Cuddly Cove

Cuddly Cove "Welcome to Cuddly Cove, where every product is a promise of comfort and care for your little one.

We’re here to support moms with trusted baby essentials and heartfelt parenting tips, making every moment special.

🌟Nurturing love, one cuddly at a time."

🌼"ধৈর্য ও মমতায় শিশু প্রতিপালন: ৩টি প্রাক্টিক্যাল টিপস"🌼শান্তি, সুখ এবং সমঝোতার যে অনুভূতি আমরা প্রত্যেকেই চাই, তা একেক...
22/04/2025

🌼"ধৈর্য ও মমতায় শিশু প্রতিপালন: ৩টি প্রাক্টিক্যাল টিপস"🌼

শান্তি, সুখ এবং সমঝোতার যে অনুভূতি আমরা প্রত্যেকেই চাই, তা একেকটি পরিবারে বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাবে প্রকাশ পায়। বিশেষ করে যখন কথা আসে আমাদের সন্তানদের বিষয়ে, তখন তাদের মানসিক ও আবেগিক শান্তি নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সন্তান যখন শান্ত থাকে, তখন তার মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারের মধ্যে এক ধরনের শান্তি এবং সমঝোতা তৈরি হয়, যা একে অপরকে আরো কাছাকাছি নিয়ে আসে।

আজকের যুগে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং উত্তেজনা আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে, সন্তানদের মধ্যে শৈশবকালীন শান্তি বজায় রাখা অনেকটা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, যদি আমরা কিছু সহজ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ অনুসরণ করি, তবে আমাদের সন্তানের মনে শান্তির বীজ বপন করা সম্ভব। তাদের জন্য এক নিরাপদ এবং সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করা, যাতে তারা নিজেকে প্রকাশ করতে পারে এবং সহানুভূতির মাধ্যমে শিখতে পারে, তা তাদের মানসিক শান্তি অর্জনে সহায়ক হবে।

এখানে আমরা এমন তিনটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করব, যা সন্তানদের শান্ত, সুখী এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, এবং তাদের মধ্য দিয়ে পরিবারেও শান্তির ছোঁয়া আসে।

১. সাড়া দিন (Be Responsive)

• কখনো দ্রুত রেগে উঠবেন না: শিশুর আচরণের প্রতি তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া জানানো না, বরং শীতলভাবে এবং ধৈর্যের সাথে প্রতিক্রিয়া জানান।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার সন্তান কিছু ভুল করে, তখন আপনি তাদের উপর চিৎকার না করে, শান্তভাবে এবং দৃঢ়ভাবে ভুলটি শুধরে দিতে পারেন। এর ফলে, শিশুটি বুঝতে পারে যে ভুলের পরিণতি কী হতে পারে, কিন্তু এটি তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

• উত্তেজিত না হওয়া: যখন সন্তানের আচরণের কারণে কোনো পরিস্থিতি বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, তখন আমরা অনেক সময় আমাদের উত্তেজনা বা দুঃখ প্রকাশ করি। কিন্তু যদি আপনি শিশুর সামনে শান্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানান, তাহলে তাদেরও শান্ত থাকতে শেখাতে পারবেন।

উদাহরণস্বরূপ, যদি সন্তান খেলা করতে গিয়ে কিছু ভেঙে ফেলে, তখন রেগে না গিয়ে, আপনি স্নেহের সাথে তাকে বলতে পারেন, "ওহো! গ্লাসটি পড়ে গেল! পরেরবার থেকে সাবধানে ধরতে হবে। না হয় বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে"

২. মনোযোগী হওয়া (Be Attentive)

