24/06/2026
অনেকেই প্রশ্ন করেন, "ভাই, আপনারা ফটোকপি ৫ টাকা, প্রিন্ট ১০ টাকা কেন নেন? অমুক দোকানে তো ৩ টাকায় ফটোকপি, ৫ টাকায় প্রিন্ট করে!"
আসুন একটু বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি।
একটা ফটোকপি বা প্রিন্টের পেছনে শুধু কাগজ আর কালি খরচ হয় না। এর সাথে জড়িত থাকে মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, ইন্টারনেট বিল এবং হঠাৎ হওয়া বিভিন্ন যান্ত্রিক খরচ।
বর্তমানে Toshiba 2523A মেশিনের টোনারের দাম প্রায় ২৪০০ টাকা। অনেকেই টোনার রিফিল করেন, কিন্তু রিফিল টোনারে প্রিন্ট ও মেশিন—দুই ক্ষেত্রেই নানা সমস্যা দেখা দেয়। অন্যদিকে Epson L3210-এর অরিজিনাল কালি সেট কিনতে প্রায় ৩৫০০ টাকা লাগে।
এরপর আছে কাগজের দাম। ৬৫ GSM, ৮০ GSM, লিগ্যাল সাইজ, ফটো পেপার—সব কিছুর দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিদ্যুতের ইউনিট রেটও বেড়েছে। লেমিনেটিং শিট, স্পাইরাল, বাইন্ডিং সামগ্রী—সবকিছুর খরচই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।
মেশিনের কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে খরচ আরও ভয়াবহ। হিট রোলার, কার্বন, লাইট, ড্রাম বা অন্যান্য পার্টস পরিবর্তন করতে একেকবারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বা তারও বেশি খরচ হয়ে যায়।
তারপরও অনেকেই আশা করেন ২-৩ টাকায় ফটোকপি আর ৫ টাকায় প্রিন্ট দেওয়া সম্ভব!
বাস্তবতা হলো, বর্তমান বাজারে ফটোকপি ৫ টাকা, প্রিন্ট ১০ টাকা, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ১০ টাকা—এসব রেট রাখার পরেও লাভের মার্জিন খুব বেশি থাকে না। বরং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, ভালো সার্ভিস দেওয়া এবং মেশিন সচল রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা যখন ৫ টাকা ফটোকপি বা ১০ টাকা প্রিন্টের কথা বলি, তখন অনেকের কাছে সেটা বেশি মনে হয়। কিন্তু একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে—চাল, ডাল, তেল, বিদ্যুৎ, ভাড়া—সবকিছু। তাহলে শুধুমাত্র ফটোকপি ও প্রিন্টিং সার্ভিসই কেন বছরের পর বছর একই দামে চলবে?
ভাই, আমরা কেউ দান-খয়রাতের প্রতিষ্ঠান চালাই না। ব্যবসা টিকিয়ে রেখে আপনাদের দ্রুত ও ভালো সেবা দেওয়ার জন্যই একটি যৌক্তিক মূল্য রাখা হয়।
সস্তা রেট দেখেই দোকান বিচার করবেন না। ভালো কাগজ, ভালো কালি, ভালো মেশিন এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিসেরও একটা মূল্য আছে।
ধন্যবাদ সবাইকে, যারা বিষয়টা বুঝেন এবং স্থানীয় ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেন। ❤️