03/06/2026
মেয়ে সন্তান হলে আমরা মা'য়েরাই কপাল কুচকাই,মন খারাপ করি,কিন্তু দিনশেষে একটা মেয়ে যেভাবে মা -বাবার খুঁজ রাখে দূর থেকেও,সেটা মনে হয়না একটা ছেলে এক বাসায় বসেও রাখে!! 🥹
"এক ছেলে সচিব, একজন বুয়েটের শিক্ষক, আরেক ছেলে কানাডায় স্থায়ী।
নাতি-নাতনিরা নামী স্কুল-কলেজে পড়ে।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, কী ভাগ্যবতী মা! কী সফল সন্তান! কী গর্বের পরিবার!
রত্নগর্ভা মা... তাই না?
ওয়েট! একটু থামুন।
এই সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে কত রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন এই মা, তা কি কেউ জানে?
যখন সন্তানের জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ছিল, তখন তিনিই রাতভর মাথায় পানি ঢেলেছেন।
যখন স্কুলের ফি দেওয়ার টাকা ছিল না, তখন নিজের শখ, নিজের প্রয়োজন, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছেন।
যখন সন্তান পরীক্ষার হলে বসেছিল, তখন বাইরে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে করতে চোখের পানি ফেলেছেন।
নিজে পুরোনো শাড়ি পরে থেকেছেন, কিন্তু সন্তানের বই যেন না কমে সেদিকে খেয়াল রেখেছেন।
একদিন সন্তানরা বড় হয়েছে।
অনেক বড়।
এত বড় যে মায়ের জন্য আর সময় হয়নি।
এত বড় যে মায়ের ফোন ধরাও কখনো কখনো বিরক্তিকর মনে হয়েছে।
এত বড় যে "কেমন আছো মা?" এই প্রশ্নটুকুও করার প্রয়োজন বোধ করেনি।
আর সেই মায়ের শেষ পরিণতি?
মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে একা পড়ে ছিলেন তিনি।
একদিন নয়।
দুইদিন নয়।
১০-১৫ দিন।
মৃত্যুর পরও কেউ খোঁজ নেয়নি।
কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি।
কেউ ফোন করেনি।
কেউ বুঝতেও পারেনি যে যিনি একদিন তিনটি সন্তানকে বুকের রক্ত পানি করে মানুষ করেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই।
অবশেষে দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ ফোন দেয়।
পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে তাঁর মরদেহ।
ভাবুন তো...
যে মা সন্তানের কান্না শুনে রাতের ঘুম ছেড়ে দিতেন, সেই মায়ের মৃত্যুর খবরও সন্তানদের কানে পৌঁছায়নি দিনের পর দিন!
এমন জীবনের পেছনেই কি আমরা ছুটছি?
সন্তানকে শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সচিব, প্রফেসর বানাচ্ছেন...
নাকি মানুষও বানাচ্ছেন?
কারণ ডিগ্রি মানুষকে শিক্ষিত বানায়, কিন্তু মানবিক বানায় না।
আজ যে মা-বাবা সন্তানের জন্য জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের শেষ বয়সের নিশ্চয়তা কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নয়, কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নয়, কোনো বড় চাকরিও নয়।
তাঁদের শেষ আশ্রয় একজন মানবিক সন্তান।
প্রশ্নটা নিজের কাছে রাখুন...
আপনার সন্তান কি শুধু সফল হচ্ছে, নাকি মানুষও হচ্ছে?
আরেকটা প্রশ্ন...
শেষ বয়সে আপনার পরিণতি এই মায়ের মতো হবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?"