• শিশুর প্রতি মনোযোগ দেওয়া: আপনার সন্তান যখন কিছু বলছে বা কিছু করছে, তখন তার দিকে মনোযোগ দিন। তাদের কথা শোনার মাধ্যমে, আপনি তাদের অনুভূতিকে সহজে বুঝতে পারবেন এবং তারা নিজেদের মনের কথা আপনার কাছে সহজে খুলে বলবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার সন্তান স্কুলে কোন সমস্যার সম্মুখীন হয় কিংবা স্কুল থেকে এসে কোন ঘটনা বলতে চায়, আপনি ফোন বা কাজ রেখে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করুন "তারপর কী হলো?" এভাবে তাদের কথা শোনার মাধ্যমে আপনি তাদের সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম হবেন।

• মনোযোগ দিয়ে শুনুন, সাথে সাথে বিচার করবেন না: শিশুদের সাথে সম্পর্ক গড়তে হলে, তাদের অনুভূতিগুলোর প্রতি খোলামেলা মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদি তারা কোনো সমস্যা নিয়ে আসে, প্রথমে তার কথা শুনুন, তারপর ধৈর্যসহকারে বোঝান বা সমাধান দিন। সাথে সাথে বিচারকার্যে লেগে যাবেন না।

৩. সহানুভূতিশীল হওয়া (Be Empathetic)

• তাদের অনুভূতি বুঝুন: শিশুদেরও কখনও কখনও কিছু কঠিন সময় যায়। তখন তাদের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতি দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি তাদের অনুভূতিতে ভাগীদার হন, তারা বুঝবে যে আপনি তাদের পাশে আছেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনার সন্তান যদি ক্লাসের কোন পরীক্ষায় কোন কারণে ভালো রেজাল্ট না করে, আপনি তার কাছে গিয়ে আপনি বলুন, "আমি জানি তুমি অনেক পরিশ্রম করেছ, এটা তোমার তাকদীর ছিল, তবে পরের বার তুমি আরও ভালো করবে।"

সবশেষে বলব,

শিশুকে শান্ত রাখতে হলে, তাদের অনুভূতির প্রতি খেয়াল রাখা, সহানুভূতিশীল হওয়া এবং শান্তভাবে সাড়া দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি সহজ পদক্ষেপ আপনার সন্তানকে শান্ত এবং নিরাপদ অনুভব করতে সাহায্য করবে এবং আপনার সম্পর্কও আরও গভীর হবে।

"সন্তান যখন শান্ত, সংসার তখন আনন্দময়"

#প্যারেন্টিং #সন্তান #শিশু

🌷শেয়ার করে অন্যদেরকে জানার সুযোগ দিন।

শিশুর প্রথম ২ বছর: নিরাপত্তা ও সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলুন 📌 মূল কথাঃজীবনের প্রথম ২ বছর শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সব...
15/04/2025

শিশুর প্রথম ২ বছর: নিরাপত্তা ও সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলুন

📌 মূল কথাঃ
জীবনের প্রথম ২ বছর শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে (০-২ বছর) শিশুর মস্তিষ্ক (Brain) খুব দ্রুত বিকশিত হয়। তারা চারপাশের সবকিছু শিখতে শুরু করে। কিন্তু তারা ভাষা বা কথা বলতে পারে না। তাই তারা অনুভূতি (Feeling) ও আচরণ (Behaviour) দেখে শেখে।

🌿 এই সময় শিশুর সবচেয়ে বেশি কী দরকার?

১) নিরাপত্তার অনুভূতি (Feeling Safe)
২) ভালো সম্পর্কের শিক্ষা (Healthy Relationship)

১. "নিরাপত্তার অনুভূতি" কেন অপরিহার্য?

ধরুন —
আপনার ১ বছরের সন্তান খেলার সময় পড়ে গেল। সে ব্যথা পেয়ে কাঁদছে। এখন যদি মা-বাবা শান্তভাবে তাকে কোলে নিয়ে বলেন —
"ওহ পড়ে গেছো? কষ্ট পেয়েছো? আমি আছি তোমার সাথে।"

→ এতে শিশু বুঝবে —
আমি নিরাপদ
আমার মা-বাবা আমাকে ভালোবাসে
আমি তাদের ওপর ভরসা করতে পারি

এছাড়াও

- শিশু কাঁদলে তাকে তাড়াতাড়ি কোলে তুলে নিলে সে শিখবে, "আমার কষ্টের কথা কেউ শুনবে!"

