08/03/2026
#রামাদানের_শেষ_দশকে_মেয়েদের_ইতিকাফ_ও_লাইলাতুল_ক্বদর
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। সায়্যিদা আইশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন-
أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ، حَتّى تَوَفّاهُ اللهُ عَزّ وَجَلّ، ثُمّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের আগ পর্যন্ত রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। নবীজীর পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন। [১]
সায়্যিদ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
كَانَ يَعْرِضُ عَلَى النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ القُرْآنَ كُلّ عَامٍ مَرّةً، فَعَرَضَ عَلَيْهِ مَرّتَيْنِ فِي العَامِ الّذِي قُبِضَ فِيهِ، وَكَانَ يَعْتَكِفُ كُلّ عَامٍ عَشْرًا، فَاعْتَكَفَ عِشْرِينَ فِي العَامِ الّذِي قُبِضَ فِيهِ.
জিবরীল প্রতি বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একবার কুরআন শোনাতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ওফাত হয় সে বছর দুই বার শোনান।নবীজী প্রতি বছর দশ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। [২]
অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত রাসুলুল্লাহ ﷺ রামাদানে ইতিকাফে বসতেন, এবং উনার বিবিরাও এই আমল করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ ইতিকাফের ফজিলতে বলেছেন- আল্লাহ ﷻ সন্তুষ্টির নিয়তে যে ব্যক্তি মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে আল্লাহ ﷻ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। যে পরিখাগুলোর প্রতিটির দূরত্বই আসমান ও জমিনের মধবর্তী দূরত্বের সমান।
এবং সেই ইবাদাত কতই না মধুর, যে ইবাদাতে দুনিয়াবি সমস্ত কাজ থেকে বান্দা ফারেগ হয়ে শুধু মাত্র তার রাব্বের সন্তুষ্টির জন্য রাব্বের দরবারে পড়ে থাকে দিন-রাত।
সাংসারিক কর্ম ব্যস্ততা, স্বামীর খেদমত ও সন্তানের তারবিয়াতে নারীদের এমন সুযোগ হয়ে ওঠে না যে সব কিছু থেকে একেবারে ফারেগ হয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য শুধু মাত্র ইবাদাত করে কটা দিন কাটাবে। কিন্তু তার পরেও যদি কেউ পারে, হালত ও সময় মিলে যায়, কিংবা সংসার দেখার অন্য মানুষজন থাকে, কিংবা পরিবারের সবাই তাকে সাহায্য করবে ইতিকাফে বসতে, কিংবা এমন কেউ যার এখনো সংসারের দায়িত্ব কাঁধে পড়ে নাই, অবসর আছেন বা পরিবারের কেউ তার উপর নির্ভরশীল নয়, তবে সেই নারীর উচিৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য উনার ইবাদাতে কিছুদিন মত্ত হয়ে থাকা।
তবে কারও উচিৎ নয় এই সুন্নত ইবাদাতের জন্য অন্য কাউকে কষ্ট দেওয়া বা অসন্তুষ্ট করা। মা বা স্ত্রী যদি নিজেকে একা করে রাখেন আল্লাহর ইবাদাতে, অপর দিকে যদি বাচ্চারা অনাহারে অনাদরে থাকে, সংসারের কাজ দেখার কেউ না থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে উচিৎ হবে না মেয়েদের জন্য ইতিকাফে বসা। সুন্নত ইবাদাত ইতিকাফ থেকে অবশ্য স্বামী-সন্তানের হক আদায় করা আরও বেশি সোওয়াবের।
