26/03/2026
এক তওবাকারী জাদুকর বর্ণনা করেন:
“তওবা করার আগে আমি মানুষের ওপর জাদুটোনা করার জন্য জিন পাঠাতাম। আমি লক্ষ্য করতাম, সব মানুষ একরকম নয়। কিছু মানুষ খুব সহজেই জাদুর শিকার হয়ে যেত।
আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিনেরা ফিরে এসে বলত, ‘আমরা তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাই, কিন্তু তাকে দেখতে পাই না।’
কেউ বলত, ‘দূর থেকে দেখেছিলাম, কিন্তু কাছে যেতেই সে হারিয়ে গেল।’
আবার এমন লোকও ছিল, যাদের সম্পর্কে তারা বলত, ‘আমরা তাকে খুঁজেই পাইনি!’
তখন আমি সাধারণ জিনের বদলে শক্তিশালী ‘মারাদা’ পাঠাতাম। তারাও ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসত।
এরপর আমি ‘ইফরিত’দের পাঠাতাম, যারা জিনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। তারাও ফিরে এসে বলত, ‘আমরা তাকে কোথাও খুঁজে পাইনি।’
আমি অবাক হয়ে বলতাম, সে তো নিজের ঘরেই আছে! তখন তারা বলত, ‘আমরা সেখানে গিয়েছি, কিন্তু তাকে দেখার কোনো উপায়ই ছিল না।’
তওবা করার পর তিনি বুঝতে পারেন— মানুষের ঈমান ও আমলের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক ধরনের অদৃশ্য সুরক্ষা তৈরি করেন।
📌 যারা ইবাদতে গাফেল, তারা সহজেই শয়তানের কুমন্ত্রণার শিকার হয়।
📌 যারা মাঝেমধ্যে ইবাদত করে, তারা কিছুটা সুরক্ষায় থাকে, কিন্তু দুর্বলতা থাকে।
📌 আর যারা নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন যিকিরে অটল থাকে, তারা আল্লাহর বিশেষ হেফাজতে থাকে।
📖 কুরআনের ঘোষণা:
“তুমি যখন কুরআন পাঠ করো, তখন আমি তোমার ও যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না—তাদের মধ্যে এক অদৃশ্য পর্দা স্থাপন করে দিই।”
— (সূরা আল-ইসরা: ৪৫)
📖 আরও প্রমাণ:
“নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার (শয়তানের) কোনো কর্তৃত্ব নেই।”
— (সূরা আল-হিজর: ৪২)
📖 হাদিসে এসেছে:
যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট যিকির করে, আল্লাহ তাকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে হেফাজত করেন।
— (সুনান আবু দাউদ: ৫০৮৮, তিরমিজি: ৩৩৮৮ - সহীহ)
✅গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
এই ঘটনাটি কোনো সহীহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয়। এটি একটি অভিজ্ঞতা বা বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, তবে ইসলামের মূল আকীদা কেবল কুরআন ও সহীহ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে গ্রহণযোগ্য।
✅ মূলকথা:
সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং কুরআন তিলাওয়াত—এগুলো একজন মুমিনের জন্য বাস্তব সুরক্ষা। তবে “অদৃশ্য হয়ে যাওয়া” বিষয়টি আক্ষরিক না হয়ে আল্লাহর হেফাজতের একটি রূপক বর্ণনা হিসেবে বোঝাই নিরাপদ।