- শিশু ভয় পেলে সান্ত্বনা দিলে সে জানবে "দুনিয়া ভয়ংকর নয়, এখানে আমাকে রক্ষা করা হবে!"

গবেষণায় দেখা যায়, এই সময়ে, প্রতি সেকেন্ডে ১ মিলিয়নেরও বেশি নতুন স্নায়বিক সংযোগ (synapse) তৈরি হয়। এটি শিশুর ভবিষ্যৎ শেখা, আচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি গঠন করে। নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে সহায়তা করে, তবে নিরাপত্তাহীনতা বা দীর্ঘস্থায়ী চাপ এই বিকাশকে ব্যাহত করতে পারে।

রাসূল (ﷺ) শিশুদের কান্না শুনলে সলাতও সংক্ষিপ্ত করতেন। (বুখারি)

২. কীভাবে "নিরাপত্তা" দেবেন?

✅ শারীরিক সান্নিধ্য বাড়ান

সন্তানকে আদর করুন, জড়িয়ে ধরুন, চুমু দিন। ঘুমানোর সময় কাছে রাখুন (এমন স্পর্শে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়)।

✅ স্থির ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিন

শিশু খাবারে মুখ ঘুরালে রাগ না করে বলুন, "আচ্ছা, এখন না হয় পরে খাবো!" কাঁদলে ধৈর্য ধরে বলুন, "আমি এখানে আছি তো,কোন ভয় নেই, ঠিক আছে!"

আবার ধরুন —

মা-বাবা ঝগড়া করছেন বা রেগে চিৎকার করছেন — এতে শিশুর মন আতঙ্কিত হয়ে যায়। সে ভয় পায়। এটা ওর ব্রেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তাই,
বাবা-মা একে অপরের সাথে নরম সুরে কথা বলতে হবে, এতে শিশু শিখবে "সম্মান কী" "ভালোবাসা কী"?

ভুল বশত কোন ঝগড়া হয়ে গেলে শিশুর সামনেই মিটমাট করে ফেলুন, এতে সে শেখবে "যেকোন সমস্যার সমাধান সম্ভব!"

⚠️ এই বয়সে যা এড়িয়ে চলবেন

❌ অতিরিক্ত শাসন

❌ স্ক্রিন টাইম (টিভি/মোবাইল শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়)।

❌ অস্থির পরিবেশ (চিৎকার, মারামারি শিশুর মস্তিষ্কে টক্সিক স্ট্রেস তৈরি করে)।

🎯 শেষ কথাঃ

শিশুর প্রথম ২ বছর হলো তার জীবনের ভিত্তি। এই ভিত্তি যত মজবুত, তার ভবিষ্যৎ তত উজ্জ্বল হবে ইন শা আল্লাহ !"

আমাদের সন্তানদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে ঘুম খুবই দরকারি ভূমিকা পালন করে। ঘুমের সাথে হাসি খুশি থাকা, মেজাজ, মনোযোগ, Cognitive...
16/02/2025

আমাদের সন্তানদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে ঘুম খুবই দরকারি ভূমিকা পালন করে। ঘুমের সাথে হাসি খুশি থাকা, মেজাজ, মনোযোগ, Cognitive development, লার্নিং, মেমোরি, ইত্যাদি অনেক বিষয় সম্পর্কিত। ঘুম বাচ্চার লার্নিং ডেভেলপমেন্টের জন্য খুব জরুরী। যে বাচ্চার ঘুম ভালো পরিমাণে হয়, সেই বাচ্চা মানসিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকে; তাদের মনে রাখার ক্ষমতা ভালো হয়; Longer attention span থাকে; এবং একইসাথে Hyperactivity, বিষন্নতার পরিমাণ কম থাকে।