তবে যদি কেউ ইতিকাফে বসার মত নাসিব ও সুবিধা পায় তবে কিছু জরুরী মাসআলা জেনে রাখা প্রয়োজন ।
#ইতিকাফের অনুমতি-
#অবিবাহিত মেয়েরা পরিবারের মুরুব্বী অর্থাৎ মা-বাবাকে জানিয়ে নিবে, যাতে তারা জেনে থাকেন শেষ দশকে তারা প্রয়োজনে মেয়েকে কাছে পাবেন না। না হয় প্রয়োজনে কাছে না পেয়ে অসন্তুষ্ট হতে পারেন
#বিবাহিতা নারীদের জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে অবশ্যই। স্বামী অনুমতি না দিলে, এরপরেও ইতিকাফে বসলে তা অনুচিত হবে, এবং কঠিন গুনাহের কারণও হতে পারে। কারণ ইতিকাফ থেকে স্বামীর আনুগত্য করা বেশি জরুরী।
#স্বামীদের জন্য উত্তম হবে এমন একটা মহৎ ইবাদাতে স্ত্রীকে সাহায্য করা, তাহলেই এতে উভয়েই সমান নেকী পাবে, তিনি চাইলেই মানা করতে পারেন, তবে তা কষ্টদায়ক হবে, তবে যদি যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ থাকে তবে নিষেধ করতে পারেন।
#অন্যান্য নফল ইবাদাতের মত, স্বামী যদি একবার অনুমতি দিয়ে দেন তবে আর নিষেধ করতে পারবেন না। স্ত্রী যদি ইতিকাফে বসে যান, এরপর যদি স্বামী নিষেধ করেন বা বাধা দেন তবে তা মান্য করা স্ত্রীর জন্য জরুরী না।
#যদিউ রামাদানের রাত্রীগুলোতে সহবাস করতে বাধা নেই, কিন্তু ইতিকাফে বসে গেলে আর সহবাস করা যাবে না। সহবাস ছাড়াও সাধারণ মেলামেশা করলেও ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে যাবে।
#ইতিকাফের স্থান-
#মাসজিদে ইতিকাফ করা পুরুষদের জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তবে মহিলাদের জন্য মুয়াক্কাদাহ নয়। মহিলাদের জন্য মাসজিদে যেয়ে নামাজ আদায় করার থেকে নিজ গৃহে নামাজ আদায় করাই বেশি
উত্তম। আর তাই মহিলারা যেন বেশি বেশি মাসজিদে গমন না করে, তাই পুরুষরা মাসজিদে ইবাদাত করলে যে সোওয়াব পাবে মহিলারাও ঘরে ইবাদাত করলে সেই একই পরিমাণ সোওয়াব পাবে বলে হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। মহিলাদের নিজ কক্ষের ইবাদাতের স্থানটুকুই তার জন্য মাসজিদের সাদৃশ্য। তাই পুরুষরা মাসজিদে ইতিকাফে বসলেও মহিলাদের জন্য মাসজিদ নয় বরং ঘরে ইতিকাফ উত্তম।
#মহিলাদের জন্য যদি মাসজিদে ইতিকাফের ব্যবস্থা থাকে, তবে পরিবারের কর্তার অনুমতি থাকলে সেখানে ইতিকাফ করতে পারে। অনেক সময় এক এলাকার মহিলাদের ইতিকাফের জন্য কোনো এক ঘরে ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে এলাকার সব মহিলারা জমায়েত হয়ে ইতিকাফে বসেন, কর্তার অনুমতি থাকলে সেখানে যেয়েও ইতিকাফ করতে পারেন, তবে আগে থেকে দেখে নিবেন সেই ঘরের পুরুষদের জন্য কোনো রকম পর্দার সমস্যা বা ফিতনার আশংকা আছে কিনা। তবে অন্যের ঘরে ইতিকাফে বসার থেকে উত্তম হচ্ছে নিজ ঘরে ইতিকাফে বসা।
