26/12/2025
দ্বিতীয় পর্ব-----( আমি মোহর বলছি)
ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটিতে বাংলায় এমন,এ তবে ভর্তি হলাম, এ-র মধ্যে ছেলের বাড়ির লোকজন এসে দেখে গেছে, এবার ছেলে আসবে,ছেলের পছন্দ হলেই কথা এগোবে। রবিবার বিকেলে ছেলে তার বন্ধু ও একগদা দেখতে এলো।বেশ ভালোই পছন্দ হবার মতোই ছেলে,ছেলের নাম অনিল,কেমন সেকেলে নাম, কথা তেমন কিছুই বললো না নরমাল কথা কি করো, কি পছন্দ -অপছন্দ এ-ই সব, ছেলেরা যাবার সময় বাবার থেকে ছেলের দাদা আমার নাম্বারটা চেয়ে নিয়ে গেলো, আমি বাবাকে খুব বকা দিলাম,"কেন আমার নাম্বার দিলে? আমায় বিরক্ত করলে আমি কিন্তু আজেবাজে কথা বলে দেবো"।
কিন্তু মনে মনে বেশ উত্তেজনা হলো-কি বলবে কি জানি, আমার ছেলে বন্ধু বলতে ছেলেবেলা অভিজিৎ, আমি ওকে অভি বলে ডাকি। অভিও এসেছিল যেদিন অনিল আমায় দেখতে এসেছিল,অভিরও ভালো লেগেছে অনিলকে, ইতিমধ্যে দু'দিন কেটে গেলো কোনো ফোন এলো না,ভাবছি নাম্বার নিল অথচ ফোন করেনি, মানে পছন্দ হয়নি,যা্ক বাবা বাঁচা গল।
অভি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বেসরকারি অফিসে চাকরি করছে,ভালো মাইনে পায়, আমরা ছোটো বেলার পাঁচ বন্ধু আজো একসাথে আছি।আমি,অভি,মেঘনা,টোটন আমার দিলাম, একসাথে মায়েদের হাত ধরে স্কুলে যেতাম, ক্লাস ফাইভ থেকে স্কুল আলাদা ছিল,আমি আরও অভি একসাথে ক্যারাটে শিখেছি, একটু বড় হতে রবিবার হলে বেশিরভাগ আমাদের বাড়িতেই আড্ডা হতো পড়ার চাপে পরের দিকে দেখা কম হলেও যোগাযোগ ছিল আমাদের মধ্যে। এখন সবাই এক-এক দিকে, অভি ব্যাঙ্গালোর চললো,টোটন ও এম, বি, এ করতে ব্যাঙ্গালোরে ই থাকে, মেঘনার বিয়ে হয়ে গছে,দিলাম চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে আরও আমার কথা তো বললাম।
সকালে উঠে কলেজ যাবার জন্য তৈরি হচ্ছি - হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো - হ্যালো- বলতেই ওপাস থেকে বললো "কেমন আছো মোহর"? আমি বললাম " কে বলছেন" বললো -'অনিল' হঠাৎ কেমন যেন বিদ্যুতের মতো শরীর দিয়ে তরঙ্গ বয়ে গেল, বললাম 'বলুন' বলোল " আমি এসে থেকে তোমাকে ফোন করতে পারিনি, ঐ দিন ফিরে দেখি আমার মাসিমোণির খুব শরীর খারাপ তাই হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছিল আজ একটু ভালো আছে।বলো তুমি কেমন আছো?" আমি বললাম -" ভালো আছি" আপনার মাসিমোণি কি বাড়ি ফিরেছেন?" বললো 'না কাল ছুটি"। "কি হয়েছিল "? "পড়ে গিয়ে পায়ের লিগামেন্টে চোট হয়েছিল " আমি বললাম " খুব খারাপ লাগলো শুনে"।
অনিল বললো "তোমার কেমন লাগলো আমায় " আমি হকচকিয়ে গেলাম কি বলবো না বুঝে বললাম বাবা - মাঝে যা ঠিক করবেন তাই হবে।" সে বললো "জানি তো তবু তোমার একটা মতো তো থাকবে, আমি কি তোমার কাছে পাস করেছি?" আমি বললাম "কলেজ যাবো দেরি হয়ে যাচ্ছে"। বললো " ও উত্তর দেবে না তাইতো?" বললাম "রাখছি পরে কথা বলবো।" 'বললো আচ্ছা উত্তরের আশায় রইলাম।" তার পরে টুকটাক কথা হতো, আমি বলে দিয়েছিলাম আমি চাকরি পাবার পরে বিয়ে করবো, তার আগে নেয়।ও বললো " বিয়ের পরেও তো পড়াশোনা করা যায়, চাকরির চেষ্টা করা যায়, তুমি চাইলে আমি ব্যবস্থা করে দেবো"। কিছুদিনের পরে তোমাদের বাড়ির সবাই করে আমাদের বাড়ি আসতে বলবে,আমার বাবা মাঝে তখন এ-ই প্রস্তাব দেবে, তুমি রাজি হবে তো?"
আমি বললাম 'দেখবো'।বেশ ভালোই চলছিল আমারও অনিলকে বেশ ভালোলাগতে লাগলো, মিথ্যে বলবো না মনে মনে বিয়ের ইচ্ছেটাও হচ্ছিল।
ঠিক এমন সময় আমার জীবনে অন্ধকার নেমে এলো।
৷ কাকলী।