আবার অনেক সময় বাচ্চাদের উইক ডেইজ আর উইকেন্ডের ঘুমের সময় এক থাকে না। উইকেন্ড নাইট, একটু মজা করুক বলে নরমাল ঘুমের সময়ের চেয়ে অনেক পরে হয়তো বাচ্চারা ঘুমাতে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যেসব বাচ্চার স্কুলের দিনের আর উইকেন্ডের ঘুমের সময়ে দুই ঘন্টার পার্থক্য থাকে, তাদের মধ্যে অন্য বাচ্চাদের তুলনায় ডিপ্রেশনের পরিমাণ বেশি থাকে।

ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবেঃ

১) ঘুমের জন্য আর্লি সময় নির্ধারণ করা অর্থাৎ বেশি রাত না করা।

২) ঘুমের আগে ফ্রেশ আপ হয়ে (যেমনঃ দাঁত ব্রাশ করা, একটু বড় বাচ্চাদের ওযু করানো, দোয়া পড়া, বেডটাইম স্টোরি পড়া) ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়া। চাইলে রুমের লাইট বন্ধ করে দিয়ে Dim light ব্যবহার করা যায়।

৩) উইক ডেইজ কিংবা উইকেন্ডে ঘুমের সময় একই রাখা।

৪) স্কুলে যাওয়া শুরু করলে বাচ্চার ডে-টাইম ন্যাপ ৩০মিনিটের বেশি না রাখা। ভালো হয় ন্যাপ বাদ দিয়ে রাতে আর্লি ঘুম পারানো।

এখন একটু খেয়াল করে দেখুন তো বিশেষজ্ঞদের বলা পয়েন্টের সাথে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা) শিখানো ঘুমানোর সুন্নাহ গুলোর সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন কিনা?

ড. নাঈমা আলমগীর
প্রিনাটাল ও প্যারেন্টিং ইন্সট্রাকটর
রৌদ্রময়ী স্কুল

07/02/2025

ছেলে সন্তানের নাম রাখুন সাহাবীদের নামে। সাহাবীরাও জেনেবুঝে সাহাবীদের নামে তাঁদের সন্তানদের নাম রাখতেন। ৩০ জন সাহাবীর নাম দেয়া হলো। আপনারা চাইলে নিজেদের সন্তান, আত্মীয়-স্বজনদের সন্তানের জন্য প্রস্তাব রাখতে পারেন।

১। আবু বকর (আবু বকর ইবনে আবু কুহাফা রা.)

২। উমর (উমর ইবনুল খাত্তাব রা.)

৩। উসমান (উসমান ইবনে আফফান রা.)

৪। আলী (আলী ইবনে আবি তালিব রা.)

৫। খালিদ (খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.)

৬। আনাস (আনাস ইবনে মালিক রা.)

৭। আব্বাস (আব্বাস ইবনে আব্দিল মুত্তালিব রা.)

৮। যুবাইর (যুবাইর ইবনে আউয়াম রা.)

৯। তালহা (তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ রা.)

১০। হামযা (হামযা ইবনে আব্দিল মুত্তালিব রা.)

১১। বিলাল (বিলাল ইবনে রাবাহ রা.)

১২। জাফর (জাফর ইবনে আবি তালিব রা.)

১৩। যায়িদ (যায়িদ ইবনে হারিসা রা.)

১৪। সালমান (সালমান ফারসি রা.)

১৫। সুহাইব (সুহাইব ইবনে সিনান রা.)

১৬। আম্মার (আম্মার ইবনে ইয়াসির রা.)

১৭। আব্দুর রহমান (আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা.)

১৮। আব্দুল্লাহ (আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর রা.)

১৯। উবাইদা (উবাইদা ইবনুল হারিস রা.)

২০। মুসআব (মুসআব ইবনে উমাইর রা.)

২১। আমর (আমর ইবনুল আ’স রা.)

২২। মুআবিয়া (মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রা.)

