13/07/2026
_ আপনি কি সব মেয়ের সঙ্গেই এত ভদ্র?
— না। সবাই আমার স্ত্রী নয়।
— স্ত্রী?
মেহের চোখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল।
— এই সম্পর্কটা কাগজে আছে, আমার মনে নেই। তাই 'স্ত্রী' শব্দটা আমার সামনে ব্যবহার করবেন না।
এক মুহূর্ত নীরব রইল আদ্রিয়ান।
তারপর খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,
— ঠিক আছে। তুমি যেদিন এই পরিচয় মেনে নেবে, সেদিন বলব। তার আগে নয়।
এই উত্তরটা যেন মেহের আশা করেনি।
সে ভেবেছিল লোকটা রেগে যাবে। নিজের অধিকার ফলাবে। কিন্তু কিছুই হলো না।
আদ্রিয়ান বিছানার পাশে পানির গ্লাসটা রেখে দরজার দিকে হাঁটল।
দরজার কাছে গিয়ে থেমে বলল,
— আজ থেকে এই ঘর পুরোপুরি তোমার। আমি পাশের স্টাডি রুমে থাকব। তোমার অনুমতি ছাড়া এই ঘরে আর কখনও ঢুকব না।
মেহের অবাক হলেও মুখে প্রকাশ করল না।
— আর একটা কথা...
আদ্রিয়ান পিছন ফিরে তাকাল।
— কেউ যদি তোমাকে এই বিয়েতে বাধ্য করে থাকে, তার শাস্তি আমাকে দিয়ো। কিন্তু নিজের জীবনটাকে শাস্তি দিও না।
কথাটা বলেই সে দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল।
ঘরে আবার নীরবতা নেমে এলো।
মেহের ধীরে ধীরে বিছানায় বসে পড়ল।
তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা পানির গ্লাসটার দিকে।
এক সেকেন্ড...
দুই সেকেন্ড...
পরের মুহূর্তেই সে গ্লাসটা মেঝেতে ছুড়ে ভেঙে ফেলল।
"আমি এত সহজে কারও ভালো ব্যবহার দেখে নরম হয়ে যাওয়ার মেয়ে নই, মিস্টার আদ্রিয়ান।"
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আদ্রিয়ান ভাঙা কাচের শব্দ শুনেও ফিরে এল না।
শুধু মৃদু স্বরে বলল,
"যেদিন রাগটা কমে যাবে, সেদিন হয়তো তুমি নিজেই কথা বলতে চাইবে। আমি সেই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে পারি।"