19/02/2026
"First Sehri Done!"
"First Iftar Done!"
এই লাইনগুলো পোস্ট করলে অনেকেই বলেন ইবাদত তো প্রকাশ করার বিষয় না। এটা ঠিকও। ইবাদত আসলে বান্দা আর রবের মাঝে এক নীরব, গভীর সম্পর্ক।
কিন্তু এই সময়টা কি আগের মতো আছে?
চারপাশে যখন এন্টি-ইসলামিক আদর্শ, কালচার আর ট্রেন্ড এত জোরে প্রমোট হচ্ছে, যখন আমাদের ইসলামি সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে মিনিমালাইজ করার চেষ্টা চলছে, তখন কি আমাদের দ্বীনের সৌন্দর্য লুকিয়ে রাখা উচিত?
রমাদান শুধু ক্ষুধা সহ্য করার মাস না।
এটা রহমতের মাস, অনুভূতির মাস, পরিবারকে নিয়ে ভোররাতে জেগে ওঠার মাস। সেহরির টেবিল, ফজরের আগে নীরব দোয়া, ক্লান্ত চোখে তৃপ্তির হাসি,এই আবহটাই তো আমাদের পরিচয়।
যদি আমরা রমাদানকে একগুঁয়ে, নিস্তব্ধ আর শুধু কঠিন ইবাদতের মাস হিসেবে তুলে ধরি,তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম এটাকে কীভাবে ভালোবাসবে?
তারা তো দেখবে অন্য সংস্কৃতির ঝলমলে আয়োজন, আনন্দ আর উদযাপন। তখন নিজের দ্বীনকেই হয়তো শুকনো মনে হবে।
আরেকটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ,প্রত্যেক কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
যদি নিয়ত শো অফ না হয়, বরং দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া হয়,তাহলে রমাদানের আনন্দটা শেয়ার করলে ক্ষতি কোথায়?
ইবাদত লুকানো উত্তম হতে পারে।
কিন্তু দ্বীনের সৌন্দর্য লুকিয়ে রাখতে হবে কেন?
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা প্রকাশ কর।”( কুরআন ৯৩:১১)
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি মানুষকে ভালো কাজের দিকে আহ্বান করে, সে তা পালনকারীর সমান সওয়াব পায়।”( সহীহ মুসলিম)
কখনও কখনও “First Sehri Done” শুধু একটা স্ট্যাটাস না, এটা ঈমানের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, নিজের দ্বীনের সৌন্দর্য সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া, একটা প্রজন্মকে সুন্দর অনুভূতির সাথে রমাদানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ছোট্ট চেষ্টা।
আল্লাহ আমাদের নিয়তকে খাঁটি করুন, রমাদানকে আমাদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন 🤍