন্দর গিফট বক্স!

আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, “এই কোম্পানিতে তো আমি চাকরি করি! তুই এটা কোথায় পেলি?”

ও হেসে বলল, “ডেভিড পাঠিয়েছে।”

আমি থমকে গিয়ে বললাম, “কোন ডেভিড? ডেভিড থমসন?”

সে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, ডেভিড আমার পুরোনো বন্ধু। আমরা বহুদিন ধরেই আমরা একসাথে ব্যবসা করি।”

আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! এই মানুষটাই আমাদের কোম্পানির ৭০% এর মালিক! যার নামে আমরা সম্মানে মাথা নিচু করি, সেই ডেভিড থমসনের পার্টনার — এই আমার সেই ছোটবেলার সাধারণ বন্ধু!

আমি যেন মুহূর্তেই ভেতরে ভেতরে খুব ছোট হয়ে গেলাম। যে মানুষটিকে আমি আমার দামি জিনিসপত্র দেখিয়ে মুগ্ধ করতে চেয়েছি, সে তো নিজেই আমার চাকরিদাতার বন্ধু। এমনকি কোম্পানির বেশিরভাগ মালিকানাও তার!

আমার অহংকার, দম্ভ, গর্ব সব যেন এক নিমেষে ধুলায় মিশে গেল। গাড়িতে ফিরে স্ত্রীর দিকে তাকালাম। দেখলাম, সেও চুপচাপ। আমাদের মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু মনের মধ্যে চলছে অনেক কিছু!

হঠাৎ মনে পড়ল আমাদের স্কুলের সেই প্রিয় স্যার বলতেন, "যে নদী যত গভীর, তার বয়ে চলার শব্দ তত কম।” আজ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলাম কথাটার মানে। যাদের হৃদয়, মানসিকতা আর আত্মবিশ্বাস গভীর, তারা কখনও বড় বড় কথা বলে না, বাহারি জিনিস দেখিয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করে না। তারা নীরবে বয়ে চলে, কিন্তু তাদের গভীরতায় সত্যিকারের আভিজাত্য প্রকাশ পায়।
CP

Address

Rajshahi

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Taqwa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share