২৩। জাবির/জাবের (জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা.)

২৪। মুয়াজ (মুয়াজ ইবনে জাবাল রা.)

২৫। হুসাইন (হুসাইন ইবনে আলী রা.)

২৬। হাসান (হাসান ইবনে আলী রা.)

২৭। নোমান (নুমান ইবনে বাশীর রা.)

২৮। কায়স (কায়স ইবনে সা’দ রা.)

২৯। সাবিত (সাবিত ইবনে কায়স রা.)

৩০। সুহাইল (সুহাইল ইবনে আমর রা.)

[নাম পছন্দের পর সিদ্ধান্ত নেবার আগে আশেপাশের কোনো আলেমের কাছ থেকে অর্থ জেনে নিবেন।]
_ আরিফুল ইসলাম

06/02/2025

#ব্রেস্টফিডিং চার বছর লাগাতার দুই বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড/স্তন্যপান করিয়ে যা শিখলাম:

💜 আমাদের স্তন হলো বহমান নদী, লেক বা পুকুর না। নদী যেমন কখনো খালি করা যায় না, দুই বালতি পানি উঠালে আবার স্রোত এসে খালি জায়গা ভরে যায় আমাদের স্তনের ফ্লোও একই ভাবে কাজ করে। এটা কখনোই খালি হবে না, যত বেশী বাবু খাবে তত বেশী স্রোতের মত দুধ আসবে। যত ডিমান্ড তত সাপ্লাই। যদি স্তন কখনো খালি খালি লাগে তাহলে মনে রাখবেন শুধু স্তনে জমানো দুধ বাবু খেয়ে ফেলেছে, শরীর দুধ তৈরী করা বন্ধ করে নি, দুধ তৈরীর প্রক্রিয়া কখনই বন্ধ হয় না বাবু যতই খাক। বহমান নদীর মতন এটা চলমান প্রক্রিয়া। এজন্য নরম তুলতুলে স্তন স্বাভাবিক, তার মানে আপনার স্তন ভালোমতন রেগুলেট হচ্ছে। শক্ত চাকা হওয়া মানেই অনেক দুধ তা কিন্তু না, তার মানে তৈরী হওয়া দুধ জমাট হয়ে আছে খরচ হচ্ছে না, এতে নানান রকম জটিলতার সম্ভাবনা থাকে। আসলান যখন খুব ছোট ছিল তখন অল্প কিছুদিন আমার স্তন শক্ত হয়ে চাকা হয়ে থাকতো, যখন ও পুরোটা খেয়ে দুধ তৈরীর সাপ্লাই এ্যান্ড ডিমান্ডের প্রক্রিয়া সচল রেখেছে তার পর থেকে আমার কোনদিন লিকও হয় নি, স্তন শক্তও হয় নি, স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। ঐযে বললাম আমাদের স্তন নদী, পুকুর নয় যে স্তনেই দুধ সংরক্ষিত থাকতে হবে।

💜 আমাদের দুধ তৈরী হয় রক্ত দিয়ে, আমরা যে খাবার খাই সেটা সরাসরি দুধে পরিনত হয় না। দেশে যে এটা খেও না ওটা খেও না বলে তার বেশীরভাগেরই কোন ভিত্তি নেই। আমরা কোন কিছু খাবার পরে সেটা পাকস্থলীতে যায়, সেটা ভেঙ্গে রক্তে মিশতে অনেক লম্বা প্রক্রিয়া। শুধু কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সহ নানান পুষ্টি রক্তের মাধ্যমে দুধে গিয়ে পৌছায়। সব খাবার কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট হয়ে রক্তে মেশে না কাজেই আমরা যা খাই তার খুব কমই সরাসরি রক্তে মেশে, যেটা যায় সেটা হলো পুষ্টি, কাজেই মায়ের খাবারের সাথে বাচ্চার দুধের সম্পৃক্ততা কম, যা যায় মায়ের শরীর থেকে যায়, বাচ্চার পুষ্টি বাচ্চা ঠিকই নেয়। দরিদ্র অপুষ্টিতে ভোগা মায়েরাও কিন্তু বাচ্চাকে দুধ ঠিকই দিতে পারেন, ক্ষতি হয় মায়ের। তাই পুষ্টিকর খাবার মা খাবে, যাতে মায়ের শরীর ভেঙ্গে না পরে।

