28/10/2025
টি-শার্ট (T-shirt) বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় একটি পোশাক। এই পোশাক সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. পরিচিতি ও নামকরণ:
আকৃতি: টি-শার্ট হলো এক প্রকার শার্ট, যা ঘাড়ের অংশ থেকে দেহের ওপরের অংশকে কোমর পর্যন্ত ঢেকে রাখে। এর আকৃতিটি ইংরেজি অক্ষর 'T' (টি)-এর মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে টি-শার্ট।
বৈশিষ্ট্য: এটি সাধারণত কলারহীন এবং বোতামহীন হয়ে থাকে। সচরাচর এটি গোলাকার বা ভি-নেক এবং খাটো হাতাযুক্ত হয়।
অন্য নাম: এর অন্য একটি প্রচলিত নাম হলো 'টি' (Tee)।
২. ইতিহাস ও উৎপত্তি:
শুরুর সময়: বিভিন্ন তথ্য মতে, ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯১৩ সালের মধ্যে টি-শার্ট তৈরি হয়।
প্রাথমিক ব্যবহার: অনেকে মনে করেন এটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর সৈন্যদের জন্য তৈরি করা হয়। আবার কারও কারও মতে, ১৯০৪ সালে বিখ্যাত অন্তর্বাস প্রস্তুতকারী সংস্থা কুপার এটি প্রথম তৈরি করে অবিবাহিত পুরুষদের জন্য, যাদের জামার বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দেওয়ার কেউ ছিল না। তখন এটি 'ব্যাচেলর আন্ডার শার্ট' নামে পরিচিত ছিল।
অভিধানে অন্তর্ভুক্তি: ১৯২০ সালে আমেরিকান-ইংরেজী অভিধানে 'টি-শার্ট' শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান পায়।
জনপ্রিয়তা লাভ: ১৯৫০-এর দশকে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মার্লোন ব্র্যান্ডো (Marlon Brando) এবং জেমস ডিন (James Dean) সিনেমাতে টি-শার্ট পরে অভিনয় করার পর এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন প্রতীকে পরিণত হয়।
প্রিন্টেড টি-শার্ট: ১৯৪২ সালে 'লাইফ' ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রথম প্রিন্টেড টি-শার্ট পরা ইউএস নেভি সদস্যের ছবি প্রকাশিত হয়। পরে ষাটের দশকে স্ক্রিন প্রিন্টিং (Screen Printing) শুরু হওয়ার পর টি-শার্ট বার্তা ও স্লোগান প্রকাশের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়।
৩. কাপড়ের বৈশিষ্ট্য ও প্রকারভেদ:
ফ্যাব্রিক: টি-শার্ট তৈরির জন্য প্রধানত সুতির (Cotton) কাপড় ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি আরামদায়ক, পরিবেশবান্ধব এবং আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে। তবে পলিয়েস্টার, লিনেন বা স্প্যানডেক্স মিশ্রিত কাপড়ও ব্যবহৃত হয়।
ওজন (GSM): টি-শার্টের ওজন সাধারণত ১৬০ গ্রাম (g) থেকে ২২০ গ্রাম (g)-এর মধ্যে হলে ভালো বলে মনে করা হয়।
প্রকারভেদ:
গোল গলা (Crew Neck): সবচেয়ে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় টি-শার্ট।
ভি-নেক (V-Neck): গলার কাট ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো।
পোলো টি-শার্ট (Polo T-shirt): কলারযুক্ত টি-শার্ট, যা ক্যাজুয়াল ও সেমি-ক্যাজুয়াল উভয় ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়।
বেসবল টি-শার্ট (Raglan-sleeve): এর হাতা ভিন্ন রঙের হয় এবং হাতা কাঁধ থেকে শুরু হয়ে কলার পর্যন্ত মেশে।
বর্তমানে টি-শার্ট শুধু একটি পোশাক নয়, এটি ব্যক্তিগত ভাবাবেগ, সামাজিক বক্তব্য, এবং বিজ্ঞাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।