07/02/2025
একদিন চুপচাপ ৫ বছরের সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসলাম।
অনেকদিন কেউ কারণ জিজ্ঞেস করে নি, ভাবতো কষ্ট পাবো। সত্য, বেশ কষ্ট পেতাম।
অনেকদিন পর হুট করে এক বিকেলে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো, কেন ?
- আমার প্রিয় ফুল জানতো না।
- তো ?
কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললাম, বেলা পড়ছে, চলো চা নাস্তার আয়োজন করি।
আমার প্রিয় ফুল দোলনচাঁপা। পাঁচ বছরে আমাকে কখনো নিজ থেকে এক তোড়া দোলনচাঁপা এনে দেয় নাই। আমিও কখনো চাই নাই,চাইলে বলতো, পাওয়া যায় না। অথচ আমি দেখতাম কয়েকটা মোড়ে ফুলের দোকানে দোলনচাঁপার তোড়া। দোকানগুলো দেখলে হাঁটার গতি কমিয়ে দিতাম, যদি কোনোভাবে বুঝে, একটু ফুল চাই আমি। সে জানতো আমার ফুল পছন্দ, কী ফুল জানতো না। কখনো জানতেও চায় নাই।
বিকেলের সেই বন্ধু অনেকদিন পর আবার জিজ্ঞেস করলো, কেবল ফুল জানতো না তাই ?
- না।
- তবে ?
- প্রিয় রং জানতো না। শরত পছন্দ জানতো না, কাশফুল দেখাতে নিতো না। চিঠি লিখতো না। এক গোছা চুড়ি কখনো হাতে নিয়ে আসতো না। এক পাতা টিপ কখনো দেয় নি।এই তো।
- এসব তো খুবই অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর কিছু হয় নি ?
সেদিনও প্রসঙ্গ ঘুরিয়েছিলাম। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত চোখের জল ফেলেছি।কীভাবে বুঝাই, কেন একটা দোলনচাঁপার তোড়া, একটা চিঠি,এক গোছা চুড়ির মত সামান্য জিনিস নিয়ে এত বছরের সম্পর্ক ছেদ করে আসলাম ! অনেক সময় অনেক ভাবে বলতে চেয়েছি, জানো,আমার ছোট কালো টিপ দরকার। সরাসরি বলেছি, ঘুরিয়ে বলেছি। কখনো রাস্তার পাশের ঝুড়ি থেকে এক পাতা নিয়ে বলে নাই, দেখো তো, এমন চলবে ? চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে একসময় চাওয়া বন্ধ করে দিলাম,কিন্তু চোখের জল বন্ধ হয় না। একসময় ভাবতাম সব ঠিক হয়ে যাবে, একটু শেখাতে হবে, বুঝাতে হবে, তারপর অনেকটা সময় কেটে গেলো বলতে বলতে, বুঝলাম, কখনো ঠিক হবে না,যদি হতো, তবে হয়ে যেতো।
এরও অনেকবছর পর আবার প্রেমে পড়েছিলাম। তৃতীয় সাক্ষাতে হাঁটতে হাঁটতে যখন একটা ফুলের দোকান পড়লো, সে জিজ্ঞেস করলো, একটা দরকারি প্রশ্ন,তোমার প্রিয় ফুল কী ? কিনে দেই ?
চোখ ছলছল করে উঠলো, প্রিয় ফুলের মত এত অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেউ জিজ্ঞেস করে ?
- প্রিয় ফুল
৩১.০৮.২০২৪
লেখা:@নিশাত তাসনিম ফারিহা আপু
মানুষ কখনো পাহাড়ের সাথে হোচট খায় না, হোঁচট খায় ছোট্ট নুড়ি পাথরের সাথে। সম্পর্কের মধ্যে এই ছোট ছোট বিষয়গুলো খুব ম্যাটার করে। ছোট ব্যাপারগুলো সম্পর্কটা বেঁধে রাখে🌸