08/01/2026
গতকাল রাতে "Haq" সিনেমাটা দেখলাম। হক মানে হলো অধিকার, ন্যায়। সিনেমায় বানো (ইয়ামি গৌতম) এর যুদ্ধটা ছিলো এই হক নিয়েই, অধিকার নিয়েই।
দেখতে গিয়ে সিনেমার এই অংশটুকু আমি ভিডিও করে রেখেছিলাম, মনে হলো যেন এই কয়টা ডায়লগেই পুরো সিনেমাটা তুলে ধরেছে। ডিভোর্স, শরীয়াহ আইন, সেক্যুলার আইন, খোরপোশ, কোর্টকাচারির নানান জটিলতার মাঝে বানোর চাওয়া ছিলো তার হকটুকুই। তার সম্মান, তার অধিকার।
সিনের শেষে বানো বলে, "কাভি কাভি মোহাব্বত কাফি নেহি হোতি। হামে আপনি ইজ্জত ভি চাহিয়ে।"
মানে হলো, "কখনো কখনো শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়, নিজের সম্মানটাও প্রয়োজন।"
এইযে ভালোবাসার নামে, সংসারের নামে নারীদের অসম্মানের ঝুলি দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়, ওই অসম্মান থেকে বের হওয়ার সাহস অর্জন করতে সবার বানো হতে হয়।
সিনেমার কনসেপ্ট পরিচিত, নারীর অধিকার আদায়ের জন্য যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের এক সুপরিচিত চিত্র। জীবন থেকে আলাদা কিছু নয়, সিনেমা কিন্তু অসংখ্য নারীর জীবনের গল্প। আমরা যে রোজ নিজের অবস্থান, নিজের সম্মানের জন্য লড়ে যাই, সেই সংগ্রামেরই গল্প। বানো আলাদা কেউ নয়, বানো আমরাই, অসংখ্য নারীর জীবনেরই গল্প।
সিনেমার একদম শুরুর দিকেই বানোর পাশের বাসার এক লোকের সাথে ঝগড়া হয়। সেই লোক বানোর মুখের উপর বলে, যে জমি তোমার নয়, তোমার স্বামীর, সেই জমি নিয়ে কথা বলার তুমি কে!
এইযে নারীদের জীবন সংগ্রাম, নিজে সংসার সাজানোর পর সেই ঘর নিজের না হওয়া, অন্যের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার যে অপমান, ওইটুকু সময়েই এক ঝটকায় চোখের সামনে নিয়ে আসে।
সিনেমায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে বানো যে খোরপোশ আদায় করে তাতে মনে হবে কী এমন হলো এতো যুদ্ধ করে! এই সিনটুকু তার উত্তর। বানো নিজের পরিচয়, নিজের সম্মান, নিজের অধিকারটুকু আদায় করেছিলো। মেয়েদের লড়তে হবে, সংগ্রাম করতে হবে এই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্যই। নিজের মাথা কারো সামনে নত না করার জন্যই।
সিনেমাটার শেষ শব্দ ছিলো "ইকরা"
ইকরা মানে হলো পড়ো। কোরআনের প্রথম শব্দ। খোদাতালা প্রতিটি মানুষকে বলেছেন "পড়ো"
মেয়েরা তাই তোমরা যাই করো না কেন, পড়ো। প্রচুর পড়ো, পৃথিবীর সমস্ত বই পড়ে ফেলো। পৃথিবীটাকে জেনে ফেলো, সাথে নিজেকে জানো। বানোর জয়ের কারণ ছিলো এটাই, বানো পড়েছিলো। সে জানতো কোরআনে কী আছে। সে জানতো কেন নারীর অধিকার খর্ব করা যাবে না। জানতো বলেই না লড়তে পেরেছিলো।