05/04/2015
[আমার শ্রদ্ধেয় এবং প্রিয় একজন শাইখ
এর পোষ্ট]
এক অথর্ব পুরুষ আমি। ভারতের সিন্ধ
প্রদেশের এক নিপীড়িত নারীর
কান্না শুনে হাজার মাইল দূর থেকে
ক্ষীপ্রবেগে এগিয়ে আসা টগবগে তরুণ
মুহাম্মদ বিন কাসিমের এক কলংকময়
উত্তরসূরী আমি। আমার সুন্দর ইতিহাস
আছে। আছে ঐতিহ্যিক কীর্তি। কিন্তু
এখন আর তা নেই।
আমার রগ রেশায় আর খালিদ বিন
ওয়ালিদের যৌবনদীপ্ত খুন বয় না।
আমার চোখের তারায় এখন আর
কুরআনের পাতা আর জান্নাতের
তন্ময়তা খেলা করে না। আমার
চোখের সামনে এখন হলিউড বলিউডের
নগ্ন নায়িকার অশ্লিল দৃশ্য খেলা করে।
ব্রাজিল আর্জিন্টিনার বিধর্মী
খেলোয়ারদের সুখ কামনা আমাকে
বিচলিত করে। কিন্তু আমার ভাই আর
বোনের হাজার টুকরো লাশ আমাকে
বিহবলিত করে না।
তোমরা ভুলে যাও আমি সাইয়্যিদুশ
শুহাদা আমীরে হামজার অনুসারী।
ভুলে যাও সাদ বিন ওয়াক্কাস, আমীরে
মুয়াবিয়া আর খলীফায়ে রাশেদদের
মত বীর সেনানীরা আমার পূর্বসূরী।
কে বলে আমি সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর
সন্তান? কে ডাকে আমায় মাদানীর
হুংকার আর শাইখুল হিন্দের তলোয়ার
বলে?
আমি এক নপুংশুক। আমার চোখ আছে
কিন্তু জ্যোতি নেই। মন আছে কিন্তু
অনুভূতি নেই।
ইরাকে আমার ভাইয়ের ঘর ভেঙ্গেছো
তাতে কি? আমি জাগবো ভেবেছো?
আফগানিস্তানে আমার মা-বোনকে
ঘরছাড়া করেছো তাতে কি? আমার ঘুম
এত সহজে ভাঙ্গবে মনে কর?
লেবানন জালিয়ে দিলে, পুড়ালে
চেচনিয়া, ফিলিপাইন। মিশর
সিরিয়ায় আগুণের ফুল্কি ছুটালে।
বছরের পর পর জারজ ইহুদীদের দিয়ে
ফিলিস্তিনে আমার বোনের ইজ্জত
লুণ্ঠিত করলে। আমার ভাইয়ের রক্ত
দিয়ে হুলি খেললে। সোয়াতের
পর্দানসীন মা আমার। যাকে তার দেবর
বা চাচাত ভাইও কোন দিন দেখেনি,
সেই মহিয়সী পর্দানসীন মায়ের পেটে
ঢুকালে ইহুদী খৃষ্টান কুকুরদের জারজ
সন্তান। আরকানে আমার ভাইকে স্বীয়
বাসস্থান থেকে তাড়িয়েছো।
সাজানো সোনার সংসারে
জ্বালিয়েছো তুশের আগুন। আমার
ভাইয়ের পুড়ানো লাশ দেখে
নেচেছো পৈশাচিক উল্লাসে।
এবার আরো এগ্রেসিভ হয়েছো! আরো
আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছো।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘৃণ্য সন্ত্রাস চালিয়ে
উৎখাত করেছো আমার আরকানী
ভাইকে তার ঘর থেকে। বের করে
দিয়েছো আমার মা বোনকে তার আপন
নীড় থেকে। ভদ্রতার মুখোশ পড়া অমানুষ
চীনা সরকারের পশু প্রবৃত্তির শিকার
হয়ে আতংকিত আমার
জিনজিয়াংয়ের নীরিহ ভাই-
বোনেরা। ইসলাম ধর্মের শ্বাসত
মানবিক বিধানগুলোকে আখ্যা
দিচ্ছো ধর্মীয় উস্কানী বলে। অপপ্রচার
করে করছো এক ঘরে নীরিহ
মুসলমানদের। দ্বীনে হকের
শান্তিপ্রিয় ঝান্ডাবাহী তাবলীগ
জামাত আজ নিষিদ্ধ চরম সাম্প্রদায়িক
নরেন্দ্র মোদির সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে।
তাতে কী?
