16/04/2024
আমার ২৯ বছরের জীবনে যদি অভিজ্ঞতা বলি তবে ২৭ বছরের জীবনে বিয়ে হওয়ার পর থেকে যা অর্জন করেছি তাই। তবে এ দুবছরের অভিজ্ঞতা যদি বলি আমাকে প্রায় আমার বয়সের দ্বীগুন মেচুুউরড হতে সাহাজ্য করেছে।তবে এত এত অভিজ্ঞতা থাকার পরে ও আমার যেটা নেই সেটা হচ্ছে মানুষ চিনতে পারার মতো অভিজ্ঞতা বোধহয় আজো হয়নি। যখনি কনফিডেন্সের সাথে বলি এই মানুষটাকে আমি জানি সে এমন নয় পরবর্তীতে এমন হয়েছে যে নিজেকে বেচারা গাধার মতো মনে হয়েছে। এইটুকু জীবনে আমি ঠকেছি খুভ বাজে ভাবেই তবে এইটুকু শিখেছি যে কীভাবে খারাপ পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখা যায় কারণ পরিস্থিতি বদলানোর ক্ষমতা হয়তো আমার নাই তবে শেষ অবধি টিকে থাকতে তো পারবো। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কিংবা কাউকে বলার জন্য নয় শেষ অবধি টিকে থাকা। টিকে থাকা শুধুমাত্র এই জন্য যে ভুল কারো সাথে ছিলাম এটা উপলব্ধি করার জন্য। এটা দিনশেষে বলার জন্য যে এরপর আমি আর ভুল করিনি। আজকাল ডিভোর্স একটা কমন আলোচনার বিষয় হে এটা আমার জীবনের ও হেডলাইন।
আজ ডিভোর্স নিয়ে কিছু কথা বলবো। আসলে দুজন মানুষের বনিবনা হয়নি দেখেই সম্পর্কের ইতি টানতে হয়। ডিভোর্স কোন মানুষের চারিত্রিক সনধ নয় যে মেয়েরা ছাড়াছাড়ির পর সমাজে সব জায়গায় যেতে পারবে না এমন ও না যে একটা ছেলে সব করতে পারবে। ডিভোর্স কোন মানুষের অবস্থান হতে পারে এটি কেবল মাত্র কোন একটা সম্পর্কের পরণতি। আমার কাছে মনে হয় আজকাল আমরা এমন একটা ফ্রেজের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যা মধ্যযূগীয় কিছু বর্বরতা লক্ষ করা যায়। যেমন একজন মেয়ের ডিভোর্স হওয়ার পর সবাই জিজ্ঞেস করে কেন হইলো। আপনারা কি বোঝেন নাই ভালোবাসায় কখনো ডিভোর্স হয় না। সম্পর্ক ভালো ছিলো না বলেই হইছে এইটা বোঝা উচিত। একজন ডিভোর্সি মহিলা কে যে পরিমান মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা ছেলেদের বেলায় একটু ব্যতিক্রম। তার একটা উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে আমরা মেয়েরা নিজেদেরকে খুভ ছোট মনে করি। আমরা নারীরাই আমাদের মূল্যায়ণ করি তলানিতে। আমি নারী বলেই লজ্জা আমার। আমি নারী বলেই আমাকে নির্দিষ্ট একটা অবস্হানে দার করিয়ে রাখা যায়। হে সমাজ আমরা মেয়েদের কে যেখানে দার করিয়ে দেয় আমরা সেখানে টায় দারিয়ে থাকি। আমরা নিজে থেকে অবস্থার পরবর্তন করার চেষ্টা করি না। আমরা একজন পুরুষ মানুষের প্রত্যাখানের জন্য নিজেদের কে ঘুটিয়ে ফেলি। আমাদের মা চাচিরা খালা ফুফু অনেকেি বলবে দুইনাম লাগার চাইতে মেয়েদের মরে যাওয়াই উত্তম। টিক এই জায়গায় আমি আটকে গেলাম। একজন পুরুষ মানুষ ছেড়ে দিলে আমার নামের সাথে আরেকটা নাম কেমনে যোগ হয়। আমার জন্ম থেকে তো একটা নামই ছিল। তাহলে তারা যে বলে আমার দুইনাম পরে অবস্য বুজলাম এটা দুইনাম না দূরনাম হবে। সবাই যখন আত্মীয় স্বজনকে আমার কথা জিজ্ঞেস করল বলতো সে অসুস্ত তাই জামাই