খুব রেয়ার কিছু এলার্জেন অনেক সময় মায়ের দুধ থেকে বাচ্চার সমস‍্যা করতে পারে যদি বাচ্চার এলার্জি বা ইনটলারেন্স থাকে, যেমন যেসব বাচ্চাদের গরুর দুধের মিল্ক প্রোটিনে সমস্যা হয় তাদের মায়েরা গরুর দুধ খেলে অনেক সময় বাচ্চার রিয়াকশন হয়। তবে ব্রেস্টফিডিং মায়েরা বাচ্চার বিশেষ কোন এলার্জি না থাকলে সব খাবারই খেতে পারে।

💜 যে কোন ঔষধ খাবার আগে বা ডাক্তারকে অবশ‍্যই বলবেন আমি ব্রেস্টফিডিং মা, এটা অনেক সময় মায়েরা ভুলে যায় বা লজ্জায় বলে না। সব ঔষধ ব্রেস্টফিডিং ফ্রেন্ডলি না, অনেক ঔষধ রক্তে মিশে দুধে চলে যায় যাতে বাবুর ক্ষতি হতে পারে। এমন অনেকবার হয়েছে ডাক্তার আমাকে এন্টিবায়োটিক বা অন‍্য কোন ঔষধ দিয়েছে আমি বলতে ভুলে গেছি পরে লিফলেট পড়ে দেখি ব্রেস্টফিডিং মায়েদের জন‍্য না। দাঁতের ফিলিং করাবার সময়ও ডাক্তারকে বলবেন আপনি ব্রেস্টফিডিং মা, অনেক সময় অল্প পরিমান মার্কারী ব্লাডে মিশতে পারে ফিলিং থেকে। আপনি না বললে আপনার ডাক্তার জানবে না আপনি ব্রেস্টফিডিং করেন।

💜 গ্যাস হয় এমন খাবার বা ঝাল খাওয়া যাবে না বাচ্চার গ্যাস হবে এটাও ভিত্তিহীন। গ্যাস হবার কারন হলো খাবারে থাকা insoluble fiber যেটা ঠিকমতন হজম হয় না, সেটা কখনোই রক্তের সাথে মেশে না, কাজেই সেটা দুধে মেশার কোন কারন নেই। ঝাল খাবার না খাওয়ারও কোন কারন নেই। কিছু কড়া খাবারের স্বাদ দুধে চলে যায় যেমন রসুন বা মরিচ তাতে বাচ্চার কোন অসুবিধা হয় না বরং এটা দুধের স্বাদে ভিন্নতা আনে, ৬ মাসে যখন বাচ্চা সলিড খাবে তখন সে সহজে খাবারে অভ্যস্ত হবে কারন কিছু স্বাদের সাথে সে আগে থেকেই দুধের মাধ্যমে পরিচিত। সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে শুধু যখন বাচ্চার এলার্জিজনিত সমস্যা থাকে যেমন গরুর দুধ ইত্যাদি সেটা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে। এছাড়া মা সবকিছু খাবেন। গ্যাস হয় বা বেশী ঝাল বা যেকোন অসাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা ভাল মায়ের নিজের স্বাস্থ্যের জন্য, বাচ্চার দুধ ঠিকই থাকে। আমি স্বাস্থ্যকর স্বাভাবিক খাবার খেয়েছি, কোন কিছু বাদ দেই নি আবার দুধ বেশী হবার বিশেষ কোন খাবারও তেমন একটা পাই নি, বিদেশে একা ছিলাম। প্রচুর পানি আর স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট। মনে রাখবেন দুধ তৈরী হয় রক্ত দিয়ে সরাসরি খাবার থেকে নয়।

