30/08/2025
"বাবা, বড় আপুর বিয়েতে ২০ ভরি স্বর্ণ দিয়েছ, আমার বিয়েতে কেন দেবে না?" - জনৈক কন্যা
যৌতুক কাকে বলে? যৌতুক কী শুধু পুরুষই নেয়? আমার পরিচিত মহলের চিত্র ভিন্ন। গত ৫ বছরে বিয়ে যা দেখেছি তার অধিকাংশের চিত্র হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাত্রপক্ষ বলছে, "না না কিছুই চাই না/ আপনার মেয়েকে কিছু দিলে দিবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার"। বিশাল একটা যুব সমাজ এমনো গড়ে উঠেছে যারা কনফিডেন্সের সাথে বলছে, 'আমার যা আছে তাই, এই দেখে বিয়ে দিলে দিন, না দিলে নাই'!
সেখানে দিনে দিনে বিশাল এক নারী সমাজ গড়ে উঠেছে যারা এক রকম গলায় পা দিয়ে বাবা ভাইদের কাছ থেকে বিয়ের উপঢৌকন আদায় করে ছাড়ছে। উলটো পাত্র হবু স্ত্রীর এহেন ক্রিয়ায় বিব্রত। সে বারবার হবু স্ত্রীকে বলতে থাকে, 'আমরা দুজন মিলে ধীরে ধীরে করে নেবো সব। কী দরকার এসবের?'
আমার এক আত্মীয়ার বিয়ের পুরো সময়টা কাছ থেকে দেখলাম। ব্লটিং পেপারের মতো পিতার শেষ অর্থটুকুও শুষে নিলো নতুন সংসারের পাপোষ হারপিক, খুন্তি কেনার জন্য। অথচ পাত্রের কোন চাওয়া ছিল না।
আমি এ নিয়ে ভয়ে ভয়ে দুলাইন বলতেই সে খ্যাচ করে বলে উঠলো, "এই সব নিয়ে গেলেই একটু ইজ্জত দেবে"!
এ বিষয়ে আমার বক্তব্য,
*যে পাত্রকে নিয়ে বিয়ের আগেই কন্যার এই ধারনা সেই পাত্রকে বিয়ে করাই বা কেন? ছুড়ে ফেলুন তাকে। নির্লোভ পাত্র পেলে বিয়ে করবেন, না পেলে করবেন না।
* যে কন্যা মেনেই নিচ্ছে সম্মান পাবার জন্য যোগ্যতা মানে হলো বাপের বাড়ির খুন্তি, হারপিক, পাপোষ। সে কন্যাকে কেন পাত্র পক্ষ অন্য কোন যোগ্যতার নিরিখে সম্মান করবে?
* অলস অপরিশ্রমী কন্যারা নিজের ক্যারিয়ার, পড়াশোনার ঘাটতি মেটাতে শ্বশুর বাড়ি যাবার সময় বাবার বাড়ির উপঢৌকনের দারস্থ হয়।
* যৌতুক বা গিফট যে পাত্র চায় তাকে বিয়ে করার চাইতে সারাজীবন একলা থাকা ভালো এই কথা বলার মেরুদন্ড অব্দি তাদের নেই।
* বিয়েতে কী শাড়ি, কোন ফটোগ্রাফার, কোন পার্লার, ডিজাইনার লেহেঙ্গা নিয়ে পিতার যে পরিমান অর্থ তারা খরচ করে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাত্রের চাহিদা থাকে না।
*কন্যাদের মানসিকতা হলো যতোটা পারি নিয়ে যাই। রেখে গেলে তো ভাইয়ের বউরা পাবে!
*ঐ বান্ধবী গল্প করেছে ৫০ লাখ টাকার জিনিশ নিয়েছিল বাবার কাছ থেকে, আমি ৫৫ লাখ টাকার গল্প না করতে পারলে কিভাবে হবে?
*বিয়ের ছবিগুলো দিয়েই তো আগামী তিন বছর ফেবুর প্রো-পিক চালাতে হবে, ফটোগ্রাফার তো মাস্ট তাহলে।
*বিয়ে এখন শুধু একটা আচার বা নিজস্ব সুন্দর স্মৃতি নয় কন্যাদের কাছে। বিয়ে এখন তাদের কাছে চাঁদ রাতে ফাটানো সলতা বাজি। কে কতো জোরে ফাটাতে পারে তার প্রতিযোগিতা। এই বাজি তৈরীর মূল উপকরণ বয়স্ক পিতার মেরুদন্ডের হাড্ডির গুড়া।
অনেক পিতা কন্যার ডিমান্ড অনুযায়ী, আবারো বলছি কন্যার ডিমান্ড অনুযায়ী বিয়ের খরচ যোগাতে যেয়ে সর্বস্বান্ত হয়, টাকা লোন করে এবং সেই টাকা শুধাতে না পেরেও মানসিক মৃত্যু বরন করে।
দুঃখ এই যে, এই মৃত্যুতে থানায় যৌতুক আদায়ের মামলা হয় না। এবং সেই নারীরাও পাতার পর পাতা নারী স্বাধীনতার কথা লিখে যায়!
নারী স্বাধীনতার লুতুপুতু সংজ্ঞা বাদ দিন। নিজের উপর্জন নিজে করুন। খোলা আকাশের তলায় নিজেকে মেলে ধরুন নিজের অর্থে।
লেখাঃ তামান্না সেতু