এইখানে রেখে গেছে আমি অভাক হয়ে বললাম আমাদের তো ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে তবে। হো বুজলাম লজ্জার বিষয়। প্রতিনিয়ত যখন শশুর বাড়ি থেকে মেরে ফেলার হুমকি খারাপ কথা বলা শুরু হলো ফোনে প্রথমে আমি ও কোন কন্ট্রোবারসি তে যেতে চাই নি পরে যখন বুজলাম আমি যদি এখনি আমার আওয়াজ না উটাই তাইলে আমি সারা জীবনের জন্য বোবা হয়ে যাবো। আমি আবার কথা না বলে থাকতে পারি না। যখন পুলিশ আসা যাওয়া শুরু হইলো সবাই বলতে লাগলো আমাদের কমিউনিটির অনেক মানুস আাছে যারা খারাপ কিছু ধারণা করবে এতো বেশি পুলিশ আসা যাওয়া করলে।সেইদিন আমি আরো একটা বিতর্কে জরিয়ে ছিলাম পরিবারের অবাধ্য মেয়ে। আমার দোষ ছিলো আমি কারো কথা গায়ে মাখি নাই। বলেছিলাম আমার শুধু ঘরটা পুরেছে মূখ তো আর পুরে নাই লোকে যা ভাবার ভাবুক আমি যখন হাসপাতালে ইনটেনসিব থেরাপি ইউনিটে আর্টিফিশিয়াল শ্বাস নিচ্ছিলাম তখন কেউ একটু অক্সিজেন নিয়া আমাকে সাধে নাই। আর আজ যখন আমি ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারি তখন তাদের কথা চিন্তা করে আমার শ্বাসযন্ত্র বিকল করে দিব নাকি। টানা ১৬ মাসের লড়াই একা হাতে সামলিয়েছে ছিল অনেকেই অনেক কিছুতে কিন্তু কি জানেন তো জীবন টা আপনার শেষ অবধি আপনাকে টিকে থাকতে হব। আমি শুরুর দিকে সমাজের মুখোমুখি দাড়াতে পারিনি তবে তার পথ ধরে হাটা শুরু করেছিলাম। আমি নারী আমার জন্ম জান্নাতে হয়েছে আমি কি নিজেকে তেমন দামী ভাবতে পারি না আমরা পারি না। এজন্যই আমরা আজীবন ঘরের কোনে বসে মার খাই বিশ্বাস করুন একজন নারী যখন মা হওয়ার ক্ষমতা রাখে তেমনি নারী চাইলেই সমাজটাকে ডান্ডাবেরি পরাতে পারে। ডিভোর্স কখনই একজন নারীর জীবনে চলার প্রতিবন্ধকতা হতে পারে। ডিভোর্স মানেই বুকের টিক মাঝখানে একটা শক্তির উৎস। তোমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই যেন হয় তোমার উটে দারানোর গল্পের সূচীপত্র। সবার আগে তুমাকে জানতে হবে তুমি কতোটা মূল্যবান তুমি তোমার কাছে টিক যতোটা দামী টিক ততোটাই মূল্যায়ণ সমাজের মানুষ তোমাকে করবে। আমি বলবে তুমি তুমার ডিভোর্স পেপারে সাইন করার পর তার সামন দিয়ে এমনভাবে হেটে আসো যেন তুমার চলে আসাটা তার কাছে ইতিহাস হয়ে থাকে। আমি সমাজের অনেক উর্ধ্বে চলে গেছিলাম। আমার অনেকটা নাম ও মানুষ দিয়েছে, লোভি, নির্লজ্জ, বেহায়া আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। কারন আজ তারাই বলতেছে দেখছো তুমও সটিক ছিলে বলই আজ এতো দূর তুমি যাই করো সমাজ তোমাকে ছাড় দিবে না। আমার ১৬ মাসের লড়াইয়ে একদিন পরিবার হাতটা ছেড়ে দিয়েছিল। ভেঙে পরতাম প্রতিটা মুহূর্তে তারপর আবার জেগে উটতাম আমি যে মাঝপতে হোচট খাইনি তা কিন্তু নয় কথা হলো আমি মাঝপথে হাল ছারিনি। কতো মানুষ তো আমাকে পাগল বলতো। কই আমিতো ভেঙে পরিনি তাহলে আপনি কেন উটে দারাতে পারছেন না। আমি রবের কাছে প্রত্যকটা সময় বলতাম হে আমার রব আপনি তো সব জানেন আপনিই আমাকে পরিচালনা করুন তাহলে এই সমাজ আমার