তবু আমি জাগবো না। আমি ঘুমিয়েই
থাকবো।
আমি এখনো বিভোর আছি। এত সব
নিয়ে ভাবার আমার সময় কোথায়?
টমক্রুজের নতুন ফিল্ম কবে আসবে? এই
চিন্তায়ইতো আমার মাথা নষ্ট। কবে
মুক্তি পাবে সালমান খান, আমীর খান
আর শাহরুখ খানের ধামাকা ফিল্ম? এত
টেনশনের মাঝে তুমি আবার এসব কি
মনে করিয়ে দাও? খেলা চলছেতো
এখন। বিশ্বকাপ। কে জিতবে ফাইনাল?
এসব চিন্তায় যেখানে আমার মাথা
কুরে কুরে খাচ্ছে, সেখানে তুমি
ফিলিস্তিন জিতবে কি না? এসব
অবান্তর প্রশ্ন কেন করছো হে? কেন
জানতে চাও কি হবে আমার আরকানী
বোনের? সম্ভ্রম রক্ষা হবে কি আমার
চীনা জিনজিয়াংয়ের আদুরে
বোনটির? নিভে যাবে কি দাওয়াত ও
তাবলীগের প্রদীপ্ত মশার ভারতের
ভূখন্ড থেকে?
তুমি চুপ থাকো। আমাকে আরো বেঘুরে
ঘুমাতে দাও। আমাকে হিন্দী ফিল্মের
গানে আরো নাচতে দাও। হিন্দী
সিরিয়ালে বুঁদ হয়ে থাকতে দাও।
আমার লাখো ভাই শহীদ হয়ে যাচ্ছে,
আমার মাকে গুলি করে হত্যা করা
হচ্ছে। লাখো বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত
হচ্ছে। আমার ছোট ছোট নাবালেগ
ভাই-বোনদের পৈশাচিক নিষ্ঠুরতায়
হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু আমার চোখে
পানি নেই। দিলে হাহাকার নেই।
ঠোঁটে প্রতিবাদ নেই।
আমিতো সিনেমায় আবেগঘণ দৃশ্য
দেখে আনন্দে লাফাতে ব্যস্ত। দুঃখের
দৃশ্য দেখে কেঁদে কেঁদে চোখের
পানি শেষ করে ফেলেছি। আমার
ভাইয়ের দুর্দশা দেখে কাঁদার মত
পানিতো আর বাকি রাখিনি।
সিনেমার অশ্লিল দৃশ্য দেখে দেখে
আমিতো হর্ষধ্বনী দিতে দিতে আমার
গলাকে বসিয়ে ফেলেছি। আমার
মায়ের, বোনের ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলা
অবিচার আর জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
করার মত কণ্ঠের সূর কি আর আমার বাকি
আছে?
আমি বিলকুল ভুলে গেছি ২৭টি
জিহাদে স্বশরীরে অংশগ্রহণকারী
আমার দয়ার নবীকে।
মনে নেই একদম জিহাদের ময়দানে
দান্দান শহীদ হওয়া নবীজীর চেহারা।
ভুলে গেছি আমার নবীর রক্তাক্ত মুখ।
মনে নেই আমার নবীর খুন রাঙ্গা
তলোয়ার আর খঞ্জরের ঝিলিক।
জিহাদের ময়দানে আমার নবীর
ত্যাজদীপ্ত ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনী। উড়ন্ত
বালিরাশি।
ওহুদ পাহাড়ে বিক্ষিপ্ত সাইয়্যিদুশ
শুহাদার বারো টুকরো লাশ আমার মনে
নেই।
মনেনেই আম্মিজান আয়শার হুংকার।
জিহাদের দামামা শুনে বাসর ঘর
ছেড়ে শহীদ হওয়ার তামান্নায় ছুটে
চলা বীর মুজাহিদের কথা বিলকুল ভুলে
গেছি। বদর, ওহুদ, খন্দক, তাবুক, বনী
লিহয়ান, বীরে মাউনা, মুতা, বনীল
মুস্তালিকের শহীদদের বীর গাঁথা
আমার মস্তিস্কের কোথাও আর ঝড়ের
তীব্রতা সৃষ্টি করে না। আমি ঘুমিয়ে
আছি। অনেক গভীর আর নিষ্ঠুর সে ঘুম।
আমাকে ঘুমাতে দাও। বেঘোরে
ঘুমাতে দাও! কাপুরুষ হয়ে, গোলাম হয়ে,
মানুষরূপী জড়পদার্থ হয়ে লাঞ্ছিত
জীবন যাপন করতে দাও! কিন্তু কতদিন?