#নিজের ঘরে যদি আগে থেকে ইবাদাতের নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকে, তবে ইতিকাফের জন্য কোনো একটা রুম কিংবা কোনো একটা রুমের কর্নার ইতিকাফের জন্য গুছিয়ে নিবে।
#ইতিকাফের মাঝে হায়েজ আসলে-
#ইতিকাফে বসার জন্য পবিত্রতা শর্ত। ইতিকাফে বসার আগে হায়েজ বা নিফাসের সময় দেখে বসবে।
#যদি -
১। তারিখ ইতিকাফের মাঝেই হয় তবে জেনে রাখতে হবে হায়েজ বা নিফাস হওয়া মাত্র ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। এবং পরবর্তীতে যখন ঐদিনের রোজা কাযা করবে তখন ঐ একদিনের ইতিকাফও কাযা আদায় করে নিবে।
২। কেউ জেনে থাকে শেষ দশকের শুরুতে বা শেষে হায়েজ আসবে, তবে যে কদিন পবিত্র থাকবে সে কদিনের নিয়ত করে নফল ইতিকাফে বসতে পারবে।
৩। যদি কেউ শর্ত মেনে পিল খেয়ে হায়েজ বন্ধ রেখে রোজা আদায় করতে থাকে তবে সেই হালতে ইতিকাফে বসতে সমস্যা নেই। [৩]
#ইতিকাফের মাঝে কাজকর্ম-
#ইতিকাফের যে স্থানটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া সে স্থান থেকে বের হলে ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে যাবে। প্রয়োজনগুলো- পেশাব-পায়খানা, ওজু-গোসল, ইফতার ও সাহুরের খাবার খাওয়া।
#যদি খাবার পাশে রেখে যাওয়ার মত কেউ থাকে তবে উত্তম, খাবারের সময় খেয়ে নিবে। কিন্তু যদি রান্না করে দেওয়ার বা খাবার পাশে এনে রাখার মত কেউ না থাকে তবে সে ক্ষেত্রে নিজের খাবারটুকু নিয়ে আসা যাবে, কিংবা অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে নিজের খাবারটুকু তৈরি করে নিয়ে আসতে পারবে।
#এখানে খেয়াল রাখা জরুরী, এই ১০ দিনে এমন সব খাবার খেয়ে থাকবে যেগুলো হালকা পাতলা, শরীরে অলসতা আনে না, শরীর ভারি করে না। কিংবা ঘন ঘন টয়লেট পাবে না। আর যদি খাবার তৈরি করে দেওয়ার কেউ না থাকে তবে এমন সব শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখবে যাতে খাবার তৈরি করতে রান্না ঘরে যেতে না হয়। যেমন রুটি, বিস্কিট, ফল, চিড়া-মুড়ি, খেজুর, বাদাম ইত্যাদি। নিজের খাবারটুকু তৈরি করে নিয়ে আসতে পারবে এর দ্বারা এটা বুঝায় না যে রান্নাঘরে ঘন্টাখানেক লাগিয়ে ডাল, ভাত, মাছ-গোস্ত রান্না করবে।
#বোতলে বা জগে পর্যাপ্ত পানি পাশে রাখবে।
#ইতিকাফে বসার পর যাবতীয় দুনিয়াবি সমস্ত কাজ থেকে নিজেকে ফারেগ করে নিবে। এমনকি একান্ত জরুরত ছাড়া কারও সাথে গল্পগুজব করা, মোবাইল টিপা, কোনো সংবাদ পড়া বা দেখা, ইত্যাদি এসবেও ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে জরুরতে সংসারের খবরাখবর রাখা যাবে।
#যদি এমন জরুরী ডাক আসে, বা কোনো অঘটন ঘটে যায়, অর্থাৎ কেউ ব্যথা পেলো, কোনো এক্সিডেন্ট হল, কেউ গুরুতর অসুস্থ হল, যিনি ইতিকাফে আছেন তিনি ছাড়া আর কেউ নাই দেখার, তবে ইতিকাফের স্থান থেকে উঠে যেয়ে সেই জরুরী কাজ করবেন। কারণ সেই কাজ সেই মূহুর্তে ইতিকাফ থেকে জরুরী।
#ইতিকাফের ইবাদাত-
#ইতিকাফে ৬টি কাজে নিজেকে খুব বেশি মশগুল রাখবে-
১। ফরজ নামাজের পরে সুন্নত, ওয়াজিব, তারাবী, তাহাজ্জুদ ও সব ধরনের নফল নামাজ।
