07/06/2026
রামিসার খুনিদেরকে ❝মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে মহামান্য আদালত।❞
অবশেষে সেই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হলো। মাত্র ৬ কর্মদিবসে যা দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করলো।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৮৮২ সালে নদীয়ায় মুল্লুক চাঁদকে তার শিশু কন্যাকে হত্যার দায়ে মাত্র একদিনে সাজার রায় দেওয়া হয়েছিলো। এরপর এত দ্রুত আর বিচার সম্পন্ন হয়নি।
রায় ঘোষণার পর আদালত পাড়ার দুজন নবীন আইনজীবির সাক্ষাৎকার দেখছিলাম।
একজন বললেন, ❝রাষ্টের উচ্চপর্যায় থেকে এই মামলা নিরপেক্ষভাবে দ্রুত বিচার করার কথা বলা হয়েছিলো। উচ্চ আদালতে বেশী সময় লাগবে না, যদি সবাই আন্তরিক থাকে। আপিল করলেও চূড়ান্ত শুনানীর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার সম্ভাবনা নেই। আশা করি, উচ্চ আদালতেও একই রায় বহাল থাকবে।❞
অপরজন বললেন, ❝সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন কোন কিছু ভাইরাল হয় তখন সেটার দ্রুত বিচার হয়। এটা রাষ্ট্রের অদক্ষতা। রাষ্ট্র মনে করে, এটা ভাইরাল হয়েছে, দায় সারতে এটার দ্রুত সমাধান করা উচিত। অথচ একই ঘটনা গ্রাম-শহর সবখানে অহরহ হচ্ছে। রাষ্ট্রকে সবাইকে সমান চোখে দেখা উচিত। রামিসার মতো প্রতিটি ধর্ষণ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এভাবেই দ্রুত রায় হওয়া উচিত। ৪০ লাখ মামলা ঝুলে আছে। প্রচুর বিচারক স্বল্পতা। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষ ট্রাইবুনালে নিম্ন আদালতে যেমন দ্রুত রায় হচ্ছে। উচ্চ আদালতেও যেন বিশেষ ট্রাইবুনাল থাকে। যেন সেখানে গিয়ে মামলাটা আটকে না যায়। সেখানেও দ্রুত রায় হয়।
আর একটা কথা। ন্যায় বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের আইনজীবি রাখার অধিকার রয়েছে। আসামীর পক্ষে বার কাউন্সিলিংয়ের পক্ষে কোন আইনজীবি দাঁড়াবো না। এটা ঠিক নয়। আপনি ব্যক্তিগতভাবে না দাঁড়াতে পারেন। এটা আপনার সিদ্ধান্ত কিন্তু সবাই একজোট হয়ে 'না বলা' ন্যায় বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
টাঙ্গাইলে এক আসামীর পক্ষে কোন আসামী দাঁড়াবে না বলে একজোট হয়েছিলো। তখন উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ দিয়েছিলো, বার প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারিকে আসামীর পক্ষে আইনী লড়াই করার জন্য। আমি মনে করি, উচ্চ আদালতে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবি, গবেষক রয়েছেন। উচ্চ আদালতে সোহেলের ঘটনায় এই প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করি।❞ ...
এখন পর্যন্ত যা মনে হয়েছে এবং আশাবাদী যে সোহেলের রায় কার্যকর হবেই হবে। সোহেলের বেঁচে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
তবে 'আলহামদুলিল্লাহ' এখন বলবো না। রায় কার্যকর হওয়ার পরেই বলবো। বলা যায় না। এটা তো বাংলাদেশ।
খুন ও ধর্ষণে সহায়তা করার কারণে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। স্বপ্না প্রাণে বেঁচে যাবে ১০০% সিওর। বাংলাদেশের ইতিহাসে সরাসরি একাধিক খুন করেও কোন নারীর আজ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এমনকি ৫৫ এর পর স্বাধীন ভারতেও না। So স্বপ্নাকে ঝুলানো প্রায় অসম্ভব।
এক সোহেলকে এত দ্রুত ঝুলাতে গেলে আন্তর্জাতিক অনেক সমালোচনা আসবে। সরকারকে অনেক কথা শুনতে হবে।
স্বপ্নাকে ঝুলাতে গেলে কী হাল হবে বুঝে নেন! দেশের ভেতরে থাকা অনেক এনজিও কান্নাকাটি শুরু করে দিবে। আন্তর্জাতিক সকল পত্র পত্রিকায় স্বপ্নার জন্য হাউমাউ শুরু হবে। জাতীয় আন্তর্জাতিক নানান ধরণের লবিং সৃষ্টি করে হলেও স্বপ্নার ঝুলানো বন্ধ করার চেষ্টা করবে।
অথচ এই স্বপ্না নারী জাতির জন্য কলঙ্ক। সে চাইলেই শিশুটিকে ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে পারতো। শিশুটি জীবিত থাকতেই দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করতে সহায়তা করতে পারতো। করেনি। সে স্বামীকে সাহায্য করাটাকেই পরম ধর্ম বলে মেনে নিয়েছে। সে নিরপরাধ! নির্দোষ হয় কীভাবে?
যাইহোক, মহামান্য আদালত, প্রশাসন, আইনজীবি, সরকার সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ! রামিসার মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করে এই দেশে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা হোক। যত চাপ আসুক। যত সমালোচনা হোক। এই রায়কে কার্যকর করতেই হবে।
শুধু ভাইরাল হয়েছে বলে একজনের রায় নয়। এমন প্রত্যেক পরিবারকেই ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে হবে। তার জন্য বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো বা যা করার রাষ্ট্রকেই করতে হবে।
রায় কার্যকর হলে। নিরপেক্ষভাবে এমন দ্রুত বিচার অব্যহত থাকলে। আমরা সেই খবর দেশের অলিগলিতে মাইকিং, পোস্টার করে ছড়িয়ে দিবো। যেন ধর্ষক কিংবা পটেনশিয়াল রেপিস্টদের অন্তরাত্মা কেঁপে যায়।
মাইকে বাজবে -
বাঁচবি নারে বাঁচবি না,
ধর্ষণ করলে বাঁচবি না।
আইন তোরে ছাড়বে না,
আদালত তোরে ছাড়বে না,
জনতার এই ক্ষোভের মুখে,
লুকানোর জায়গা পাবি না।
ছিঁড়েছিস যার আঁচলখানি,
ঝরিয়েছিস যার চোখের পানি,
সেই আগুনেই পুড়বি এবার,
শুনবে না কেউ তোর কান্নাকাটি।
যদি তোর মনের মধ্যে কভু
বাজে ধর্ষণের বীণ!
থেমে যা! বলছি থেমে যা!
নইলে তোর হায়াত বড়জোর
মাত্র কয়েকদিন দিন।
~অন্তর মাশঊদ