💜 মায়ের দুধ বাড়ানোর একটাই উপায় সেটা হলো যত বেশী দুধ আপনার শরীর থেকে বের হবে, সেটা বাবু খেয়ে হোক বা পাম্প করে হোক, আপনার শরীর অত দুধ তৈরী করবে, এটা সাপ্লাই এন্ড ডিমান্ডের ভিত্তিতে কাজ করে। কোন টোটকায়, ঔষধে বা বিশেষ খাবারে দুধ বাড়ানোর তেমন ক্ষমতা নেই। তার চেয়ে বাচ্চা খোলা বুকে রেখে স্কিন টু স্কিন অনেক বেশী কাজ করে কারন আমাদের ব্রেইনে দুধ বাড়ানোর হরমোন নিঃসরণ করে॥

💜 বাবু বারবার যদি দুধ চায় একে বলে ক্লাস্টার ফিডিং, তার মানে এই না বাবু দুধ কম পাচ্ছে তার মানে সে বেশী বেশী দুধের অর্ডার দিচ্ছে কারন সে বেশী বেশী বড় হচ্ছে! সাপ্লাই এন্ড ডিমান্ড!

💜 ব্রেস্টমিল্কের প্রথম দিকে পানির পরিমাণ বেশী থাকে যেটাকে বলে Foremilk, পরে ঘন ফ‍্যাটযু্ক্ত দুধ আসে যেটা Hindmilk. দুটাই বাবুর জন‍্য দরকারী তাই একবারে একটা স্তন পুরো খালি করে পরের বার অন‍্যটা দিতে হয়। পাতলা দুধ ঘন দুধ ইমব‍্যালান্স হয়ে গেলে অনেক সময় বাবুর সবুজ পটি হয়।

💜 মার ঠান্ডা লাগলে দুধ খাওয়ালে বাচ্চারও ঠান্ডা লাগবে, এটাও সত্যি না। ঠান্ডা লাগে ভাইরাসের কারনে সেটা মা কোলে নিলেও বাচ্চার হতে পারে, দুধের মাধ্যমে জীবানু ছড়ায় না বরং বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় এন্টিবডি থাকে।

💜 বাচ্চা কতটুক দুধ পাচ্ছে সেটা পাম্পিং করে বোঝার কোন উপায় নেই। বাচ্চা যখন দুধ খায় তখন বাচ্চার প্রতি যে ভালোবাসা, বাচ্চার গায়ের গন্ধ, আবেগ সবমিলিয়ে যে হরমোন নিঃসারিত হয় সেটা থেকে অনেক বেশী দুধ বাচ্চার মুখে আসে। পাম্পের প্রতি আমাদের কোন আবেগ নেই কাজেই পাম্প খুব কম দুধ বের করে আনতে পারে। আমার কখনো পাম্পে খুব বেশী আসতো না কিন্তু আসলান সবসময় পেট ভরেই খেত।

💜 রাতে বাচ্চা কম ঘুমালে ফরমুলা দিলে ভাল ঘুমায় এটা কিছুটা সঠিক হলেও এটার কারন হলো ফরমুলা হজম হতে সময় বেশী লাগে তাই অনেকক্ষন বাচ্চার ক্ষুধা লাগে না। মায়ের দুধ সহজপাচ্য তাই বারবার রাতে খেতে চায়। ফরমুলা অবশ্যই পরিস্থিতি অনুযায়ী মায়ের সিদ্ধান্ত, তবে কখনোই মায়ের দুধের কোন বিকল্প নয়। আসলানের যখন ১৩ মাস বয়স তখন ২-৩ রাত ঘুম থেকে উঠে কেঁদেছে, দুধও মুখে নিত না এবং আমাদের চিনতে পারতো না, কিছুতেই থামতো না ৩০ মিনিট চিৎকার করে তারপর থামতো তখন সীমান্ত খালি বলতো রাতে ওর ক্ষুধা লাগে তাই কাঁদে মনে হয় মায়ের দুধে পেট ভরে না। আসলে ঐটা ওর একটা ডেভেলপমেন্টাল ফেইজ ছিল, আমি তাও ওকে কোন ফর্মুলা দেই নি, কারন এই বয়সী বাচ্চার পুরো রাত ঘুমানোর কথা হঠাৎ সে ক্ষুধার জন্য কাঁদবে না। লিপ শেষ হবার পর ঠিক হয়ে গেছে। সব কান্নার অর্থ ক্ষুধা না।

