25/02/2024
হি"জরা দলের সাথে বাবার খুব ঘনিষ্ঠতা।বিষয়টা প্রচন্ড গা"য়ে লাগে।হি!জরার মতো নীচু শ্রেণীর সাথে বাবার এতো গদোগদো ভাব কিসের?
বাবাকে এই নিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছি,রোজ রাগারাগি করি।তবুও সেই এক ঘটনা! রোজ সন্ধা হলেই বেড়িয়ে পড়ে ওই হি"জরা পট্টির উদ্দেশ্য।সেখানে ওদের সাথে বসে চা খায়,আড্ডা দেয়।
ছোট থেকেই এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছি।এখন বড় হয়েও বাবার এই ধরনের স্বভাব আর সহ্য হলো না।বাবাকে কঠিন স্বরে বললাম
" বাবা,তোমায় কতদিন বলবো ওই হি!জরা দলের সাথে মিশবে না "
বাবা আমতা আমতা করে বললো " রাগছিস কেনো বাবা?ওরাও তো মানুষ! "
" বাবা আমি এখন বড় হইছি।আমার বন্ধুরা, এলাকার লোকেরা এসব দেখে হাসাহাসি করে,বুঝো না কেন? তোমার কি গল্প করার লোকের অভাব আছে?ওদের সাথেই কেন তোমার মিশতে হবে? "
" ওরা খুব ভালো "
" বুঝেছি,তোমার মতিভ্রম আছে "
বলে বাবার ঘর থেকে বেড়িয়ে এলাম।রাগ যেন আর সামলাতে পারলাম না।হি!জরা মহল্লার দিকে রওনা হলাম।বাবা যার সাথে বসে গল্প করে তাকে খুঁজে বেড় করে বললাম
" আপনি আমার বাবার সাথে আর গল্পগুজব করবেন না।বাবা আসলেও আপনি তাড়িয়ে দিবেন,বুঝতে পেরেছেন? "
হি!জরার চোখে জল।আমার গা"লে হাত রেখে বললো " তুমি এসছো! খুব খুশি হয়েছি।বসো ভাই,চা খাবে?যদিও আমাদের হাতের খাবার সবাই খায় না! "
" কি আজব! গা"লে হাত দিচ্ছেন কেনো? আমার মাথা কিন্তু গরম,যা বললাম তা শুনবেন।নইলে ঝামেলা হবে।বাবাকে এখানে আসতে দিবেন না "
হি!জরার চোখে মুখে বেদনার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠলো।আর কথা বাড়ালাম না।বাড়িতে চলে আসলাম।কিছুদিন বন্ধ ছিলো,তারপর বাবা আবারো ওদের কাছে যাওয়া শুরু করলো।এরপরেও কি মাথা ঠিক থাকে!বাবাকে তো কিছু বলতে পারিনা,বন্ধুদের নিয়ে গেলাম মহল্লায়।যার সাথে বাবার এতো খাতির তাকে দেখে আর ঠিক থাকতে পারলাম না।ক"ষে একটা চ"ড় মা"রলাম।তাল সামলাতে না পেরে সে পড়ে গেলো কংক্রিটের রাস্তায়।গা"ল ছিলে গিয়ে র"ক্তার"ক্তি কান্ড! আসার সময় শুধু বললাম " এটা ডেমো দেখালাম।তোরা তো ভালো কথা বুঝতে চাস না "।
এই ঘটনা বিকেলের।সন্ধায় লক্ষ্য করলাম বাবা কাঁদছে।বাবার কান্না দেখে আমার বু" ক হুহু করে উঠলো।বাবাকে আমি অত্যন্ত সমীহ করি।কাছে গিয়ে বললাম
" বাবা,তুমি কাঁদছো কেনো? "
" আমার বড় সন্তানটা খুব কষ্ট পাচ্ছে "
বাবার মুখে এই কথা শুনে আমার চারপাশটা কেঁপে উঠলো।বললাম
" বড় সন্তান মানে?তোমার একমাত্র সন্তান তো আমি! "
বাবা চোখের জল মুছে বললো " হি!জরা পল্লিতে যার সাথে বসে গল্প করি,ও তোমার বড় বোন।জন্মের পর ওর অস্বাভাবিকতা দেখে হি!জরা মহল্লায় দিয়েছিলাম।তুমি কষ্ট পাবে ভেবে জানাইনি।ওর পরিচয় কেউ জানেনা।আমি তো বাবা,কিকরে ওকে দূরে সরিয়ে দিই?সন্ধায় কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে আসি।এতেই ওর সুখ!প্রতিদিন তোমার কথা জিগ্যেস করে।সেদিন আমি কিনেছি বলে যে পাঞ্জাবিটা তোমায় দিলাম,সেই পাঞ্জাবিটা ও দিয়েছে।ভাইফোঁটার উপহার হিসেবে "
বাবার কথায় আমায় দম আঁটকে যাওয়ার মতো অবস্থা হলো।বাবা বললো
" কারা যেন ওকে মে"রেছে।দেখে এলাম,মেয়েটা আমার ব্যথায় ছটফট করছে "
" কে মে"রেছে বলেনি তোমায়? "
" না,বারবার বলছিলো রাস্তায় পড়ে গেছে।একজন এসে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললো কারা যেন বিকেলে এসে ওকে মে"রেছে।ওর সাথে কার এতো শত্রুতা?মুখ ফুলে গেছে,র"ক্তে মাখামাখি।বাবা হয়ে আমি কিচ্ছু করতে পারছি না।আমার বাঁচার আর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নাই "
আমি বাকরুদ্ধ!এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত কিকরে করবো? ওই রাতে ডাক্তারকে সাথে নিয়ে মহল্লার কাছে আসতেই ডাক্তার বললো
" এদিকে কোথায় যাচ্ছেন? "
" আমার বোন ভেতরে আছে "
" হি!জরা? "
" ওকে হি!জরা বলবেন না।ও আমার বোন "
" ধুর মিয়া,মাথা খারাপ নাকি আপনার?হি!জরার চিকিৎসা করতে ডেকেছেন? করবো না চিকিৎসা "
" ব্যান্ডেজ,ঔষধ যা যা লাগে আমায় দিন।আমি নিজেই ওর চিকিৎসা করবো "
ডাক্তার প্রয়োজনীয় সব আমার হাতে দিলো।নিয়ে ঢুকলাম মহল্লায়।বোনের কাছে আসতেই আমার বু"ক হাহাকার করে উঠলো।
সযত্নে কে"টে যাওয়া অংশ পরিষ্কার করলাম।ঔষধ লাগালাম,ব্যা"ন্ডেজ করলাম।বোনের চোখে জল,জিগ্যেস করলাম " ব্যথা করছে? "
বোন হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বললো " এই ব্যথা মনের,কখনো নিরাময় হবে না।এই ব্যথার ব্যা"ন্ডেজ নাই "
গল্প ার_বোন
সামাজিক রোমান্টিক গল্প পেতে পেজটা ফলো করে রাখতে পারেন।এইটা লেখকের নিজস্ব পেজ 🤍