29/10/2025
১২৭ বছর ধরে এক ব্রিটিশ অফিসারের আদেশে বন্দীজীবন কাটাচ্ছে পাকিস্তানের এই গাছটি।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ল্যান্ডি কোটাল নামের এক পাহাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত গাছ, যেটিকে আজও লোহার শিকলে বাঁধা রাখা হয়েছে। গাছটি হিমালয় অঞ্চলে জন্মানো এক প্রজাতির দেবদারু গাছ (Cedrus deodara), যাকে আজ সবাই চেনে ‘চেইনড ট্রি’ বা ‘গ্রেফতার করা গাছ’ হিসেবে।
গাছের চারপাশে পুরনো লোহার চেইন প্যাঁচানো, পাশে লাগানো একটি বোর্ডে লেখা—
“আমি গ্রেফতার হয়েছি।
এক সন্ধ্যায়, মদ্যপ ব্রিটিশ অফিসারের মতে আমি নাকি আমার জায়গা থেকে সরে তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তাই মেস সার্জেন্ট অফিসারের আদেশানুসারে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, এবং সেই সময় থেকে আমি গ্রেফতার অবস্থায় আছি।”
শতাধিক বছর পেরিয়েও সেই লোহার বন্ধন আজও খুলে দেয়নি কেউ। কিন্তু কেন? কী অপরাধে এক গাছকে বন্দি করা হয়েছিল?
কথিত আছে, ১৮৯৮ সালে ব্রিটিশ সামরিক অফিসার জেমস স্কোয়েড এই অঞ্চলে দায়িত্বে ছিলেন। এক রাতে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ওই গাছটির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ গাছের ডাল নাকি এগিয়ে গিয়ে তাঁর কাঁধে স্পর্শ করে। মাতাল অফিসার মনে করেন, গাছটি নাকি তাঁকে ‘ধাক্কা’ দিয়েছে! সঙ্গে সঙ্গে তিনি হুকুম দেন, “এই গাছকে গ্রেফতার করো!”
পরের দিন তাঁর নির্দেশ মতো সৈন্যরা সত্যি সত্যিই গাছটিকে লোহার চেইনে বেঁধে ফেলে—একেবারে বন্দির মতো।
সেই থেকে শিকল আজও রয়ে গেছে গাছের গায়ে—উপনিবেশিক ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মৃতি হয়ে। স্থানীয় প্রশাসনও গাছটিকে মুক্ত না করে বরং সংরক্ষিত ঐতিহ্য হিসেবে রেখে দিয়েছে, যাতে মানুষ দেখে বুঝতে পারে—শক্তি ও অহংকার কতটা অন্ধ হতে পারে।
আজও পর্যটকেরা আসে দূর-দূরান্ত থেকে, ছবিও তোলে সেই ‘চেইনড ট্রি’-র পাশে। গাছটা বেঁচে আছে, শিকলের ভিতর থেকেও ছায়া দিচ্ছে—যেন নির্বাক প্রতিবাদ করছে মানুষের অজ্ঞানতার বিরুদ্ধে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লোহার বেড়াজালে বাঁধা এই গাছ উপনিবেশিক উন্মত্ততার, এবং একইসঙ্গে প্রকৃতির নীরব সহনশক্তির প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।
লেখা: সৈকত বিশ্বাস
ছবি: সংগৃহীত
A sign on it says: "I'm under arrest."