২। কুরআন তিলাওয়াত।
৩। তাফসির ও অনুবাদ পড়া।
৪। সকাল, বিকাল, নামাজের পরে, ঘুমের আগে, ঘুম থেকে উঠার পরের ইত্যাদি সমস্ত দুয়া পড়া, এছাড়াও সমস্ত ফজিলতপূর্ন জিকিরগুলো বেশি বেশি করা।
৫। বেশি বেশি করে দুয়া করবে। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমস্ত মুসলমানদের জন্য।
৬। সাদাকা করবে। এ ক্ষেত্রে ইতিকাফে বসার আগেই সাদাকার টাকা কাউকে দিবে ও দায়িত্ব দিয়ে দিবে যেন প্রতি রাতে সাদাকা করে দেয়।
#ইবাদাতের জন্য যে বইপুস্তক প্রয়োজন তা আগেই থেকেই ইতিকাফের স্থানে এনে রাখবে। যেমন, কুরআন, তাফসির, জিকির ও হাদিসের কিতাব ইত্যাদি। তবে অন্যান্য বই পড়া থেকে বিরত থাকবে।
#লাইলাতুল ক্বদর-
#আমরা যতই জানি, যতই বুঝি আর অন্যকে বলিনা কেনো, গাফেল আমরা রয়েই যাই। এই হয়তো জীবনের শেষ রমাদ্বান, হয়তো শেষ লাইলাতুল ক্বদর।
বাড়তি কাজ বাদ দিয়ে জরুরি কাজ কমিয়ে আমাদের মন দিতে হবে দিনের সিয়ামে ও রাতের ক্বিয়ামে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন আমরা যেন শেষ দশ রামাদানের রাতে কদরের রাত খুঁজি।
আর এই দুয়াটা সায়্যিদা আইশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে শিখেয়েছেন যেন বেশি বেশি করে পড়া হয়-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
অর্থ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাদের ক্ষমা করে দেও।
তওবা ইস্তিগফার করে, ঈমানের উপর সন্দেহ পতিত হলে আমানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি বলে আমরা অনেক বেশি করে তিলাওয়াত, যিকির, দুয়া, সাদাকা করবো এবং রাত কাটাবো তাহাজ্জুদে ইন শা আল্লাহ।
কদরের রাত এক হাজার মাসের রাত থেকে উত্তম, অর্থাৎ দুই রাকাত নামাজ যদি পড়ি, যেন আমি এক হাজার মাস লাগাতার নামাজে কাটালাম। আল্লাহু আকবার।
হায়েজ হলে মেয়েরা তিলাওয়াত, নামাজ, রোজা থেকে বিরত থাকলেও দুয়া, সাদাকা ও যিকির ও বেশি বেশি করে ইস্তিগফার করতে পারবে। এতে মন খারাপের কিছু নেই, যিকির এমন এক ইবাদাত যা মানুষ জান্নাতে যেয়েও করবে, রোজা, নামাজ, সাদাকা জান্নাতে নেই। কিন্তু যিকির আছে।
#লাইলাতুল ক্বদর শেষ দশ রাতের যে কোনো এক বিজোড় রাতে হতে পারে, অথচ আমরা অনেকেই ভাবি শুধুমাত্র সাতাশের রাতই বুঝি লাইলাতুল ক্বদর। এতে করে অন্য বিজোড় রাত্রীগুলোতে ইবাদাতে থাকিনা অনেকেই, কোনো রামাদানে যদি সাতাশের রাত ক্বদরের না হয়, তবে তো এই মহান রাত আমরা পেলামই না। তাই শুধু সাতাশ নয় বরং ২১/২৩/২৫/২৭/২৯ এই সব রাত্রীগুলোতে অনেক বেশি করে দুয়া, তাওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদাত করতে হবে।
#বিজোড় রাত্রীগুলোতে শুধুমাত্র ঐ রাতের কয়েকঘন্টার জন্য হলেও নফল ইতিকাফের নিয়তে বসা যাবে। পুরুষরাও মাসজিদে বসতে পারবে।
যারা ইতিকাফে বসেছেন-
#রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাত্রীগুলোর মাঝে যে কোনো একটি রাত্রী হতে পারে ক্বদরের রাত্রী। আর ইতিকাফে বসার এটা একটা প্রধান উদ্দেশ্য যাতে করে এই রাত্রের ইবাদাত ও ফজিলত কোনো ভাবেই বাদ না যায়। তাই ইতিকাফকারীরা এই রাত্রীগুলোতে সমস্ত ক্লান্তি ও উদাসিনতা ভুলে একমনে ইবাদাতে মাশগুল থাকবে।
পরিশেষ-
জুমুয়ার নামাজ, কুসুফ-খুসুফের নামাজ, জানাজার নামাজ, ঈদের নামাজ ও ইতিকাফে মহিলাদের আমল খুব কম হয়ে থাকে। এসব ইবাদাত মাসজিদ কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে, নানান ফিতনা, বা পর্দার ভিতর সুযোগ না থাকার কারণে মহিলাদের জন্য ফরজ না হলেও অনেকের ক্ষেত্রে জীবনে একবারের জন্য হলেও আদায় করা হয় না। ইতিকাফ যেহেতু ঘরে বসেই আদায় করা যায় তাই সকলের উচিৎ পুরো জীবনে অন্তত দু-একবার করে হলেও ইতিকাফে বসে ইবাদাতের মজা সম্পূর্ণ ভাবে, তৃপ্তি সহকারে উপভোগ করা।
পুরুষদের জন্য উচিৎ হচ্ছে মা, বোন ও স্ত্রীদের জন্য ইতিকাফে বসার সু্যোগ ও ব্যবস্থা করে দেওয়া। এমন একটা সুযোগ ও ব্যবস্থা থেকে উত্তম আর কী হাদিয়া হতে পারে একজন পুরুষের তরফ থেকে? ৩৬৫ দিনের মাঝে মাত্র ১০টা দিন ও রাত পুরুষরা নিজেদের ঘরের মহিলাদের এই সুযোগ করে দিতেই পারেন। বরং যাদের কাঁধে সংসারের দায়িত্ব নাই, যেমন দাদী-নানী, মা খালারা, উনাদেরকে রীতিমত উৎসাহিত করা উচিৎ ইতিকাফে বসার জন্য।
পুরুষ-মহিলা উভয়েরই উচিৎ পুরো ১০দিন না পারলেও নফল ইতিকাফের নিয়তে অন্তত তিনদিন বা এক দিন বা এক রাত্রির জন্য হলেও ইতিকাফে বসা। বেশি ইবাদাত করতে না পারলেও ইতকাফের নিয়তের জন্য পুরোটা সময় জুড়ে সোওয়াব লেখাই হতে থাকবে তাদের।
#রামাদানের শেষ দশকের ইতিকাফ পুরুষদের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। নারীদের জন্য নয়।
কেউ যদি ইতিকাফে বসে ও কোনো কারণে তা পূর্ন করতে না পারে, কোনো কারণে তা ফাসেদ হয়ে যায় তবে পুরোটা কিংবা অবশিষ্ট দিনগুলোর কাজা ইতিকাফ আদায় করে নিতে হবে। এমন হালত কারও হলে ঐ সময় কোনো বিজ্ঞ মুফতির সাথে হালত বর্ণনা করে হাল জেনে নিবে।
রামাদানের এই দশকের ইতিকাফ ছাড়াও বছরের অন্য যে কোনো মাসে যে কোনো সময় নফল ইতিকাফ করা যায়, সেটার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন-ক্ষণ নাই। ১/৩/৭/১০/২০দিন, যে কোনো সময়ের জন্য হতে পারে। কেউ যদি এমন নিয়ত করে যে আমি যতক্ষণ মাসজিদে অবস্থান করব ততক্ষণ ইতিকাফ করব, বা ইতিকাফের নিয়তে ঘন্টাখানেকও মাসজিদে অবস্থান করে তবে সেটা তার জন্য নফল ইতিকাফ হবে।
একই ভাবে রামাদানেও দশ দিন পুরোটা না পারলেও যে কোনো দিন যে কোনো সময় অল্প সময়ের জন্য হলেও নফল ইতিকাফের নিয়তে বসা যাবে। সেটা তখন শেষ দশকের নির্দিষ্ট ইতিকাফ হিসেবে ধরা হবে না। ওয়াল্লাহু আলাম।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে রামাদানের ইবাদাত করার নাসিব দেন ও কবুল করুন। আমিন
[১]মুসলিম-১১৭২, বুখারী-২০২৬
[২]বুখারী-৪৯৯৮, ২০৪৪
[৩] শর্ত- ১। বিবাহিতা হলে স্বামীর অনুমতি নিবে। ২। পিল খেলে শারীরিক কোনো ক্ষতি হতে পারবে না