💜 মায়ের দুধের ব‍্যাথা নিরাময় ক্ষমতা আছে। আমার বাচ্চাদের আমি অনেক ভ‍্যাকসিন দিয়েছি দুধ খাওয়ার সময়, বাচ্চা টেরও পায় নি। দুই বাচ্চার মোসলমানি সারকুমসাইসেশন করলাম ১৬ দিন এবং ২৮ দিন বয়সে তাও সাথে সাথে দুধ দিয়েছি কান্না থেমে গেছে। মায়ের দুধের ঔষধি গুনের কোন তুলনা নেই, যে কোন স্কিনের সমস্যায় এবং আরো অনেক সমস্যায় আমি ব্রেস্টমিল্ক ব‍্যাবহার করেছি, সবসময় ব্রেস্টমিল্ক দিয়ে গোসলও দিয়েছি। সত‍্যিই এটা লিকুইড গোল্ড ।

💜 ফিড অন ডিমান্ড মানে বাবু যতবার যতক্ষন চাইবে সেভাবে খাওয়ানোই বেস্ট স্ট্রাটেজি, ফরমূলার মতন ঘড়ি ধরে খাওয়ানোর দরকার নেই বাবুর বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে।

💜 বাবুর অসুখ করলে ব্রেস্টমিল্কের রং এবং কম্পোজিশন বদলায় বাবুর প্রয়োজন অনুযায়ী।

💜 স্তন্যপান কারো কারো জন্য অত্যন্ত সহজ কারো কারো জন্য ভয়ঙ্কর কঠিন, আমার দারুন বিভীষিকাময় সময় গেছে। ঠিকমতন বাচ্চা ল‍্যাচ না করাতে পারলে অনেক ভয়াবহ সমস‍্যায় পরতে হয়।
আমার দুই বারই চার দিন পরে দুধ এসেছে, ততদিনে পালোয়ান টেনে নিপল এত বাজেভাবে জখম করেছে তার কাছে সিজারের ব্যাথা কিছুই না। ও যতবার টানতো মনে হতো হাজার ছুড়ি দিয়ে কেউ কোপাচ্ছে আমাকে, সেই যন্ত্রনা ভোলার না। তারপরও যে ব্রেস্টফিডিং করতে পেরেছি সেটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি বিশ্বাস করি আমার ছেলের সাথে আমার এই মজবুত বন্ডিংয়ে অনন্য ভুমিকা রেখেছে ব্রেস্টফিডিং। তবে বাচ্চার সুস্বাস্থ্যই অগ্রাধিকার সবার আগে, বোতল নাকি স্তন সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুই মা, যেহেতু পুরোটা চাপ মায়ের শরীরের উপরে যায় এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আর কারো নেই।

💜💜💜 তাই তো প্রকৃতির কোলে কীর্তনখোলা নদীর ধারে বসে পালোয়ান মায়ের দুধ খাচ্ছে, মায়ের বুকের দুধও নদীর মতই বহমান, নদীর মতই শিশুকে পুষ্টি, আরাম এবং আশ্রয় দেয়। হয়তো এই জন্যই নদীকে মায়ের মতন বলা হয়!

আশা চৌধুরী
#পালোয়ানের_বাংলাদেশ_ভ্রমন

Address

118/7, Chandrima Abashik
Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Cuddly Cove posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share