পায়ে বেড়ি পরাতে পারবে না। একটা কথাই মনে রাখবেন আপনার রব বেখবর নন আপনার প্রতি তিনি সব জানেন নিভির পর্যবেক্ষণ করছেন আপনাকে শুধু উটে দারাতে হবে। আপনাকে দিকনির্দেশনা নিতে হবে যেমন করে অচেনা এড্রেস আমরা গুগোল মেপের মাঝে খুজি তেমনি আপনার এই পথচলাটা কে সহজ করতে আপনি রবের কাছে সাজ্য চাইবেন। বিশ্বাস করুন খারাপ সময়ে কেউ পাশে থাকে না একমাত্র আল্লাহ ছারা তাই আপনি সমাজের পরোয়া না করে আপনার রবের কথা ভাবুন তার বক্তব্য কি এমন পরিস্থিতিতে। মনে রাখবেন জুলুমকারীর বিচার খুভ ভয়াবহভাবে হয়। তবে আপনাকে জানতে হবে অন্য মানুষ আপনি নিজে ও নিজের উপর জুলুম করে যাচ্ছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে তার ও হিসাব তুমাকে দিতে যদি ও তা একেবারেই ভিন্ন অন্য মানুষের প্রতি জুলুমের থেকে। আপনি ছেলে নাকি মেয়ে বিষয় এটা না বিষয় টা হচ্ছে আপনি জুলুমের স্বীকার হচ্ছেন আপনি আওয়াজ তুলুন দেখবেন আরো অনেক গুলা কন্ঠ আপনার সাথে গলা মিলাচ্ছে। আপনি গর্বের সাথে বলবেন হে আমি ডিভোর্সি এটা আপনার লজ্জা নয় এই সমাজ কে দেখিয়ে দিন যারা অন্যায়ভাবে ঠকিয়েছে এটা তাদের লজ্জা আর সমাজ কে বলে দিবেন তার চেয়ে ও বেশি লজ্জা সমাজের কারন তারা আমার সব সময়ের সঙ্গী হলে ও আমার সাথে হওয়া অন্যায় তারা টেকাতে পারে নি। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবেন তাদের বেধে দেওয়া নিয়মগুলো কীভাবে এক এক টা মেয়ের রাতের ঘুম কেরে নিচ্ছে। তাদের কে জিজ্ঞেস করে দেখুন আমি ২২ দিন ২২ রাত তারা কোথায় ছিলো যখন আমি বন্দী ঘরে একটু খাবারের জন্য ছটফট করছিলাম, তাদের কে জিজ্ঞেস করুন তারা কোথায় ছিলো যখন আমার নেশাকুর স্বামী আমার ভেতরের ভালো থাকাটা প্রত্যকটা মুহূর্তে আমার মনে হইতি এই বুজি আমি ধর্ষিতা হবো পর পুরুষের কাছে সমাজ কোথায় ছিল যখন আমি প্রাণপণ চেষ্টা করছিলাম আমার পরিবার কে খবর পাটাতে সমাজ এতো মানুষের এতো কথা বলে সেদিন সমাজ চুপছিল কেন সমাজ কোথায় ছিল যখন আমার মুখের খাবার গুলা মানুষ কেরে নিতো সমাজ কোথায় ছিল? কোথায় ছিল এতো বিবেকবান সমাজ আমাকে হাসপাতালে একবার ও দেখতে যায় নি। আজ যখন দারাতে পারি নিজে হাটতে পারি টিক করে ইংরেজিতে কথা ও বলতে পারি আমার সমাজের কি প্রয়োজন। যে সমাজ আমি ডিভোর্সি বলে আমাকে আমার বসার স্হান টিক করে দেয় কোথায় বসতে হবে, গলার আওয়াজ উচু করা যাবে না, আমি চাইলেই সব জায়গায় যেতে পারবো না। আমি এমন সমাজ কে পরোয়া করি না। আমি আমার কাছে ভিষণ দামী তাই সুবিধাবাদির কথায় আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আপনি যেই হোন না কেন ছেলে মেয়ে আলাদা নয় আমরা। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আমাদেরই ছেলেমেয়েদের জন্য একটা সুস্হ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দুবছর হলে বেশিরভাগ সময়ই অসুস্ত থাকি কিন্তু বিশ্বাস করুণ আমার মনটা অনেক ভালো থাকে কেন জানেন?কারন দিন শেষে হাসিটা আমি হেসেছি, হাসছি, হাসবো।