13/09/2018
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে বাস করে এ দেশের অন্যতম নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরী সম্প্রদায়। আঠারো শ’ শতক থেকে এই এলাকায় মণিপুরীদের বাস। এ দেশে প্রায় দেড় লাখ মণিপুরী বসবাস করে। মণিপুরী নারীদের সুখ্যাতি রয়েছে হাতে বোনা তাঁতের কাপড়ের জন্য। শ্রীমঙ্গল ও বিশেষ করে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের প্রায় ৬০টি গ্রাম বিখ্যাত মণিপুরী তাঁতশিল্পের জন্য । বাংলাদেশের প্রাচীন হস্তশিল্পগুলোর মধ্যে মনিপুরী হস্তশিল্প সু-প্রসিদ্ধ । মনিপুরী হস্তশিল্প অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত । তাঁত শিল্পের সঙ্গে মনিপুরীদের রয়েছে যুগযুগান্তরের সম্পর্ক মনিপুরী সমাজে মেয়েদের তাঁত শিল্পের অভিজ্ঞতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে পূর্বযোগ্যতা হিসেবে দেখা হয় । এমনকি মেয়েরা যখন জন্ম নেয়,একটু বড় হলেই মায়েরা মেয়েদেরকে তাতে বুনন কাজ শেখায় এই উদ্দেশ্যে যে এই কাজ শিখলে তাদের বিয়ের সময় এটা যৌতুকের একটা অংশ হিসাবে কাজ করবে ।
মনিপুরীদের বস্ত্র তৈরির তাঁতকল বা মেশিন প্রধানত তিন প্রকার যেমন, কোমরে বাঁধা তাঁত, হ্যান্ডলুম তাঁত ও থোয়াং। এই তাঁতগুলো দিয়ে সাধারণত টেবিল ক্লথ, স্কার্ফ, লেডিস চাদর, শাড়ি, তোয়ালে, মাফলার, গামছা, মশারী, ইত্যাদি ছোট কাপড় তৈরি হয়। প্রধানত নিজেদের তৈরি পোশাক দ্বারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতেই মনিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে তাঁত শিল্পে নির্মিত সামগ্রী বাঙালি সমাজে নন্দিত ও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে নকশা করা ১২ হাত মনিপুরী শাড়ি, নকশি ওড়না, মনোহারী ডিজাইনের শীতের চাদর বাঙালি মহিলাদের সৌখিন পরিধেয়।
সিলেটের এই ঐতিহ্য, নান্দনিকতাকে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সহজলভ্য করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। সবকিছুর শুরুতেই কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকে। সবকিছু ডিঙিয়ে আজ আমরা শুরুর পথে।শুরুতে আমাদের সেবার মান উন্নত করতে আমদের এই পরিসেবা শুধুমাত্র মণিপুরী পাড়াতে হাতে বোনা শাড়িতেই সীমাবদ্ধ রাখব। আমাদের সেবা হবে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক। মণিপুরী পাড়া থেকে সংগৃহীত এসব নান্দনিক শাড়ী আমরা বিভিন্ন কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌছে দিব আপনাদের ঠিকানায়। পেজেই আপনারা পেয়ে যাবেন সকল শাড়ির ছবি, কোডসহ সকল তথ্য। আপনার পছন্দের শাড়ির জন্য নির্ধারিত পেমেন্ট, নির্ধারিত নাম্বারে সম্পন্ন করে, আপনার শাড়ির কোড, ঠিকানা, বিকাশে পেমেন্ট করা নাম্বারের শেষ তিনটি নাম্বার এবং আপনার মোবাইল নাম্বার পাঠিয়ে দিলেই আপনারা আপনাদের পছন্দকৃত শাড়িটি ৩-৫ দিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন আপনাদের হাতে।
এতো সবে পথচলার শুরু, সামনের দিনে আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আমাদের এই ঐতিহ্য, আমাদের এই হস্তশিল্পকে পৌছে দিতে চাই দেশের প্রতিটি প্রান্তরে। ☺