29/07/2025
এই লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা …..
একদম সঠিক কথা বলেছেন এবং এটা আমার ও মনের কথা টাই share করলাম ।।।।।।
বুঝতে পারছি না,বুটিকের ব্যবসাটা আমি আর করতে পারবো কিনা?রোজ রোজ হতাশ হয়ে যাচ্ছি। যত রিল দেখছি দেখতে দেখতে আসল নকল,সত্যি মিথ্যে সব গুলিয়ে ফেলছি।
একজন সুন্দরী মহিলা লাইভ এ খুব জোরের সঙ্গে চিৎকার করে ১২৯৯/- টাকায় pure বিষ্ণুপুরি সিল্ক বিক্রি করছেন।তার লাখের ওপরে ফলোয়ার।কমেন্টে মহিলারা পাগলের মতো বুকিং করছেন, এতো খুশি।আমরা যারা বিষ্ণুপুরী সিল্কের প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত আছি তারা জানি,এই সিল্কের সুতো,বাণী সব মিলিয়ে একটা সিল্কের থান বানাতেও এর প্রায় তিনগুণ টাকা লাগে।তাহলে কিভাবে সম্ভব?
দেখলাম শাড়ি গুলো আদৌ সিল্ক নয়,আর্ট সিল্ক এ ব্লক প্রিন্ট(হ্যান্ড ব্লক নয় কিন্তু)করিয়ে মিথ্যে বলে বিক্রি করা হচ্ছে।যেগুলো বানানোর খরচ আসলে ৪০০/- টাকার নিচে।
আমার বুটিকের বালুচরী সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যায়।এক্সক্লুসিভ কিছু বালুচরী ও আমি বানিয়েছি।সাধারণত ৯০০০/- থেকে সবচেয়ে কম কাজের বালুচরী এখন বাজারে বিক্রি হয়,সেখানে ১২০০/- থেকে ২০০০/- এর মধ্যে বালুচরী শাড়ি বিক্রি হচ্ছে।নকল চাইনিজ বালুচরী।আর সেটাও চিৎকার করে আসল বলে বিক্রি করা হচ্ছে।
আচ্ছা,মানুষ কি বোকা?আসল নকলের পার্থক্য বুঝতে পারছেন না?নাকি শুধুমাত্র একবার পরে একটা ছবি পোস্ট করাটাই মুখ্য হয়ে উঠছে বলে নকল কিনে টাকা বাঁচাচ্ছেন?
কিন্তু দুঃখের বিষয়,যারা শাড়ি চেনেন,তারা কিন্তু ছবিতে দেখেও বুঝতে পারছেন আসল নকলের পার্থক্য।
আমার মনে হয়,দামটা কথা নয়,মিথ্যে বলে কোনো জিনিস বিক্রি করাটা অন্যায়,প্রতারণা।সেমি ব্যাঙ্গালোর সিল্ক বা সেমি তসর বলে কিছু হয়না।ওটা আর্ট সিল্ক বা আর্টিফিশিয়াল সিল্ক।সত্যি বলায় যদি মানুষ সেটা না কিনতে চান,কিনবেন না।তবু আমি সত্যিই বলবো।হয়তো এই ব্যবসাটা আমি পারবো না,হয়তো এই ব্যবসায় হেরে যাবো,হাজার একটা মিথ্যের সঙ্গে লড়াই করে নাই বা জিতলাম?তবু নিজের মনের সঙ্গে আপস করে ব্যবসা করব না।
বি:দ্র: আমি কিন্তু কাউকে ছোট করতে চাইছিনা।দয়া করে কেউ ভুল বুঝবেন না।প্রোডাক্ট বিক্রি করার আর্ট এক একজনের এক একরকম।